|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   উপসম্পাদকীয়
  বন্ধে যথাযথ উদ্যোগ নিক এনবিআর
  31-05-2016

৩১ মে ২০১৬ ইং

বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ বেশ পুরনো। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর ফাঁকি শনাক্ত করলেও অর্থ আদায়ে তেমন সুবিধা করতে পারছে না বলেই খবর মিলছে। সম্প্রতি অ্যাকশনএইড আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘অপচুক্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে সংস্থাটি। এতে বলা হয়, ‘অপচুক্তির সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশই বিশ্বে এগিয়ে। বাংলাদেশে এ ধরনের চুক্তির সংখ্যা ১৮, যার সুযোগ নিয়ে অতিমাত্রায় কর ফাঁকি দেয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। এ চুক্তিগুলোর একটি ধারার কারণে বিদেশী অংশীদারদের অর্থের ওপর কর আহরণে বাংলাদেশের ক্ষমতাও সীমিত। ফলে এসব চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের ১৫টি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ দেশে বছরে অন্তত ৭০০ কোটি টাকার কর ফাঁকি দিচ্ছে।’ বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগজনক। এ কারণে সরকারের রাজস্ব আহরণে প্রভাব পড়ছে, চাপ বাড়ছে স্থানীয় কর প্রদানকারীদের ওপর। এ পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন প্রয়োজন। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আকর্ষণের অন্যতম কারণ ছিল কর্মসংস্থান। সেটি হয়নি বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের। উল্টো তারা দেশ থেকে অর্থ নিয়ে যাচ্ছে বৈধ ও অবৈধ উপায়ে। বিদেশী বিনিয়োগ আমাদের প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান কিংবা দক্ষতা বৃদ্ধিতে কতটা কাজে আসছে, সে বিষয়টি এখন বিবেচনায় নিতে হবে। এক্ষেত্রে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ যথার্থই বলেছেন। তার মতে, এখন চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়ন বা বাতিল করা উচিত।

আশির দশকে আমাদের মূলধন ও দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি ছিল। সেটি মেটাতে বিদেশী বিনিয়োগ দরকার মনে করেছিল সরকার। তাই বিদেশী বিনিয়োগকারীদের রীতিমতো জামাই আদরে ডেকে আনা হয়েছে, দেয়া হয়েছে নানা সুযোগ-সুবিধা। এ সুযোগে তারা তাদের মতো করে চুক্তি সাজিয়েছে। তারা বিপুল অর্থ নিয়ে গেলেও আমাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়নি, সৃষ্টি হয়নি আশানুরূপ কর্মসংস্থান। আমাদের সক্ষমতার অভাব বা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে করপোরেটরা বেশি সুযোগ নিচ্ছে, কর ফাঁকি দিচ্ছে। আমাদের অবশ্যই বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তবে সেটা করতে গিয়ে আমরা যদি তাদের কর ফাঁকি দেয়ার সুযোগ করে দেই, সেটা যৌক্তিক নয়। অনেক সময় বিনিয়োগ আকর্ষণে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি কিছু সুবিধা দেয়া হয়। এতে অবশ্য কর ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না। তাই স্থানীয় ও বহুজাতিক কোম্পানির মধ্যে কর ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনতে হবে। এক্ষেত্রে সুষ্ঠু কর পরিকল্পনার চর্চা; জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি ও যথাযথ প্রতিবেদন প্রণয়ন; কর্তৃপক্ষের কাজে জবাবদিহি; কর আরোপ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন, সুষ্ঠু কর ব্যবস্থাপনা ও অনুশাসন; করনীতির পর্যালোচনা; কর-সম্পর্কিত প্রভাবন ও কর প্রণোদনা প্রভৃতি বিষয়ে নজর দেয়া জরুরি।

বাংলাদেশ হলো জিডিপির তুলনায় বিশ্বের সবচেয়ে কম কর আদায়কারী দেশ। একই কাতারে থাকা কেনিয়া, সিয়েরালিওনেও বাংলাদেশের তুলনায় বেশি কর আদায় হয়। বাংলাদেশে মানুষ বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কর ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা বেশি। এখানে আইন ও নীতি দুর্বল। আর এ সুযোগ নেয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এটি বন্ধে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া বিকল্প নেই। প্রয়োজনীয় সম্পদ ও দক্ষতার অভাবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের রাজস্ব আদায়কারী কর্তৃপক্ষকে বহুজাতিক কোম্পানির কর ফাঁকি ঠেকাতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। কারণ বড় বড় কোম্পানি দক্ষ ও সুচারু হিসাবরক্ষক দল নিয়োগ করে রাখে, যাদের কাজই প্রযোজ্য করের অঙ্ক কোনোভাবেই প্রকাশ হতে না দেয়া। এক্ষেত্রে আমাদের দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও কর ফাঁকি দেয়ার ফাঁকফোকরগুলো বন্ধে জোর দিতে হবে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কর ফাঁকি রোধে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে— এমন চুক্তি বাতিল করা প্রয়োজন। অনেকে অবশ্য এর বিরোধিতা করেন বিদেশে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে বলে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো যেতে পারে। তবে সর্বাগ্রে কর ফাঁকির প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকি-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিচার কার্যক্রম গতিশীল করতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ বা বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার বিদ্যমান নীতিমালা দেশে বাস্তবায়ন করা গেলে কর ফাঁকির পরিমাণ কমিয়ে আনা যাবে। একটি আন্তর্জাতিক ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে এটি করতে হবে।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 332        
   শেয়ার করুন
Share Button
   আপনার মতামত দিন
     উপসম্পাদকীয়
দৈনিক বিশ্ব মানচিত্র পত্রিকার উদ্যোগে “বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস উপলক্ষে” আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পীরজাদা শহীদুল হারুন।
.............................................................................................
বন্ধে যথাযথ উদ্যোগ নিক এনবিআর
.............................................................................................
এই বৈশাখে চাই মুক্তিবৃক্ষের আশীর্বাণী
.............................................................................................
বদিশেী মোবাইল কম্পানি কনে বায়োমট্রেকি ডাটাবইেজ বানাচ্ছ?
.............................................................................................
মানবিকীকরণ বাংলাদেশের ভূমি নীতির
.............................................................................................
আগামী পাঁচ বছরে বিচারব্যবস্থায় সুশাসন
.............................................................................................
ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি সময়ের দাবি
.............................................................................................
সোহরাওয়াদী উদ্যানে গাঁজা সেবনের মহোৎসব ঐতিহাসিক মর্যাদা ও পরিবেশ বিনষ্ট
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো: হাবিবুর রহমান সিরাজ
আইন উপদেষ্টা : অ্যাড. কাজী নজিব উল্লাহ্ হিরু
সম্পাদক ও প্রকাশক : অ্যাডভোকেট মো: রাসেদ উদ্দিন
সহকারি সম্পাদক : বিশ্বজিৎ পাল
যুগ্ন সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান রিপন
নির্বাহী সম্পাদক: মো: সিরাজুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : সাগর আহমেদ শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস ৫২ / ২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সূত্রাপুর ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৯৯ মতিঝিল , করিম চেম্বার ৭ম তলা , রুম নং-৭০২ , ঢাকা থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭২৬-৮৯৬২৮৯, ০১৬৮৪-২৯৪০৮০ Web: www.dailybishowmanchitra.com
Email: news@dailybishowmanchitra.com, rashedcprs@yahoo.com
    2015 @ All Right Reserved By dailybishowmanchitra.com

Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD