|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   চিত্র-বিচিত্র -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
যে মাছের নাম ‘সমুদ্রের ভগবানের অট্টালিকার দূত’!

যেকোনো অঞ্চলের কাছে ভূমিকম্প আর সুনামি এক আতঙ্কের নাম। আর এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জাপানে। আতঙ্ক ছড়িয়েছে এক বিরল প্রজাতির মাছ। সম্প্রতি সেই মাছটি আবারও দেখা গেছে জাপানে। জাপানিদের বিশ্বাস ওই মাছ বয়ে আনে ভূমিকম্প ও সুনামির বার্তা।

বিরল প্রজাতির এই মাছের নাম ওরফিশ। শুক্রবার এই মাছটি ধরা পড়ে জাপানের তোয়ামা এলাকায়। এ নিয়ে এই মৌসুমে প্রায় সাতটি ওরফিশ ধরা পড়লো। শুক্রবার তোয়ামা সাগর থেকে যে ওরফিশটি ধরা পড়ে সেটি ৩.২ মিটারের।

এরপরই ইমিজুতে এক মৎস্যজীবীর জালে ধরা পড়ে ৪ মিটারের একই মাছ। এতেই আতঙ্ক বাড়ছে জাপানে। কারণ এই মাছ সমুদ্রের ২০০ থেকে এক হাজার মিটার গভীরে থাকে। এর পুরো শরীর রুপালি রঙের। পাখনা লাল রঙের।

জাপানি ভাষায় এই মাছের নাম ‘রিউগু নো সুকাই’। এর মানে ‘সমুদ্রের ভগবানের অট্টালিকার দূত’। সমুদ্রের তলদেশ থেকে এই মাছ বয়ে আনে ধ্বংসের বার্তা। এমনই কথিত আছে জাপানে। আর এর ওপর ভিত্তি করেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে জাপানজুড়ে।

তবে বিজ্ঞানীদের মতে, এর কোনও সত্যতা নেই। এর বৈজ্ঞানিক কোনও ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্তত এখনও তেমন কিছু আবিষ্কারও হয়নি। কিন্তু সম্ভাবনা যে একেবারেই নেই, তাও জোর দিয়ে বলা সম্ভব নয়।

যে মাছের নাম ‘সমুদ্রের ভগবানের অট্টালিকার দূত’!
                                  

যেকোনো অঞ্চলের কাছে ভূমিকম্প আর সুনামি এক আতঙ্কের নাম। আর এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জাপানে। আতঙ্ক ছড়িয়েছে এক বিরল প্রজাতির মাছ। সম্প্রতি সেই মাছটি আবারও দেখা গেছে জাপানে। জাপানিদের বিশ্বাস ওই মাছ বয়ে আনে ভূমিকম্প ও সুনামির বার্তা।

বিরল প্রজাতির এই মাছের নাম ওরফিশ। শুক্রবার এই মাছটি ধরা পড়ে জাপানের তোয়ামা এলাকায়। এ নিয়ে এই মৌসুমে প্রায় সাতটি ওরফিশ ধরা পড়লো। শুক্রবার তোয়ামা সাগর থেকে যে ওরফিশটি ধরা পড়ে সেটি ৩.২ মিটারের।

এরপরই ইমিজুতে এক মৎস্যজীবীর জালে ধরা পড়ে ৪ মিটারের একই মাছ। এতেই আতঙ্ক বাড়ছে জাপানে। কারণ এই মাছ সমুদ্রের ২০০ থেকে এক হাজার মিটার গভীরে থাকে। এর পুরো শরীর রুপালি রঙের। পাখনা লাল রঙের।

জাপানি ভাষায় এই মাছের নাম ‘রিউগু নো সুকাই’। এর মানে ‘সমুদ্রের ভগবানের অট্টালিকার দূত’। সমুদ্রের তলদেশ থেকে এই মাছ বয়ে আনে ধ্বংসের বার্তা। এমনই কথিত আছে জাপানে। আর এর ওপর ভিত্তি করেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে জাপানজুড়ে।

তবে বিজ্ঞানীদের মতে, এর কোনও সত্যতা নেই। এর বৈজ্ঞানিক কোনও ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্তত এখনও তেমন কিছু আবিষ্কারও হয়নি। কিন্তু সম্ভাবনা যে একেবারেই নেই, তাও জোর দিয়ে বলা সম্ভব নয়।

যে বাজারে গবেষণা কেনাবেচা হয়
                                  

‘ভাই কী লাগবে? এই দিকে আসেন!’ 
‘থিসিস আছে?’ 
‘প্লাস্টিক কার্ড তো?’ 
‘হুম’
‘এই দিকে আসেন।’
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পরিচয়ে নীলক্ষেতের সিটি করপোরেশন মার্কেটের তৃতীয় গলিতে ছাপা ও বাঁধাইয়ের একটি দোকানে গবেষণাপত্রর খোঁজ করছিলেন এই প্রতিবেদক। দোকানির ভাষায় সেটাই প্লাস্টিক কার্ড।

কিন্তু সাংকেতিক ভাষা কেন? নীলক্ষেতের এ দোকানগুলোতে চুরি করা গবেষণাপত্র তথা থিসিস বিক্রি হয়। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের অনেক শিক্ষার্থী পানির দরে তা কিনে নিজের গবেষণা হিসেবে জমা দেন। এ অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানের শেষে প্রমাণ সংগ্রহের জন্যই গত ১৬ নভেম্বর ছদ্মপরিচয়ে সেখানে প্রতিবেদকের যাওয়া।

ক্রিকেট অথবা সামাজিক বিজ্ঞানের যেকোনো বিষয়ে থিসিস চাইলে দোকানি কম্পিউটার ঘেঁটে একটি পিডিএফ কপি দেখান। সেটায় মূল লেখকের নাম ছিল না। দোকানি সফট কপির দাম চাইলেন ১৫০ টাকা। আর সম্পাদনা, প্রিন্ট ও বাঁধাই বাবদ ৮০০ টাকা। দাম রফা হলে তিনি থিসিসটিকে পিডিএফ থেকে ওয়ার্ড ফাইল করলেন। তারপর গবেষণার সূচনা ও সাক্ষাৎকারদাতাদের নাম রদবদল আর বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ওপর-নিচ করা বা বাদ দেওয়ার কাজ চলল। ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে তৈরি হয়ে গেল স্নাতকোত্তর শ্রেণির একটি গবেষণাপত্র।

গত ১২ ও ১৪ নভেম্বর এই বাজার ঘুরে এমন অন্তত ২১টি দোকানের খোঁজ পাওয়া যায়। সাইনবোর্ডগুলোতে লেখা ‘এখানে থিসিস, মনোগ্রাফ, টার্মপেপার প্রিন্ট ও বাঁধাই করা হয়’।

পরিচিত একজন দোকানি বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মৌলিক গবেষণাপত্র চুরি করে নতুন থিসিসের রূপ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা দোকানে গবেষণাপত্র ছাপাতে ও বাঁধাই করতে এলে সেটার একটি সফট কপি তাঁরা রেখে দেন। ইন্টারনেট থেকেও বিভিন্ন গবেষণার কপি সংগ্রহ করেন।

কয়েকজন দোকানি বলেন, বিশেষ চাহিদা জানিয়ে ফরমাশ করলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সাহায্য নিয়ে তাঁরা সেটাও বানিয়ে দেন। দাম পড়ে চার হাজার টাকা। সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি—এই ছয় মাস বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার কোর্স পড়ানো হয়। এটাই ব্যবসার মৌসুম।

দুদিনে চার ঘণ্টা নীলক্ষেতে বিভিন্ন দোকানে ঘুরেছেন এই প্রতিবেদক। তখন তিনটি দোকান থেকে সাতজনকে থিসিস কিনতে দেখেছেন। তাঁদের চারজনের পরিচয় জানা যায়। দুজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, একজন স্ট্যামফোর্ড আর একজন প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী।

শেষোক্ত শিক্ষার্থী পর্যটনবিষয়ক থিসিস খুঁজছিলেন। দোকানি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একটি থিসিস দেখান। পছন্দ না হওয়ায় শিক্ষার্থী দুই নম্বর গলির আরেকটি দোকানে যান। সেখানে ২০১২ সালে করা একটি থিসিস তাঁর পছন্দ হয়। দাম ঠিক হয় ৮০০ টাকা। তাঁর চাহিদামতো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও তারিখসহ রদবদল করে দেন দোকানি।

দুই দিন পর মুঠোফোনে এ শিক্ষার্থীর সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয়ে কথা বলতে চাইলে নাম না প্রকাশের অনুরোধ করে তিনি বলেন, ‘ওই থিসিস জমা দেইনি। আমার গবেষণার বিষয়ের সঙ্গে মিলে নাই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মানদণ্ড হলো গবেষণা। তিনি বলেন, ‘কিন্তু এখন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পিএইচডি চুরির অভিযোগ ওঠে, শিক্ষার্থীদের থিসিস বিক্রি হয় রাস্তার ধারের দোকানে। রাস্তাতেই যদি গবেষণা হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কি দরকার?’

মৌলিক জ্ঞানচর্চা শেখানোর জন্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে গবেষণার কোর্স থাকে। মৌলিক বিষয় নির্বাচন থেকে মাঠে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা এবং গবেষণা প্রতিবেদন লেখার কাজটি শিক্ষার্থী করেন একজন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে। তিনি ছয় মাস থেকে এক বছর সময় পান। নীলক্ষেতে গবেষণাপত্র কিনলে এর কিছুই করতে হয় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকেরা রচনাচুরি (প্লেজ্যারিজম) ধরার জন্য বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করেন। কিন্তু দোকানিরা বলেছেন, তাঁরাও একই ধাঁচের সফটওয়্যার ব্যবহার করে রচনাচুরি ধরা পড়ার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো শনাক্ত করেন। তারপর সেগুলো এদিক-সেদিক করে রচনাচুরির আলামত কমানো হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন অধ্যাপক ফাহমিদুল হক। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণা জালিয়াতি শিখে পাশ করলে কর্মক্ষেত্রেও তাঁরা জালিয়াতির আশ্রয় নেবেন। এই দুই শিক্ষকেরই মত, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন খুব কম গবেষণা হয়। চুরি করা গবেষণাপত্রের কেনাবেচা চলতে থাকলে সেটুকুও হবে না।

২০১৭ সালের নভেম্বরে এই অনুসন্ধানের গোড়ায় নীলক্ষেতে একই বাজারের দুই নম্বর গলিতে গিয়ে প্রতিবেদক এক দোকানিকে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর জন্য থিসিস সম্পাদনা করতে দেখেন। প্রতিবেদক জরুরি ভিত্তিতে ক্রিকেটবিষয়ক একটি থিসিসের সফট কপি কিনতে চান। দোকানি ‘প্রেডিক্টিং এ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ম্যাচ রেজাল্ট হোয়াইল দ্যা ম্যাচ ইজ ইন প্রোগ্রেস’ নামের একটি গবেষণাপত্র দশ মিনিটের মধ্যে কিছু রদবদল করে পেনড্রাইভে দিয়ে দেন।

গবেষণাপত্রের প্রচ্ছদে লেখক হিসেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের চার শিক্ষার্থীর নাম ছিল। তাঁরা ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে থিসিসটি জমা দিয়েছিলেন। আর দোকানটির কম্পিউটারে এর ফাইল ঢুকেছিল (ক্রিয়েটেড) ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর।

গত ১৬ নভেম্বর গিয়ে দেখা যায়, এ যাবৎ থিসিসটি ছয়বার সম্পাদিত ও বিক্রি হয়েছে। গবেষণাটির সহ-তত্ত্বাবধায়ক প্রভাষক মঈন মোস্তাকিম বলছেন, গবেষণাটি করতে এক বছর লেগেছিল। গবেষণাপত্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়। সেখান থেকে অথবা প্রিন্ট করার সময় সেটি চুরি হয়ে থাকতে পারে।

এই শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, ‘গবেষণায় বেশ কিছু জটিল গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। সাধারণ একজন দোকানি কীভাবে গবেষণা সম্পাদনা করেছেন, সেটিই তো মাথায় ঢুকছে না।’ 

শিক্ষার্থীরা কেন নীলক্ষেতমুখী? 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ সালে স্নাতকোত্তর পাস করা এক শিক্ষার্থী প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিচিত বড়ভাইয়ের মাধ্যমে নীলক্ষেতে গবেষণা তৈরির কথা শুনি। পরে সেখান থেকে কিনে বিভাগে জমা দিয়েছিলাম।’ রচনাচুরি ধরা পড়ায় প্রথমে তাঁর গবেষণাপত্রটি গৃহীত হয়নি। শিক্ষকেরা সংশোধন করে আনতে বললে তিনি দোকান থেকে রচনাচুরির হার কমিয়ে এনে জমা দেন। আর সমস্যা হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর গবেষণা জালিয়াতি ধরা পড়লে বিভাগীয় পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়াটাই রেওয়াজ। নৃবিজ্ঞান বিভাগ ২০১৬-১৭ সালে চারজন শিক্ষার্থীকে জালিয়াতির জন্য জরিমানা করেছিল। তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান হাসান আল শাফী বলেন, প্রতিবছরই পাঁচ-ছয়জন শিক্ষার্থীর মনোগ্রাফ ও থিসিস জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে তাঁদের সফটওয়্যার বাংলা লেখায় রচনাচুরি ধরতে পারে না

বিশ্ব বাঘ দিবস আজ
                                  
বিশ্ব মানচিত্র অনলাইন রিপোর্ট : ‘বাঘ আমাদের গর্ব, আমরাই বাঘ রক্ষা করব’ স্লোগান সামনে রেখে আজ ২৯ জুলাই শনিবার পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব বাঘ দিবস ২০১৭’।দিবসটি উপলক্ষে বন অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি এদিন সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাট জেলা সদরে অনুষ্ঠিত হবে। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘বাঘ আমাদের গর্ব, বাঘ রক্ষা করব’। কর্মসূচির মধ্যে আছে সকাল ৯টায় বাগেরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশ, ৯টা ১০ মিনিটে বর্ণাঢ্য র্যালী, ১০টায় জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা ও ১১টা ২৫ মিনিটে লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
 
এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। বিশেষ অতিথি থাকবেন পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন এমপি, এডভোকেট মীর শওকত আলী বাদশা এমপি, হ্যাপী বড়াল এমপি এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসতিয়াক আহমদ। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী। বিশ ্ব বাঘ দিবসের এবারের মূল প্রতিপাদ্যের উপর আলোচনা করবেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ। এদিকে, এ বছর বিশ্ব বাঘ দিবসের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বন অধিদপ্তরের সুন্দরবন বিভাগীয়  সদর দপ্তর (পূর্ব) বাগেরহাটে অনুষ্ঠিত হওয়ার খবরে সুন্দরবন অঞ্চলে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের একমাত্র সুন্দরবন বাঘের আবাসস্থল হওয়ায় বাঘ সংরক্ষণ, বাঘ শিকার ও পাঁচার বন্ধ, বাঘের খাদ্য সুন্দরবনের হরিণ রক্ষাসহ সন্নিহিত লোকালয়ের অধিবাসীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে এ দিবস পালনের গুরুত্ব অপরিসীম।
 
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত বাঘ সমৃদ্ধ ১৩টি দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের সম্মেলনে বাঘ সংরক্ষণকে বেগবান করার জন্য এক ঘোষণা পত্র তৈরি হয়। সেই ঘোষনা পত্রের আলোকে প্রতিবছর ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস পালিত হচ্ছে। বাঘ রয়েছে বিশ্বের এমন ১৩টি দেশ হচ্ছে- বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম ও রাশিয়া।
 
বাগেরহাট প্রতিনিধি নীহার রঞ্জন সাহা ও শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা আসাদুজ্জামান মিলন জানান, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করায় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছে বনবিভাগ। সচেতনতা সৃষ্টির কারণে গত দুই বছরে লোকালয় ঢুকলেও জনতা বাঘ হত্যা করেনি।
 
তবে ‘বাংলাদেশের সুন্দরবনে বাঘের ঘনত্ব’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা এখন মাত্র ১০৬টি। এর আগে ২০০৪ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির সহায়তায় বনবিভাগ বাঘের পায়ের ছাপ গুণে জরিপ করে বলেছিল, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ৪৪০টি। ২০১৩ সালে ‘ক্যামেরা ট্যাপিং’ পদ্ধতিতে সুন্দরবনে বাঘ গণনা শুরুর পর ওই জরিপ কিছুটা ত্রুটিপূর্ণ ছিল বলে প্রশ্ন ওঠে। বাঘ শুমারির চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারতীয় অংশ মিলে ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটারের সুন্দরবনে মোট বাঘের সংখ্যা ১৭০টি।
 
সুন্দরবন সুরক্ষায় শরণখোলা রেঞ্জের সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বাঘ সুন্দরবনের প্রাকৃতিক রক্ষক। বাঘ কমলে সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র্যের উপর হুমকি বাড়বে। তাই শুধু বাঘ নয়, বিশ্ব ঐতিহ্য ও সুন্দরবনকে এবং বনের সকল জৈববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারকে আরো উদ্যোগী হতে হবে। পাশাপাশি সুন্দরবন সংলগ্ন জনপদের মানুষকে বন সুরক্ষায় আরো বেশি সচেতন এবং উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
 
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, সর্বশেষ গত ২০১৫ সালের পরিসংখ্যানে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। তাছাড়া বনবিভাগসহ প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে গত দুই বছরে কোন বাঘ হত্যা বা শিকারের অঘটন ঘটেনি। সুন্দরবনে টহলকালে বাঘ ও বাঘের বাচ্চা ঘোরা ফেরা করতে দেখা যায়। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, বাঘের সংখ্যা বাড়ছে।
অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হাকালুকি হাওর
                                  

অনলাইন ডেস্ক : অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে এশিয়ার বৃহত্তম হাওর ‘হাকালুকি’। সুদূর সাইবেরিয়া ও ভারতের হিমাচল প্রদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শীতকালে অতিথি পাখি বৃহত্তম এই হাওরে আসে। আগে প্রতিবছরের নভেম্বর থেকেই ৪০-৫০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখির আগমনে মুখরিত হয়ে উঠত সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে বিস্তৃত হাকালুকি হাওর। বৈশ্বিক পরিবর্তন, নিরাপদ বিচরণ ও শিকারিদের উত্পাতে বর্তমানে হাওরে কমেছে অতিথি পাখির সংখ্যা। হাকালুকি হাওরে কর্মরত
বেসরকারি সংস্থা সিএনআরএস ক্রেল প্রকল্পের কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান জানান, এ বছর হাওরে অতিথি পাখি অনেক কম এসেছে। আবহাওয়ার তারতম্য, শিকারিদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি, হাওরের জলজীবন নির্বিচারে ধ্বংস, হাওর তীরবর্তী এলাকাগুলোর বড় বড় বৃক্ষ কেটে ফেলা ও প্রয়োজনের তুলনায় কম অভয়াশ্রম থাকায় প্রতিবছর হাকালুকিতে অতিথি পাখির আগমন কমছে। বর্তমানে হাওরে ১২টি অভয়াশ্রম রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। পেশাদার ও প্রভাবশালী শিকারিদের উত্পাত বৃদ্ধিও পাখি কম আসার কারণ বলে তিনি জানান।
সম্প্রতি সরেজমিন হাকালুকির কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা অংশের চকিয়া, নাগুয়া, ফুটবিল, গৌড়কুরি, তুরল, কালাপানি, পিংলা, চাতলা, ফোয়ালা, বালিজুড়ী, কাংলি ও জল্লা বিলে গিয়ে দেখা গেছে-পানকৌড়ি, লেঞ্জা, বিভিন্ন ধরনের মাছরাঙা ও বক, শামুকখোলসহ (শামুখভাঙা) বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির সমাগম হয়েছে। হাওর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর অনেক দেরিতে হাকালুকি হাওরে পাখি এসেছে। প্রতিবছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে হাওরে পাখি এলেও এবার দীর্ঘদিন পুরো হাওর এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা থাকায় ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে পাখি আসতে শুরু করেছে। নিরাপদ বিচরণের অভাব ও শিকারিদের উত্পাত বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েক বছর ধরে পাখি কম আসছে। হাওরে কর্মরত কৃষক সুয়াব আলী, তৈয়বুর মিয়া, জুনাব মিয়া, রফিক আহমদ বিলের পাহারাদার মজিদ মিয়া, সোনাহর মিয়া, বাতান ব্যবসায় জড়িত রণজিত্ দাস ও কালাম মিয়া জানান, পাখি শিকারিরা দিনে গরু-মহিষ চড়ানো, ধান চাষ, হাঁস চড়ানোর নামে ছদ্মবেশে হাওরে ঘোরাফেরা করে। এ সময় তারা সুযোগ বুঝে বিষটোপের মাধ্যমে পাখি শিকার করে পাখি নিয়ে সটকে পড়ে। সন্ধ্যার পর থেকেই সংঘবদ্ধ হয়ে পাখি শিকারে নামে। তারা এ সময় জাল দিয়ে ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে গভীর রাত পর্যন্ত। ভোর হওয়ার আগেই হাওর থেকে চলে যায় সংঘবদ্ধ শিকারিরা। শিকারকৃত পাখি বিভিন্ন বাজার ও শহরের হোটেলগুলোতে বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া শৌখিন শিকারিরা প্রায়ই ভোরে মোটরসাইকেল ও গাড়িযোগে এসে পাখি শিকার করে। প্রভাবশালী হওয়ায় কেউই তাদের কিছু বলতে পারে না। হাওরে গরু চড়ানোয় ব্যস্ত কিশোর শরীফ, সবুজ, শিকারিরা পুঁটি মাছের ভেতর পটাশ ভরে বিলের পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখে যায়। পাখিগুলো ওইসব মাছ খেয়ে মাথা ঘুরে পড়ে গেলে শিকারিরা এসে পাখিগুলো জবাই করে নিয়ে যায়।
পর্যাপ্ত অভয়াশ্রম না থাকা, নিয়মিত পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং হাওর উন্নয়নে নিয়োজিত বেসরকারি সংস্থা ও প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার অভাবে দিন দিন পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে হাওরে অতিথি পাখির সংখ্যা প্রতিবছরই হ্রাস পাচ্ছে-এমন অভিমত ব্যক্ত করে হাওর তীরবর্তী এলাকার সচেতন মহল

ছায়ানটের বর্ণিল নৃত্যোত্সব
                                  
শাস্ত্রীয় নৃত্যের ছন্দে গতকাল শুক্রবার মুখরিত হয়ে ওঠে ছায়ানট মিলনায়তন। দেশে যারা শাস্ত্রীয় নৃত্য সাধনায় সম্পৃক্ত তাদের মিলনমেলায় রূপ নিয়েছিল ছায়ানট আয়োজিত এ উত্সব। নৃত্যগুরু ও শিক্ষার্থীদের নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ছুটির সন্ধ্যায় বর্ণিল এক উত্সব উপভোগ করেন দর্শকরা।
 
উত্সবের উদ্বোধন হয় ছায়ানটের কার্যকরী সংসদের সদস্য প্রাবন্ধিক মফিদুল হকের স্বাগত কথনের মধ্য দিয়ে। নৃত্যগুরু শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোনিয়া রশীদের সঙ্গে ছায়ানটের শিক্ষার্থীদের দলীয় মনিপুরী নৃত্য পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয় উত্সব। এরপর নৃত্য পরিবেশনায় ছিল সিলেটের শান্তনা দেবী, সুইট দাশের পরিবেশনায় ‘শিবপঞ্চক’। এ ছাড়া ছায়ানটের সামিনা হোসেন প্রেমার শুকসারীদ্বন্দ্ব ও তামান্না রহমান ও তার দল পরিবেশন করে ‘ঢোল-করতাল চলম্ প্রভৃতি। একক পরিবেশনায়   অংশ নেন অমিত চৌধুরী, তামান্না রহমান তন্দ্রা। একক গৌড়ীয় নৃত্য দিয়ে দর্শকদের হূদয় জয় করেন র্যাচেল প্রিয়াংকা প্যারিস। কত্থক একক পরিবেশনা ছিল মুনিরা পারভীন হ্যাপি ও মেহরাজ হক তুষারের। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে কত্থক নৃত্য সম্প্রদায় ও মুনমুন আহমেদ ও তার দল।
 
সায়েন্স ফিকশন ফেস্টিভ্যাল শুরু
 
বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটির আয়োজনে তৃতীয়বারের মতো ঢাকায় শুরু হয়েছে সায়েন্স ফিকশন ফেস্টিভ্যাল। গতকাল সকালে জাতীয় গণগ্রন্থাগার চত্বরে ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি মোশতাক আহমেদ।
 
ফেস্টিভ্যালে ৫ জনকে ক্রিয়েটিভ সদস্য সম্মাননা, দীপু মাহমুদকে ‘সায়েন্স ফিকশন সাহিত্য পুরস্কার-২০১৫’, সায়েন্স ফিকশন ছোটগল্পে আসিফ চৌধূরীকে পুরস্কার প্রদান করে সোসাইটি। সায়েন্স ফিকশন বইমেলা, রোবট প্রদর্শনী ঘিরে কিশোর-কিশোরীদের ছিল দারুণ আগ্রহ। সায়েন্স ফিকশনে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ফেস্টিভ্যালের দ্বিতীয় ও শেষ দিন আজ শনিবার ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে সম্মাননা প্রদান করবে সোসাইটি। পরে লেজার শো ও সমাপনীতে অনুষ্ঠিত হবে এলিয়েন উত্সব।
 
চিত্রকর্মের অ্যালবাম ‘তুমি রবে নিরবে’
 
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে চিত্রশিল্পী এহসানুল আলম খোকনের আঁঁকা ছবি নিয়ে ‘তুমি রবে নিরবে’ শীর্ষক শ্রাবণ প্রকাশনীর একটি গ্রন্থের প্রকাশনা উত্সব অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল। বইটির প্রধান সম্পাদক রাজনীতিবিদ ও লেখক হায়দার আকবর খান রনো। সম্পাদনা করেছেন দীপঙ্কর গৌতম।  প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। আলোচক ছিলেন চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী ও সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার।
৩২০০ বছরের পুরনো মমির সন্ধান!
                                  

অনলাইন ডেস্ক : কাঠের ভাস্কর্যের ওপর উজ্জ্বল রংয়ের অঙ্কন-সম্বলিত কফিনে নতুন এক মমির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। রবিবার মিশরে একটি কবরের ভেতর সুরক্ষিত অবস্থায় থাকা ওই কফিনে ৩২০০ বছরের পুরনো মমিটির সন্ধান মেলে।

কাঠের কফিনটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্বলিত চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে খোদাই করে। এর রয়েছে কালো চুল এবং চোখে রয়েছে গভীর আই-লাইনার। চতুর্থ মিলেনিয়ামের বীর রাজা তুতমোস তৃতীয়’র সময়কার এক মন্দিরের কাছেই মমিটির সন্ধান মিলেছে। মন্দিরটি নীল নদের পশ্চিম উপকূলের লুক্সোর শহরে অবস্থিত।

প্রাচীন এই মমিটি আমেনরেনেফ নামের এক ব্যক্তির বলে মনে করা হচ্ছে।

মিশরের মিনিস্ট্রি অব স্টেট অব অ্যান্টিকুইটিস জানায়, তার মরদেহটি লিনেন এবং প্লাস্টারের মাধ্যমে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কাঠের কফিনটিতে নানা রংয়ের চিত্রকর্ম শোভা পাচ্ছে। এতে আছে নানা ধর্মীয় প্রতীক।

পুরাতত্ত্ববিদরা কয়েক বছর আগে একটি সমাধিস্থল থেকে কিছু পরিত্যক্ত জিনিসপত্র খুঁজে পান। এগুলো খ্রিষ্টপূর্ব ১০৭৫ অব্দ থেকে ৬৬৪ অব্দের সময়কার। খুব শিগগিরই এই আবিষ্কারের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা হবে।

রংধনু নদী স্বর্গ থেকে নেমে আসা
                                  

অনলাইন ডেস্ক : কানো ক্রিসটেলস। কলম্বিয়ার একটি নদীর নাম। এটা যেনতেন নদী নয়। এটাকে বলা হয়ে থাকে ‘স্বর্গ থেকে নেমে আসা নদী, তরল রংধনুর নদী ও পৃথিবীর সবচেয়ে রঙিন নদী।’

 

কেন এমনটি বলা হয়? আসলে রঙের মেলা এখানে । যেটাকে রঙের স্বর্গ বলা হয়। প্রকৃতির গুপ্তধনে সমৃদ্ধ এক নদী। যে নদীটি কেবল একটি কিংবা দুটি রঙে রঙিন নয়, পাঁচ-পাঁচটি দর্শণীয় রঙে রঙিন। জীব-বৈচিত্রে ভরপুর আর সৌন্দর্য্যে পরিপূর্ণ। যেটাকে দেখলে মনে হবে সৃষ্টিকর্তা তার নিপুণ হাতে পৃথিবীর এক কোণে রঙ ঢেলে সাজিয়েছেন নদীটিকে।

নদীটি পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে ১০০ কিলোমিটার বয়ে গেছে। বছরের বেশিরভাগ সময় নদীটি স্বাভাবিক। তখন আর দশটি পাহাড়ি নদীর মতো ধূসর পাথরের তলদেশ, শান্ত পানি ও পরিস্কার স্রোত থাকে। তবে শুষ্ক মৌসুম শেষে, বর্ষা মৌসুমে (জুলাই-নভেম্বর) পাঁচটি রঙে রঙিন হয়ে ওঠে।

তখন নদীর তলদেশে লাল লতা-গুল্মের মতো তরল পদার্থ, যেটা নদীর স্রোতের সঙ্গে দুলতে থাকে। তার সঙ্গে কিছু  পাথরের গায়ে জমে থাকা সবুজ শ্যাওলার আভরণ, কালচে পাথরের রং, হলুদ বালু ও ঝিলমিল স্বচ্ছ পানির নীলাভ আভা (নীল রং)- যা স্বর্গীয় সৌন্দর্য্য ফুটিয়ে তোলে সেখানে।

যেখানে স্রোত বেশি সেখানে লাল রঙের গুল্ম জাতীয় পদার্থটি পাথরের গায়ে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। নদীর তলদেশে ও পাথরের গায়ে জন্মে সবুজ গুল্ম ও শ্যাওলা। এখানকার পানি এতোই স্বচ্ছ যে তার রং নীলচে মনে হয়। বালুগুলো হলুদ রংয়ের। আর ১২০০ মিলিয়ন (১.২ বিলিয়ন) বছরের পুরনো পাথর ধূসর রং ছেড়ে কালচে রং ধারণ করেছে। যা স্বচ্ছ পানির ঝিলমিল স্রোতের নিচে দেখতে অসাধারণ লাগে। যেন স্বর্গীয় সৌন্দর্য্য এসে ধরা দিয়েছে এখানে।

 

 

নদীটি যে শুধু পাঁচটি রঙের কারণেই সুন্দর তা কিন্তু নয়। পাশাপাশি এখানে রয়েছে ঝর্ণাধারা, সুইমিং পুলের মতো দেখতে জলাশয় ও গুহা। যা নদীটির সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। পাশাপাশি নদীটিকে করেছে রহস্যময়ী। আশ্চর্য্য যে- নদীটিতে মাছ কিংবা অন্যান্য জলজ কোন প্রাণী নেই। যা এখানে আসা দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে সাঁতার কাটা ও নিশ্চিন্ত মনে গোসল করার পরিবেশ দেয়।

Colourful_River

আরো রহস্যময় হল- এটি কলম্বিয়ার এমন একটি দূর্গম স্থানে, যেখানে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। এক সময় এটি সহজগম্যও ছিল না। তারপরও নানা ঝক্কি-ঝামেলা মাথায় নিয়ে দুঃসাহসিক ভ্রমণপিপাসু মানুষেরা সেখানে গিয়েছে। নয়নভরে উপভোগ করেছে কানো ক্রিসটেলসের স্বর্গীয় সৌন্দর্য্য। এখন অবশ্য পার্শ্ববর্তী শহর লা মাকারিনা থেকে আকাশপথে সেখানে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পাশাপাশি রয়েছে ট্যুরিস্ট গাইড। যারা পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে স্বর্গ থেকে নেমে আসা এই নদীর কাছে। তবে বিমান থেকে নেমে নদীর পার্শ্ববর্তী রাস্তা ধরে হেঁটে কিংবা ঘোড়ায় চড়ে পৌঁছাতে হয় কানো ক্রিসটেলসের কাছে। এক সময় এখানে প্রচুর ডাকাত পড়ত। দর্শনার্থীদের সর্বস্ব লুটে নিত তারা। এমনকী খুনও করত। এখন অবশ্য তেমনটি হয় না। হওয়ার সুযোগও নেই। কারণ, ২০০৯ সাল থেকে এটি ভ্রমণের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ করেছে কলম্বিয়া। আর তারও অনেক আগে থেকে কানো ক্রিসটেলস নদী, এর জন্মদানকারী পাহাড় ও এই অঞ্চলটিকে সংরক্ষিত এলাকাভূক্ত করা হয়েছে।

এখন কানো ক্রিসটেলসের পাশে রাতে থাকার ব্যবস্থা আছে। আছে পরিবার পরিজন নিয়ে গিয়ে বন-বাদাড়ে রান্নাবান্না করে খাওয়ার সুব্যবস্থাও।

কানো ক্রিসটেলস যে অঞ্চলে অবস্থিত সেই মাকারিনা অঞ্চলটি উদ্ভিদ ও প্রাণীকূলে ভরপুর তিন ধরণের বাস্তুসংস্থানের মধ্যে পড়েছে। এর একদিকে রয়েছে আন্দিজ পর্বতমালার ছোঁয়া, একদিকে ইস্টার্ন লানোস (বৃক্ষশূন্য তৃণময় সমভূমি) ও অন্যদিকে অ্যামাজন রেইনফরেস্ট।

যে পাহাড় থেকে কানো ক্রিসটেলস নদীর উৎপত্তি তার নাম ‘সেরেনিয়া দে লা মাকারিনা’। এই পাহাড়টি দৈর্ঘ্যে ১২০ কিলোমিটার। প্রস্থে ৩০ কিলোমিটার। পাহাড়টির শীর্ষচূড়ার উচ্চতা ২ হাজার ৬১৫ মিটার (৮ হাজার ৫৭৯ ফুট)। এই পাহাড়টি ৪২০ প্রজাতির পাখির অভয়ারণ্য, ১০ প্রজাতির উভচর প্রাণীর বাসস্থান, ৪৩ প্রজাতির সরীসৃপ প্রাণির ও ৮ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণির আবাসস্থল। এমন একটি পাহাড় থেকেই তো কানো ক্রিসটেলসের মতো একটি স্বর্গীয় সৌন্দর্য্যমন্ডিত নদীর উৎপত্তি হতে পারে। তাই নয় কী!

 

”চড়–ই পাখী”
                                  

চড়–ই পাখীর কিচির মিচির
ঝি ঝি পোকার বিয়ে,
কোকিল পাখী ডিম পেড়েছে
কাকের বাসায় গিয়ে।
বাবুই পাখী বড় মেকার
তালের পাতায় বাসা,
বক পাখীটি ফান্দে পড়ে
হলো মরণ দশা।
ডালিম গাছে বাসা বেঁধে
টুন টুনি ডিম পাড়ে
তাই না দেখে বিড়াল মশাই
সকাল বিকাল ঘোরে।

নগরের পাখি
                                  

ইট কাঠের এই নগরের আনাচে-কানাচেও ঘুরে বেড়ায় রঙিন পাখির দল। সচকিত উড়ে বেড়ায় এখানে সেখানে। উত্তরার দিয়াবাড়ি কিংবা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ঢুঁ মারলেই দেখা মিলবে এসব পাখির। টিয়া, মাছরাঙা, ফিঙ্গে, বালিহাঁস, ঘুঘু, পায়রা, কাদাখোচা, শালিক, চড়ুই, কানিবকসহ রং-বেরঙের পাখির দেখা পেতে একটু সময় বের করে চলে যেতে পারেন এসব জায়গায়। নগরের পাখি দেখুন ফটোফিচারে-

  মাছরাঙা

কানিবক

চড়ুই

ঘুঘু

কাদাখোচাশালিক

 

বলুন তো ছবিতে কী দেখছেন?
                                  

বলুন তো ছবিগুলোতে কী দেখছেন? সাদা চোখে একটি ম্যাকাও, ব্যাং বা গিরগিটি দেখছেন হয়তো বা। আরেকটু ভালো করে লক্ষ করুন তো আর কিছু দেখতে পাচ্ছেন? খুলেই বলি এখানে মূলত এক বা একাধিক মানুষ রয়েছে। রংতুলির মাধ্যমে এভাবে বিভিন্ন প্রাণীর অবয়ব দেওয়া হয়েছে। কী অবাক হলেন, খুঁজে বের করুন তো!

 

চিত্রশিল্পী জোহানেস স্টোয়েট্টার রং, তুলি আর ছোট বেলায় শোনা রূপকথার গল্পের চরিত্রগুলোর সমন্বয়ে সৃষ্টি করেছেন অসাধারণ এসব শিল্প।

ইতালির দক্ষিণ তাইরলের স্বশিক্ষিত চিত্রশিল্পী ও বাদ্যযন্ত্রী জোহানেস স্টোয়েট্টার। অস্ট্রিয়ার ইনসব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখার পাট চুকিয়ে ঝুঁকে পড়েন মানুষের শরীরে বিভিন্ন প্রাণীর অবয়ব আঁকতে। ধীরে ধীরে তিনি তার নিজস্ব স্টাইল গড়ে তোলেন এবং কৌশল অবলম্বন করেন। মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশে রংতুলি দিয়ে বিভিন্ন প্রাণীর আকার দেন। একই সঙ্গে সেই মডেলরা শরীরে আঁকা চিত্র নিজেদের শারীরিক ভঙ্গিমার মাধ্যমে তৈরি করেন বিভিন্ন প্রাণীর অবয়ব।

  কয়রাই হবে ‘বঙ্গবাহাদুরের’ শেষ ঠিকানা

                                  

জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার কয়রা গ্রামই হচ্ছে  ‘বঙ্গবাহাদুর’ খ্যাত বুনো হাতিটির শেষ ঠিকানা। মঙ্গলবার সকালে বানের জলে ভেসে আসা হাতিটির মৃত্যু হয়।

 

অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা উপ প্রধান বন সংরক্ষক তপন কুমার দে জানিয়েছেন, আজ বিকেলে কয়রায় হাতিটিকে মাটিচাপা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তপন কুমার দে জানান, বঙ্গবাহাদুরের ভিসেরা পরীক্ষার জন্যে নমুনা সংগ্রহ করে মহাখালীর বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় নমুনা নেওয়ার পর আজ বিকেলে কয়রা গ্রামে তাকে মাটিচাপা দেওয়া হবে।

তিনি আরো জানান, হাতিটিকে মাটিচাপা দেওয়ার জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজে বের করতে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া হাতির মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। সরিষবিাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এই কমিটি করে দেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথম দফায় বঙ্গবাহাদুরকে চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে অচেতন করে পায়ে ও শরীরে শিকল-দড়ি দিয়ে একটি আমগাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। শনিবার বেলা ১১টার দিকে বঙ্গবাহাদুর শিকল আর দড়ি ছিঁড়ে কাছের একটি জলাশয়ে নেমে যায়।

পরে গত রোববার দ্বিতীয় দফায় বঙ্গবাহাদুরকে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু ওষুধের মাত্রা কম হওয়ায় হাতিটির অচেতন হতে দেরি হয়। পরে আবারও চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। কিছুক্ষণ পর হাতিটি ঝিমিয়ে পড়ে। সোমবার বঙ্গবাহাদুর কাদার মধ্যে পড়ে ছিল।

শিকল ছেঁড়ার ভয়ে তাকে পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয়নি। পর্যাপ্ত খাবার, ঘুম ও সঙ্গীহীন অবস্থায় দুর্বল হয়ে পড়া বুনো হাতিটিকে সাফারি পার্কে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন বন বিভাগের উদ্ধারকর্মীরা।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন বানের জলে ভেসে ভারতের আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্তে আসে বুনো হাতিটি। কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ৯ জুলাই পর্যন্ত ছিল। এরপর ১০ জুলাই থেকে গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং সর্বশেষ জামালপুর পর্যন্ত চষে বেড়ায় হাতিটি। পরে হাতিটির নাম দেওয়া হয় বঙ্গবাহাদুর।

 

মারাই গেল ‘বঙ্গবাহাদুর’
                                  

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ভারতের আসাম থেকে বানের জলে ভেসে আসা বন্য হাতি ‘বঙ্গবাহাদুর’ মারা গেছে।

 

ঢাকার বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসিম মল্লিক বঙ্গবাহাদুরের মারা যাওয়ার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনবার চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগের পর নিস্তেজ হয়ে যাওয়া হাতিটি মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মারা যায়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথম দফায় বঙ্গবাহাদুরকে চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে অচেতন করে পায়ে ও শরীরে শিকল-দড়ি দিয়ে একটি আমগাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। শনিবার বেলা ১১টার দিকে বঙ্গবাহাদুর শিকল আর দড়ি ছিঁড়ে কাছের একটি জলাশয়ে নেমে যায়।

গত রোববার দ্বিতীয় দফায় বঙ্গবাহাদুরকে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু ওষুধের মাত্রা কম হওয়ায় হাতিটির অচেতন হতে দেরি হয়। পরে আবারও চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। কিছুক্ষণ পর হাতিটি ঝিমিয়ে পড়ে।  

শিকল ছেঁড়ার ভয়ে তাকে পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয়নি। ফলে হাতিটি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে। সোমবার বঙ্গবাহাদুর কাদার মধ্যে পড়ে ছিল।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন বানের জলে ভেসে ভারতের আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্তে আসে বুনো হাতিটি। কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ৯ জুলাই পর্যন্ত ছিল। এরপর ১০ জুলাই থেকে গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং সর্বশেষ জামালপুর পর্যন্ত চষে বেড়ায় হাতিটি। পরে হাতিটির নাম দেওয়া হয় বঙ্গবাহাদুর।

চেনা-অচেনা বন্য প্রাণীদের সঙ্গে লুকোচুরি
                                  

১৭ জুলাই, ২০১৬ ইং 

বন বিভাগের বাংলো থেকে বাইরে নামতেই বেজিটার সঙ্গে চোখাচোখি। ঘাসবন থেকে সবে বেরিয়েছে। পলক ফেলার আগেই ছোট ছোট পায়ে দে ছুট। ঘাসবনে হারিয়ে গেলো কালচে বাদামী শরীরটা।
ঠিক তখনই টিলা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলোতে ধুপধাড় শব্দ। মগডালে বসে পাতা খাচ্ছে মুখপোড়া হনুমান। একটা নয়, বেশ কয়েকটা। একটার কোলে তো বাচ্চাও আছে। শেষ বিকেলে দলবেঁধেই খাবারের খোঁজে বেরিয়েছে ওরা। দু’তিন জন মানুষকে পাত্তা দিতে বয়েই গেছে ওদের। বরং সময় নিয়ে ছবির জন্য পোঁজ দিলো কমলা রঙা গোটা দুই হনুমান। কালো মুখে একটু ভেংচিও কাটলো বোধ হয়। তারপর এ ডাল ও ডাল, এ গাছ ও গাছে ভালোই সার্কাস দেখালো বিনে পয়সায়। কখনো উঠে গেলো মগডালে। পর মুহূর্তে চিকন ডাল ধরে ঝাঁপ দিলো টারজানের মতো। ছবির জন্য পোঁজও দিলো।  তারপর ফের মনোযোগ দিলো পাতা খাওয়ায়।
ঘড়ির কাঁটা সাড়ে পাঁচটার ঘরে থির থির করছে। বনের ভেতর থেকে দর্শনার্থীদের হই-হল্লা শোনা যাচ্ছে না আর। লাউয়াছড়ায় আজকের মতো প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে বনবিভাগ। আর এই সুযোগেই খাবারের খোঁজে বেরিয়েছে বেপরোয়া হনুমানের দল।

বন্য প্রাণীদের বড় একটা অংশই এ সময় খাবার খোঁজে। টিলা বেয়ে নামতে নামতে কানো এলো হরেক পাখির ডাক। কাছে কোথাও উল্লুক ডাকছে। সেই সাত সকালে একবার খাবারের খোঁজে বেরিয়েছিলো প্রাণীর দল। তারপর ধীরে ধীরে দর্শনার্থীর শোরগোল বাড়লে লুকিয়ে পড়েছিলো যার যার ডেরায়। সন্ধ্যার মুখে আর একবার বেরিয়েছে দিবাচরেরা। এরপর নিশাচর প্রাণীরা বেরুবে।

খাসিয়া পুঞ্জির পথ ধরে কিছুটা এগুতেই বাঁশঝাড়ে যেনো ঝড় উঠলো। ছোট লেজের এক দল কুলু বানর খেলা করছে। কখনো শীত পোহানো বুড়োর মতো চিকন বাঁশে বসছে পিঠ কুঁজো করে। পরক্ষণেই বাঁশ বাইছে অসাধারণ দক্ষতায়। মুখপোড়া হনুমানের মতো এরাও ঘুরে বেড়ায় দল বেঁধে। লেজ ছোটে বলে এদেরকে ছোট লেজি বানর বলেও ডাকে কেউ কেউ। অনেকটা শুকরের মতো দেখতে লেজ উঁচিয়ে পিঠের দিকে খাড়া করা। এরা মূলত বৃক্ষবাসী হলেও ভূ-চারীও বটে। দল বেঁধে ঘুরতেই পছন্দ করে তারা। বাঁশঝাড়, গাছের উঁচু ডাল, মিশ্র পাতাঝরা আর চিরসবুজ বনেই এদের বাস। এদিক দিয়ে চিন্তা করলে লাউয়াছড়া তাদের আদর্শ স্থান। লাউয়াছড়াসহ বৃহত্তর সিলেটের সবুজ বন ভারি পছন্দ এসব বানরের। এরা ফলমূল আর পাতা ছাড়াও বিভিন্ন পতঙ্গ খেয়ে বাঁচে। কাছেই কোথাও চড়া গলায় কি যেনো ডাকছে। পাখি নাকি প্রাণী ঠিক বুঝা গেলো না। পরতে পরতে বিপুল বিস্ময় ছড়িয়ে থাকা এই বনে এখনো কতো কিছু তো অনাবিষ্কৃতই রয়ে গেছে।

আর একটু এগুতেই আকাশ ছোঁয়া গাছগুলোর মগডালে দেখা গেলো পাখির দল খেলছে। কালো শরীরের একটা পাখির মাথায় যেনো সুন্দর করে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে হলুদ মাথা। পাশের মগডালে বিরল প্রজাতির একটা কালো কাঠবিড়ালি খেলছে। এরা গাছের মগডালে পাতা আর ডাল দিয়ে ঘর বানায়। কচি পাতা, শাক-সবজি আর বাদাম ভারি পছন্দ তাদের। কেবল বাংলাদেশেই পাওয়া যায় এমন কালো কাঠবিড়ালী। খাসিয়া পুঞ্জির পথ ছেড়ে ঘন ঝোপের ট্রেইলে কিছু দূর এগুতেই সন্ধ্যা ঘনালো। ডানে খাড়া টিলা, বাঁয়ে আরো গভীর বন। ফেরার পথ ধরা ছাড়া উপায় নেই আর। নিশাচর প্রাণীর দল বের হতে শুরু করবে একটু পর।
গোটা বনে সুনসান নীরবতা। চেনা-অচেনা পতঙ্গ-পাখি-প্রাণীর ডাক বাড়ছে। ওদের লাউয়াছড়া এখন ওদেরই দখলে। সকাল হওয়ার আগে আর মানুষ আসবে না তাদের আবাসে। কাছে কোথাও উল্লুক ডাকছে। মায়া হরিণের দল কোথায় লুকিয়েছে কে জানে। তবে বুনো শুকরের বেপরোয়া বিচরণ শুরু হবে একটু পরই।

নওগাঁয় জমি সংক্রান্ত বিবাদে প্রতিপক্ষের অস্ত্রের কোপে মহিলাসহ ২জন জখম
                                  

২৯ জুন ২০১৬ ইং
নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁর মান্দায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের হাসুয়ার কোপে সুফিয়া বেগম(৪০) ও তার স্বামী নুরুল ইসলাম (৫৫) ২জন গুরুত্বর জখম হয়েছে। আহতদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেপ্লক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার সকালে উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের বর্দ্দপুর গ্রামে। এ ঘটনায় নুরুল ইসলাম শাহ গতকাল মঙ্গলবার বাদী হয়ে মান্দা থানায় ৫জনকে আসামী করে একটি এজাহার দাখিল করেছেন। আসামীরা হলেন উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের ইটাখোলা গ্রামের মৃত ছনির শাহের ছেলে মালা বক্স (৫০), মালা বক্সের ছেলে জয়নাল (৩০) পিন্টু (২৭), নিজাম (২৪) ও মালা বক্সের স্ত্রী জয়নুর বেগম (৪২)। বাদী নুরুল ইসলাম শাহ জানান, তার ৯২২দাগের ১৮কাঠা জমিতে বাড়ি আছে। একই জমিতে বাগান করেছেন। যাতে ২০-২২টি আম গাছ এবং ১০০টির মতো ইউক্যালিপটাস গাছ আছে। এর মধ্যে ৫টি আম গাছ ও ২টি ইউক্যিালিপটাস গাছ এক ব্যাপারীর (গাছির) কাছে বাইশ শত টাকায় বিক্রি করেছেন। ঘটনার দিন গত সোমবার সকাল ১১টায় হঠাৎ করে জমি জমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষ মালা বক্সের নেতৃত্বে আসামীরা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে বেদম মারপিট করে। এসময় তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকে হাসুয়া দিয়ে প্রতিপক্ষের মালা বক্স শাহ কোপ মারে। মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধে ৫জনের নাম উল্লেখসহ ৭জনকে আসামী করে বাদী নুরুল ইসলাম শাহের একটি এজাহার পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নওগাঁ শহরে আগত হনুমানটির আশ্রয় কি হবে না?
                                  

২৯ জুন ২০১৬ ইং
স্টাফ রিপোর্টার

গত প্রায় এক মাস যাবৎ নওগাঁ শহর এবং তার আশপাশের গ্রাম গুলোয় আশ্রয় নিয়ে জীবন বাঁচিয়ে রেখেছে একটি কালমুখো হনুমান। এতো দীর্ঘদিন হনুমানটি এভাবে ঘুরাফেরা করলেও কারো যেন কোন ভ্রুক্ষেপ নাই। গত ৬দিন আগে হনুমানটিকে দেখা গিয়েছিল নওগাঁ শহরের সরকারী গোরস্থানে। উৎসুক মানুষের ভিড়ে এবং খাদ্য ও পানির আভাবে গত সোমবার শহরের বনানী পাড়ায় এসে স্থানীয় বাসিন্দা মুকুলের বাড়ির একটি গাছে আশ্রয় নিয়েছে। তবে দর্শনার্থিদের কলাহলে অস্থির হয়ে ওই গাছটির পার্শবর্তি খালেক মাষ্টারের বাড়ির ছাদে নেমে যাচ্ছে মাঝে মাঝে। তবে এখানে বাসিন্দারা খুদার্ত হনুমানটিকে আম, মুড়ি, পানিসহ নানান খাবার খেতে দিচ্ছে। গতকাল দুপুরের দিকে হনুমানটি কিছুটা আস্তস্থ হয়ে ছাদে নেমে খাবার গুলি খেয়েছে। বড়সরো সাইজের হনুমানটি কোথা থেকে নওগাঁয় এসেছে তা এখনো কেউ বলতে পারছেনা। সচেতন অনেকেই জানান, এভাবে হনুমানটি বেশীদিন বাঁচতে পারবেনা। হনুমানটিকে বাঁচাতে তাঁরা সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন। নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল ইসলামেকে হনুমানটির বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানানো হয়। তিনি এ ব্যাপারে বন বিভাগকে বলবেন বলে জানান।

দুইটি পিঁপড়ে মুখোমুখি হলে কী করে জানেন?
                                  

২৮ মে ২০১৬ ইং

দুটি পিঁপড়ে মুখোমুখি হলে তারা থমকে দাঁড়ায় সেটা সবার জানা। কিন্তু থমকে দাঁড়িয়ে তারা কী করে জানেন? অনেকেই হয়তো শুনে থাকবেন যে পিঁপড়েরা একে অপরের গায়ের গন্ধ শোঁকে কিন্তু কেন জানেন? পিঁপড়েরা একটি কলোনির মতো একসঙ্গে থাকে এবং অত্যন্ত পরিশ্রমী হওয়ার পাশাপাশি তারা খুবই দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন। খাবার জোগাড় করলে তারা সেই খাবার বাসায় নিয়ে গিয়ে সকলের সঙ্গে ভাগ করে তবে খায়। এই এক একটি বাসা হল এক একটি পেরেন্ট নেস্ট।
একটি পেরেন্ট নেস্ট-এর সঙ্গে অপর পেরেন্ট নেস্টের কিন্তু রেষারেষি। অনেকটা এক পাড়ার সঙ্গে অন্য পাড়ার যা হয়। দুটি পিঁপড়ে মুখোমুখি হলে তারা একে অপরের গায়ের গন্ধ শুঁকে বোঝার চেষ্টা করে যে অন্য পিঁপড়েটি তার নিজের নেস্ট-এর কি না। যদি তা হয় তবে কেউ কাউকে না ঘাঁটিয়ে নিজের পথ ধরে। কিন্তু যদি দেখা যায় যে অন্য পিঁপড়েটি অন্য নেস্ট-এর, তবে তারা জমিয়ে মারপিট করে এবং সে মারামারি কিন্তু মরণপণ। একজন চেষ্টা করে অন্যজনকে মেরেই ফেলতে।
এই জন্যই খেয়াল করে দেখবেন কোনও কোনও সময়ে দু’টি পিঁপড়ে মুখোমুখি হয়েই এগিয়ে যায়। আবার কিছু সময় তারা বেশ কয়েক সেকেন্ড মুখোমুখি থাকে এবং ক্রমশ শুঁড়ে শুঁড়ে লাঠালাঠি করে। পিঁপড়ের তলপেটে ফেরোমোন গ্ল্যান্ড থাকে এবং এই গ্ল্যান্ড থেকে নিঃসৃত হরমোনের গন্ধ থেকেই তারা সনাক্ত করে তাদের গোষ্ঠীর সহ-পিঁপড়েদের আর গন্ধটা একটু সন্দেহজনক হলেই ব্যস...।


   Page 1 of 2
     চিত্র-বিচিত্র
যে মাছের নাম ‘সমুদ্রের ভগবানের অট্টালিকার দূত’!
.............................................................................................
যে বাজারে গবেষণা কেনাবেচা হয়
.............................................................................................
বিশ্ব বাঘ দিবস আজ
.............................................................................................
অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হাকালুকি হাওর
.............................................................................................
ছায়ানটের বর্ণিল নৃত্যোত্সব
.............................................................................................
৩২০০ বছরের পুরনো মমির সন্ধান!
.............................................................................................
রংধনু নদী স্বর্গ থেকে নেমে আসা
.............................................................................................
”চড়–ই পাখী”
.............................................................................................
নগরের পাখি
.............................................................................................
বলুন তো ছবিতে কী দেখছেন?
.............................................................................................
কয়রাই হবে ‘বঙ্গবাহাদুরের’ শেষ ঠিকানা
.............................................................................................
মারাই গেল ‘বঙ্গবাহাদুর’
.............................................................................................
চেনা-অচেনা বন্য প্রাণীদের সঙ্গে লুকোচুরি
.............................................................................................
নওগাঁয় জমি সংক্রান্ত বিবাদে প্রতিপক্ষের অস্ত্রের কোপে মহিলাসহ ২জন জখম
.............................................................................................
নওগাঁ শহরে আগত হনুমানটির আশ্রয় কি হবে না?
.............................................................................................
দুইটি পিঁপড়ে মুখোমুখি হলে কী করে জানেন?
.............................................................................................
মন ভোলানো মনপুরা
.............................................................................................
বাংলাদেশে সেৌন্দর্যের সমারোহ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো: হাবিবুর রহমান সিরাজ
আইন উপদেষ্টা : অ্যাড. কাজী নজিব উল্লাহ্ হিরু
সম্পাদক ও প্রকাশক : অ্যাডভোকেট মো: রাসেদ উদ্দিন
সহকারি সম্পাদক : বিশ্বজিৎ পাল
যুগ্ন সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান রিপন
নির্বাহী সম্পাদক: মো: সিরাজুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : সাগর আহমেদ শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস ৫২ / ২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সূত্রাপুর ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৯৯ মতিঝিল , করিম চেম্বার ৭ম তলা , রুম নং-৭০২ , ঢাকা থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭২৬-৮৯৬২৮৯, ০১৬৮৪-২৯৪০৮০ Web: www.dailybishowmanchitra.com
Email: news@dailybishowmanchitra.com, rashedcprs@yahoo.com
    2015 @ All Right Reserved By dailybishowmanchitra.com

Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD