|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   শিক্ষা -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
পরীক্ষা ছাড়াই একাদশের শিক্ষার্থীরা দ্বাদশে

করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্ধ আছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ সময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি অভ্যন্তরীণ কোনো পরীক্ষা।

এদিকে সেশনের সময় চলে যাওয়ায় একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কলেজগুলো। আগামী বছর এপ্রিলে তাদের এইচএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত আছে।

তাই লেখাপড়ার গতি অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন কলেজ শিক্ষার্থীদের দ্বাদশ শ্রেণিতে ‘অটোপাস’ দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানা গেছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, করোনার এই সময়ে সব প্রতিষ্ঠানেই শ্রেণিকাজ বন্ধ আছে।

বন্ধ আছে পরীক্ষা। তবে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক রেকর্ড কলেজে আছে। সেটার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের পরের ক্লাসে উত্তীর্ণ দেখাতে পারে। এতে বোর্ডের আপত্তি থাকবে না।

সূত্র জানায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণি থেকে সবাইকে পরীক্ষা ছাড়া দ্বাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হয়েছে।

উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে চলতি জুলাই মাসের ২৬ তারিখের মধ্যে দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ফি’র ৯ হাজার ৪০০ টাকাসহ চলতি জুলাই মাস ও আগামী আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসের ৭ হাজার ৮০০ টাকা পরিশোধের জন্য বৃহস্পতিবার নোটিশ দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তবে অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেখানে করোনাকালে টিউশন ফি আদায়ে শিক্ষার্থীদের চাপ দিতে নিষেধ করেছে; সেখানে এভাবে নোটিশ দিয়ে ফি পরিশোধ করতে বলার কোনো মানেই হয় না।

আশা করছি কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করবে। এ বিষয়ে জানতে নটর ডেম কলেজের অধ্যক্ষ হেমন্ত পিয়াস রোজারিও সিএসসিকে কল দিলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

দেশসেরা আরেক প্রতিষ্ঠান রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার ভিত্তিতে পদোন্নতি দিয়েছ শিক্ষার্থীদের।

কলেজের সিনিয়র প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজহারুল আলম জানান, মার্চের শেষে একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা নেয়ার কথা ছিল। সেটা সম্ভব না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফওজিয়া জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরের স্তরে উত্তীর্ণ করার চিন্তা চলছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আলাপ করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।

রাজধানীর শেখ বোরহানউদ্দিন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুর রহমান বলেন, দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ করা হলে অনলাইন ক্লাস শুরু করা সম্ভব।

না হলে তারা লেখাপড়ার বাইরে থাকবে। তাই উত্তীর্ণ দেখানো উচিত। আমরা উত্তীর্ণ দেখিয়েই অনলাইন ক্লাস শুরু করেছি।

পরীক্ষা ছাড়াই একাদশের শিক্ষার্থীরা দ্বাদশে
                                  

করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্ধ আছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ সময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি অভ্যন্তরীণ কোনো পরীক্ষা।

এদিকে সেশনের সময় চলে যাওয়ায় একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কলেজগুলো। আগামী বছর এপ্রিলে তাদের এইচএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত আছে।

তাই লেখাপড়ার গতি অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন কলেজ শিক্ষার্থীদের দ্বাদশ শ্রেণিতে ‘অটোপাস’ দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানা গেছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, করোনার এই সময়ে সব প্রতিষ্ঠানেই শ্রেণিকাজ বন্ধ আছে।

বন্ধ আছে পরীক্ষা। তবে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক রেকর্ড কলেজে আছে। সেটার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের পরের ক্লাসে উত্তীর্ণ দেখাতে পারে। এতে বোর্ডের আপত্তি থাকবে না।

সূত্র জানায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণি থেকে সবাইকে পরীক্ষা ছাড়া দ্বাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হয়েছে।

উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে চলতি জুলাই মাসের ২৬ তারিখের মধ্যে দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ফি’র ৯ হাজার ৪০০ টাকাসহ চলতি জুলাই মাস ও আগামী আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসের ৭ হাজার ৮০০ টাকা পরিশোধের জন্য বৃহস্পতিবার নোটিশ দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তবে অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেখানে করোনাকালে টিউশন ফি আদায়ে শিক্ষার্থীদের চাপ দিতে নিষেধ করেছে; সেখানে এভাবে নোটিশ দিয়ে ফি পরিশোধ করতে বলার কোনো মানেই হয় না।

আশা করছি কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করবে। এ বিষয়ে জানতে নটর ডেম কলেজের অধ্যক্ষ হেমন্ত পিয়াস রোজারিও সিএসসিকে কল দিলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

দেশসেরা আরেক প্রতিষ্ঠান রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার ভিত্তিতে পদোন্নতি দিয়েছ শিক্ষার্থীদের।

কলেজের সিনিয়র প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজহারুল আলম জানান, মার্চের শেষে একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা নেয়ার কথা ছিল। সেটা সম্ভব না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফওজিয়া জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরের স্তরে উত্তীর্ণ করার চিন্তা চলছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আলাপ করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।

রাজধানীর শেখ বোরহানউদ্দিন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুর রহমান বলেন, দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ করা হলে অনলাইন ক্লাস শুরু করা সম্ভব।

না হলে তারা লেখাপড়ার বাইরে থাকবে। তাই উত্তীর্ণ দেখানো উচিত। আমরা উত্তীর্ণ দেখিয়েই অনলাইন ক্লাস শুরু করেছি।

সেপ্টেম্বরে স্কুল খুললে ডিসেম্বরে পরীক্ষা
                                  

করোনার কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বিরতি পুষিয়ে নিতে ডিসেম্বরের মধ্যেই বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। আর এমনটি হলে শিক্ষাবর্ষের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই প্রথম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত সব ক্লাসের বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হবে। বিষয়টি মাথায় রেখে প্রত্যেক শ্রেণীর সিলেবাস কিভাবে সংক্ষিপ্ত করে শিক্ষার্থীদের চাপ কমানো যায় তা নিয়েও কাজ করছে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে এখন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন কোটি ১০ লাখের বেশি। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী) শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেড় কোটি আর বাকি এক কোটি ৬০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে প্রাথমিক ও প্রাক প্রাথমিক পর্যায়ে। এই বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থীর জীবনে যাতে কোনো প্রকার বিরতি চলে না আসে সেই লক্ষ্যেই বছরান্তে বার্ষিক পরীক্ষা নেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। একই সাথে করোনাকালে স্কুলপর্যায় থেকে কোনো শিক্ষার্থী যাতে ঝরে না পড়ে সেই জন্যও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের এডুকেশন প্রোগ্রাম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সিলেবাস কাটছাঁট ও বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়ে নিজ নিজ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর গোলাম ফারুক এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক মো: ফসিউল্লাহ। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্কুলের পাঠ বিরতিতে মন্ত্রণালয় পরিচালিত কর্মকাণ্ডের নানা দিক নিয়েও ব্র্যাক তাদের একটি জরিপের ফলাফল তুলে ধরে। 

মাউশি’র মহাপরিচালক জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে যাতে কোনো প্রকার বিরতি চলে না আসে সেই জন্য আমরা স্কুল বন্ধের মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে সংসদ টিভিতে বিষয়ভিত্তিক ক্লাস চালু করেছি। এটা এখনো চলছে। যদিও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এসব ক্লাসের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে; তারপরেও বলব সরাসরি কিংবা অনলাইনে এসব ক্লাসের উপস্থিতি একেবারে কমও নয়। তিনি বলেন, স্বাভাবিক অবস্থাতেও ক্লাসের উপস্থিতি শতভাগ থাকে না। মাউশি’র এক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাভাবিক অবস্থাতেও শতকরা ১৪ ভাগ শিক্ষার্থী ক্লাসে অনুপস্থিত থাকে। ডিসেম্বর মাসে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠানের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেপ্টেম্বরে স্কুল খুললে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ সিলেবাস কমিয়ে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হবে। 

ডিপিই’র ডিজি জানান, করোনার কারণে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের ক্লাস খুব একটা ক্ষতি হয়েছে এমনটি বলা যাবে না। কেননা প্রাথমিকের বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী ১৭ মার্চ থেকে রোজার ঈদের আগে স্কুল খোলা থাকার কথা ছিল ১৭ দিন আর ঈদের পরে স্কুল খোলা থাকার কথা ছিল ১০ দিন। সব মিলিয়ে স্কুল গত তিন মাস ধরে করোনার কারণে বন্ধ থাকলেও সেই হিসাবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস মিস হয়েছে এক মাস। আর এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে পড়ালেখা চালিয়ে নেয়ারও চেষ্টা করা হয়েছে। সুতরাং ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়েও একটা প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। 

এ দিকে এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি বরাবরই বলে আসছেন যে, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে স্কুল-কলেজ খোলা হবে না। এই সময়ের মধ্যে সব ক্ল¬াসের পরীক্ষাও বন্ধ থাকবে। একই সাথে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষাও করোনার কারণে স্থগিত রয়েছে। বন্ধ রয়েছে কলেজে ভর্তির কার্যক্রম। তবে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে খুলে দেয়া হতে পারে স্কুল-কলেজ। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তও এমনটি রয়েছে বলে জানা গেছে।

শিক্ষাবর্ষ বাড়ানোর চিন্তা
                                  

করোনায় ভয়াবহ ক্ষতির পথে হাঁটছে দেশের শিক্ষা খাত। আটকে গেছে এইচএসসি পরীক্ষা আর একাদশে ভর্তি কার্যক্রম। সিদ্ধান্তে জট বেঁধেছে আগামীর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জেএসসি, স্কুলের বার্ষিক ও একাদশ প্রথম বর্ষের বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে। এসব পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়া নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। খোদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও তাকিয়ে আছে করোনা পরিস্থিতির দিকে। তবে বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য সে অনুযায়ী বিকল্প ভেবে রেখেছে মন্ত্রণালয়।

আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। সেপ্টেম্বরেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে কি না, সেটা আগস্টে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি সেপ্টেম্বরেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করা না যায়, তাহলে বিকল্প সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করার চিন্তা করা হচ্ছে।

ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, যদি সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায়, তাহলে শিক্ষাবর্ষ যেকোনো উপায়ে ডিসেম্বরে শেষ করা যাবে। আর যদি সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করা না যায়, তাহলে বিকল্প প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। শিক্ষাবর্ষ আগামী বছরের দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের না পড়িয়ে এক শ্রেণি থেকে অন্য শ্রেণিতে ওঠানো যাবে না। তাই শিক্ষাবর্ষ বাড়িয়ে দেওয়া হবে। ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান আরো বলেন, স্কুল-কলেজ খোলার এক মাস পূর্বে কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা ভর্তি শেষেই কলেজে যেতে পারে।

এর আগে সিলেবাস কমিয়ে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব ছুটি বাতিল করে শিক্ষাবর্ষ ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করার প্রস্তাবনা ছিল। কিন্তু করোনার সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে, সে কারণে এই প্রস্তাবনা হয়তো আর আলোর মুখ দেখবে না। তাই শিক্ষাবর্ষ আগামী বছরের দুই বা তিন মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করা ছাড়া আর উপায়ও হয়তো থাকবে না এমন আভাস দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, প্রতিটি শ্রেণির সিলেবাস করা হয়েছে ঐ শ্রেণির নির্ধারিত দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য। সিলেবাস কমানো হলে নির্ধারিত জ্ঞান অর্জিত হবে না। এতে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। এ ছাড়া তাড়াহুড়া করে সিলেবাস শেষ করলে শিক্ষর্থীরা ঐ জ্ঞান ধারণ করতে পারবে না। তাই তারাও শিক্ষাবর্ষ অন্তত দুই থেকে তিন মাস বাড়ানোর পক্ষে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা ইত্তেফাককে বলেন, শিগিগরই বিষয়টি নিয়ে সভা হবে। সেই সভায় সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, বার্ষিক পরীক্ষা পুরো সিলেবাসে হয় না। অর্ধেক সিলেবাসে হয়। তাই সেপ্টেম্বরে স্কুল-কলেজ চালু করা গেলে ডিসেম্বরে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে। আর জেএসসি পরীক্ষা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।

এদিকে স্কুল সেপ্টেম্বরে খোলা না গেলে অনেক কিন্ডারগার্টেন ও কম শিক্ষার্থী রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে ঐসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়তে পারে। এছাড়া স্কুল-কলেজে টিউশন ফি নিয়েও অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের মধ্যে মতবিরোধ বাড়ছে। অভিভাবকেরা চাইছেন এখনই টিউশন ফি না দিতে। আর স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে অভিভাবকদের প্রতিনিয়ত তাগাদা দেওয়া হয়েছে টিউশন ফি পরিশোধের জন্য।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের দুর্যোগে উচ্চ শিক্ষা স্তরেও ভয়াবহ সেশনজট সৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তবে সেশনজট কমাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় যদি শিগিগরই চালু করা না যায়, তাহলে তারাও অনলাইন ক্লাসের পথে হাঁটবে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

অভিভাবক মওকুফ চান ৪ কোটি শিক্ষার্থীর টিউশন ফি
                                  

দীর্ঘ ছুটিতে স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষাকার্যক্রম। কবে খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেটি এখনো অনিশ্চিত। প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের বেতন ও টিউশন ফি আদায়ে অনড় অনেক প্রতিষ্ঠানপ্রধান। এক দিকে স্কুল-কলেজ বন্ধ অন্য দিকে অভিভাবকদেরও অনেকের কাজ নেই, আয়ও নেই। এ অবস্থায় ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজের বেতন ও টিউশন ফি মওকুফের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ঐক্য ফোরাম।  শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফের জন্য ইতোমধ্যে উচ্চ আদালত থেকে রুলও জারি করা হয়েছে। 

করোনার এই দুর্যোগে দেশের প্রাথমিক পর্যায় থেকে বিশ^বিদ্যালয় পর্যন্ত সর্বত্রই এখন এক স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে। প্রাথমিকের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে। মাধ্যমিকের সব পরীক্ষাও বাতিল। করোনার কারণে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে দশম শ্রেণীর প্রি-টেস্ট পরীক্ষা নেয়া যায়নি। স্থগিত হয়ে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা কবে নেয়া হবে সেটি অনিশ্চিত। 

ডা: দীপু মনিকে লেখা চিঠিতে তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক গুণগত পরিবর্তন সাধন করেছেন, যা সর্বমহলে প্রশংসিত। আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা যখন এগিয়ে যাচ্ছিল তখন বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ নামের অদৃশ্য করোনাভাইরাস বিশ্বকে থমকে দেয়। সমস্ত বিশ্ব লকডাউন হয়ে পড়ে। আমাদের দেশে করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হওয়ার পর মানুষের জীবন বাঁচানো এবং স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আপনার নির্দেশে ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর ২৬ মার্চ থেকে সমগ্র দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। জনগণের স্বাস্থ্য ও জীবনের নিরাপত্তার জন্য বারে বারে ছুটি বাড়ানো হয়। 

চিঠিতে তিনি আরো বলেন, শিক্ষাবান্ধব প্রধানমন্ত্রী ও আপনি জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষক সমাজের দুর্দশার কথা বিবেচনায় নিয়ে নন-এমপিও শিক্ষকদেরও বিশেষ প্রণোদনা দেয়ার মহৎ উদ্যোগ নিয়েছেন। করোনায় সব কিছু স্থবির হয়ে পড়ায় শতকরা ৮০ ভাগ অভিভাবকের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে। সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয়ভার বহন করতে অভিভাবকদের বেশি কষ্ট হওয়ায় অনেক ছাত্রছাত্রীর লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এমতাবস্থায় বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারী করোনাকালীন দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচনা করে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসের টিউশন ফি (ছাত্রবেতন) মওকুফ করে নতুন একটি নির্দেশনা দেবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এইচএসসির প্রস্তুতিতে ভাটা অনিশ্চয়তায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী
                                  

পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে দীর্ঘ তিন মাস ধরে অপেক্ষায় রয়েছেন এইসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো অনিশ্চিত। কবে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে- সেটিও এখনো পরিষ্কার নয়। ফলে শিক্ষাজীবনের এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে দিন গুণছেন ১২ লাখ শিক্ষার্থী। তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ভাটা পড়েছে। একই সাথে এসব শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের মধ্যেও বিরাজ করছে হতাশা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দেশের প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী। গত পয়লা এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল এই পরীক্ষা কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে স্থগিত করা হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের এই পরীক্ষা। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এখনো সেই পরীক্ষা শুরুর তারিখ ঘোষণা করতে পারছে না শিক্ষা বোর্ড। এই অবস্থায় দীর্ঘ মেয়াদের সেশনজটেরও আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। রোজার ঈদের পর স্থগিত হওয়া এই পরীক্ষা শুরু করার সম্ভাবনার কথা জানানো হলেও করোনা পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ায় আবারো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এই পরীক্ষা।

এ দিকে গত ৩১ মে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি বলেছিলেন, করোনার কারণে কতদিন ক্লাস বন্ধ থাকবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে যখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে, তখন ক্ষতি কিভাবে পোষানো যায় সে চেষ্টা আমাদের থাকবে। শিক্ষাবর্ষ বাড়ানো সম্ভব কি না এগুলোও আমাদের বিবেচনায় আছে। তিনি আরো বলেছিলেন, করোনার কারণে এখনি আমরা এইসএসসি পরীক্ষা নেয়ার কথা চিন্তা করছি না। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে দুই সপ্তাহের সময় দিয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করা হবে।

পরীক্ষার এই অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়ালেখা থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। অনেক অভিভাবকই জানান, তাদের সন্তান আগের মতো পড়ালেখায় মনোযোগী নন। পরীক্ষা শুরুর আগে যেভাবে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল তাতে এখন অনেকটাই ভাটা পড়েছে। পরীক্ষা অনশ্চিত হয়ে পড়ায় কোনো শিক্ষার্থী এখন পড়ার টেবিলেই বসতে চায় না। এতে অনেক মা-বাবা তার সন্তানের ভালো ফলাফল নিয়েও চিন্তিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষাবোর্ড ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ জিয়াউল হক গতকাল জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠান করা যাবে না। করোনা পরিস্থিতি পুরোপুরি ভালো না হলে এই পরীক্ষা আয়োজনে অনেকটাই স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। কেননা এই পরীক্ষার সাথে শুধু ১২ লাখ শিক্ষার্থী জড়িত নয়। পরীক্ষা আয়োজনের সাথে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, পরীক্ষক, আনসার গার্ড, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে এই পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেবো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ১৫ দিনের মধ্যে এই পরীক্ষা আয়োজন করার যাবতীয় প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এরপর দিন দিন এ ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। করোনার বিস্তাররোধে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সেই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এ বছর সারা দেশের প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।

 
ঘরে বসেই পরীক্ষা দেবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা
                                  

দীর্ঘ ছুটিতে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে এবার ঘরে বসেই পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)। ইতোমধ্যে মৌখিকভাবে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরা ডিপিইর এমন সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছেন। তারা করোনা আতঙ্কে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি যেতে রাজি হচ্ছেন না। অনেকে লিখিত এবং মৌখিকভাবে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে এবার শিক্ষকদের বাড়ি বাড়ি পাঠানোর কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে শিক্ষকরা লেখাপড়ার খোঁজ নেবেন।

 পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশনে পাঠদানের আলোকে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ওপর প্রশ্নপত্র দিয়ে আসবেন। ছাত্রছাত্রীরা নিজের খাতায় উত্তর লিখে রাখবেন। পরে শিক্ষকরা তা সংগ্রহ করে মূল্যায়ন করবেন। যদিও এই উদ্যোগে শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকসমাজের সভাপতি আনিছুর রহমান জানান, দেশের অনেক শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক স্থানে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এই অবস্থায় শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরীক্ষা নেয়ার কাজে আগ্রহী হবেন না। অনেক শিক্ষক টেলিফোনে এ বিষয়ে মৌখিক আপত্তি জানিয়েছেন। এ ছাড়া শিক্ষকরা তো সব শিক্ষার্থীর বাড়িও চেনেন না। তারা কিভাবে সবার বাড়ি গিয়ে পরীক্ষা নেয়ার মতো এত বড় একটি কাজ সমাধান করবেন। কাজেই সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনারও দাবি জানান তিনি।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষকরা টেলিফোনে জানিয়েছেন, করোনার এই মহা দুর্যোগের সময়টিতে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তবে কোনো কোনো শিক্ষক বলছেন, উদ্যোগটি ভালো। এতে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় ফিরে আসার পাশাপাশি মানসিকভাবেও চাঙ্গা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক মোহাম্মদ ফসিউল্লাহ এ বিষয়ে জানান, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন শ্রেণি কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন। তাদের বিকল্প প্রক্রিয়ায় পাঠদান চলছে। এখন আমরা সেই পাঠদানের ওপর মূল্যায়ন করতে চাই। তাই বিকল্প হিসেবে এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

এসএসসির ও সমমানের ফল আজ
                                  

করোনাভাইরাসের কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আজ রোববার প্রকাশ করা হবে। সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০২০ সালের এই পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরে বেলা ১১টায় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন। এবার কেবল ওয়েবসাইট ও মুঠোফোনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ফল জানতে পারবে।

যেসব পরীক্ষার্থী নির্ধারিত নিয়মে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে প্রাক্‌নিবন্ধন করেছে, তাদের মুঠোফোন নম্বরে খুদে বার্তা পাঠিয়ে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। মোট পরীক্ষার্থী ছিল প্রায় সাড়ে ২০ লাখ।

করোনাভাইরাসের কারণে আটকে গেছে ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল
                                  

করোনাভাইরাসের কারণে আটকে গেছে ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) বলছে, সব ঠিক থাকলে গত মার্চের শেষদিকে ফলাফল প্রকাশ হতো। কিন্তু এ সময় করনোভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ায় অফিসের কার্যক্রম চালেতে পারেনি পিএসসি। তাই ফল ঝুলে গেছে।

পিএসসি সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারিতে ৩৮তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয়। এ সময় পিএসসি দ্রুত চূড়ান্ত ফল প্রকাশের কাজ শুরু করে।এই বিসিএস থেকে বিভিন্ন ক্যাডারে প্রায় ৩০০ পদ বাড়াতে চিঠি দেয় জনপ্রসাশন মন্ত্রণালয়।পিএসসিকে তখন আবার নতুন করে সব কাজ শুরু করতে হয়।

পিএসসির একজন সদস্য বলেন, ৩৮তম বিসিএসের ফলাফলের জন্য সবকিছুই প্রায় গুছিয়ে এনেছিল পিএসসি। কিন্তু করোনার কারণে আটকে গেছে ফলাফল ঘোষণা। এতে আবার দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হতে পারে পরীক্ষার্থীদের।

পিএসসি বলছে, জাতির ক্রান্তিলগ্নে চিকিৎসক এবং নার্স নিয়োগের সুপারিশ করার জন্যই মূলত ঝুঁকি নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের সুযোগ নেই।

৩৮তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক বলেন, করোনা সব প্রস্তুতি শেষ করে দিয়েছে। না হলে আমরা মার্চের শেষ দিকে ফলাফল দিয়ে দিতে পারতাম। এখন অফিস পুরোদমে চালু না হওয়া পর্যন্ত প্রার্থীদের অপেক্ষা করতে হবে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে অনেক আগেই ৩৮তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশ করা হতো। তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার আহবান জানান।

চেয়ারম্যান জানান, বাস্তবতা সবাইকে মানতে হবে। এখন সরকার কর্তৃক সাধারণ ছুটি। করোনার কারণে পিএসসির স্বাভাবিক সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পিএসসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরকারের নির্দেশনায় শুধু চিকিৎসক এবং নার্স নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথেই ৩৮তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

পিএসসি জানায়, ৩৮তম বিসিএসের শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য দুজন পরীক্ষক কর্তৃক খাতা মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করে পিএসসি। মূলত দুজনের মধ্যে নম্বরের হেরফের হলে তৃতীয় পরীক্ষক কর্তৃক খাতা মূল্যায়ন, এ ছাড়াও ৩৮তম বিসিএস চলমান অবস্থায় ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের কার্যক্রম সম্পন্ন, অধিক স্বচ্ছতার জন্য ১২পরীক্ষার্থী নিয়ে ভাইভা বোর্ড গঠন—এসব কারণে এই বিসিএসের ফলাফল প্রকাশে দেরি হয়েছে।

পরীক্ষার্থীরা এই বিসিএসের ফলাফল প্রকাশে দেরি হওয়ায় বেশ উদ্বিগ্ন। তারা বলছেন, এই বিসিএস সম্পন্ন করতে প্রায় তিনবছর লেগে যাচ্ছে।

গত বছরের ২৯ জুলাই থেকে ৩৮তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়। চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। গত বছরের ১ জুলাই ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে পাস করেন ৯ হাজার ৮৬২ জন। ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে জনপ্রশাসনে ২ হাজার ২৪ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ করার কথা ছিল। তবে এখন এই বিসিএসে ১৩৬ জন বেশি নিয়োগ পাবেন। এতে এই বিসিএসে মোট পদের সংখ্যা হচ্ছে ২ হাজার ১৬০ জন। ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন।

১৭ দফা নির্দেশনা খোলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
                                  

করোনা পরিস্থিতি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে মাস্ক, জীবাণুনাশক এবং নন-কন্ট্যাক্ট থার্মোমিটার সংগ্রহ করে জরুরি কাজের পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

প্রতি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ছাড়াও শিক্ষক ও শিক্ষাদান কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় এমনি ১৭ ধরনের নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন ৩০ মে পর্যন্ত ছুটি চলছে। ছুটি আর না বাড়লে ৩১ মে খুলবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে প্রয়োজনে সেপ্টেম্বরে খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরপরও স্বাস্থ্য অধিদফতর ২ মে ১৭ ধরনের করণীয় নির্ধারণ করেছে।

‘কোভিড-১৯’ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে করণীয়গুলোর মধ্যে রয়েছে-

১. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে মাস্ক, জীবাণুনাশক এবং নন-কন্ট্যাক্ট থার্মোমিটার সংগ্রহ করে জরুরি কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন করুন।

প্রতি ইউনিটের জবাবদিহিতা বাস্তবায়ন এবং শিক্ষক ও শিক্ষাদান কর্মীদের প্রশিক্ষণ জোরদার করুন।

২. শিক্ষক, শিক্ষাদান কর্মী ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ জোরদার করুন। সকাল ও দুপুরে পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং ‘প্রতিদিনের প্রতিবেদন’ এবং ‘শূন্য প্রতিবেদন’ পদ্ধতি প্রবর্তন করুন।

৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গেটে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, শিক্ষার্থী এবং বহিরাগত শিক্ষাদানকর্মীদের শরীরের তাপমাত্রা নিন। বেশি পাওয়া গেলে প্রবেশে নিষেধ করুন।

৪. শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ এবং পাঠাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বায়ু চলাচল নির্বিঘ্ন করুন। দিনে ২-৩ বার ২০-৩০ মিনিটের মতো উন্মুক্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক মাত্রা নিশ্চিত করুন।

৫. শ্রেণিকক্ষ ছাড়াও সবাই ব্যবহার করে এমন স্থান যেমন মেঝে, দরজা ও সিঁড়ির হাতল এবং যেসব বস্তু বারবার ব্যবহৃত হয় সেসব বস্তুর তলপৃষ্ঠ ঘন ঘন পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করুন।

৬. খাবার থালা পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা, প্রতিবার ব্যবহারের পর সেগুলো ফের জীবাণুমুক্ত করুন।

৭. দূরত্ব বজায় রেখে খাবার গ্রহণ করা এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব থালাবাসন বা ওয়ানটাইম থালাবাসন ব্যবহার করুন।

৮. প্রতিষ্ঠান চত্বরের আবর্জনা প্রতিদিন পরিষ্কার এবং আবর্জনা সংরক্ষণকারী পাত্র জীবাণুমুক্ত করুন।

৯. অফিসে কাগজের সীমিত ব্যবহারকে উৎসাহিত করুন। শারীরিক যোগাযোগ কমিয়ে অনলাইন শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিন।

১০. স্বাভাবিক অবস্থায় না ফেরা পর্যন্ত যে কোনো জমায়েত বা ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত থাকন। যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখুন।

১১. শিক্ষক, শিক্ষাদানকর্মী এবং শিক্ষার্থীদের বহির্গমন কমিয়ে দিন।

১২. শিক্ষাদান কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা মাস্ক ব্যবহার করুন। হাত ধোয়াসহ অন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। দ্রুত হাত শুকানো জীবাণুনাশক বা জীবাণুনাশক টিস্যু ব্যবহার করুন। হাঁচি দেয়ার সময় মুখ এবং নাক ঢাকতে টিস্যু বা কনুই ব্যবহার করুন।

১৩. মহামারী প্রতিরোধ জোরদার করুন। শিক্ষাদানের সময় নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করুন।

১৪. কোভিড-১৯ এর সন্দেহভাজন ব্যক্তি থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জানান এবং তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করুন।

১৫. কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের পিতামাতার স্বাস্থ্যের অবস্থা জানা এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করার জন্য একজন বিশেষ ব্যক্তিকে নিয়োগ করুন।

১৬. নিশ্চিত কোভিড-১৯ কেস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ এবং বায়ু চলাচল ব্যবস্থা পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করুন। মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত এটির পুনরায় ব্যবহার শুরু করা থেকে বিরত থাকুন।

১৭. একত্রে বসে খাওয়ার মতো ডাইনিং পরিষেবা বন্ধ রাখতে হবে।
ঈদের পর সিদ্ধান্ত এইচএসসি পরীক্ষার
                                  

এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষায় আছে দেশের প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী। গত ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে স্থগিত করা হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এখনো এ পরীক্ষা শুরুর তারিখ ঘোষণা করতে পারছে না শিক্ষা বোর্ড। এ অবস্থায় দীর্ঘ মেয়াদের সেশন জটেরও আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাই আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর পরীক্ষা গ্রহণের সম্ভাব্য কোনো তারিখ ঘোষণার বিষয়ে চিন্তা করছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার থেকে দেশের সব ক’টি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে শুরু হচ্ছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, আপাতত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার রেজাল্ট তৈরির কাজকেই অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এর পর করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ঈদের পর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার নতুন সময়সূচি নিয়ে বৈঠক করে তা প্রকাশ করা হবে।

অবশ্য এর আগে গত ২২ মার্চ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে পরীক্ষার মাত্র ৯ দিন আগে জরুরি ঘোষণায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। যদিও ১ এপ্রিল এ পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, করোনার কারণে পরীক্ষা আপাতত স্থগিত করা হলো। তবে ওই ঘোষণার সাথে এটিও জানানো হয়েছিল যে, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পরবর্তী তারিখ জানানো হবে। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে আর প্রকাশ করা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষাবোর্ড ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ জিয়াউল হক গতকাল বুধবার জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠান করা যাবে না। করোনা পরিস্থিতি পুরোপুরি ভালো না হলে এ পরীক্ষা আয়োজনে অনেকটাই স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। কেননা এ পরীক্ষার সাথে শুধু ১২ লাখ শিক্ষার্থী জড়িত নয়, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, পরীক্ষক, আনসার গার্ড, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি ঈদের পর বৈঠক করে কবে নাগাদ পরীক্ষা আয়োজন করা যায় সে সিদ্ধান্ত নেবো।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, করোনাভাইরাসের জন্য স্থগিত হওয়া এইচএসসি পরীক্ষা ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল। সবগুলো শিক্ষা বোর্ডের প্রস্তুতিও সেভাবে নেয়ার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এখন এ পরীক্ষা আয়োজন আরো কিছু দিন বিলম্ব হতে পারে।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত
                                  

করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে এই পরীক্ষার পরবর্তী সময়সূচি জানানো হবে। 

আজ রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আগামী ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল।

করোনাভাইরাসের কারণে এইচএসসি-সমমানের পরীক্ষা যে পেছাবে, তা কয়েক দিন ধরেই আলোচনা চলছিল। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক নির্দেশনাতেও তার ইঙ্গিত ছিল।

গতকালের ওই নির্দেশনায় জানানো হয়, ঢাকা বোর্ডের আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ কার্যক্রম ২৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম আমিরুল ইসলামের সই করা এক আদেশে ঢাকা বোর্ডের আওতাধীন সব কলেজের অধ্যক্ষদের এই বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। এখন পরীক্ষাই স্থগিত করা হলো।

এর আগে করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নির্যাতন, ৩ সদস্যের কমিটি
                                  

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে হল কর্তৃপক্ষ। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে জমা দিতে বলা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে এ কমিটি গঠন করা হয়।

শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট মু. ইব্রাহিম মোল্লা আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, শেরে বাংলা হলে গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের নেতা মোহাম্মদ শাহজালাল ইয়ামিনকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের অপর একটি পক্ষের বিরুদ্ধ। এ ঘটনায় হল কর্তৃপক্ষ গতকাল দুপুরে জরুরি সভা ডাকে। সভা চলে বিকেল পর্যন্ত। সভায় উপস্থিত সব আবাসিক শিক্ষকদের ঘটনার বিষয়ে জানানো হয়। এরপর আবাসিক শিক্ষক ইয়াসিফ আহমদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন একই হলের আবাসিক শিক্ষক মো. সোহেল রানা ও মো. সাইফুল ইসলাম। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে শেরে বাংলা হলে মঙ্গলবার রাতে নির্যাতনের শিকার হওয়া শিক্ষার্থী শাহজালাল ইয়ামিন প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তিনি শেরে বাংলা হলের ৪০১৬ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আল সামাদ ওরফে শান্ত তাঁর কক্ষে ঢুকে জরুরি কথা আছে বলে তাঁকে হলের ১০০১ নম্বর কক্ষে নিয়ে যান। ওই রুমের ভেতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তাঁর মুখ বেঁধে মারধর করা হয়।

শাহজালালের দাবি, এ সময় ওই কক্ষে চারজন পরিচিতসহ একই বয়সের অপরিচিত আরও কয়েকজন হাতে রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের নিজেদের মধ্যে কথোপকথন চলার এক ফাঁকে তিনি দৌড়ে ৪০১৪ নম্বর রুমে গিয়ে আশ্রয় নেন। ধাওয়া দিয়ে সেখান থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা শাহজালালকে ধরে আনতে গেলে অন্য শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ করেন।

প্রাথমিকে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ হচ্ছে
                                  

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ–সংক্রান্ত কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব মো. আকরাম-আল হোসেন।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব এই তথ্য জানান।

গণশিক্ষাসচিব বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে সম্মতি দেওয়ার সময়ই অর্থ বিভাগ জানিয়েছিল, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতিসহ প্রস্তাব পেলে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এটি একেবারে শেষ পর্যায়ে আছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেলে দ্রুত অর্থ বিভাগে পাঠানো হবে। এ পদটি ১২তম গ্রেডে হবে।

বর্তমানে সারা দেশে ৬৫ হাজার ৬২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এগুলোতে সাড়ে তিন লাখের মতো শিক্ষক রয়েছেন। তবে স্কুলগুলোতে সহকারী প্রধান শিক্ষকের কোনো পদ নেই

সম্প্রতি সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। আর প্রশিক্ষণ পাওয়া ও প্রশিক্ষণবিহীন দুই ধরনের প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১১তম গ্রেড করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও এ নিয়ে মামলা থাকায় প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। বর্তমানে প্রশিক্ষণ পাওয়া প্রধান শিক্ষকেরা ১১তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকেরা ১২তম গ্রেডে বেতন পান।

এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগবিধিও করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানান সচিব। এটি হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও উচ্চতর পদে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

চার যুগের ভর্তি পরীক্ষায় জাতির আস্থা রয়েছে : বুয়েট
                                  

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার প্রতি জাতির আস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছে বুয়েট। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রস্তাবিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে বুয়েটের একাডেমিক কাউন্সিলের ৪৫২তম অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (তথ্য) মো. শফিউর রহমান প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। এদিকে ইউজিসি প্রস্তাবিত সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা-বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেনের নেতৃত্বে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‘স্টান্ড ফর দ্য ইউনিভার্সিটি’ ব্যানারে এ মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে যেন সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, সে জন্য গতকাল উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করেন শিক্ষার্থীরা।

বুয়েটের বিজ্ঞপ্তিতে একাডেমিক কাউন্সিলের বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘বিগত প্রায় চার যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা বুয়েটের স্নাতক শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা সার্বিক বিবেচনায় অত্যন্ত সার্থকতার সঙ্গে দেশ ও জাতির আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এ ব্যবস্থায় যে কোনো পরিবর্তনে বুয়েটে ভর্তিচ্ছু মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে না বলে সব সদস্য মত ব্যক্ত করেন। দেশ ও জাতির স্বার্থকে সার্বিক গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যমান পদ্ধতিতেই বুয়েটে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।’

মানববন্ধনে আখতার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যতভাবে সরকারের অধীনস্ত করা যায় তার সমস্ত আয়োজন ইউজিসি করেছে। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল কী হতে পারে? সৃষ্ট বিপর্যয়গুলো কী হতে পারে? তার কোনো আলাপ-আলোচনা ছাড়াই ইউজিসি এক হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউজিসির এই সিদ্ধান্ত একটি হঠকারী সিদ্ধান্ত বৈ আর কিছু না। তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বর্তমানে যারা পরিচালনা করেন তারা আদৌ নিজেদের মতামত প্রকাশ করার যোগ্যতা রাখেন কি না, সেটা আজ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি শতবর্ষী প্রতিষ্ঠান তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় যাচ্ছে না বুয়েট
                                  

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় যাচ্ছে না বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।

আগের মতোই স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বুয়েট প্রশাসন।

বুধবার বুয়েটের শিক্ষা পরিষদের (অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল) সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

এ বিষয়ে অধ্যাপক মিজানুর রহমান বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বুয়েটে যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হতো সেই প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

তাহলে ইউজিসির সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় যাচ্ছে না বুয়েট? এমন প্রশ্নে মিজানুর রহমান বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েগুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় সাধুবাদ জানায় বুয়েট কর্তৃপক্ষ। তবে এতে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বুয়েট।’

উল্লেখ্য, গত ২৩ জানুয়ারি দেশের সব কটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে সমন্বিতভাবে ভাবে ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় ইউজিসি। সে সময় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ দেশের বড় ৫ বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে অনাগ্রহ দেখিয়ে আসছে।

সম্প্রতি এ বিষয়ে ইউজিসিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুয়েটের উপাচার্যদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হলে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানান উপাচার্যগণ।

আজ বুয়েট তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল।

প্রসঙ্গত, বুয়েট প্রথমে শিক্ষার্থীদের কাছে আবেদন আহ্বান করে। এরপর সেগুলো প্রাথমিক বাছাই করে নির্ধারিতসংখ্যক পরীক্ষার্থী নিয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেয়। এর ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করে।

এ বছর থেকেই কার্যকর হচ্ছে জিপিএ-৪
                                  

প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার সব স্তরেই জিপিএ-৫ এর পরিবর্তে জিপিএ-৪ চালু হচ্ছে। চলতি বছর জেএসসি থেকেই জিপিএ-৪ পদ্ধতি কার্যকর করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জিপিএ-৪ চালুর লক্ষ্যে চলতি মাসেই নতুন গ্রেডিং পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে প্রজ্ঞাপন জারির কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, নতুন গ্রেড পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। চলতি বছর (২০২০ শিক্ষাবর্ষ) থেকে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা হতে পারে। ২০২১ সাল থেকে এসএসসি-সমমান ও এইচএসসি-সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৪ কার্যকর করা হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং ২০২১ সাল থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফল জিপিএ ৫-এর পরিবর্তে জিপিএ ৪-এ প্রকাশ করার লক্ষ্যে গত বছরের মাঝামাঝি থেকে কাজ শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে মিল রেখে জিপিএ ৪-এর গ্রেডিং বিন্যাস চূড়ান্ত করতে দায়িত্ব দেয়া হয় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে।

নতুন গ্রেডিং পদ্ধতিতে দেখা গেছে, ৯০ থেকে ১০০ নম্বর প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের লেটার গ্রেড ‘এ প্লাস’ ও গ্রেড পয়েন্ট হবে ৪, যা সর্বোচ্চ ফল। এরপর ৮০ থেকে ৮৯ নম্বর প্রাপ্তদের লেটার গ্রেড ‘এ’ ও গ্রেড পয়েন্ট ৩.৫, ৭০ থেকে ৭৯ নম্বর প্রাপ্তদের লেটার গ্রেড ‘বি প্লাস’ ও গ্রেড পয়েন্ট ৩, ৬০ থেকে ৬৯ নম্বর প্রাপ্তদের লেটার গ্রেড ‘বি’ ও গ্রেড পয়েন্ট ২.৫, ৫০ থেকে ৫৯ নম্বর প্রাপ্তদের লেটার গ্রেড ‘সি প্লাস’ ও গ্রেড পয়েন্ট ২, ৪০ থেকে ৪৯ প্রাপ্তদের লেটার গ্রেড ‘সি’ ও গ্রেড পয়েন্ট ১.৫, ৩৩ থেকে ৩৯ প্রাপ্তদের লেটার গ্রেড ‘ডি’ ও গ্রেড পয়েন্ট হবে ১ এবং শূন্য থেকে ৩২ প্রাপ্তদের লেটার গ্রেড ‘এফ’ ও গ্রেড পয়েন্ট হবে শূন্য।

গত বছর ৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানে গ্রেড পরিবর্তনসংক্রান্ত এক কর্মশালায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

এতে পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেড পরিবর্তন কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন নতুন গ্রেড পদ্ধতি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। এরপর সেখানে উপস্থিত শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন স্তরের বিশেষজ্ঞদের সম্মতিতে খসড়া প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয়।

সে সভায় শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, যেহেতু এটি একটি বড় কর্মযজ্ঞ, তাই গ্রেড চূড়ান্ত করার আগে আরও দু-একটি সভা করা প্রয়োজন। বিশ্বের সঙ্গে সমন্বয় রেখে গ্রেড পদ্ধতি পরিবর্তন করা হচ্ছে। কোনো পরিবর্তনের ফলে কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে একই গ্রেডিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, সে বিষয়টির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে গ্রেড পরিবর্তন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।


   Page 1 of 14
     শিক্ষা
পরীক্ষা ছাড়াই একাদশের শিক্ষার্থীরা দ্বাদশে
.............................................................................................
সেপ্টেম্বরে স্কুল খুললে ডিসেম্বরে পরীক্ষা
.............................................................................................
শিক্ষাবর্ষ বাড়ানোর চিন্তা
.............................................................................................
অভিভাবক মওকুফ চান ৪ কোটি শিক্ষার্থীর টিউশন ফি
.............................................................................................
এইচএসসির প্রস্তুতিতে ভাটা অনিশ্চয়তায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী
.............................................................................................
ঘরে বসেই পরীক্ষা দেবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা
.............................................................................................
এসএসসির ও সমমানের ফল আজ
.............................................................................................
করোনাভাইরাসের কারণে আটকে গেছে ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল
.............................................................................................
১৭ দফা নির্দেশনা খোলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
.............................................................................................
ঈদের পর সিদ্ধান্ত এইচএসসি পরীক্ষার
.............................................................................................
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত
.............................................................................................
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নির্যাতন, ৩ সদস্যের কমিটি
.............................................................................................
প্রাথমিকে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ হচ্ছে
.............................................................................................
চার যুগের ভর্তি পরীক্ষায় জাতির আস্থা রয়েছে : বুয়েট
.............................................................................................
কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় যাচ্ছে না বুয়েট
.............................................................................................
এ বছর থেকেই কার্যকর হচ্ছে জিপিএ-৪
.............................................................................................
প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৭ হাজার ১৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়
.............................................................................................
টিউশন ফি নির্ধারণ করে দেবে সরকার
.............................................................................................
৪১তম বিসিএসের প্রিলি পরীক্ষা এপ্রিলে
.............................................................................................
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি পরীক্ষা
.............................................................................................
‘গেস্টরুম করানো’ নিয়ে ঢাবি ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের হাতাহাতি
.............................................................................................
এসএসসি-সমমানের পরীক্ষা দিচ্ছে সাড়ে ২০ লাখ শিক্ষার্থী
.............................................................................................
আইআইইউসি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ
.............................................................................................
বর্ণাঢ্য আয়োজনে সারা দেশে চলছে বই উৎসব
.............................................................................................
বেড়েছে পাসের হার জিপিএ-৫
.............................................................................................
পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষার ফল জানবেন যেভাবে
.............................................................................................
বই উৎসবের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
প্রাথমিক ও জেএসসির ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর হাতে
.............................................................................................
জেএসসি-পিইসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩১ ডিসেম্বর
.............................................................................................
চাকরিতে এগিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা!
.............................................................................................
পিইসি-জেএসসি ও সমমানের পরীক্ষা: ২৯ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তাব
.............................................................................................
বুয়েটে রাজনীতি ও র‍্যাগিংয়ে জড়িত হলে চিরতরে বহিষ্কার
.............................................................................................
পড়া নিয়ে শিশুদের চেয়ে মা-বাবাদের প্রতিযোগিতা বেশি: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
নুরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি ছাত্রলীগের
.............................................................................................
সত্য উদ্​ঘাটনে এই বইয়ের রয়েছে বড় ভূমিকা
.............................................................................................
১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
.............................................................................................
অন্যের দোষ বলে বেড়ানো পাপ
.............................................................................................
অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা শুরু ২৩ আগস্ট
.............................................................................................
এইচএসসি ও সমমানে পাসের হার ৬৮.৯১
.............................................................................................
ডিগ্রী পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স পরীক্ষা শুরু আজ
.............................................................................................
২২ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে এইচএসসির ফল
.............................................................................................
জাবি শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ, আটক অর্ধশতাধিক
.............................................................................................
২০১৮ শিক্ষাবর্ষে বিতর্কহীন পাঠ্যবই প্রণয়নের লক্ষ্য
.............................................................................................
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার তারিখ বদল
.............................................................................................
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি : ৯ মে থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু
.............................................................................................
এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ বৃহস্পতিবার
.............................................................................................
কেরানীগঞ্জে ১ হাজার আসনের হল নির্মাণ করছে জবি
.............................................................................................
প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ
.............................................................................................
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু
.............................................................................................
মাধ্যমিকে যেভাবে মূল্যায়ন হবে পাঁচ বিষয়
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো: হাবিবুর রহমান সিরাজ
আইন উপদেষ্টা : অ্যাড. কাজী নজিব উল্লাহ্ হিরু
সম্পাদক ও প্রকাশক : অ্যাডভোকেট মো: রাসেদ উদ্দিন
সহকারি সম্পাদক : বিশ্বজিৎ পাল
যুগ্ন সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান রিপন
নির্বাহী সম্পাদক: মো: সিরাজুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : সাগর আহমেদ শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস ৫২ / ২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সূত্রাপুর ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৯৯ মতিঝিল , করিম চেম্বার ৭ম তলা , রুম নং-৭০২ , ঢাকা থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭২৬-৮৯৬২৮৯, ০১৬৮৪-২৯৪০৮০ Web: www.dailybishowmanchitra.com
Email: news@dailybishowmanchitra.com, rashedcprs@yahoo.com
    2015 @ All Right Reserved By dailybishowmanchitra.com

Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD