|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   সিলেট -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
সিলেটে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন ছাত্রলীগকর্মী

সিলেট : সিলেটে তুচ্ছ ঘটনার জেরে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে খুন করা হয়েছে।

সিলেট নগরীর শিবগঞ্জে বুধবার দুপুরে জাকারিয়া মুহাম্মদ মাসুমকে (২২) ছুরিকাঘাত করে প্রতিপক্ষের দুর্বৃত্তরা। পরে তার মৃত্যু হয়।
ছাত্রলীগের সুরমা গ্রুপের কর্মী মাসুম নগরীর কামালগড় এলাকার বাসিন্দা মাশুক মিয়ার ছেলে। মাসুমের বন্দরবাজারে জেডি স্পোর্টস নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাসুমের ছোট ভাই খালেদকে শিবগঞ্জ লামাপাড়া এলাকায় আটক করে দুর্বৃত্তরা। তারপর তারা মাসুমকে খবর দিয়ে আনে। মাসুম আসামাত্র তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। পরে তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছোট ভাই খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘ছাত্রলীগের রায়হান গ্রুপের কর্মী টিটুর সঙ্গে আমার ঝামেলা হয়। দুপুরে টিটু তার দলবল দিয়ে আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরে বড় ভাই জাকারিয়া মুহাম্মদ মাসুমকে ফোন করে বলে আমাকে ছাড়িয়ে আনতে। ভাই আসলে তারা তার উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে তারা ভাইকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।’

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুছা জানান, শিবগঞ্জ লামাপাড়া এলাকায় কয়েকজন যুবক মিলে মাসুমকে কুপিয়ে আহত করে। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। 

সিলেটে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন ছাত্রলীগকর্মী
                                  

সিলেট : সিলেটে তুচ্ছ ঘটনার জেরে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে খুন করা হয়েছে।

সিলেট নগরীর শিবগঞ্জে বুধবার দুপুরে জাকারিয়া মুহাম্মদ মাসুমকে (২২) ছুরিকাঘাত করে প্রতিপক্ষের দুর্বৃত্তরা। পরে তার মৃত্যু হয়।
ছাত্রলীগের সুরমা গ্রুপের কর্মী মাসুম নগরীর কামালগড় এলাকার বাসিন্দা মাশুক মিয়ার ছেলে। মাসুমের বন্দরবাজারে জেডি স্পোর্টস নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাসুমের ছোট ভাই খালেদকে শিবগঞ্জ লামাপাড়া এলাকায় আটক করে দুর্বৃত্তরা। তারপর তারা মাসুমকে খবর দিয়ে আনে। মাসুম আসামাত্র তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। পরে তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছোট ভাই খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘ছাত্রলীগের রায়হান গ্রুপের কর্মী টিটুর সঙ্গে আমার ঝামেলা হয়। দুপুরে টিটু তার দলবল দিয়ে আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরে বড় ভাই জাকারিয়া মুহাম্মদ মাসুমকে ফোন করে বলে আমাকে ছাড়িয়ে আনতে। ভাই আসলে তারা তার উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে তারা ভাইকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।’

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুছা জানান, শিবগঞ্জ লামাপাড়া এলাকায় কয়েকজন যুবক মিলে মাসুমকে কুপিয়ে আহত করে। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। 

সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে সাড়ে ৩ কেজি স্বর্ণ আটক
                                  
সিলেট প্রতিনিধি : সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে আবুধাবি থেকে আসা বিমানের ফ্লাইটের ভেতর থেকে ৩০টি সোনার বার আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দারা। আজ রবিবার সকালে এই বারগুলো আটক করা হয়।
 
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আবুধাবি থেকে সিলেট হয়ে ঢাকায় আসার পথে সিলেটে অবস্থান করার সময় বিজি-১২৮ এর সিট ৪৫সি এর ওপর থেকে শপিং ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় এই স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। আটক স্বর্ণের ওজন প্রায় সাড়ে ৩ কেজি। মূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
 
শুল্ক ও গোয়েন্দা তদন্ত অধি-দপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এসব তথ্য জানান।
সিলেটে মৃদু ভূমিকম্প
                                  

বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে আজ রোববার দুপুরের দিকে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, আজ বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে সিলেট অঞ্চলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৪ দশমিক ৭। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল সিলেট থেকে ২৮৩ কিলোমিটার দূরে, ভারতে।

আর্থকোয়েক ট্রাক ওয়েবসাইটে জানানো হয়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ভারতের মণিপুরে।

ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

১০ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
                                  

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : সিলেটের সঙ্গে প্রায় ১০ ঘণ্টা পর সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ আজ রোববার সকাল থেকে আবার শুরু হয়েছে। মৌলভীবাজারের ভানুগাছ ও শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনের মধ্যবর্তী লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে একটি ডেমু ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।

গতকাল শনিবার রাত ১১টার দিকে উদ্যানের ভেতর ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। আজ সকাল ছয়টার দিকে লাইনচ্যুত ট্রেনটি উদ্ধার করা হলে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

কুলাউড়া জংশন রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার হরিপদ সরকার সকাল সাতটার দিকে বলেন, ঝোড়ো বাতাসে লাউয়াছড়া উদ্যানে রেললাইনের ওপর পাশের টিলা থেকে একটি গাছ উপড়ে পড়ে। গতকাল রাত ১১টার দিকে আখাউড়া থেকে সিলেটগামী ডেমু ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রমের সময় গাছে ধাক্কা লেগে ইঞ্জিনসহ পেছনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। খবর পেয়ে কুলাউড়া ও আখাউড়া থেকে দুটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকাজ শেষে সকাল ছয়টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জ পৌঁছেছেন
                                  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি দেখতে সুনামগঞ্জের শাল্লায় পৌঁছেছেন।

রোববার সকাল ১০টার দিকে তিনি শাল্লায় পৌঁছান। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য নেতাকর্মীরা রয়েছেন।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী উপজেলার পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করবেন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা ফিরবেন।

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতের ফলে আকস্মিক বন্যায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে হাওর এলাকার উঠতি বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হাজার হাজার কৃষকের জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

বন্যায় সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা এবং ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এবার বাঁধ ভেঙে ডুবল পাগনার হাওর
                                  
বিশ্ব মানচিত্র রিপোর্ট  : সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে ১০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। আজ সোমবার ভোরে হাওরের উরারবন্দ নামক স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে যায় হাওরটি। এটি ছিল জেলার সর্বশেষ সুরক্ষিত একটি বড় হাওর। 
 
এদিকে গত শনিবার রাতে তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে গেলে সেখানের ৮ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান ডুবে যায়। জেলার বড় এই দুটি হাওর ডুবে যাওয়া জেলাবাসী চরম এক অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হলেন। 
 
এলাকাবাসী জানান,পাগনার হাওরটিতে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা ও নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলার অনেক কৃষকদের বোরো জমি রয়েছে। চৈত্রের শেষে সিলেট অঞ্চলে রোরো ফসলের উপর বিপর্যয় শুরু হলে জামালগঞ্জের ফেনারবাঁক ইউনিয়নের পাগনার হাওরের ১০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন এলাকাবাসী। তবে গত এক মাস ধরে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা বাঁধে ছিল না জানিয়েছেন ফেনারবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু তালুকদার।
 
এলাকাবাসী জানান, শতাধিক শ্রমিক রবিবার রাতেও বাঁধে কাজ করেছেন। বাঁধ রক্ষায় ৫০ জন পাহাড়াদারও নিয়োগ ছিলেন। কিন্তু সোমবার ভোরে বৃষ্টির সময় উরারবন্দ বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করে। গ্রাম পুলিশ, শ্রমিক ও পাহাড়ারদের নিয়ে শেষ চেষ্টা করেও বাঁধ রক্ষা করা যায়নি। 
 
ফেনারবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু তালুকদার বলেন, হাওরের এত বড় দুর্যোগে পাউবোর কোনো অফিসারকে বাঁধে পাওয়া যায়নি। 
 

পাগনার হাওরের ধান সবে মাত্র পাকতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে বাধ বেঙ্গে সব তলিয়ে যায়। সুনামগঞ্জ জেলায় এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়। ৪২টি হাওরের ফসল রক্ষায় ৬৮ কোটি টাকা ৮০ লাখ টাকার বাঁধের কাজ চলছিল। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের বৃহৎ ৩৭টি হাওরসহ মোট ৪২টি হাওরে ২০ কোটি ৮০ লাখ ব্যয়ে ২২৫টি পিআইসি (প্রকল্প  বাস্তবায়ন কমিটি) ও ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৬টি প্যাকেজে ঠিকাদার দিয়ে বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছিল।

পাঁচ দিনেও আতিয়া মহল বিস্ফোরকমুক্ত হয়নি
                                  

সিলেট প্রতিনিধি : পাঁচতলা ভবনের নিচ থেকে তিনতলা পর্যন্ত ভাঙাচোরা। মাটিতে পড়ে আছে ভবনের ধ্বংসাবশেষ। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইট-সুরকি। ভাঙা আসবাব আর বাসিন্দাদের কাপড়চোপড় মেঝেতে পড়ে আছে। একেবারে নিচতলায় রয়েছে দুই জঙ্গির ছিন্নভিন্ন লাশ। সেই লাশ পচে-গলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ দৃশ্য সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার আতিয়া মহলের।

গতকাল রোববার ঘটনাস্থল ঘুরে এসে পুলিশের দুই কর্মকর্তা ওই ভবনের এমন দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন। পাঁচ দিন আগে বাড়িটিতে অভিযান চালানোর পর এর আশপাশে জনসাধারণকে ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না। বিজিবি ও পুলিশ বাড়িটি ঘিরে রেখেছে।
গত মঙ্গলবার সেনাবাহিনীর জঙ্গিবিরোধী অভিযান শেষ হওয়ার পর বাড়িটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলেও সেটি এখনো বিস্ফোরকমুক্ত হয়নি। ভবনটি এমন অবস্থায় থাকলেও বাইরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে আতিয়া মহল-সংলগ্ন শিববাড়ি বাজারের বন্ধ দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। সবজি-মাছের হাট থেকে শুরু করে মুদির দোকান, রেস্তোরাঁ—সবখানেই মানুষের সরব পদচারণ দেখা গেছে। পুনরায় চালু হয়েছে গ্যাস-সংযোগ। প্রায় এক সপ্তাহ পর পুলিশ উন্মুক্ত করে দিয়েছে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কটি।
বাইরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আতিয়া মহলের আশপাশের শিববাড়ি, পৈত্যপাড়া, মন্দির রোড এলাকার বাসিন্দারাও নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। অভিযান চলাকালে ভয় আর আতঙ্কে এসব বাসিন্দা গত ২৪ মার্চ সকাল থেকে বাড়ি ছেড়েছিল। তবে আশপাশের বাসিন্দারা ফিরলেও এখনো ঘরে ফিরতে পারেনি আতিয়া মহলের ২৮টি ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা। দুজন ভাড়াটে বলেন, অভিযান শুরুর পর বাসা থেকে এক কাপড়ে বেরিয়েছিলেন। এ কদিন আবাসিক হোটেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রয়েছেন। কবে বাসায় ফিরতে পারবেন, তার নিশ্চয়তা পুলিশের কাছ থেকে পাচ্ছেন না।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার জেদান আল মুসা বলেন, মৌলভীবাজারের দুটি স্থানে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের কারণে আতিয়া মহলে বোমা বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার কাজ এত দিন শুরু করা যায়নি। ওই অভিযানের কারণে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে বেশি ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। তবে মৌলভীবাজারে অভিযান সফলভাবে শেষ হওয়ায় এখন আতিয়া মহলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল কাজ শুরু করবে।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট বাড়িটিকে নিরাপদ ঘোষণা করার পর পুলিশ পরবর্তী কাজে অগ্রসর হবে এবং লাশগুলোর দেহাবশেষ উদ্ধার করবে। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তাদের ধারণা, ভবনের ভেতরে থাকা দুই লাশের একটি নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা মঈনুল ওরফে মুসার।
মহানগর পুলিশের একটি সূত্র গতকাল সন্ধ্যায় জানিয়েছে, আতিয়া মহল বিস্ফোরকমুক্ত করতে ঢাকা থেকে আসা বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল আজ সোমবার সকাল সাড়ে আটটায় ভবনের ভেতরে প্রবেশ করবে।
গতকাল রোববার আতিয়া মহলের কাছাকাছি গিয়ে দেখা গেছে, এখনো বিজিবি ও পুলিশ বাড়িটি ঘিরে রেখেছে। তবে অভিযান চলাকালে বন্ধ থাকা শিববাড়ি বাজার এবং এলাকা-সংলগ্ন সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কটি গত শুক্রবার থেকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ায় আতিয়া মহল-সংলগ্ন এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
শিববাড়ি বাজারের পারভেজ স্টোরের মালিক পারভেজ আহমদ বলেন, অভিযান শুরুর পর থেকেই গুলি-বিস্ফোরণের শব্দে স্থানীয় ব্যক্তিরা ভয় আর আতঙ্কে বন্দী জীবন যাপন করেছে। শঙ্কা আর উৎকণ্ঠায় দিন কেটেছে সবার। বাজার চালু হওয়ায় জীবনযাত্রা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
২৩ মার্চ দিবাগত রাত আড়াইটায় সিলেটের শিববাড়ি এলাকায় আতিয়া মহল নামের পাঁচতলা ওই বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ। খবর ছিল নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে জঙ্গিরা অবস্থান করছে। ২৪ মার্চ ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট গিয়ে অভিযানে অংশ নেয়। এরপর ২৫ মার্চ সকাল থেকে সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশন ও বিশেষায়িত কমান্ডো দল ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে অভিযান শুরু করে। অভিযানের মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় দুই দফা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত এবং আরও ৪৪ জন আহত হন। ১১১ ঘণ্টা পর গত মঙ্গলবার সেনাবাহিনী সফলভাবে অভিযান শেষ করে। তার আগে বাড়িটির ২৮টি ফ্ল্যাটে আটকা পড়া ৭৮ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে নিরাপদে বের করে আনেন সেনা কমান্ডোরা।

বড়হাটে অভিযান শেষ, আস্তানায় তিন লাশ
                                  

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিমৌলভীবাজার শহরের বড়হাটে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় চলা ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ শেষ হয়েছে। আস্তানার ভেতরে তিনজনের লাশ পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী। নিহত পুরুষদের মধ্যে একজন সিলেটের আতিয়া মহলে অভিযান চলাকালে আস্তানার বাইরে যে হামলা হয় তাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে অনেকটাই নিশ্চিত পুলিশ।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম আজ শনিবার অভিযান শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান। আতিয়া মহলে অভিযান চলাকালে আস্তানার বাইরের ওই হামলায় র‍্যাবের গোয়েন্দা প্রধান, দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ সাতজন নিহত হন।

অভিযান সম্পর্কে মৌলভীবাজারের জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহজালাল জানান, ওই আস্তানায় ৮টা৪৫মিনিটে প্রথমে সোয়াট প্রবেশ করে। এরপর ১০টা০৮মিনিটে ডিআইজি কামরুল আহসান, ১০টা১০মিনিটে বোম ডিসপোজাল টিম ও ১০টা১৪মিনিটে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম প্রবেশ করেন।

ব্রিফিংয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিদের বারবার তাঁরা আত্মসমর্পণ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা তাতে সাড়া দেয়নি। যখনই সোয়াট ঘটনাস্থলের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছে তখনই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, অভিযান সফলভাবে শেষ হয়েছে।

বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন সাত লাশের চারটিই শিশুর
                                  

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন হিট ব্যাকের’ পর উদ্ধার হওয়া সাতটি লাশের মধ্যে চারটিই শিশু। এর মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী শিশুর বয়স কয়েক মাস বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকেরা। শিশুটি এমনভাবে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যে সে ছেলে না মেয়ে তা বোঝা যাচ্ছে না।
জঙ্গি সন্দেহে গত বুধবার ভোর থেকে টানা ৩৪ ঘণ্টা ঘিরে রেখে অভিযান চালানোর পর গত বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজারের নাসিরনগরের ওই বাসা থেকে সাতটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, বুধবার বিকেলেই আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এরা নিহত হয়।
গতকাল শুক্রবার নিহত সাতজনের ময়নাতদন্ত হয়েছে। বিস্ফোরণে এদের সবার মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া আরও তিনটি মেয়েশিশু, দুই নারী ও এক পুরুষের লাশ রয়েছে। বিস্ফোরণে প্রাপ্তবয়স্ক তিন নারী-পুরুষের শরীরের মধ্যভাগ একেবারেই ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
নাসিরপুরের ওই জঙ্গি আস্তানার আশপাশের বাসিন্দারা জানান, ওই বাড়িতে চারটি শিশুসহ আটজন থাকতেন। জঙ্গিদের পাশের ঘরের বাসিন্দা এক রিকশাচালক বলেন, একজন বয়স্ক ব্যক্তি, তাঁর স্ত্রী, পাঁচ মেয়ে ও বড় মেয়ের জামাই এখানে থাকত।
ছোট চারটি মেয়ে একেবারেই শিশু। তাদের তিনজনকে মাঝে মাঝে বাড়ির আঙিনায় খেলতে দেখা যেত। সাত ও দশ বছর বয়সী শিশু দুটিও বোরকা পরত। কোলে বাচ্চা নিয়ে বয়স্ক লোকটিও মাঝে মাঝে মেয়েদের সঙ্গে খেলতেন।
পুলিশ ধারণা করছে, বয়স্ক লোকটির বড় মেয়ের স্বামীর নাম সোহেল রানা। তিনি নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে বয়স্ক লোকটির লাশ পাওয়া যায়নি। নিহত সোহেলের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে বলে পুলিশের কর্মকর্তারা জানান। তবে নিহত ব্যক্তিদের বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য পুলিশের কর্মকর্তারা দিতে পারেননি। পুলিশ বলেছে, সোহেল বান্দরবান এলাকায় অবস্থান করে নব্য জেএমবির জন্য সদস্য সংগ্রহ করেছিলেন। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন সোহেলের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।
অপারেশন হিট ব্যাক শেষে বৃহস্পতিবার পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, বুধবার বিকেলে সোয়াটের অভিযান শুরুর আগেই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শিশুদের নিয়ে পরিবারটি আত্মঘাতী হয়। তবে এরপরও বুধবার সন্ধ্যায় ও বৃহস্পতিবার ওই বাড়িটি লক্ষ্য করে প্রচুর গুলি ছোড়ে সোয়াট।
বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার দিনে বাড়িটি লক্ষ্য করে এত গুলি করা হলো কেন জানতে চাইলে মনিরুল বলেন, এটি সোয়াটের অভিযান পরিচালনার কৌশল। তাদের যে এসওপি, ট্রেনিং ম্যানুয়াল, সেগুলো অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করে। যেহেতু নির্দিষ্ট তথ্য ছিল না, তাই এটা হতেই পারে। এটা ‘ট্যাকটিকাল’ বিষয়, বেশি প্রশ্ন না করাই ভালো।
এদিকে গতকাল বেলা পৌনে তিনটার দিকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদন পৌঁছায়। এরপরই তিন সদস্যের বোর্ড ময়নাতদন্ত করে। বোর্ডের সদস্যরা হলেন সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট সুব্রত কুমার রায়, জুনিয়র কনসালট্যান্ট আবু ইমরান ও আরএমও পলাশ রায়। বিকেল পাঁচটায় ময়নাতদন্ত শেষ হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পার্থ সারথী দত্ত কানুনগো সন্ধ্যায় বলেন, ছিন্নভিন্ন লাশের যেসব অংশ এসেছে, তা ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। চারটি শিশুর মধ্যে একটির বয়স কয়েক মাস। বাকি তিনটি মেয়ে শিশু। এদের মধ্যে একটি ২ বছরের, আরেকটি ৭ ও অন্যটি ১০ বছরের। আর নারী দুজনের একজনের বয়স আনুমানিক ২০-২৫ ও অপরজনের ৩৫ বছর। পুরুষটির বয়সও ৩৫ বছরের মধ্যে।
পার্থ সারথী আরও বলেন, লাশগুলোতে মোটা তারের টুকরোর মতো ধাতব বস্তু পাওয়া গেছে। এখানে আনার দু-এক দিন আগেই তাদের মৃত্যু হয় বলে মনে হচ্ছে। পচনও ধরেছে, তবে তাদের চেহারা বোঝা যাচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্ক তিনজনের পেটের অংশের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রতিটি লাশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারে গুলির শব্দ
                                  

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার শহরের বড়হাটে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানা থেকে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা গেছে। সেখানে চলছে ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস।’

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল জানান, সাড়ে নয়টার দিকে বাড়িটি ঘিরে অভিযান শুরু করেছে সোয়াট। সঙ্গে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট। আলোকস্বল্পতার কারণে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযান স্থগিত করা হয়।

ঘটনাস্থলে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, সিলেটের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) কামরুল আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মৌলভীবাজার পৌরসভার ভেতরে বড়হাট এলাকার আবুশাহ দাখিল মাদ্রাসার গলিতে দোতলা এই বাড়িটি জঙ্গি আস্তানা বলে সন্দেহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সেটি শনাক্ত করে ঘিরে রাখা হয়। বুধবার ওই আস্তানা থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়া হয়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। ৫৩ ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয় সোয়াটের ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’। অভিযানে পুলিশের কনস্টেবল কায়সর আহত হন। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রচুর বিস্ফোরকসহ বোমা তৈরিতে দক্ষ একজন ওই বাড়িতে আছে।

গণমাধ্যমকর্মীরা ওই বাড়ি থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করছেন।

বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের নাসিরপুর গ্রামে জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ শেষ হওয়ার পর ওই বাড়ি থেকে চার শিশু, দুই নারীসহ সাতজনের ছিন্নভিন্ন লাশ উদ্ধারের খবর জানায় পুলিশ।

দুই জঙ্গি আস্তানার মালিক লন্ডনপ্রবাসী সাইফুর
                                  

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঘিরে রাখা পৃথক বাড়ি দুটির মালিক একই ব্যক্তি।

বাড়ির মালিকের নাম সাইফুর রহমান। তিনি লন্ডনপ্রবাসী।

স্থানীয় লোকজন ও বাড়ি দুটির তত্ত্বাবধানে থাকা সাইফুর রহমানের এক আত্মীয় এই তথ্য জানিয়েছেন।

জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে মৌলভীবাজারের পৃথক দুটি স্থানে দুটি বাড়ি ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

একটি বাড়ি মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট এলাকায় অবস্থিত। অপর বাড়িটির অবস্থান সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের নাসিরপুর এলাকায়।

দুটি স্থানের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল আজ বুধবার সকালে বলেন, জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে পৃথক দুটি স্থানে দুটি বাড়ি ঘিরে রাখা হয়েছে।

বাড়ি দুটির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সাইফুর রহমানের মামাতো বোনের স্বামী জুয়েল। তিনি বলেন, নাসিরপুরের বাড়িতে টিনের চালার তিনটি ঘর আছে। একটি ঘরে পরিবার নিয়ে তিনি থাকেন। একটি ঘরে এক রিকশাচালক থাকেন। অন্য ঘরটিতে ভাড়াটেরা থাকেন।

জুয়েল বলেন, নাসিরপুরের ঘরে গত জানুয়ারিতে বর্তমান ভাড়াটেরা ওঠেন। ভাড়াটে তাঁর নাম বলেছেন মাহফুজ, বাড়ি টাঙ্গাইল। তিনি নিজেকে আরএফএল কোম্পানির ডিলার হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। সাত হাজার টাকায় ঘরটি ভাড়া দেওয়া হয়। ঘরে আট সদস্য থাকতেন।

মৌলভীবাজার পৌরসভার বাড়ির ভাড়াটে সম্পর্কে জুয়েল বলেন, সেখানকার ভাড়াটে তাঁর নাম বেলাল বলেছেন। তিনি নিজেকে আরএফএলের ম্যানেজার পরিচয় দিয়েছেন।

নাসিরপুরের স্থানীয় বাসিন্দা নান্নু মিয়া চৌধুরী বলেন, লন্ডনপ্রবাসী সাইফুর রহমান আজ ভোরে তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। নাসিরপুরের বাড়িতে গিয়ে ভাড়াটেকে ডাকতে বলেন।

নান্নু মিয়া বলেন, সাইফুর রহমানের ফোন পেয়ে তিনিসহ পাঁচ-ছয়জন ওই বাড়িতে যান। তাঁদের সঙ্গে পুলিশও ছিল। ভাড়াটের ঘরে কল বেল দিলে ভেতর থেকে একজন দরজা খোলেন। পুলিশ দেখে তিনি সঙ্গে সঙ্গে দরজা বন্ধ করে দেন। একটু পরে ঘরের ভেতরে হাতুড়ি পেটানোর মতো করে একটা শব্দ হয়। এরপরই পুলিশ উপস্থিত সবাইকে সরে যেতে বলে। একটু পরে ওই বাড়ি থেকে বিকট শব্দ শোনা যায়। এই ঘটনার সময় ওই বাড়ি থেকে সাইফুর রহমানের মামাতো বোন ও রিকশাচালকের পরিবার সরে যায়।

নাসিরপুরের আনকার মিয়া সকালে বলেন, ফজরের নামাজ আদায় করতে ভোররাতে ঘুম থেকে ওঠেন তিনি। তখন থেকে থেমে থেমে বেশ কয়েকবার গুলির শব্দ শুনেছেন।

স্থানীয় আরও কয়েক ব্যক্তি গুলির শব্দ শোনার তথ্য জানিয়েছেন। এ ছাড়া বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল বলেছেন, নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে।

দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নাসিরপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে মাইকিং করতে দেখা যায়। সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানার আশপাশ থেকে লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে বলা হয়।

ঘটনাস্থলে র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থা এসেছে।

এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মানুষের মধ্যে কৌতূহলের পাশাপাশি ভীতি কাজ করছে।

একটি ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে গুলির শব্দ
                                  

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারে সন্দেহে থাকা দুটি জঙ্গি আস্তানার মধ্যে একটির কাছ থেকে থেমে থেমে গুলির শব্দ শুনতে পাওয়ার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

সন্দেহজনক এই জঙ্গি আস্তানা মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের নাসিরপুর এলাকায় অবস্থিত।

গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে কথিত এই জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

প্রায় একই সময় থেকে মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট এলাকায় অবস্থিত সন্দেহজনক আরেকটি জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রাখা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল আজ বুধবার সকালে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে পৃথক দুটি স্থানে দুটি বাড়ি ঘিরে রাখা হয়েছে।

দুটি স্থানের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার।

নাসিরপুর গ্রামের আনকার মিয়া বলেন, ফজরের নামাজ আদায় করতে ভোররাতে ঘুম থেকে ওঠেন তিনি। তখন থেকে থেমে থেমে বেশ কয়েকবার গুলির শব্দ শুনেছেন।

স্থানীয় আরও কয়েক ব্যক্তি গুলির শব্দ শোনার তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সন্দেহজনক দুটি জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

জঙ্গিমুক্ত আতিয়া মহল
                                  

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার মানুষের গতকাল সকালে ঘুম ভাঙে গুলি আর বিস্ফোরণের শব্দে। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আবার কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণ হয়। আতিয়া মহল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। এরপর থেকেই সব শান্ত। চার ঘণ্টা পর সেনাবাহিনী জানাল, ওই বাড়ির ভেতরে থাকা চার জঙ্গি নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী।

এঁদের মধ্যে দুজন আগের দিন রোববার কমান্ডোদের গুলিতে নিহত হয় বলে ওইদিন সেনাবাহিনী জানিয়েছিল। বাকি এক নারী ও পুরুষ এর আগে না পরে নিহত হয়েছে, সে সম্পর্কে গতকাল কিছু বলা হয়নি।

এই জঙ্গিরা আতিয়া মহলের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে আস্তানা গড়ে তুলেছিল। এই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে চার দিন ধরে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ, সোয়াট এবং সর্বশেষ সেনাবাহিনী।

গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সেনা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ‘আতিয়া মহলে আর কোনো জঙ্গি জীবিত নাই। সবাই অভিযানে নিহত হয়েছে।’ তিনি বলেন, সেখান থেকে একজন নারী ও একজন পুরুষের মৃতদেহ বের করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আরও দুটি মৃতদেহ পড়ে রয়েছে, যাদের শরীরে সুইসাইডাল ভেস্ট (আত্মঘাতী হামলার জন্য বিস্ফোরকভর্তি বন্ধনী) বাঁধা। এ কারণে অভিযান শেষ হচ্ছে না। আতিয়া মহলের ওপর সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হলেও সেখানে প্রচুর বিস্ফোরক বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

নিহত চার জঙ্গির পরিচয় গতকাল জানা যায়নি। ব্রিগেডিয়ার ফখরুল বলেন, ‘নিহতদের মধ্যে শীর্ষ কোনো জঙ্গি আছে কি না, এখনো নিশ্চিত করে আমি বলতে পারছি না। সেই আইডেন্টিফিকেশন প্রসেস চলবে। পুলিশ-র‍্যাব তাদের নমুনা সংগ্রহ করে নিশ্চিতভাবে বলবে। আমাদের কাছে তথ্য ছিল চারজনের বিষয়ে, সেই চারটি ডেড বডি আমরা পেয়েছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় দুই বাসিন্দা বলেন, এর আগে গত রোববার দিবাগত রাতেও থেমে থেমে গুলি হয়েছে। সকালে তাঁদের ঘুম ভেঙেছে গুলি আর বিস্ফোরণের শব্দে। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের কিছু পরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এরপর কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকলেও দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে প্রায় ২০ মিনিট থেমে থেমে চলে গুলি। ১২টা ৪০ মিনিটের পর ২টা পর্যন্ত কোনো গুলির আওয়াজ পাওয়া যায়নি। বেলা ২টায় শক্তিশালী বিস্ফোরণে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। এরপর থেকে ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মুহুর্মুহু গুলির আওয়াজ পাওয়া যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর ৩টা ১৮ মিনিটের দিকে পুনরায় বিস্ফোরণ হয়। ৩টা ৩৫ মিনিটে আতিয়া মহল থেকে কালো ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে বের হয়। এরপর আর কোনো গুলি-বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি।

সবশেষ গুলি ও বিস্ফোরণের চার ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আতিয়া মহলের কাছে পাঠানপাড়া মসজিদ প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন করে সেনাবাহিনী। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান বলেন, আতিয়া মহলের একটি ঘরে দুটি লাশ পড়ে রয়েছে। লাশের শরীরে বিস্ফোরকভর্তি সুইসাইডাল ভেস্ট বাঁধা। এর চারদিকে চার-পাঁচটি বিস্ফোরক (আইইডি) ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। এগুলো সরানো ঝুঁকিপূর্ণ, তাই অভিযান শেষ না করে আরও কিছু সময় নেওয়া হচ্ছে। অভিযান শেষ করে ক্রাইম সিন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, ‘পুরো বিল্ডিংয়ে যে পরিমাণ এক্সপ্লোসিভ আছে, এগুলো যদি ফাটে, এক্সপ্লোশন হয়, বিল্ডিংয়ের অংশবিশেষ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। পুরো বিল্ডিংটা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে।’

এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, আতিয়া মহলে ঢোকার মুখে একটা বড় বালতির মধ্যে জঙ্গিরা বিস্ফোরক রেখেছিল। সেগুলোর যখন তারা বিস্ফোরণ ঘটায়, তখন কলাপসিবল গেট উড়ে এসে পাশের ভবনে পড়েছে। বিস্ফোরণের ধাক্কায় কয়েকজন সেনাসদস্য ছিটকে পড়েন। তবে শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর কেউ হতাহত হননি। তিনি বলেন, ‘যে চারজন (জঙ্গি) এখানে ছিল, তারা ওয়েল ট্রেইনড। তাদের খুঁজে বের করে যে নিষ্ক্রিয় করা হলো বা হত্যা করা হলো, এটা আমাদের জন্য, বিশেষ করে সেনাবাহিনীর জন্য বড় সফলতা। আমাদের অপারেশন এখনো চলমান আছে।’

ভবন থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার কারণ সম্পর্কে সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘যে পরিমাণ ফায়ারিং, গ্রেনেড লঞ্চ করা হচ্ছে, তাতে ভবনে থাকা মানুষের লেপ-তোশক, বালিশে আগুন লাগতেই পারে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে নিভিয়েছি। আগুন লাগলে আরও বিপজ্জনক হতে পারত।’

ওই সংবাদ সম্মেলনের পর সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এম রোকনউদ্দীন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিন মাসে ওই বাড়িতে এত বিস্ফোরক জড়ো করা হলো, এতে পুলিশের নজরদারির কোনো গাফিলতি রয়েছে কি না, জানতে চাইলে রোকনউদ্দীন বলেন, ‘এখানে পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই। এই শহর তো আর পুরোটা সিসি ক্যামেরার আওতাধীন নয়। তা ছাড়া তারা বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করেই এসব বিস্ফোরক জড়ো করেছে বলে মনে হয়।’

গতকাল চতুর্থ দিনের অভিযান চলাকালে আতিয়া মহলের আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। আতিয়া মহল ঘিরে তিন বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাস্তাটিতে চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

আতিয়া মহল নামের পাঁচতলা এই বাড়িটি গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় ঘিরে ফেলে পুলিশ। শুক্রবার ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট গিয়ে অভিযানে অংশ নেয়। এরপর শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় দুই দফা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জন নিহত এবং আরও ৪৪ জন আহত হন। স্মরণকালের মধ্যে এটা সবচেয়ে দীর্ঘ জঙ্গিবিরোধী অভিযান।

সিলেট আতিয়া মহলে থেমে থেমে গুলির শব্দ
                                  

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের আতিয়া মহলে এখনো অভিযান চলছে। আজ সোমবার সকালে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা গেছে। এর আগে সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটা পর্যন্ত একটানা গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

আতিয়া মহলের আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন জানান, গতকাল রোববার রাতে থেমে থেমে গুলি চলেছে। সকালে তাঁদের ঘুম ভেঙেছে গুলি আর বিস্ফোরণের শব্দে।

আতিয়া মহলের আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আতিয়া মহল ঘিরে দুই বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উৎসুক জনতার কাউকে ঘটনাস্থলের দিকে যেতে দিচ্ছে না।

গতকাল রোববার সেনা অভিযান চলাকালে বাড়ির ভেতরে থাকা জঙ্গিদের মধ্যে দুজন নিহত হয়েছে। সেনাবাহিনী বলেছে, ওই জঙ্গি আস্তানায় আরও এক বা একাধিক জঙ্গি থাকতে পারে। জঙ্গিরা এতই দক্ষ যে সেনাবাহিনীর ছুড়ে দেওয়া গ্রেনেড কুড়িয়ে নিয়ে পাল্টা সেনাবাহিনীর দিকেই ছুড়ে দিচ্ছে। পাঁচতলা বাড়িটির ভেতরে প্রচুর বোমা-বারুদ (আইইডি) পেতে রাখা হয়েছে। এতে পুরো ভবনটি বিস্ফোরণোন্মুখ হয়ে আছে। এ কারণে ধীর গতিতে অভিযান চালাতে হচ্ছে।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার এই বাড়িটি গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে ঘিরে রাখা হয়েছে। শুক্রবার ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট সিলেটে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থল ঘেরাও করে। এরপর শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় দুই দফা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জন নিহত এবং আরও ৪৪ জন আহত হন। স্মরণকালের মধ্যে এটা সবচেয়ে দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী জঙ্গিবিরোধী অভিযান।

‘আতিয়া মহল’ থেকে ৬৯ বাসিন্দা উদ্ধার
                                  
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার ‘আতিয়া মহলে’ আটকে পড়া বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে সেনাবাহিনী। 
 
শনিবার বেলা ১১টার দিকে আতিয়া মহলের ২৯টি ফ্ল্যাটে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তাদের সরিয়ে আনতে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। সকাল ৯টার দিকে শুরু হওয়া এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়ে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’। 
 
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা এ খবর নিশ্চিত করেন।
 
এদিকে, সকাল পৌনে ৮টার দিকে আতিয়া মহলের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এছাড়া আতিয়া মহলের এক কিলোমিটারের মধ্যে সাংবাদিকসহ কাউকে অবস্থান করতে দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আশপাশে রাখা হয়েছে সাজোয়া যান, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি।
 
শুক্রবার সারা রাত সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো ইউনিট ও সোয়াট সদস্যরা বাসাটি ও তার আশাপাশের এলাকা ঘিরে রেখে অভিযান চালাতে প্রস্তুতি নেয়। ওই এলাকায় ও তার আশপাশে বাড়ানো হয় পুলিশের সংখ্যা।  
 
শুক্রবার ভোর থেকে আতিয়া মহল ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাঁচতলা ওই ভবনে নারীসহ একাধিক ‘জঙ্গি’ রয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।
অভিযান চলছে, বের করা হচ্ছে বাসিন্দাদের
                                  

সিলেট মহানগরের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চলছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার একটু পরই সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে এই অভিযান শুরু হয়। সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা এ কথা জানান।

বেলা সোয়া ১১টার দিকে দায়িত্ব পালনরত পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সেনাবাহিনীর কমান্ডো দল ‘জঙ্গি আস্তানা’ আতিয়া মহল নামের ওই বাড়ির বাসিন্দাদের বের করে আনছে। আতিয়া মহল ও তার পাশের আতিয়া মহল ২ নামের আরেকটি ভবনের মাঝখানে ফায়ার সার্ভিসের মই দিয়ে সেতু তৈরি করা হয়েছে। এই পথে সেনাবাহিনীর সহায়তায় বাসিন্দাদের বের করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসকে বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে দেখা গেছে।

সকাল ১০টা ৫ মিনিটের দিকে পরপর দুটি গুলির শব্দ শোনা গেছে। এরপর আর কোনো শব্দ শোনা যায়নি। এলাকার বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

সেনাবাহিনীর আর্মি ইনটেলিজেন্সের কর্মকর্তা সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটের দিকে সাংবাদিকদের জানান, ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে এই অভিযান সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে হচ্ছে। পুলিশ ও সোয়াট সহায়তা করছে। সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা মূল অভিযান চালাচ্ছেন। ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেন অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

অভিযান শুরুর পরেই ওই এলাকায় ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় ওই এলাকা কিছুটা অন্ধকার হয়ে যায়। সে সময় সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে সন্দেহজনক জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহলে’ ঢোকার জন্য আশপাশের বাড়িতে টর্চলাইট খুঁজতে দেখা যায়। বেলা সাড়ে ১১টার পর বৃষ্টি থেমে যায়।

সকাল আটটার দিকে ঘটনাস্থলে অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ফোর্স। সকাল নয়টার দিকে জানা যায়, তারা সেখানে অভিযান চালানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, পুলিশের সাঁজোয়া যান ও কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে।

গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় চালানো অভিযানেও অংশ নিয়েছিল সিলেটের জালালাবাদ থেকে যাওয়া সেনাবাহিনীর কমান্ডো দল।

জঙ্গিরা অবস্থান করছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পাঁচতলা বাড়িটি ঘেরাও করে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দিনভর বারবার মাইকে আহ্বান জানিয়েও ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করাতে পারেনি পুলিশ। উল্টো ভেতর থেকে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। অভিযান চালাতে ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াটের একটি দল গতকাল বিকেলে সিলেটে পৌঁছায়। রাতভর বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর সেনাবাহিনীর দুটি গাড়ি ঘটনাস্থলে যায়।

পুলিশের ধারণা, আতিয়া মহল নামের বাড়িটির নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা অবস্থান করছে। ভেতরে একজন নারী থাকার কথা নিশ্চিত হলেও মোট কতজন আছে, সেটা জানা যায়নি। পুলিশের ধারণা, ভেতরে নব্য জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ নেতা মাইনুল ওরফে মুসা রয়েছেন।

আতিয়া মহল নামের পাঁচতলা ওই বাড়িতে মোট ২৯টি ফ্ল্যাট রয়েছে।


   Page 1 of 7
     সিলেট
সিলেটে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন ছাত্রলীগকর্মী
.............................................................................................
সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে সাড়ে ৩ কেজি স্বর্ণ আটক
.............................................................................................
সিলেটে মৃদু ভূমিকম্প
.............................................................................................
১০ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জ পৌঁছেছেন
.............................................................................................
এবার বাঁধ ভেঙে ডুবল পাগনার হাওর
.............................................................................................
পাঁচ দিনেও আতিয়া মহল বিস্ফোরকমুক্ত হয়নি
.............................................................................................
বড়হাটে অভিযান শেষ, আস্তানায় তিন লাশ
.............................................................................................
বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন সাত লাশের চারটিই শিশুর
.............................................................................................
মৌলভীবাজারে গুলির শব্দ
.............................................................................................
দুই জঙ্গি আস্তানার মালিক লন্ডনপ্রবাসী সাইফুর
.............................................................................................
একটি ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে গুলির শব্দ
.............................................................................................
জঙ্গিমুক্ত আতিয়া মহল
.............................................................................................
সিলেট আতিয়া মহলে থেমে থেমে গুলির শব্দ
.............................................................................................
‘আতিয়া মহল’ থেকে ৬৯ বাসিন্দা উদ্ধার
.............................................................................................
অভিযান চলছে, বের করা হচ্ছে বাসিন্দাদের
.............................................................................................
অভিযান চলছে, সরানো হচ্ছে বাসিন্দাদের
.............................................................................................
সিলেটে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চলছে
.............................................................................................
মৌলভীবাজারে সামাজিক বনায়নের সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
.............................................................................................
সিলেটে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার
.............................................................................................
সিলেটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট
.............................................................................................
সুরঞ্জিতের মরদেহ শাল্লায়
.............................................................................................
সুরঞ্জিতকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সিলেটবাসী
.............................................................................................
সিলেটে ছাত্রলীগের ৩ নেতা-কর্মীকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা
.............................................................................................
ওসমানী বিমানবন্দরে ৯ কেজি স্বর্ণের বার উদ্ধার
.............................................................................................
সিলেটের মেয়র আরিফুল হকের জামিন
.............................................................................................
সিলেট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
.............................................................................................
পারিবারিক কলহের জেরে দুই শিশু সন্তানকে হত্যা
.............................................................................................
সিলেটে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী
.............................................................................................
বিপাকে মা-বাবা জোড়া শিশু নিয়ে
.............................................................................................
খুলে দেওয়া হয়েছে খাদিজার লাইফ সাপোর্ট
.............................................................................................
হিউম্যান রাইটর্স ওয়াচ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশর সভা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
সিলেট বিভাগে জেলা পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে
.............................................................................................
সিলেটের সেই কলেজছাত্রী লাইফ সাপোর্টে
.............................................................................................
ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ
.............................................................................................
সিলেটে ৩টি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ
.............................................................................................
শায়খ রহমানের দুই সহযোগী জঙ্গির ৩০ বছর কারাদণ্ডাদেশ
.............................................................................................
সিলেটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে
.............................................................................................
ঢাকা-সিলেট সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের আশঙ্কা
.............................................................................................
২৭ স্থানে পশু কোরবানি সিলেটে
.............................................................................................
রাষ্ট্রপতি সিলেটবাসীর দোয়া চাইলেন
.............................................................................................
সিলেটে পুলিশ-সন্ত্রাসী গুলি বিনিময়, ওসিসহ আহত ৭
.............................................................................................
হবিগঞ্জে ৪ শিশু হত্যার অভিযোগ গঠন পিছিয়েছে
.............................................................................................
সোমবার হবিগঞ্জের ২৩ চা বাগানে ২ ঘণ্টার কর্মবিরতি
.............................................................................................
‘কিরণ মালা’ দেখা নিয়ে সংঘর্ষে আহত শতাধিক
.............................................................................................
সিলেটে উচ্চ মাধ্যমিক ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ফল
.............................................................................................
সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ
.............................................................................................
হাজারো মানুষের ভোরের বাজারে জীবিকা সিলেটে
.............................................................................................
সিলেটে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ১
.............................................................................................
মৌলভীবাজারে পুলিশের ধাওয়ায় এক ব্যক্তির মৃত্যু
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো: হাবিবুর রহমান সিরাজ
আইন উপদেষ্টা : অ্যাড. কাজী নজিব উল্লাহ্ হিরু
সম্পাদক ও প্রকাশক : অ্যাডভোকেট মো: রাসেদ উদ্দিন
সহকারি সম্পাদক : বিশ্বজিৎ পাল
যুগ্ন সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান রিপন
নির্বাহী সম্পাদক: মো: সিরাজুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : সাগর আহমেদ শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস ৫২ / ২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সূত্রাপুর ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৯৯ মতিঝিল , করিম চেম্বার ৭ম তলা , রুম নং-৭০২ , ঢাকা থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭২৬-৮৯৬২৮৯, ০১৬৮৪-২৯৪০৮০ Web: www.dailybishowmanchitra.com
Email: news@dailybishowmanchitra.com, rashedcprs@yahoo.com
    2015 @ All Right Reserved By dailybishowmanchitra.com

Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD