|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আমি সম্মানিত : মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী

 

মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী ও গীতিকার ডেলা মাইলস সম্প্রতি তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি তুরস্কফরে একটি কনসার্টে অংশ নেওয়ার পর তিনি এই ঘোষণা দেন। জানা যায়, কালেমা তাইয়েবা ও কালেমা শাহাদাত পাঠ করে তিনি ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করেন। খবর আল-খালিজ অনলাইনের।

ডেলা মাইলসের অফিসিয়াল ফেসবুক একাউন্টে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, মাইলস ইস্তানবুলের বিখ্যাত সুলতান আহমেদ মসজিদের ভিতরে হিজাব পরে ঘোরাফেরা করছেন।

সূত্রের খবর, ডেলা মাইলস গত কয়েক বছর ধরে ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা অব্যাহত রেখেছিলেন। ইসলামের পূর্ণাঙ্গ রূপ ও ধারণা পেতে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। এই প্রচেষ্টায় ইসলামের প্রতি মুগ্ধ ও হৃদয়-মথিত হয়ে তিনি খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন।

ডেলা মাইলস বলেন, ইসলাম ভালবাসা ও সহনশীলতার ধর্ম। মুহাম্মাদ (সা.) সম্মন্ধে জ্ঞান অর্জন আমার নিকট খুবই চমৎকার ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আল্লাহর কসম! ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আমি সম্মানিত হয়েছি।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আমি সম্মানিত : মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী
                                  
 

মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী ও গীতিকার ডেলা মাইলস সম্প্রতি তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি তুরস্কফরে একটি কনসার্টে অংশ নেওয়ার পর তিনি এই ঘোষণা দেন। জানা যায়, কালেমা তাইয়েবা ও কালেমা শাহাদাত পাঠ করে তিনি ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করেন। খবর আল-খালিজ অনলাইনের।

ডেলা মাইলসের অফিসিয়াল ফেসবুক একাউন্টে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, মাইলস ইস্তানবুলের বিখ্যাত সুলতান আহমেদ মসজিদের ভিতরে হিজাব পরে ঘোরাফেরা করছেন।

সূত্রের খবর, ডেলা মাইলস গত কয়েক বছর ধরে ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা অব্যাহত রেখেছিলেন। ইসলামের পূর্ণাঙ্গ রূপ ও ধারণা পেতে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। এই প্রচেষ্টায় ইসলামের প্রতি মুগ্ধ ও হৃদয়-মথিত হয়ে তিনি খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন।

ডেলা মাইলস বলেন, ইসলাম ভালবাসা ও সহনশীলতার ধর্ম। মুহাম্মাদ (সা.) সম্মন্ধে জ্ঞান অর্জন আমার নিকট খুবই চমৎকার ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আল্লাহর কসম! ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আমি সম্মানিত হয়েছি।

যুব সমাজকে অবক্ষয়ের পথ থেকে বাঁচাতে সুস্থ ও নৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে, ক্যালিগ্রাফি আল্লাহর কালামের সৌন্দর্যের প্রকাশ: হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী
                                  


সাইফুল ইসলাম: হুজুর গাউছুল ওয়ারা শায়খুল ইসলাম শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানীর (ক.) ৮২তম খোশরোজ শরীফ উপলক্ষে সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ক্যালিগ্রাফি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঢাকা জাতীয় জাদুঘরে ১০ম জাতীয় ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণী, ক্যালিগ্রাফি বিষয়ক কর্মশালা ও সেমিনার আজ ২ ফেব্র“য়ারি শনিবার দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় জাদুঘরের নলীনি কান্ত ভট্টশালী হলে ১০ দিন ব্যাপী ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী গত ২৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। এ প্রদর্শনী চলবে ৪ ফেব্র“য়ারি ২০১৯ পর্যন্ত। বেগম সুফিয়া কামাল হলে প্রতিযোগিতা, কর্মশালা ও সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ক্যালিগ্রাফি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (মা.জি.আ.)। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি। মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, অপসংস্কৃতির ফলে যুব সমাজ আজ দিশেহারা ও অবক্ষয়গ্রস্ত। অবক্ষয় ও অনৈতিক পথ থেকে যুব সমাজকে ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে আনতে সুস্থ নৈতিকতাধর্মী শিল্প, সংস্কৃতি তাদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। শুধু সরকার একার পক্ষে যুব সমাজকে শুদ্ধাচারের পথে ধরে রাখা যাবে না। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জঙ্গিবাদ, মাদক ও অসুস্থ সংস্কৃতির আগ্রাসন ঠেকাতে ভূমিকা রাখতে হবে। সম্মিলিতি প্রচেষ্টায় নৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বলেন, সত্য, সুন্দরের পথে আজীবন নিজেকে উৎসর্গীত রেখেছিলেন সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.)। ইসলামের নান্দনিকতা ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী তাঁর মহত্তর সৃজনশীল উদ্যোগের অংশ যা এখন আমরা এগিয়ে নিচ্ছি। ক্যালিগ্রাফি আল­াহর কালামের সৌন্দর্যের প্রকাশ। বর্তমান অপসংস্কৃতির যুগে এসব শিল্প কর্ম শিল্পীদের তুলির মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে পারলে তা অপসংস্কৃতিকে প্রতিহত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ও সহযোগিতাকারী সকলের প্রতি তিনি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। ক্যালিগ্রাফি কর্মশালায় প্রশিক্ষণ প্রদানে ছিলেন চীনের কোয়াং জিয়াং মি (হাজী নুর দ্বীন) সহ বিশ্বখ্যাত ক্যালিগ্রাফাররা।
সেমিনারে অতিথি ও আলোচক ছিলেন চীন থেকে আগত মিসেস ফাতিমা ইয়াং চো, আলহাজ্ব মো: ইকবাল রিছালপুরী প্রমুখ। ক্যালিগ্রাফিসহ বিভিন্ন শিল্প কর্মে বিশেষ অবদান রাখায় শিল্পী মুর্তাজা বশীর, শিল্পী ড. আব্দুস ছাত্তার, শিল্পী ড. সবীহ্ উল আলম, শিল্পী সাইফুল ইসলাম, শিল্পী আরিফুর রহমান, শিল্পী ফেরদৌস আরা বেগমকে সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ক্যালিগ্রাফি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান ও বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়।

 

 

আজ চাঁদ দেখা গেলে ২ সেপ্টেম্বর ঈদ
                                  
বিশ্ব মানচিত্র অনলাইন রিপোর্ট : পবিত্র ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে আজ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসবে। বাংলাদেশের আকাশে হিজরি সালের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে কমিটি ঈদের তারিখ ঘোষণা করবে। 
 
এদিকে, বাংলাদেশের আকাশে আজ বুধবার সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আজ চাঁদ দেখা গেলে ২ সেপ্টেম্বর ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে।
 
আজ বাদ মাগরিব জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।
 
বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিম্নোক্ত টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা অন্য কোনো উপায়ে জানানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
 
টেলিফোন নম্বর : ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৯৬৪৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭। ফ্যাক্স নম্বর : ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১।
 
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ঈদ হবে ১ সেপ্টেম্বর। হজ হবে ৩১ আগস্ট।
দশ লাখ নেকি লাভের দোয়া
                                  

অনলাইন ডেস্ক : নবীকরিম (সাঃ) বলেছেন, ‘দোয়াই ইবাদত।’ এ কারণে রাসুল (সা্ঃ) দুনিয়ার প্রতিটি কাজের শুরুতেই দোয়া করেছেন এবং তার উম্মতকে দোয়া পড়তে বলেছেন। দুনিয়াতে সবচেয়ে উত্তম জায়গা হলো মসজিদ আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট জায়গা হলো বাজার। আর নিকৃষ্ট জায়গায় প্রবেশ করতে বিশ্বনবির শেখানো দোয়া  যদি কোন ব্যক্তি পড়েন তবে তার জন্য রয়েছে অনেক পুরস্কার। হাদিসে এসেছে-

হজরত সালিম ইবনু আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবীকরিম (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশের সময় এ দোয়া পড়বে, আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির আমল নামায় ১০ লাখ নেকি লিখে দেন এবং দশ লাখ গোনাহ মাফ করে দেন। আর ঐ ব্যক্তির জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ তৈরি করেন।

দোয়াটি হলো-
উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারি-কা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ইউহইয়ু ওয়া ইউমিতু ওয়া হুয়া হাইয়ু লা-ইউমিতু বি-ইয়াদিহিল খাইরু কুল্লুহু ওয়া হুয়া আ’লা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির।

আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর
                                  

বিশ্ব মানচিত্র রিপোর্ট : আজ দিবাগত রাত পবিত্র শবেকদর বা লাইলাতুল কদরের রাত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে এ রাত হাজার রাতের চেয়ে পুণ্যময়। পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ আল কোরআন লাইলাতুল কদরে নাজিল হয়। তাই মুসলিম উম্মাহ’র নিকট শবেকদরের গুরুত্ব ও ফজিলত অত্যধিক। এদিন ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্য এবং এবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী পবিত্র শবে কদর পালন করা হবে।


প্রতিবছর মাহে রমজানের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে শবেকদর পালন করা হয়। ইসলাম ধর্ম অনুসারে এ রাতে মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এই রাত অত্যন্ত পূণ্যময় ও মহাসম্মানিত।

পবিত্র রমজান মাসে লাইলাতুল কদরে মহাপবিত্র আল কোরান নাজিল হয়েছিল। তাই মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ বৃহস্পতিবার সারা রাত এবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। এ রাতে মুসলমানগণ নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরান তেলাওয়াত, জিকির-আসকার, দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও আখেরি মোনাজাত করবেন।

পবিত্র শবেকদর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে অশেষ রহমত ও বরকত কামনার পাশাপাশি দেশের অব্যাহত অগ্রগতি, কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য কামনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে পবিত্র রজনীতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, অব্যাহত শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেছেন। পবিত্র শবেকদর উপলক্ষে আগামী শুক্রবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে দিন ও রাতব্যাপী ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় বয়ান ও আখেরি মোনাজাতের আয়োজন করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত বিভাগের পরিচালক মো. মোজাহারুল মান্নান বলেন, পবিত্র শবেকদর উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আজ বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে শবেকদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল এবং বাদ মাগরিব (ইফতারের পরে) পবিত্র শবেকদরের প্রাক-বয়ান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। রাত ১১টায় মহিলা ও পুরুষদের জন্য পৃথক ব্যবস্থায় ‘শবেকদরের ফজিলত ও করণীয়’ শীর্ষক তাফসিরুল মাহফিল অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ, কিয়াম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন থাকবে।

পবিত্র শবেকদর উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে।

হাজার মাসের রাতের চেয়ে উত্তম ক্বদরের এবাদত
                                  

বিশ্ব মানচিত্র রিপোর্ট : দেখতে দেখতে মাহে রমজানের শেষ দশকে এসে আমরা পৌঁছেছি। আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে রমজান। নাজাতের এ দশকে আমাদের বেশি বেশি ইবাদত করে রাব্বুল আলামিনের কাছ থেকে ক্ষমা লাভ করতে হবে। বিশেষ করে এ মাসে রয়েছে বিশেষ একটি রাত যা হাজার মাসের রাতের চেয়ে উত্তম। এ রাতটি হচ্ছে ক্বদরের রাত। মোমিন-মুসলমানের ক্ষমা পাওয়ার অপূর্ব সুযোগ রয়েছে এ রাতে ।

ক্বদরের রাত ভাগ্য ও মর্যাদার রাত। আল্লাহর অশেষ কল্যাণের বারি বর্ষিত হয় এ রাতে। এ প্রসঙ্গে রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘আমি এই কোরআনকে এক বরকতময় ও মর্যাদাসম্পন্ন রাতে নাজিল করেছি, কারণ আমি লোকদের সতর্ক করতে চেয়েছিলাম। এই রাতে সকল বিজ্ঞ ও হেকমতপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করা হয়।’ (সূরা দোখান)

এ রাতের ইবাদতের সওয়াব ও পুরস্কার অনেক বেশি। এ রাতের এবাদতকে হাজার মাসের চাইতেও উত্তম বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনের সূরা ক্বদরে বলেছেন- ‘আমি একে (কুরআন) অবর্তীণ করেছি শবে কদরে। তুমি কি জান কদরের রাত কি? ক্বদরের রাত এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এ রাতে আল্লাহর হুকুমে ফেরেশতাগণ এবং হযরত জিবরাইল (আ.) দুনিয়ার সকল কল্যাণকর জিনিস নিয়ে অবর্তীণ হন এবং সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত সারারাতব্যাপী শান্তি ও রহমত বিদ্যমান থাকে। 

ক্বদর রাতের ফজিলত সম্পর্কে হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন- যে ক্বদরের রাতে ঈমান ও সওয়াবের নিয়তে নামাজ পড়ে, তার অতীতের সব সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (বোখারি ও মুসলিম)

রমজানের শেষ দশকে নবী করিম (সা.) স্ত্রী-পরিবার সহ সারা রাত জেগে ইবাদত করতেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- ‘রমজানের শেষ দশক শুরু হলে রাসূল (সা.)ক্বদরের রাত লাভের উদ্দেশ্যে পূর্ণ প্রস্তুতি নিতেন, নিজে সারা রাত জাগতেন এবং পরিবারকেও জাগাতেন।’ (বোখারি ও মুসলিম)

রাসূল (সা.) রমজানে শেষ দশকে যত বেশি পরিশ্রম করতেন অন্য কখনো করতেন না। হযরত আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- (সা.) রমজানের শেষ দশকে (ইবাদত-বন্দেগীতে) যে পরিমাণ পরিশ্রম করতেন অন্য কখনো করতেন না।’ (মুসলিম)

ক্বদর রাতে করণীয় : ক্বদর রাতের মর্যাদা লাভের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত ফরজ ও ওয়াজিবসমূহ পালন করতে হবে এবং অন্যান্য সুন্নত, নফল ও মোস্তাহাব কাজ আদায় করতে হবে। এর মধ্যে মাগরিব ও এশার নামাজ জামায়াতে আদায় করতে হবে এবং তারাবি, বিতর, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, তওবা এস্তগফার ও দোয়া করতে হবে। রাব্বুল আলামিনে কাছে কান্নাকাটি করতে হবে এবং পূর্ণ এখলাস ও আন্তরিকতার সঙ্গে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ইবাদত করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন- ‘যে রমজানে এশার নামাজ জামাআত সহকারে আদায় করে ও সে ক্বদরের রাতের ফজিলত লাভ করে। অপর এক হাদিসে এসেছে,  আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন- রমজানে এমন এক রাত আছে যার ইবাদত হাজার মাসের এবাদত অপেক্ষা উত্তম। যে এইর রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে সে অবশ্য বঞ্চিতের কাতারে আছে।’ (নাসাঈ ও মুসনাদ)

ক্বদরের রাতে কি দোয়া পড়া উচিত এ মর্মে হযরত আয়েশা (রা.)-এর এক প্রশ্নের জবাবে রাসূলে করিম (সা.) বলেছেন, এই দোয়া পড়- ‘হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে পছন্দ কর। সুতরাং আমাকে ক্ষমা ও মাফ করে দাও ‘

ক্বদরের রাত নির্ধারণ :  এ রাত হবে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে। এ সম্পর্কে হযরত আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কর।’

আমাদের দেশে সাধারণত: মানুষ শুধু রমজানের ২৭ তারিখে রাত জেগে ইবাদত বন্দেগী করে এবং ধারণা করে এ রাতেই শবে কদর অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু এ ধারণা, সুন্নতের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কারণ, আয়েশা (রা:)-এর উক্ত বর্ণনা অনুযায়ী শেষ দশকের বেজোড় রাতে তা তালাশ করতে বলা হয়েছে।

হযরত আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন- স্বপ্নে আমাকে লাইলাতুল ক্বদর দেখানো হল। কিন্তু আমার এক স্ত্রী আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়ায় আমি তা ভুলে গিয়েছি। অতএব, তোমরা তা রামাযানের শেষ দশকে অনুসন্ধান কর।’ কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে, দু ব্যক্তির বিবাদের কারণে রাসূল (সা.) তা ভুলে গেছেন।

কোনো কোনো বর্ণনায় রমজানের  শেষ সাত দিনের বেজড় রাতে শবে ক্বদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- হযরত ইবনে উমর (রা:) হতে বর্ণিত যে, কয়েকজন সাহাবি স্বপ্নযোগে রমজানের শেষ সাত রাতে শবে কদর হতে দেখেছেন। সাহাবিদের এ স্বপ্নের কথা জানতে পেরে নবী করিম (সা.) বলেন- ‘আমি দেখছি তোমাদের স্বপ্নগুলো মিলে যাচ্ছে শেষ সাত রাতে। অতএব কেউ চাইলে শেষ সাত রাতে লাইলাতুল ক্বদর অনুসন্ধান করতে পারে।’ (সহিহ বোখারি ও মুসলিম)

কোন কোন সালাফে-সালেহীন ২৭ রাত শবে কদর হওয়ার অধিক সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেছেন। সাহাবিদের মধ্যে ইবনে আব্বাস (রা:), মুআবিয়া, উবাই ইবনে কা’ব (রা:)-এর মতামত থেকে এটাই বোঝা যায়।

কিন্তু রাসূল (সা.) থেকে এভাবে নির্দিষ্টকরে লাইলাতুল ক্বদর হওয়ার কোনো দলিল বা হাদিস নাই। তাই উপরোক্ত সাহাবিদের কথার ওপর ভিত্তি করে বড় জোর ২৭ রাতে শবে ক্বদর হওয়াকে অধিক সম্ভাবনাময় বলা যেতে পারে। নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। সঠিক কথা হলো- শবে ক্বদর কখনো ২১, কখনো ২৩, কখনো ২৫, কখনো ২৭ আবার কখনো ২৯ রাতে হতে পারে।

সুতরাং শুধু ২৭ তারিখ নয় বরং কোন ব্যক্তি যদি রামজানের শেষ দশকের উপরোক্ত পাঁচটি রাত জাগ্রত হয়ে ইবাদত-বন্দেগী করে তবে নিশ্চিতভাবে শবে কদর পাবে। কিন্তু শুধু সাতাইশ রাত জাগলে শবে কদর পাবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই। বরং অন্যান্য রাত বাদ দিয়ে শুধু সাতাইশ রাত উদযাপন করা ঠিক নয়।

রাব্বুল আলামিন আমাদের সঠিকভাবে ক্বদরের রাত অনুসন্ধান ও ইবাদত-বন্দেগী করে নাজাত লাভের তাওফিক দান করুন। -আমিন।

মাহে রমজানে দোয়া বেশি কবুল হয়
                                  

বিশ্ব মানচিত্র রিপোর্ট : মুসলমানদের জন্য রমজান মাস আল্লাহ তাআলার অশেষ নেয়ামত। রমজানের মাহাত্ম, ফজিলত ও মর্তবা তাদের কাছে রয়েছে যারা এ মাসের বরকত সম্পর্কে অবগত। মাহে রমজানের আজ ১২তম দিন। অর্থাৎ মাগফিরাতের দ্বিতীয় দিন আজ। প্রথম দশকে রাব্বুল আলামিন তার অপার রহমত ও করুণার দ্বার খুলে দিয়েছিলেন। আর দ্বিতীয় দশকে তিনি অবারিত করে দিয়েছেন তার মাগফিরাত অর্থাৎ ক্ষমার ভাণ্ডার। তাই রমজানে আমাদের উচিত বেশি বেশি করে আল্লাহর কাছে দোয়া তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা।


দোয়া অর্থ হচ্ছে ডাকা। রাব্বুল আলামিনের কাছে কোনো কিছু চাওয়াকে দোয়া বলে। বান্দা তার যে কোনো প্রয়োজনে আল্লাহ তাআলাকে ডাকবেন, তার কাছে চাইবেন। আল্লাহও তা পছন্দ করেন। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে রাব্বুল আলামিন তার প্রিয় হাবিবকে (সা.) লক্ষ্য করে বলেন, ‘যখন তোমার কাছে আমার কোনো বান্দা আমার সম্পর্কে পছন্দ করে তখন তুমি বলো, আমি তোমাদের খুবই নিকটে এবং যখন কেউ আমাকে ডাকে (দোয়া করে) আমি তার ডাকে সাড়া দেই।’ –(সূরা বাক্বারা-১৮৬)

নোমান বিন বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন- ‘দোয়াই হচ্ছে এবাদত। -(আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)। আরেক হাদিসে রাসূলে করিম (সা.) বলেছেন- ‘আল্লাহর কাছে দোয়ার চাইতে বেশি সম্মানিত জিনিস আর কিছু নেই।’ -(তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

বান্দাহ যেমন তার নিজের জন্য দোয়া করবে, তেমনি অন্যের জন্যও দোয়া করা উচিত। নিজের মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়িসহ অন্য আত্মীয়-স্বজনের জন্য দোয়া করতে হবে। পাশাপাশি পাড়া-প্রতিবেশি, দেশবাসি এবং সব জীবিত ও মৃত মুসলমান নর-নারীর জন্য দোয়া করা দরকার। হযরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলমান ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করলে সেই দোয়া কবুল হয়। তার মাথার কাছে নিয়োজিত ফেরেশতা আমিন বলেন এবং আরো বলেন, তোমার জন্যও অনুরূপ কল্যাণ হোক।’ –(মুসলিম)

হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি করিম (সা.) বলেছেন, ‘তিন দোয়া কবুল হয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই। মা-বাবার দোয়া, মজলুমের দোয়া এবং মুসাফিরের দোয়া।’ -(আবু দাউদ, তিরমিজি) অপর এক হাদিসে এসেছে, আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলেছেন- যে আল্লাহর কাছে কিছু চায় না আল্লাহ তার ওপর রাগ করেন।’ -(তিরমিজি)

সৃষ্টিকর্তার কাছে শুধু দুঃখের সময় নয়, সুখের সময়ও দোয়া করা, তার শুকরিয়া আদায় করা উচিত। হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি চায় যে তার দুঃখের সময় আল্লাহ তার দোয়া শুনবেন, সে যেন সুখের সময়ও দোয়া করে।’ -(তিরমিজি)

মাহে রমজান যেহেতু ফজিলতের মাস। তাই এই মাসে যাবতীয় ভোগ-লালসা থেকে দূরে থেকে আল্লাহর হুকুম মানার কারণে রোজাদার ব্যক্তি আল্লাহর প্রিয়পাত্রে পরিণত হন। আর তারা দোয়া করলে রাব্বুল আলামিন সে দোয়া কবুল করেন। বিশেষ সময়ে ও মওসুমে দোয়া বেশি কবুল হয়। অনুরূপভাবে বিশেষ স্থানে এবং বিশেষ লোকের দোয়াও কবুল হয়। পবিত্র রমজানে দোয়া বেশি কবুল হয়। বিশেষ ব্যক্তি ও অবস্থা যেমন ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া কবুল হয়।

হযরত আমর বিন আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন- ‘ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না। তাই ইফতারের সময় আমাদের সবার বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।’ -(ইবনে মাজাহ)

রাসূলে করিম (সা.) ইফতারে সময় বিভিন্ন ধরনের দোয়া করেছেন। মুয়াজ বিন যাহরা থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইফতারের সময় বলতেন- ‘হে আল্লাহ আমি তোমার জন্যই রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া নেয়ামত দিয়েই ইফতার করছি।’ –(আবু দাউদ)

হযরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন- ‘যার জন্য দোয়ার দরজা খোলা হয়, তার জন্য রহমতের দরজা খোলা হয়। আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও শান্তির চাইতে অধিকতর প্রিয় দোয়া নেই।’ সালমান (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি করিম (সা.) বলেছেন- ‘আল্লাহ চিরঞ্জীব ও সম্মানিত। বান্দাহ তার কাছে দুই হাত তুললে তিনি খালি হাতে তাকে ফেরত দিতে লজ্জাবোধ করেন।’ –(তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

রমজান মাসে রাসূল (সা.), সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন, তাবে তাবেয়িনরা ইবাদত বন্দেগির পাশাপাশি আল্লাহর দরবারে আহাজারি রোনাজারি করে দোয়া করেছেন। এর মাধ্যমে তারা আল্লাহর সান্নিধ্য ও নৈকট্য লাভে সক্ষম হয়েছেন। তাই রমজানের পুরো মাস জুড়ে আমাদের ইবাদত বন্দেগির সঙ্গে সঙ্গে বেশি বেশি দোয়া করা জরুরি। রাব্বুল আলামিন আমাদের সে তাওফিক দান করুন। -আমিন।

রোজা খোলার পর দোয়া ও তার উপকারিতা
                                  

অনলাইন ডেস্ক : সারাদিন রোজা পালন শেষে রোজাদার ইফতার করেন। খেজুর এবং পানি দ্বারা ইফতারে রয়েছে অনেক উপকারিতা। খেজুর সংগ্রহ করতে না পারলে ন্যূনতম পানি দ্বারা ইফতার করা।

রোজাদার সারাদিন রোজা পালনের পর ইফতারের সময় খেজুর ও পানি দ্বারা রোজা খোলায় রয়েছে তাৎক্ষনিক উপকার। যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুস্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করেছেন-

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন-

উচ্চারণ : ‘জাহাবাজ জামাউ; ওয়াবতালাতিল উ’রুকু; ওয়া ছাবাতাল আঝরূ ইনশাআল্লাহ।’
অর্থ : ‘পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপসিরা সিক্ত হলো এবং যদি আল্লাহ চান সাওয়াবও স্থির হলো। (আবু দাউদ, মিশকাত)

এ হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইফতারের উপকারিতা বর্ণনা করে বলেন, রোজায় মানুষের ক্ষুধা ও পিপাসার কারণে গোটা শরীরে যে শুষ্ক ও তপ্ত হয়ে পাণি শূন্য হয়ে পড়ে। পানি পানের সঙ্গে সঙ্গে তা দূরীভূত হয়ে যায়। ক্লান্তি ও অবসাদ ঘুচে নিমিষেই সতেজ ও চাঙ্গা হয়ে ওঠে রোজাদার।

আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক রোজাদারকে ইফতার করে হাদিসে বর্ণিত উপকার লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

রমজানের ফজিলত নিয়ে হাদিস-কোরানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাণী
                                  
বছর ঘুরে রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের সওগাত নিয়ে আবারো এসেছে পবিত্র মাহে রমজান। শুরু হলো সংযম সাধনার মাস। খোশ আমদেদ মাহে রমজান, আল্লাহ তাআলার অধিক থেকে অধিকতর নৈকট্য লাভের সেরা সময়।
 
এই মাসের ফজিলত অনেক, আর এই ফজিলত পবিত্র কোরান শরীফ, হাদিস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে।
 
হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেমন ফরজ করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর। যেন তোমরা পরহেজগারি অর্জন করতে পার’: আল কুরআন। ‘রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের চেয়ে বেশী ঘ্রানযুক্ত’: আল হাদিস
 
‘ইফতার পর্যন্ত রোজাদারের জন্য ফেরেশতারা দোয়া করেন’: আল হাদিস। ‘রোজাদারের জন্য প্রতিদিন জান্নাতকে সজ্জিত করা হয়’: আল হাদিস। ‘রমজানের শেষ রাতে সকল উম্মতকে মাফ করা হয়’: আল হাদিস। ‘রমজান জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়ার ঢাল’: আল হাদিস।
 
রমজান জান্নাতে যাওয়ার উৎকৃষ্টতম উপায় এবং রাইয়ান নামক বিশেষ দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ’: আল হাদিস। ‘রমজান গুনাহ মোচনের অন্যতম মাধ্যম’: আল হাদিস। ‘রোজা কিয়ামতের দিন মুমিন ব্যক্তির জন্য শুপারিশকারী হবে’: আল হাদিস
 
‘রোজার পুরষ্কার আল্লাহ নিজ হাতে প্রদান করবেন’: আল হাদিস। ‘রোজার মাধ্যমে আচার-আচরণ ও চরিত্র সুন্দর হয়’: আল হাদিস। ‘রোজা মানুষকে আখেরাত মুখী করে’: আল হাদিস।
 
‘রমজান সামাজিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ব বোধ সৃষ্টি করে’: আল হাদিস। ‘রমজান আল্লাহ ও বান্দার মাঝে নিতান্ত গোপন ইবাদত তাই এর মাধ্যমে আল্লাহ ও বান্দার মাঝে সম্পর্ক দৃঢ়তর হয়’: আল হাদিস। ‘রমজান আল্লাহর ইবাদতের এক অভূতপূর্ব ট্রেনিং স্বরূপ’: আল হাদিস।
আজ পবিত্র শবে বরাত
                                  

বিশ্ব মানচিত্র রিপোর্ট  : পাপ থেকে সর্বান্তঃকরণে ক্ষমা প্রার্থনা করে নিষ্কৃতি লাভের সৌভাগ্যের রাত আজ। দিবসের আলো পশ্চিমে মিলিয়ে যাওয়ার পরই শুরু হবে কাঙ্ক্ষিত এই রজনী, পবিত্র শবে বরাত। বর্ণিত আছে যে, এই রাতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নূরের তাজাল্লি পৃথিবীর নিকট আসমানে প্রকাশ পায়। তখন আল্লাহপাক বলতে থাকেন—আছে কি কেউ ক্ষমাপ্রার্থী? যাকে আমি ক্ষমা করব? আছে কি কেউ রিজিক প্রার্থী? যাকে আমি রিজিক প্রদান করব? আছে কি কেউ বিপদগ্রস্ত? যাকে আমি বিপদমুক্ত করব? আল্লাহ তায়ালার মহান দরবার থেকে প্রদত্ত এ আহ্বান অব্যাহত থাকে ফজর অবধি। বস্তুত আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভের এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয় লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান। অতএব প্রতিটি কল্যাণকামী মানুষ এ সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে থাকেন। মহান আল্লাহর  ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন হয়ে রাত অতিবাহিত করেন।


শবে বরাতকে ‘লাইলাতুল বারাআত’ নামে অভিহিত করা হয়। লাইলা আরবি শব্দ, আর ‘শব’ শব্দটি ফার্সি। দুটি শব্দের অর্থই হলো রাত। অপরপক্ষে ‘বারাআত’ শব্দের অর্থ হলো নাজাত, নিষ্কৃতি বা মুক্তি। এ রাতে বান্দারা মহান আল্লাহতায়ালার নিকট মার্জনা প্রার্থনা করে থাকেন। এ কারণে এ রাতকে ‘লাইলাতুল বারাআত’ বা শবে বরাত বলা হয়। হাদিস শরিফে এটাকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা ‘মধ্য শাবানের রাত্রি’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। এর পক্ষকাল পরেই আসবে রহমত-বরকত-নাজাতের মাহে রমজান। ২৮ মে রবিবার প্রথম রোজা। এ কারণে এটাকে বলা হয়, ‘রমজানের মুয়াজ্জিন।’

লাইলাতুল বারাআত মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের পূর্বপ্রস্তুতিস্বরূপ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত ‘ইসলামী বিশ্বকোষ’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, “ইরান ও ভারতীয় উপমহাদেশে এ মাসের একটি রজনীকে ‘শব-ই-বরাত’ বলা হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোনো কোনো দেশের কোনো কোনো এলাকায় শবে বরাত ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। আরববাসীরা এ রাতকে ‘লাইলাতুন নিসফে মিন শাবান’ বলেন।”

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, সিরিয়ার কিছু এলাকা ছাড়া কোথাও ঘটা করে শবে বরাত পালন করা হয় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এই শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখতেন। রমজানের প্রস্তুতির মাস হিসেবে তিনি এ মাসকে পালন করতেন। শবে বরাতের বরকত, ফজিলত ও মর্যাদা নিয়ে বেশকিছু হাদিসে বর্ণনা আছে। হাদিস থেকে প্রমাণ হয় যে, শবে বরাত ফজিলতময় এবং এ রাতে আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে ক্ষমা করে থাকেন। তবে ক্ষমা পাওয়ার শর্ত হলো শিরক ও বিদ্বেষ থেকে মুক্ত থাকা।

হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, এ রাতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে নফল নামাজ পড়া, যাতে সেজদাও দীর্ঘ হবে, কাম্য। কুরআনু তেলওয়াত করা, বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়া,  ইসেতগফার করা, দোয়া করা, তাসবিহ তাহলিল ও জিকির-আসকার করা। আর সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই নিজের জন্য, নিজের পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি,আত্মীয়-স্বজন,বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী ও সব মুসলমানের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা, তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা। সম্ভব হলে পুরুষদের কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করা, কবরবাসীদের জন্য দোয়া করাও সওয়াবের কাজ। এ রাতে নফল আমলসমূহ বিশুদ্ধ মতানুসারে একাকী করণীয়। ফরয নামায জামায়াতের সঙ্গে অবশ্যই মসজিদে আদায় করতে হবে। নফল আমলের জন্য দলে দলে মসজিদে এসে সমবেত হওয়ার কোনো প্রমাণ হাদিস শরিফে নেই আর সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন-তাবে তাবেঈনদের যুগেও এর রেওয়াজ ছিল না।

উলামা-মাশায়েখগণ বলেন, এই রাতে শুদ্ধ মনে তওবা করার পর নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়াতে এবং ইসলামী বিধান মেনে চলতে হবে। এ রাতে হালুয়া-রুটি, ফিন্নী-পায়েশ, খিচুড়ি, বিরিয়ানি প্রভৃতি বিতরণ বাধ্যতামূলক নয়। আলোকসজ্জা আর আতশবাজির মেলা এ রাতের পবিত্রতায় আঘাত হানে। উত্সব নয়, কেবল প্রার্থনার রাত ‘শবেবরাত’।

যথাযথ মর্যাদায় ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে আজ পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি মসজিদে ওয়াজ মাহফিল, জিকির-আজকারের আয়োজন হয়েছে।

শবেবরাত উপলক্ষে আগামীকাল সরকারি ছুটি। এ রাতের তাত্পর্য তুলে ধরে রেডিও-টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। সংবাদপত্র প্রকাশ করবে বিশেষ ক্রোড়পত্র। এই উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণীতে পবিত্র শবেবরাতের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবার প্রতি মানব কল্যাণে ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহবান জানান।

আজ পবিত্র শবে মেরাজ
                                  

বিশ্ব মানচিত্র অনলাইন রিপোর্ট  : আজ সোমবার দিবাভাগ পেরিয়ে রাত্রের আঁধার নামলেই আবির্ভাব ঘটবে এক অসামান্য মহাপুণ্যে ঘেরা রজনীর। এ রজনী মহাপবিত্র মহিমান্বিত লাইলাতুল মে’রাজের। এ রাতে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম হযরত জিব্রাঈল আলাহিস্সালামের সঙ্গে পবিত্র কাবা শরীফ হতে ভূমধ্য সাগরের পূর্ব তীর ফিলিস্তিনে অবস্থিত পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস হয়ে সপ্তাকাশের উপর সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে সত্তুর হাজার নূরের পর্দা পেরিয়ে আরশে আজিমে মহান আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন। এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি অবলোকন করেন সৃষ্টি জগতের সমস্ত কিছুর অপার রহস্য। মহানবীর জীবনের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা  মে’রাজ।

 
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় মুসলিম জাহানের সঙ্গে এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও আজ কোরআনখানি, নফল সালাত, জিকির আসকার,    ওয়াজ মাহফিল, দোয়া-দুরুদ পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে পবিত্র শবে মে’রাজ পালন করবেন।
 
মে’রাজ শব্দটি আরবি, অর্থ ঊর্ধ্বারোহণ। বড়দাগে এর অর্থ দাঁড়ায়-সপ্তম আসমান, সিদরাতুল মুনতাহা, জান্নাত-জাহান্নাম পরিদর্শন ও ধনুক কিংবা তার চেয়ে কম দূরত্ব পরিমাণ আল্লাহ তা’আলার নৈকট্য পর্যন্ত ভ্রমণ।
 
পারিভাষিক অর্থে নবুওয়াতের একাদশ সালের ২৭ রজবের বিশেষ রাতের শেষ প্রহরে হযরত মুহাম্মদ (সা.) হযরত জিব্রাঈলের (আ.) সঙ্গে আল্লাহর নির্দেশে তার খাস রহমতে বায়তুল্লাহ হতে বায়তুল মুক্বাদ্দাস পর্যন্ত ‘বোরাক্বে’ ভ্রমণ, অতঃপর সেখান থেকে অলৌকিক সিঁড়ির মাধ্যমে সপ্ত আসমান পেরিয়ে আরশে আল্লাহর সান্নিধ্যে গমন ও পুনরায় বায়তুল মুক্বাদ্দাস হয়ে বোরাক্বে আরোহন করে প্রভাতের আগেই মক্কায় নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তনের ঘটনাকে মে’রাজ বলা হয়।
 
এ রাত্রিতে উম্মতে মুহাম্মাদীর প্রতিদিন ৫ ওয়াক্তের নামাজ ফরজ হয়। ফলে এটা খুবই ফজিলতের রাত্রি। অতএব এই রাত্রিতে যতদূর সম্ভব জেগে নফল নামাজ, জিকির-আসকার, কুরআন তিলওয়াত ও দরুদ শরীফ ইত্যাদি পাঠ করা এবং নফল নিয়তে দিবাভাগে রোজা রাখা ভাল। এগুলো ব্যাতীত এই রাতে অন্য কোনো প্রকার শরীয়ত বিরোধী রুসম-রেওয়াজে লিপ্ত হওয়া যাবে না। এ রাতকে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করা, আতশবাজি, আলোকসজ্জা ইত্যাদি সবই বিদআতের পর্যায়ভুক্ত বলে মত দেন মুহাক্কিক আলেমরা।
 
যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় আজ দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল মে’রাজ উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে (বাদ মাগরিব) বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে।
বিশ্বনবির পবিত্র মেরাজ
                                  

বিশ্ব মানচিত্র অনলাইন রিপোর্ট  : মেরাজ মানে ঊর্ধ্বলোকে পরিভ্রমণ। আর এ মেরাজ দ্বারা আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌছানোর ঘটনাই উদ্দেশ্য। যার ব্যবস্থাপক হলে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। বিশ্বনবির মেরাজের সফরের সঠিক তারিখ ও বৎসর নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।

তবে সর্বাধিক ও গ্রহণযোগ্য অভিমত হলো মেরাজ সংঘটিত হয়েছিল হিজরতের আগে বিশ্বনবির মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ের ২৬ রজব দিবাগত রাতে। এ উর্ধ্বলোকে ভ্রমণ ছিল বিশ্বনবির স্বশরীরে এবং জাগ্রত অবস্থায়।

- বিজ্ঞাপন -
 

মেরাজের বিষয়ে কুরআনুল কারিমের সুরা বনি ইসরাইল এবং সুরা নজমে আলোচিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ মেরাজ তিন ধাপে বিভক্ত ছিল।

প্রথম ধাপ
মক্কার মসজিদুল হারাম (বায়তুল্লাহ) থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদে আকসা পর্যন্ত। যার আলোচনা সুরা বনি ইসরাইলের প্রথম আয়াতেই রয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যান্ত-যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।’

দ্বিতীয় ধাপ
মসজিদে আকসা হতে শুরু করে সপ্তম আসমান পর্যন্ত গমন। সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে জান্নাত জাহান্নামসহ বহু নিদর্শন পরিদর্শন করে সিদরাতে মুনতাহায় পৌঁছান। হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম সিদরাতে মুনতাহা পর্যন্তই ছিলেন বিশ্বনবির সফর সঙ্গী। যার আলোচনা এসেছে সুরা নাজমের প্রথম দিকের আয়াতগুলোতে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘উর্ধ্ব দিগন্তে। অতঃপর নিকটবর্তী হল ও ঝুলে গেল। তখন দুই ধনুকের ব্যবধান ছিল অথবা আরও কম। তখন আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি যা প্রত্যাদেশ করবার, তা প্রত্যাদেশ করলেন। রসূলের অন্তর মিথ্যা বলেনি যা সে দেখেছে। তোমরা কি বিষয়ে বিতর্ক করবে যা সে দেখেছে? নিশ্চয় সে তাকে আরেকবার দেখেছিল। সিদরাতুলমুন্তাহার নিকটে। যার কাছে অবস্থিত বসবাসের জান্নাত। যখন বৃক্ষটি দ্বারা আচ্ছন্ন হওয়ার, তদ্দ্বারা আচ্ছন্ন ছিল। তাঁর দৃষ্টিবিভ্রম হয় নি এবং সীমালংঘনও করেনি। নিশ্চয় সে তার পালনকর্তার মহান নিদর্শনাবলী অবলোকন করেছে।’ (সুরা নজম : আয়াত ৭-১৮)

তৃতীয় ধাপ
জিব্রিল আলাইহিস সালামের বিদায়ের পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাকি আল্লাহ তাআলার অন্তরঙ্গ সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে রহওয়ানা হন। সেখানে তিনি আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করেন। এটা হলো মেরাজের সংক্ষিপ্ত রূপ।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র মেরাজ ছিল তাঁর শ্রেষ্ঠ মোজেজা। মেরাজের আগের দুই বছর ছিল প্রিয়নবির জন্য অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টকর। যা ছিল তাঁর ও তাঁর সঙ্গীদের জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মান মর্যাদা ও সান্তনা। যেখানে প্রিয়নবি বাস্তবেই ইমামুল মুরসালিন হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

পবিত্র শবে মেরাজ আগামী ২৪ এপ্রিল
                                  

গতকাল বুধবার বাংলাদেশের আকাশে ১৪৩৮ হিজরি সনের পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আজ বৃহস্পতিবার থেকে পবিত্র রজব মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ২৪ এপ্রিল সোমবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হবে।
গতকাল সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী।

সভায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (প্রেস) মো. মিজান-উল-আলম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব মো. ছাইফুল ইসলাম, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ বিএম আমিনউল্লাহ, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসতিয়াক হোসেন, ধর্ম সচিবের একান্ত সচিব মো. গোলাম মওলা, ওয়াকফ প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম, সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ প্রফেসর সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (প্রশাসন) মো. শাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আবদুর রহমান, স্পারসোর সিএসও মো. শাহ আলম, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব আবু রায়হান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূরা ফাতিহার বৈশিষ্ট্য ও ফজিলত
                                  

অনলাইন ডেস্ক : রো কুরআন শরীফের গুরুত্বপূর্ণ সূরা ফাতিহা। এ সূরার মাধ্যমেই সূচনা হয়েছে পবিত্র কুরআনের। সূরাটিকে আল কুরআনের সার সংক্ষেপও বলা হয়। এ সূরা নাজিল হয়েছে মানুষের সার্বিক কল্যাণ মুক্তি ও পথপ্রদর্শক হিসেবে। সূরাটি ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে অন্য সব সূরার আলাদা।


সূরা ফাতিহার বৈশিষ্ট্য :
১) এই সূরা কুরআনের সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ সূরা। তাওরাত, জবুর, ইনজিল, কুরআন কোনো কিতাবে এই সূরার তুলনীয় কোন সূরা নেই। বুখারি, মিশকাত : ২১৪২

২) এই সূরা এবং সূরায়ে বাকারা’র শেষ তিনটি আয়াত হল আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত বিশেষ নূর, যা ইতিপূর্বে কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি। মুসলিম শরীফ : ৮০৬

৩) যে ব্যক্তি নামাজে সূরা ফাতিহা পাঠ করল না, তার ছালাত অপূর্ণাঙ্গ। রাসূলুল্লাহ (সা.) এ কথাটি তিনবার বললেন। মিশকাত : ৮২৩

৪) আবু সা‘ঈদ খুদরী রা. বলেন, একবার এক সফরে আমাদের এক সাথী জনৈক গোত্রপতিকে শুধুমাত্র সূরায়ে ফাতিহা পড়ে ফুঁ দিয়ে সাপের বিষ ঝাড়েন এবং তিনি সুস্থ হন। বুখারি শরীফ : ৫৪০৫

সুরা ফাতিহার বিশেষ মর্যাদা হলো, আল্লাহ এটিকে নিজের ও নিজের বান্দার মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। একে বাদ দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব নয়। সেজন্যই এর নাম দেয়া হয়েছে ‘উম্মুল কুরআন’। পবিত্র কুরআন মূলত তিনটি বিষয়ে বিন্যস্ত। তাওহীদ, আহকাম ও নছীহত। সূরায়ে ইখলাছে ‘তাওহীদ’ পূর্ণাঙ্গভাবে থাকার কারণে তা কুরআনের এক তৃতীয়াংশের মর্যাদা পেয়েছে। কিন্তু সূরায়ে ফাতিহায় তিনটি বিষয় একত্রে থাকার কারণে তা ‘উম্মুল কুরআন’ হওয়ার মহত্তম মর্যাদা লাভে ধন্য হয়েছে। তাফসীরে কুরতুবী : ১৪৮

সূরা ফাতিহার ফজিলত :
সুরা ফাতিহার ফজিলত অপরিসীম। এর ফযীলত সম্পর্কে অনেক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি নিন্মরূপ।

১) উবাই ইবনু কা‘ব (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ উম্মুল কুরআনের মত তাওরাত ও ইনজিলে কিছু নাযিল করেননি। এটিকেই বলা হয়, ‘আস-সাব‘উল মাছানী’ (বারবার পঠিত সাতটি আয়াত), যাকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। আর আমার বান্দার জন্য তাই রয়েছে, সে যা চাইবে’। নাসায়ী শরীফ : ৩১৯

২) আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমরা সূরা ফাতিহা পড়। কোন বান্দা যখন বলে, আলহামদুলিল্লাহি রাবিবল আলামীন, তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। যখন বলে, আর-রহমা-নির রহীম, তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার গুণ বর্ণনা করেছে। বান্দা যখন বলে, মালিকি ইয়াউমিদ্দীন। আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার মর্যাদা বর্ণনা করেছেন। বান্দা যখন বলে, ইয়্যাকানা’বুদু ওয়া ইয়্যা কানাস্তাইন, আল্লাহ বলেন, এ হচ্ছে আমার ও আমার বান্দার মাঝের কথা। আমার বান্দার জন্য তাই রয়েছে, যা সে চায়। বান্দা যখন বলে, ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম.. (শেষ পর্যন্ত)। আল্লাহ বলেন, এসব হচ্ছে আমার বান্দার জন্য। আমার বান্দার জন্য তাই রয়েছে, যা সে চায়। মুসলিম শরীফ : ৩৯৫

৩) ইবনে আববাস (রা.) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে জিবরাঈল (আ.) উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ জিবরাঈল (আ.) ওপর দিকে এক শব্দ শুনতে পেলেন এবং চক্ষু আকাশের দিকে করে বললেন, এ হচ্ছে আকাশের একটি দরজা যা পূর্বে কোনদিন খোলা হয়নি। সে দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে এসে বললেন, ‘আপনি দু’টি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। যা আপনাকে প্রদান করা হয়েছে। তা আপনার পূর্বে কোন নবীকে প্রদান করা হয়নি। তা হচ্ছে সূরা ফাতিহা এবং সূরা বাকারার শেষ দু’আয়াত। মুসলিম শরীফ : ৮০৬

সূরা ফাতিহার সর্বাধিক পরিচিত নাম ‘সূরাতুল ফাতিহা’। তারপরও সূরা ফাতিহার স্থান, মর্যাদা, বিষয়বস্তু, ভাবভাষা, প্রতিপাদ্য বিষয় ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য রেখে এর বিভিন্ন নাম দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেক নামের সাথেই সূরাটির সামঞ্জস্য বিদ্যমান। এই সূরাটির ফযীলত ও গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ যেন আমাদের সকলকেই সূরা ফাতিহার প্রতি আমল করে সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার তাওফীক দান করেন।

ঈমানদারের ৩টি গুণ
                                  

মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে, সে ঈমানের স্বাদ পায়। ১) আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল তার কাছে অন্য সব কিছুর থেকে প্রিয় হওয়া; ২) কাউকে খালিস দিলে আল্লাহ্‌র জন্যই মুহব্বত করা; ৩) কুফ্‌রিতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মত অপছন্দ করা।

আবূল ইয়ামান (রহঃ) ‘আয়িনুল্লাহ্ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও লায়লাতুল ‘আকাবার একজন নকীব ‘উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশে একজন সাহাবীর উপস্থিতিতে তিনি ইরশাদ করেন : তোমরা আমার কাছে এই মর্মে বায়’আত গ্রহণ কর যে, আল্লাহ্‌র সঙ্গে কিছু শরিক করবে না, চুরি করবে না, জিনা করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেবে না এবং নেক কাজে নাফরমানী করবে না।

তোমাদের মধ্যে যে তা পূরণ করবে, তার বিনিময় আল্লাহ্‌র কাছে। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং দুনিয়াতে তার শাস্তি পেয়ে গেলে, তবে তা হবে তার জন্য কাফ্‌ফারা। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং আল্লাহ্ তা অপ্রকাশিত রাখলে, তবে তা আল্লাহ্‌র ইচ্ছাধীন। তিনি যদি চান, তাকে মাফ করে দেবেন আর যদি চান, তাকে শাস্তি দেবেন। আমরা এর উপর বায়’আত গ্রহণ করলাম। (বুখারী ও মুসলিম)।

দুনিয়ায় থাকতেই বেহেশতে যাওয়ার সুসংবাদ পাওয়া ১০ সাহাবি
                                  

অনলাইন ডেস্ক : ইসলামের ইতিহাসে নবী-রাসূলদের পর সাহাবাদের স্বীকৃত বিষয়। তারা সবচেয়ে বেশি অনুসরণীয়। আল্লাহতায়ালা তাদের সচ্চরিত্র সম্পর্কে কোরআনে কারিমে ঘোষণা করেছেন, ‘মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তার সঙ্গে যারা আছে তারা কাফেরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর; পরস্পরের প্রতি সদয়, তুমি তাদেরকে রুকুকারী, সিজদাকারী অবস্থায় দেখতে পাবে। তারা আল্লাহর করুণা ও সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করছে। তাদের আলামত হচ্ছে, তাদের চেহারায় সিজদার চি‎হ্ন থাকে। এটাই তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত। আর ইনজিলে তাদের দৃষ্টান্ত হলো- একটি চারাগাছের মতো, যে তার কচিপাতা উদগত করেছে ও শক্ত করেছে, অতঃপর তা পুষ্ট হয়েছে ও স্বীয় কাণ্ডের ওপর মজবুতভাবে দাঁড়িয়েছে- যা চাষীকে আনন্দ দেয়। যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফেরদের ক্রোধান্বিত করতে পারেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপ্রতিদানের ওয়াদা করেছেন।’ -সূরা আল ফাতহ: ২৯

আল্লাহতায়ালা সাহাবিদের সম্পর্কে আরও বলেন, ‘এই সম্পদ নিঃস্ব মুহাজিরদের জন্য ও যাদেরকে নিজেদের ঘর-বাড়ি ও ধন-সম্পত্তি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। অথচ এরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির অন্বেষণ করে এবং আল্লাহ ও তার রাসূলকে সাহায্য করেন। এরাই তো সত্যবাদী। আর মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে যারা মদিনাকে নিবাস হিসেবে গ্রহণ করেছিল এবং ঈমান এনেছিল (তাদের জন্যও এ সম্পদে অংশ রয়েছে), আর যারা তাদের কাছে হিজরত করে এসেছে তাদেরকে ভালোবাসে। আর মুহাজিরদের যা প্রদান করা হয়েছে তার জন্য এরা তাদের অন্তরে কোনো ঈর্ষা অনুভব করে না এবং নিজেদের অভাব থাকা সত্ত্বেও নিজেদের ওপর তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়। যাদের মনের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম।’ -সূরা হাশর: ০৮-০৯

সাহাবিদের প্রশংসায় হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে তারাই সবচেয়ে নেক লোক যাদের মাঝে আমি প্রেরিত হয়েছি। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হরজত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সবচেয়ে সেরা মানব আমার সাহাবারা। আরেক বর্ণনায় সাহাবাদের প্রতি ভালোবাসাকে ঈমানের চিহ্ন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

হজরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা.) বলেন, ‘তোমরা মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবিদের গালাগাল করো না। কেননা তাদের এক মুহূর্তের (ইবাদতের) মর্যাদা তোমাদের প্রত্যেকের জীবনের আমলের চেয়ে বেশি।’ –ইবনে মাজা: ১৬২

সামগ্রিক বিচারে সাহাবারা অন্যসব উম্মত অপেক্ষা উত্তম। তবে সাহাবাদের সবাই কিন্তু এক স্তরের নন। বরং কেউ কেউ মর্যাদায় অন্যদের চেয়ে উত্তম। তাদের নিজেদের মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে শ্রেণি ও স্তর রয়েছে। নিম্নে তাদের ক্রমধারা উল্লেখ করা হলো-

সাহাবাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছেন চার খলিফা। অর্থাৎ হজরত আবু বকর (রা.), হজরত উমর (রা.), হজরত উসমান (রা.) ও হজরত আলী (রা.)।

এরপরের স্তরে আছেন দুনিয়ায় থেকে যারা বেহেশতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন ওই তালিকার অবশিষ্টরা। দুনিয়ায় থেকে বেহেশতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকাটি হলো-

হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.), হজরত উমর বিন খাত্তাব (রা.), হজরত উসমান বিন আফফান (রা.), হজরত আলী বিন আবি তালিব (রা.), হজরত আবু উবাইদা বিন জাররাহ (রা.), হজরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.), হজরত আবদুর রহমান বিন আওফ (রা.), হজরত যুবাইর বিন আওম (রা.), হজরত তালহা বিন উবায়দুল্লাহ (রা.) ও হজরত সাঈদ বিন যায়েদ (রা.)।

জান্নাতের সুসংবাদ এই দশ সাহাবি সম্পর্কে হাদিসে প্রচুর বর্ণনা রয়েছে। তাদের মর্যাদা সম্পর্কে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন- আবু বকর জান্নাতি, উমর জান্নাতি, উসমান জান্নাতি, আলী জান্নাতি, তালহা জান্নাতি, যুবাইর জান্নাতি, আবদুর রহমান জান্নাতি, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস জান্নাতি, সাঈদ ইবনে যায়েদ জান্নাতি এবং আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা.)। -তিরমিজি

হজরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব (রা.) বলেন, আবু বকর, উমর, আলী, তালহা, যুবাইর, সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস, আবদুর রহমান বিন আওফ এবং সাঈদ বিন যায়েদ লড়াইয়ের ময়দানে রাসূল (সা.)-এর সামনে প্রথম সারিতে থাকতেন এবং নামাজের মধ্যে রাসূলের পিছনেই থাকতেন।

আল্লাহতায়ালা সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবায়ে কেরামের চারিত্রিক জজবা বা প্রেরণা দান করুন। আমিন।


   Page 1 of 5
     ইসলাম
ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আমি সম্মানিত : মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী
.............................................................................................
যুব সমাজকে অবক্ষয়ের পথ থেকে বাঁচাতে সুস্থ ও নৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে, ক্যালিগ্রাফি আল্লাহর কালামের সৌন্দর্যের প্রকাশ: হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী
.............................................................................................
আজ চাঁদ দেখা গেলে ২ সেপ্টেম্বর ঈদ
.............................................................................................
দশ লাখ নেকি লাভের দোয়া
.............................................................................................
আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর
.............................................................................................
হাজার মাসের রাতের চেয়ে উত্তম ক্বদরের এবাদত
.............................................................................................
মাহে রমজানে দোয়া বেশি কবুল হয়
.............................................................................................
রোজা খোলার পর দোয়া ও তার উপকারিতা
.............................................................................................
রমজানের ফজিলত নিয়ে হাদিস-কোরানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাণী
.............................................................................................
আজ পবিত্র শবে বরাত
.............................................................................................
আজ পবিত্র শবে মেরাজ
.............................................................................................
বিশ্বনবির পবিত্র মেরাজ
.............................................................................................
পবিত্র শবে মেরাজ আগামী ২৪ এপ্রিল
.............................................................................................
সূরা ফাতিহার বৈশিষ্ট্য ও ফজিলত
.............................................................................................
ঈমানদারের ৩টি গুণ
.............................................................................................
দুনিয়ায় থাকতেই বেহেশতে যাওয়ার সুসংবাদ পাওয়া ১০ সাহাবি
.............................................................................................
১৩ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা শুরু
.............................................................................................
২ ডিসেম্বর থেকে টঙ্গীতে পাঁচ দিন ব্যাপী জোড় ইজতেমা শুরু হচ্ছে
.............................................................................................
কাবা শরিফে নতুন গিলাফ
.............................................................................................
রোজার ফজিলত পবিত্র আশুরার
.............................................................................................
পরকালের জবাবদিহিতার বর্ণনা কুরআনে
.............................................................................................
শিক্ষা ও করণীয় পবিত্র আশুরার
.............................................................................................
হিজরি নববর্ষ আজ, ১২ অক্টোবর পবিত্র আশুরা
.............................................................................................
মুয়াজ্জিনের আজান দেয়ার মর্যাদা
.............................................................................................
যে আমলের বিনিময়ে জান্নাতের ওয়াদা
.............................................................................................
পবিত্র হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ধর্মমন্ত্রী
.............................................................................................
লোক দেখানোর জন্য নয়, কোরবানি হোক আল্লাহপ্রেমে
.............................................................................................
আল্লাহর জিকিরের উপকারিতা
.............................................................................................
যে আমলে নেক সন্তান লাভ হয়
.............................................................................................
পবিত্র ঈদুল আজহা আগামী ১৩ই সেপ্টেম্বর ঈদুল আজহা
.............................................................................................
টাঙ্গাইলে তৈরী হচ্ছে ২০১ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ
.............................................................................................
রোগী দেখতে যাওয়া একটি উত্তম নফল ইবাদত
.............................................................................................
মৃতদের স্মরণে করণীয় আমলসমূহ
.............................................................................................
কোরবানির পশু জবাই করতে পারবে না ১৮ বছরের কম কেউ
.............................................................................................
ওমরাহ ও হজযাত্রীদের প্রথম ভিসা ‘ফ্রি’
.............................................................................................
সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় করণীয়
.............................................................................................
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইসলামি জাদুঘর হচ্ছে সৌদিতে
.............................................................................................
আল্লাহকে স্মরণের উত্তম মাধ্যম
.............................................................................................
সিঙ্গাপুরে গড়ে উঠছে স্বতন্ত্র ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
.............................................................................................
ইসলামকে জীবন-ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করার উপদেশ
.............................................................................................
শাওয়াল মাসের ছয় রোজা অশেষ ফজিলতপূর্ণ
.............................................................................................
সারা দিন না খেয়েও কোনো কষ্ট লাগতো না
.............................................................................................
রামাদান ২০১৬: সেহরি ও ইফতারের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি
.............................................................................................
মাহে রমজান ও সিয়ামের শিক্ষা
.............................................................................................
সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন ৩রা জুন মতিঝিল বাবে রহমত দেওয়ানবাগে বিশ্ব আশেকে রাসূল (সঃ) সম্মেলন
.............................................................................................
সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ভান্ডারীপুলে জমিসংক্রান্ত বিরোধে সন্ত্রাসী হামলা, মারধর
.............................................................................................
আশেকে রাসূল গোলাম হাবিবুল্লাহ,র নেতৃত্বে মহাসড়কে বিশাল র‌্যালি
.............................................................................................
বিড়ালসহ যে কোন প্রাণির সঙ্গেই সেলফি নিষিদ্ধ!
.............................................................................................
বিনয়েই কল্যাণ
.............................................................................................
আজ পবিত্র শবেবরাত
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো: হাবিবুর রহমান সিরাজ
আইন উপদেষ্টা : অ্যাড. কাজী নজিব উল্লাহ্ হিরু
সম্পাদক ও প্রকাশক : অ্যাডভোকেট মো: রাসেদ উদ্দিন
সহকারি সম্পাদক : বিশ্বজিৎ পাল
যুগ্ন সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান রিপন
নির্বাহী সম্পাদক: মো: সিরাজুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : সাগর আহমেদ শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস ৫২ / ২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সূত্রাপুর ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৯৯ মতিঝিল , করিম চেম্বার ৭ম তলা , রুম নং-৭০২ , ঢাকা থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭২৬-৮৯৬২৮৯, ০১৬৮৪-২৯৪০৮০ Web: www.dailybishowmanchitra.com
Email: news@dailybishowmanchitra.com, rashedcprs@yahoo.com
    2015 @ All Right Reserved By dailybishowmanchitra.com

Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD