|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   কৃষি -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
এসডিজি অর্জনের চালক হবে কৃষি

বিশ্ব মানচিত্র রিপোর্ট : প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ও রপ্তানি আয়—গত ২৫ বছরে এ দুইয়ের ওপর নির্ভর করে আমরা যথাসম্ভব এগিয়েছি, কিন্তু আগামী দিনে নির্ভর করব কিসের ওপর? প্রশ্নটি করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান নিজেই এর জবাব দিয়েছেন।
হোসেন জিল্লুর বলেন, আগামী দিনে সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির চালক হবে কৃষি এবং এতেও নেতৃত্ব দিতে হবে বেসরকারি খাতকে। আর জাতিসংঘ প্রণীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনের জন্য কৃষি উন্নয়ন অর্থাৎ মফস্বলের পুনর্জাগরণ এবং গুণগত মানের শিক্ষাব্যবস্থা—এ দুইয়ের প্রতি জোর দিতে হবে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) আয়োজনে চেম্বারটির নিজস্ব মিলনায়তনে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত ‘এসডিজিতে বেসরকারি খাতের ব্যবসায় সম্ভাবনার কৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক সেমিনারে হোসেন জিল্লুর রহমান এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ এতে প্রধান অতিথি এবং হোসেন জিল্লুর রহমান ও পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম বিশেষ অতিথি ছিলেন। ডিসিসিআইয়ের এসডিজিবিষয়ক কমিটির উপদেষ্টা আসিফ ইব্রাহীম এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন আর সঞ্চালনা করেন ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাশেম খান।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, কৃষি উন্নয়ন মানে লাঙল দিয়ে হালচাষ বৃদ্ধি নয়। উৎপাদন, বিপণন, প্রক্রিয়াজাতকারণ, রপ্তানি—কত কিছু আছে! এসডিজি পর্যায়ে কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের শিল্পে মনোযোগী হতে হবে। পাশাপাশি নজর দিতে হবে গুণগত মানের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি।
নিম্নমানের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছে দেশে, তা থেকে বের হয়ে আসা এসডিজি অর্জনের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন হোসেন জিল্লুর। বলেন, সরকার বড় চিন্তা করছে অবকাঠামো নিয়ে। কিন্তু এক হাজারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা গেলে পদ্মা সেতুর চেয়েও লাভবান হওয়া যাবে। মনে রাখা দরকার যে আজ যাঁরা দেশ চালাচ্ছেন, তাঁরা এসেছেন মূলত জেলা স্কুলগুলো থেকেই। আর এ কাজটি করতে না পারলে এসডিজি কাগজেই থেকে যাবে।
প্রবন্ধে প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারসের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, বিশ্বে ৭১ শতাংশ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এসডিজিতে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং ১৩ শতাংশ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এসডিজির প্রভাব নির্ধারণে কৌশলপত্র প্রস্তুত করেছে। বাংলাদেশেরও উচিত মনোযোগী হওয়া। আসিফ ইব্রাহীম বলেন, সরকারের সহযোগিতায় ব্যবসায়ী মহলের মাধ্যমে এসডিজি অর্জন করতে হবে। তবে এসডিজি অর্জনের মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থায়ন। আর এসডিজিকে দেখতে হবে সুযোগ হিসেবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ বলেন, এসডিজি অর্জনে বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব ৭০ শতাংশ, বাকি ৩০ শতাংশ সরকারি খাতের। উচিত হবে ব্যবসার খাতভিত্তিক টাস্কফোর্স গঠন এবং স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
বাংলাদেশ সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসুহিরো ফুরুসাওয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে আবুল কালাম আজাদ বলেন, এসডিজি অর্জনে মূল্য সংযোজন কর আইন কার্যকর এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের প্রতি জোর দিতে হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম জানান, এসডিজির জন্য জাতিসংঘে এযাবৎ ৯০ লাখ মতামত এসেছে, আর এসডিজির সঙ্গে মিলিয়েই করা হয়েছে বাংলাদেশের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। এসডিজি অর্জনে সরকার রেফারির ভূমিকায় থাকবে বলেও জানান তিনি।
একসময় বিশ্বব্যাংকের প্ররোচনায় দারিদ্র্য নিরসন কৌশলপত্র করা হয়েছিল এবং বাংলাদেশ বোকার মতো তা গ্রহণও করেছিল বলে সমালোচনা করেন শামসুল আলম।
মুক্ত আলোচনায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী মূলত কথা বলেন সুশাসন নিয়ে। পরিবহন ধর্মঘটের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘গত রাতে এক হাসপাতাল থেকে বের হচ্ছিলাম। বারান্দায় দুজন শুয়ে আছেন। মির্জাপুর থেকে এসে তাঁরা ফিরতে পারছেন না। অথচ মন্ত্রী বললেন বাস অবসরে গেছে।’ ব্যবসায়ীরা যে ব্যবসা বাদ দিয়ে রাজনীতি করেন, সেটাও খুব ভালো কাজ নয় বলে মনে করেন তিনি।

এসডিজি অর্জনের চালক হবে কৃষি
                                  

বিশ্ব মানচিত্র রিপোর্ট : প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ও রপ্তানি আয়—গত ২৫ বছরে এ দুইয়ের ওপর নির্ভর করে আমরা যথাসম্ভব এগিয়েছি, কিন্তু আগামী দিনে নির্ভর করব কিসের ওপর? প্রশ্নটি করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান নিজেই এর জবাব দিয়েছেন।
হোসেন জিল্লুর বলেন, আগামী দিনে সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির চালক হবে কৃষি এবং এতেও নেতৃত্ব দিতে হবে বেসরকারি খাতকে। আর জাতিসংঘ প্রণীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনের জন্য কৃষি উন্নয়ন অর্থাৎ মফস্বলের পুনর্জাগরণ এবং গুণগত মানের শিক্ষাব্যবস্থা—এ দুইয়ের প্রতি জোর দিতে হবে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) আয়োজনে চেম্বারটির নিজস্ব মিলনায়তনে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত ‘এসডিজিতে বেসরকারি খাতের ব্যবসায় সম্ভাবনার কৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক সেমিনারে হোসেন জিল্লুর রহমান এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ এতে প্রধান অতিথি এবং হোসেন জিল্লুর রহমান ও পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম বিশেষ অতিথি ছিলেন। ডিসিসিআইয়ের এসডিজিবিষয়ক কমিটির উপদেষ্টা আসিফ ইব্রাহীম এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন আর সঞ্চালনা করেন ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাশেম খান।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, কৃষি উন্নয়ন মানে লাঙল দিয়ে হালচাষ বৃদ্ধি নয়। উৎপাদন, বিপণন, প্রক্রিয়াজাতকারণ, রপ্তানি—কত কিছু আছে! এসডিজি পর্যায়ে কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের শিল্পে মনোযোগী হতে হবে। পাশাপাশি নজর দিতে হবে গুণগত মানের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি।
নিম্নমানের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছে দেশে, তা থেকে বের হয়ে আসা এসডিজি অর্জনের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন হোসেন জিল্লুর। বলেন, সরকার বড় চিন্তা করছে অবকাঠামো নিয়ে। কিন্তু এক হাজারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা গেলে পদ্মা সেতুর চেয়েও লাভবান হওয়া যাবে। মনে রাখা দরকার যে আজ যাঁরা দেশ চালাচ্ছেন, তাঁরা এসেছেন মূলত জেলা স্কুলগুলো থেকেই। আর এ কাজটি করতে না পারলে এসডিজি কাগজেই থেকে যাবে।
প্রবন্ধে প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারসের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, বিশ্বে ৭১ শতাংশ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এসডিজিতে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং ১৩ শতাংশ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এসডিজির প্রভাব নির্ধারণে কৌশলপত্র প্রস্তুত করেছে। বাংলাদেশেরও উচিত মনোযোগী হওয়া। আসিফ ইব্রাহীম বলেন, সরকারের সহযোগিতায় ব্যবসায়ী মহলের মাধ্যমে এসডিজি অর্জন করতে হবে। তবে এসডিজি অর্জনের মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থায়ন। আর এসডিজিকে দেখতে হবে সুযোগ হিসেবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ বলেন, এসডিজি অর্জনে বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব ৭০ শতাংশ, বাকি ৩০ শতাংশ সরকারি খাতের। উচিত হবে ব্যবসার খাতভিত্তিক টাস্কফোর্স গঠন এবং স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
বাংলাদেশ সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসুহিরো ফুরুসাওয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে আবুল কালাম আজাদ বলেন, এসডিজি অর্জনে মূল্য সংযোজন কর আইন কার্যকর এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের প্রতি জোর দিতে হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম জানান, এসডিজির জন্য জাতিসংঘে এযাবৎ ৯০ লাখ মতামত এসেছে, আর এসডিজির সঙ্গে মিলিয়েই করা হয়েছে বাংলাদেশের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। এসডিজি অর্জনে সরকার রেফারির ভূমিকায় থাকবে বলেও জানান তিনি।
একসময় বিশ্বব্যাংকের প্ররোচনায় দারিদ্র্য নিরসন কৌশলপত্র করা হয়েছিল এবং বাংলাদেশ বোকার মতো তা গ্রহণও করেছিল বলে সমালোচনা করেন শামসুল আলম।
মুক্ত আলোচনায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী মূলত কথা বলেন সুশাসন নিয়ে। পরিবহন ধর্মঘটের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘গত রাতে এক হাসপাতাল থেকে বের হচ্ছিলাম। বারান্দায় দুজন শুয়ে আছেন। মির্জাপুর থেকে এসে তাঁরা ফিরতে পারছেন না। অথচ মন্ত্রী বললেন বাস অবসরে গেছে।’ ব্যবসায়ীরা যে ব্যবসা বাদ দিয়ে রাজনীতি করেন, সেটাও খুব ভালো কাজ নয় বলে মনে করেন তিনি।

মাগুরায় গমের ভালো ফলনের আশা কৃষি বিভাগের
                                  
চলতি মৌসুমে মাগুরার ক্ষেতগুলো ব্লাস্ট নামক ছত্রাক জনিত রোগের বিস্তার ঘটেনি। ফলে গমের আবাদ ভাল হয়েছে। কৃষকেরা এই মৌসুমে ভালো ফলন পাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রবি মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে গম চাষ চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজর ৪২৫ হেক্টর, শ্রীপুরে ২ হাজর ৩৮০ হেক্টর, শালিখায় ২৭৫ হেক্টর এবং মহম্মদপুর উপজেলায় ১ হাজার ৮০০ জমিতে গম চাষ হয়। চাষকৃত জমি থেকে ১৮ হাজার ১৭০ মেট্রিকটন গম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর মাগুরার পার্শ্ববর্তি কয়েকটি জেলার গম ক্ষেতে ব্লাস্ট নামক এবছরও ছত্রাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গমের দানা পরিপূর্ণ না হয়ে চিটা দেখা দেয়। এ কারণে এ বছর মাগুরাতেও গমের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে গম চাষের শুরুতেই এ রোগ প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ বছর জেলায় মাত্র এক একর জেিমত এ রোগ দেখা দেয়। কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষকরা সময়মত গম ক্ষেতে নাটিভা-নোভেটাসহ বিভিন্ন ধরনের ছাত্রাক নাশক ওষুধ স্প্রে করার এ রোগের বিস্তৃতি ঘটেনি। ফলে গমের দানা ভালো হয়েছে। জেলার ক্ষেতগুলোতে গম সফলের অবস্থা ভালো।
কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, এ বছর পুরো জমিতেই উচ্চ ফলনশীল জাতের গমের আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের আওতাধীন বাংলাদেশ গম গবেষণা ইন্সটিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল বারি-২৫, ২৬, ২৭, ২৮, শতাব্দী, সৌরভ ও প্রদীপ নামের বিভিন্ন জাতের গম চাষ হয়েছে। একর প্রতি ৪০ মণ গম ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছে কৃষকরা।
সদর উপজেলার রাউতড়া গ্রামের কৃষক রাজু শেখ জানান- তিনি ২ একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বারি গম-২৫ চাষ করেছেন। গম চাষের শুরু থেকেই ব্লাস্ট নামক ছত্রাক জনিত রোগ সম্পর্কে কৃষি বিভাগ তাকে সতর্ক করেছিল। তাদের পরামর্শে ক্ষেত পরিচর্যা করায় গম ভালো হয়েছে। চাষকৃত জমি থেকে প্রায় ১০০ মণ গম পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।
 
সদর উপজেলার নন্দলালপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান- চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় তিনি ১ একর জমিতে বারি-২৬ জাতের গম চাষ করেছেন। মাঠে ফসলের অবস্থা ভাল। চাষকৃত জমিতে ৩৫ থেকে ৪০ মণ গম পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, এ বছর গম চাষের শুরু থেকে বিশেষ সতর্কতামুলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। ফলে গম ক্ষেতে ব্লাস্ট নামক ছত্রাক জনিত রোগের বিস্তার ঘটেনি। বর্তমানে মাঠে গম সফলের অবস্থা ভালো। কৃষকরা ভালো ফলন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চলনবিল অঞ্চলে রসুন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৩২ হাজার টন
                                  

মসলা জাতীয় ফসল রসুন উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত দেশের চলনবিল অঞ্চলে চলতি রবি মওসুমে রসুন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ৭৬০ হেক্টরে। তবে দেশে সারা বছর রসুনের বাজার দর চড়া থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাত হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে রসুন আবাদ হয়েছে। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তা হলে এবার রসুনের আশাতীত ফলন হবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। চলতি রবি মওসুমে নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা রসুন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য হয়েছিল ২১ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৭৬ হাজার টন।

এবার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় সাত হাজার হেক্টরের বেশী জমিতে রসুন আবাদ হয়েছে। অর্থাৎ ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫৬ হাজার টন বেশী রসুন উৎপাদন হবে। গত বছরে রসুনের আবাদ কম হওয়ায় বাজারে রসুনের দাম বেশী হয়েছে। অর্থৎ রসুনের দাম চারগুন হয়ে যায়। এবছর চলনবিল অঞ্চলে রেকর্ড পরিমান ২৮ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে রসুন আবাদ হয়েছে।

উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৩২ হাজার টন। নাটোর কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ সুত্রে জানা যায়, দেশের উত্তরের চলনবিল অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি রসুন আবাদ হয়।

রসুন এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ফসলে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় ১০ হাজার ৫৬০ হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৪ হাজার টন, গুরুদাসপুরে ৮ হাজার ৮০০ হেক্টরে ৭০ হাজার ৫০০ টন, বাগাতিপাড়ায় ৪০০ হেক্টরে তিন হাজার ২০০ টন, সিংড়ায় ৩০০ হেক্টরে দুই হাজার ৪০০ টন সিরাজগঞ্জের তারাশ উপজেলায় এক হাজার ২০০ হেক্টরে নয় হাজার ৬০০ টন, পাবনার চাটমোহরে সাত হাজার ২০০ হেক্টরে ৫৭ হাজার ৬০০ টন, পাবনা সদর, সুজানগর, বেড়া, সাঁথিয়া, আটঘড়িয়া, ঈশ্বরদী, ফরিদপুর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ৪০০ হেক্টরে তিন হাজার ২০০ টন রসুন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এসব এলাকায় প্রতি বছরই রসুন আবাদের পরিমান বাড়ছে। চলনবিল অঞ্চলে বিনা চাষে রসুন আবাদ হয়ে থাকে।

তবে রসুনের সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে বড়াইগ্রামের বাজিতপুর, মাড়িয়া, ইকড়ি, জালশুকা, তারানগর, শ্রীরামপুর, মানিকপুর, চকপাড়া, রয়না ভরট, মামুদপুর, রয়না, রোলভা, খাকসা, চড়ইকোল, গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা, কাছিকাটা, হাঁসমারী, দড়ি হাঁসমারী, শিধুলী, চড়কাদহ, মশিন্দা, চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা, কাটেঙ্গা, কোকড়াগাড়ি, ধানকুনিয়া, লাঙ্গলমোড়া, বরদানগর, ধুলাউড়ি, বোয়ালমারি, গৌরনগর, বিন্যাবাড়ি, নিমাইচড়া এলাকায়। চলনবিল অঞ্চলে বণ্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পলিযুক্ত দোঁ-আশ ও এঁটেল দোঁ-আশ মাটি রসুন রোপন করা হয়।

যদি কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হয়, তা হলে চলনবিল অঞ্চলে এ বছর রসুনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। জানা যায়, ১৯৯৫-৯৬ সালে নাটোরের বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলোর কৃষকেরা স্ব-উদ্যোগে প্রথম বিনা চাষে রসুন আবাদের প্রচলন করেন। এই রসুনের আবাদ বা চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বড়াইগ্রাম উপজেলার জালশুকা গ্রামের কৃষক খোরশেদ আলম পূর্ণি জানান, চলনবিল অঞ্চলের জমিতে সাধারণত কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে নরম জমিতে বিনা চাষে রসুনের কোয়া রোপণ করা হয়।

এ জন্য প্রচলিত নিয়মে জমি চাষ করার প্রয়োজন পড়ে না। এ পদ্ধতিতে ক্ষেতে আগাছা কম জন্মে। সার প্রযোগ করতে হয় কম। রোপণ থেকে উৎপাদণ পর্যন্ত ১২০ দিনের এই রসুন উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে পুরনো পদ্ধতির রসুন আবাদের চেয়ে অনেক কম। বিনা চাষ পদ্ধতিতে রসুনের ফলন বেশি হয়। প্রতি বিঘা জমিতে রসুনের ফলন হয় ২৫ থেকে ৩০ মণ। সাধারণত চৈত্র মাসে জমি থেকে রসুন তুলে আনা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাটোরের লক্ষীকোল বাজার, রয়না ভরট হাট, মৌখাড়া হাট, জালশুকা হাট, চাঁচকৈড় হাট, চাটমোহরের অমৃতকুন্ডা হাট, মির্জাপুর হাট, ছাইকোলা হাট রসুন বিক্রির জন্য প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছে। রসুন বেচাকেনার জন্য বিভিন্ন হাট-বাজারে গড়ে উঠেছে অসংখ্য আড়ৎ।

চট্রগ্রাম, সিলেট, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেপারী আরৎদারের মাধ্যমে চাহিদা অনুয়ায়ী রসুন কিনছেন। পরে রসুন বস্তায় ভরে ট্রাকে করে সড়ক পথে নিজ নিজ গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছেন।

কিন্তু বতমানে হাট-বাজারে মান ভেদে প্রতি মণ শুকনা রসুন ছয় হাজার থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ইসমাইল হোসেন জানান, দোঁ-আশ ও এঁটেল দোঁ-আশ মাটি রসুন চাষের জন্য বেশি উপযোগী।

এ কারণেই নাটোর জেলায় বিশেষ করে বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলায় সর্বাধিক জমিতে রসুন চাষ হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ৩০ কেজি টিএসপি, ২৫ কেজি পটাশ ও ১৫ কেজি জিপসাম ছিটানোর দুই-একদিনের মধ্যে নরম জমিতে সারিবদ্ধভাবে রসুন বীজ রোপণ করতে হয়। রোপণের জন্য প্রতি বিঘা জমিতে দুই মণ রসুনের প্রয়োজন হয়।

জমিতে রসুন রোপণের দিনই খড় বা বিচালী দিয়ে জমি ঢেকে দিতে হয়। বীজ রোপণের একমাস পরে পানি সেচ দিয়ে বিঘায় ১০ কেজি হারে ইউরিয়া ও পাঁচ কেজি হারে এমওপি ছিটিয়ে দিলে ফলন ভালো হয়।

এবার ফুলকপি চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে
                                  

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : আগাম জাতের ফুলকপিচাষিদের মুখে এবার হাসি ফুটেছে। চুয়াডাঙ্গায় এবার ফুলকপির ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি দামও বেশ ভালো পাচ্ছেন চাষিরা।

 

স্থানীয় হাট-বাজারে গত বছর এই সময়ে ফুলকপি প্রতি মণ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও চলতি বছর তা ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় শীতকালীন আগাম সবজি হিসেবে ১ হাজার ৩৭১ হেক্টর জমিতে ফুলকপির চাষ হয়েছে। ফুলকপির বাজারজাতও শুরু হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে এই ফুলকপি।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খেত থেকেই পাইকারেরা ফুলকপি কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে। সদর উপজেলার গাইদঘাট গ্রামে একটি ফুলকপিখেতে দাঁড়িয়ে কথা হয় কৃষক আনোয়ার জোয়ারদারের সঙ্গে। আনোয়ার বলেন, এবার ২০ বিঘা জমিতে ফুলকপির চাষ করা হয়েছে। ফলনও বেশ ভালো। বিঘাপ্রতি ১৫ হাজার হিসেবে তাঁর মোট খরচ হয়েছে তিন লাখ টাকা। এ পর্যন্ত ১৪ বিঘা জমির ফুলকপি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। এতে খরচ বাদে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা লাভ করেছেন তিনি। এখনো ছয় বিঘা জমির ফুলকপি বিক্রি বাকি আছে, যা বিক্রি করে কমপক্ষে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব।

আনোয়ার জোয়ারদার বলেন, এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় ফুলকপির ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে চাহিদা থাকায় দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

গাইদঘাট গ্রামে ফুলকপি কিনতে এসেছেন মুন্সিগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন সাগর। তিনি চুয়াডাঙ্গা থেকে সবজি কিনে ঢাকার কারওয়ান বাজারের আড়তে বিক্রি করেন। আলাউদ্দিন বলেন, ‘২০ বছর ধরে সবজির ব্যবসা করছি। ঢাকার বাজারে চুয়াডাঙ্গার সবজির ভালো চাহিদা আছে। এখানকার সবজিচাষিরা প্রতিটি ফসল বেশ যত্ন করে ফলায়। এ কারণে অন্য এলাকার চেয়ে চুয়াডাঙ্গার সবজির দামও বেশি।’

সদর উপজেলার বেলগাছি গ্রামের ইসরাফিল হোসেন এবার পাঁচ বিঘা জমিতে ফুলকপির চাষ করেছেন। টানা দুই বছর লোকসানের পর এবার লাভের মুখ দেখেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘গ্যালো দুইবার ফুলকপির আবাদ কইরে খুপ লুকসান হয়েলো। এবেড্ডা লাব না হলি মাটে মারা যাতাম।’

চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের সবজিপট্টির আড়তদার শাহ আলম বলেন, এ বছর চাষিরা ফুলকপিতে বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম পেয়েছেন। প্রথম দিকে ফুলকপি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানেও ভালো কপি ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গার উপপরিচালক নির্মল কুমার দে বলেন, এবার আগাম জাতের ফুলকপির ফলন ভালো হওয়ায় ও দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।

তারুণ্যের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে কৃষি
                                  

বিশ্ব মানচিত্র রিপোর্ট : আলিমুজ্জামান ঢাকার নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক শেষ করে কৃষিকাজ শুরু করেছেন গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায় গিয়ে। এ কিউ এম ফিরোজুল হক স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিভাগে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। এই দুজন মিলে অংশীদারত্বের মাধ্যমে কৃষিকাজ শুরু করেছেন।
তবে আলিমুজ্জামান ও ফিরোজুল যে কৃষিকাজ করেন, তার চেহারা কিছুটা ভিন্ন। নিজেরা চাষ করার পাশাপাশি কৃষকদের সমবায় সমিতি করে নিরাপদ সবজি ও ফল চাষের প্রযুক্তি সরবরাহ করেন তাঁরা। তারপর সমবায় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য শহরে বিক্রির দায়িত্ব নেন ৩০ ও ৩৬ বছর বয়সী এই দুই তরুণ উদ্যোক্তা।
চুয়াডাঙ্গার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে সবজি নিয়ে ঢাকায় বিক্রি করা, কৃষি প্রযুক্তি আনতে থাইল্যান্ড ও ভারত পর্যন্ত চলে যাওয়াসহ নানা কিছু করছেন এই দুই তরুণ। আলাপকালে আলিমুজ্জামান তো কৃষিকাজ নিয়ে প্রথাগত শহুরে দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ দিয়েই বসলেন। বললেন, ‘কৃষিকাজ মানে শুধুই গ্রাম্য, মামুলি কাজ, এই ধারণা আমরা বদলে দিতে চাই। বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি আর মান আমরা দেশেই নিশ্চিত করতে উচ্চশিক্ষা শেষ করে কৃষিতে এসেছি।’
উচ্চশিক্ষিত এই দুই তরুণের উদ্যোগ অবশ্য এখন আর কোনো ব্যতিক্রমী উদাহরণ নয়। দেশের প্রায় সব এলাকাতেই কৃষির নতুন
নতুন খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে তরুণেরা এগিয়ে আসছেন। মৎস্য খামার, ফলের বাগান, সবজি ও মসলা চাষের মতো উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য উৎপাদনে এখন সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আসছেন তরুণ উদ্যোক্তারা।
বাংলাদেশ পল্লী ও কর্মসংস্থান ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) অর্থায়নে কৃষির বিভিন্ন খাতে প্রায় ২২ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষি উদ্যোগকে অর্থায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে নতুন ধরনের ফসল ও পণ্য উৎপাদনে যুক্ত হয়েছেন প্রায় তিন লাখ উদ্যোক্তা। তাঁদের গড় বয়স ৩৫। গোলমরিচ, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ, টমেটো ও ড্রাগন ফলের মতো নিশ্চিত মুনাফা আছে এমন খাতগুলোতে এই তরুণেরা বিনিয়োগ করছেন।
পিকেএসএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই তরুণ উদ্যোক্তাদের অনেকেই প্রবাস থেকে ফিরে এসেছেন। অনেকের পরিবারের কেউ কেউ প্রবাস থেকে যে অর্থ পাঠাচ্ছেন, তা এই ধরনের কৃষিভিত্তিক উদ্ভাবনী ও নতুন খাতে বিনিয়োগ করছেন। দেশের ভেতরে সুপারশপ ও উচ্চবিত্ত এলাকার বাজারগুলোতে এসব নতুন ধরনের পণ্য বিক্রি বাড়ছে বলেও সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে।

 

ব্যাপারে পিকেএসএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদের বলেন, ‘আমরা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি, তরুণদের হাত ধরে দেশের কৃষি খাত পারিবারিক চাহিদা মেটানোর পর্যায় থেকে দ্রুত বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। তবে এই বদল ধরে রাখতে হলে কৃষকদের ধনী হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। উদাহরণ তৈরি করতে হবে যে উচ্চশিক্ষা শেষে কৃষিতে এলে চাকরির চেয়েও ভালো ভবিষ্যৎ আছে। এ জন্য দেশে ও বিদেশে তাঁদের পণ্যের ভালো দাম এবং বাজার নিশ্চিত করতে হবে।’
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশের কৃষিকাজ এখন তারুণ্যনির্ভর। এখন কৃষিকাজে জড়িতদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী। তরুণদের এই অংশগ্রহণের ফলে কৃষিকাজেও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে বলে মনে করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হামিদুর রহমান।
হামিদুর রহমানের কথার প্রমাণও মেলে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার কৃষি উৎপাদন-বিষয়ক বৈশ্বিক তথ্যভান্ডার স্ট্যাটিসটিক্যাল পকেটবুক-২০১৫-তে। সেখানে দেখা গেছে, বাংলাদেশ চাষের মাছ উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ, সবজি চাষের জমি বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে প্রথম আর উৎপাদন বৃদ্ধির হারে তৃতীয়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সবজি উৎপাদন বেড়েছে পাঁচ গুণ। আর ফল উৎপাদন বৃদ্ধির দিক থেকেও বাংলাদেশ এখন বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে।
ফল উৎপাদনের সাফল্যের পেছনে যে তরুণ উদ্যোক্তাদের বড় ভূমিকা রয়েছে, তা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফলচাষিদের যে তালিকা রয়েছে তা দেখেই বোঝা যায়। সংস্থাটির তালিকা অনুযায়ী, মূলত অবস্থাপন্ন কৃষকদের পরবর্তী প্রজন্ম নানা ধরনের ফল চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছে। স্ট্রবেরি, মাল্টা, কমলা, ড্রাগন ফল থেকে শুরু করে বাজারে নতুন ওঠা কালো তরমুজের চাষেও এই তরুণদের প্রাধান্য বেশি দেখা যাচ্ছে।
দেশের বরেন্দ্র অঞ্চলের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের কৃষক মতিউর রহমানের ছেলে নাইজার আহমেদ নাহিদ পিপলস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর শেষ করে পারিবারিক ফলের খামার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়েছেন। ৬১ বিঘা জমিতে বেদানা, মাল্টা, কমলা, পেয়ারা, গৌড়মতি আম চাষ শুরু করেছেন। তাঁর মতে, ঢাকায় ট্রাফিক জ্যাম, দূষণ আর হট্টগোল মাথায় নিয়ে চাকরি করার চেয়ে গ্রামের প্রকৃতির কোলে নিজেদের খামার আরও বড় করে তোলা অনেক বেশি স্বস্তির, আরামদায়ক ও লাভজনক।
কৃষি খাতে তারুণ্যের অংশগ্রহণ বেড়ে যাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের মহাপরিচালক কে এস মুর্শিদ বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন তরুণদের দেশ। কৃষিকাজ থেকে শুরু করে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প খাতেও আমরা তরুণদের অংশগ্রহণ বেশি দেখতে পাচ্ছি।’ তাঁরা আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক বাজারকে মাথায় রেখে বিনিয়োগ করছেন। শিক্ষিত ও তরুণ এই দুই বৈশিষ্ট্য যাঁদের মধ্যে থাকবে, তাঁদের যদি বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ দেওয়া যায় তাহলে দেশের কৃষি খাতের রূপান্তর আরও দ্রুত হবে বলে মনে করেন তিনি।

হেমন্ত মৌসুমে সালথায় উফশি আমন ধানের বাম্পার ফলন
                                  

ফরিদপুর প্রতিনিধি : হেমন্ত মৌসুমে ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় উফশি আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবছরে উপজেলায় ৮ হাজার ১শ’ ৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়। বর্ষা মৌসুমে পাট কাটার পরেই ঊফশি আমন ধান চাষ করেছে কৃষকরা। আমন চাষে এবার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। বিঘা প্রতি প্রায় ৩০ মণ ধান ফলন হচ্ছে। এতে কৃষকের মূখে হাসি ফুটে উঠেছে।

জানা যায়, আগে বছরে একটি জমিতে দুই প্রকার ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হতো। এরমধ্যে পাট ও পিয়াজ অন্যতম। বর্তমানে একটি জমিতে ৩ প্রকার ফসলের চাষ করা হয়ে থাকে। শীত মৌসুমে এই অঞ্চলের কৃষকরা জমিতে পিয়াজ চাষ করে। চৈত্র মাসে পিয়াজ ঘরে তুলার পরে পাটের বীজ বপন করা হয়। অনেকেই পাট কাটার আগে (ছোট পাট ছাটাইয়ের সময়) বা পাটের মধ্যে দিয়ে আধুনিক কায়দায় উফশি আমন ধানের বীজ বপন করে থাকেন। আবার অনেকেই পাটকাটার পরে আমনের চারা রোপণ করেন। পানি কম থাকায় এবার কৃষকরা আমন চাষের উপর ঝুঁকে পড়ে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রতিটি মাঠেই আমন ধান কাটার কাজ শুরু হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মাদ বিন ইয়ামিন বলেন, এবার এই উপজেলায় উফশি আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৭ হাজার হেক্টর। তা অতিক্রম করে ৮ হাজার ১শ’ ৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া ধানের অনুকূলে থাকায় এ বছর প্রচুর ধান উৎপাদন হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক কৃষি কনফারেন্স উদ্বোধন করলেন রাষ্ট্রপতি
                                  

বি.মা.রিপোর্ট:পঞ্চম জাতীয় কনভেনশন ও আন্তর্জাতিক কৃষি কনফারেন্স ২০১৬ শুরু হয়েছে।

 

 বৃহস্পতিবার সকালে এই কনফারেন্সের উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

দেশের কৃষি উন্নয়ন, সম্প্রসারণ, সম্ভাবনাসহ নানা দিক তুলে ধরতে আযোজন করা হয়েছে দুই দিনব্যাপী এই জাতীয় কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক কৃষি কনফারেন্স। অনুষ্ঠানটির আয়োজক কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ।

উদ্বোধনকালে রাষ্ট্রপতি দেশের কৃষকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সোনার বাংলা গড়তে কৃষকদের ভূমিকা অপরিসীম।’

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ‘কৃষি কেবল অর্থনীতির প্রাণশক্তি নয়, তা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের শেকড়ও বটে। তাই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কৃষিখাতের অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে সকলকে নিরন্তর প্রয়াস চালাতে হবে।’

তিনি এই আন্তর্জাতিক কৃষি কনফারেন্স আয়োজনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য সবার দৃষ্টি আর্কষণ করেন।

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের সভাপতি সংসদ সদস্য কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক, অর্থপ্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী কৃষিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক, প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক এম এ সাত্তার মণ্ডল, বিশ্বখাদ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ দেশি-বিদেশি কৃষি সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

কনফারেন্সে দেশে কৃষি উৎপাদনশীলতার আধুনিকতা উদ্ভাবন, কৃষিতে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে।

আশা করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক এই কৃষি কনফারেন্স জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরীক্ষিত আধুনিক প্রযুক্তি প্রর্দশনের পাশাপাশি গবেষক, প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক, সরবরাহকারী, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কর্মী এবং প্রযুক্তি ব্যবহারকারীগণের মিলন ক্ষেত্রে পরিণত হবে।

প্রদর্শিত প্রযুক্তির সুবিধা ও ব্যবহারের কলাকৌশল নিয়ে সেমিনার ও গোলটেবিল আলোচনার মাধ্যমে গবেষণার নতুন নতুন দ্বার উন্মোচন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি, প্রকৃত ব্যবহারকারীগণ আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি দর্শন ও ব্যবহারে উৎসাহী হবেন, যা দেশের কৃষি ও পল্লি উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাল্টা চাষে সাফল্য
                                  

মাল্টা লেবু জাতীয় ফল। এতে প্রচুর পরিমান ভিটামিন সি বিদ্যমান যা মানুষের পুষ্টিহীনতা দুর করতে সহায়তা করে। যখন প্রচলিত ফসল চাষাবাদ করে লোকসান দিতে দিতে চাষীরা হতাশ হতে শুরু করেছে ঠিক তখনই চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলায় লাভজনক নতুন ফল বারি-১ জাতের মাল্টা আবাদে ঝুঁকে পড়েছে চাষীরা। মাল্টা গাছের চারা অন্যান্য চাষীদের কাছে পৌছে দিতে চারা উৎপাদন করছে তারা।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বন্যা মুক্ত দো-আঁশ মাটি মাল্টা আবাদের জন্য উপযোগী। বারি-১ জাতের মাল্টা বর্তমানে চাষীরা তাদের জমিতে রোপন করেছে। বছরের মে থেকে জুলাই মাসে মাল্টা গাছ রোপনের সময়। প্রতি বিঘা জমিতে ১৪৫টি মাল্টা গাছের চারা লাগাতে হয়। জীবননগর উপজেলায় ৯টি প্রদর্শনী মাঠে ৩ বিঘা সাড়ে ১২ শতক জমিতে মাল্টা গাছ রোপন করা হয়েছে। যে সকল মাল্টা গাছ আগে রোপন করা হয়েছে সে সব গাছে ৪৫-৫০টি করে খাবার উপযোগী মাল্টা গাছে ধরেছে। মাল্টা পরিপূর্ণভাবে পাকা শুরু এবং ওগুলোতে হলুদ রঙ হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে ওগুলো খাওয়ার উপযোগী হবে।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা গ্রামের মরহুম খাইরুল হকের ছেলে রকুনুজ্জামান পান্নু এবারই নতুন মাল্টার আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, আবাদের ইচ্ছা থাকলেও মাল্টা গাছ পাওয়া যাচ্ছিল না। ঢাকা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামার বাড়ী থেকে মাল্টা গাছের চারা সংগ্রহ করেন। এছাড়া জীবননগর কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগীতায় তিনি ৩ বিঘা জমিতে ৩০০ মাল্টার চারা রোপন করেছেন। নতুন মাল্টার আবাদ করতে পেরে তিনি খুশি। লাভজনক মাল্টার আবাদ আরো চাষীরা করবেন বলে তিনি আশাবাদী।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পুরাতন বারান্দী গ্রামের আনসার আলী মির্জার ছেলে আজাবুল সাড়ে ১২ শতক জমিতে ৫০টি মাল্টা গাছ রোপন করেন। এ গাছ গুলোতে ভাল মাল্টা হয়েছে। সে গুলো খাবার উপযোগীও হয়ে গেছে। রোপন করা গাছে ভাল মাল্টা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চুয়াডাঙ্গা জীবননগর কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ নতুন ফল মাল্টা আবাদ প্রসঙ্গে বলেন, তৃতীয় শষ্য বহুমূখী প্রকল্পের আওতায় বারান্দী গ্রামে মাল্টার প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হয়। এ প্লটে সাড়ে ১২ শতক জমিতে ৫০টি মাল্টা গাছ রোপন করা হয়। এ প্লটের মাল্টা গাছে ভাল ফল হয়েছে। মাল্টা এ জেলায় নতুন ফল; সে কারনে এর চাষ আরো সম্প্রসারিত হচ্ছে। জীবননগরে আম এবং লিচু বাগান ছাড়াও মাল্টার বাগান বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেহেতু এ উপজেলায় এ আবাদের উপযোগীতা আছে সেকারনে মাল্টা চাষ বৃদ্ধি পাবে।

চুয়াডাঙ্গার মাল্টা আবাদ থেমে নেই। দামুড়হুদা উপজেলার হেমায়েতপুর বেড়বাড়ি গ্রামে সাড়ে ২৮ বিঘা জমি লিজ নিয়ে মাল্টা বাগান করেছে ভগিরথপুর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমানে তার মাল্টা বাগানে প্রায় ১০লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেলেও গাছে কোন ফল আসেনি। তবে আগামীতে ফল আসলে লাভবান হওয়ার আশা ব্যাক্ত করেন তিনি। এ বাগানে ৩০০০ হাজারের ওপরে মাল্টা গাছ আছে বলে তিনি জানান। মাল্টা আবাদ করতে গিয়ে প্রথমেই তিনি হোঁচট খান।

ওই গাছের চারা সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি পড়েন বিপাকে। সরকার কর্তৃক সরবরাহ করা বারি-১ জাতের মাল্টা গাছ তিনি রোপন করেছেন। কিন্তু তাকে একজন গাছের চারা ব্যবসায়ী ভুল তথ্য দেয় যে, বারি-৩ জাতের মাল্টা গাছের চারা তার কাছে আছে। প্রথমে ভাল ফলের আশায় তিনি ওই চারা ব্যবসায়ীর কথা শুনে তার কাছ থেকে অনেক টাকার চারা কিনে সেগুলো তিনি জমিতে বোপন করেন।unnamed-4পরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ নিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে, বারি-৩ জাতের কোন মাল্টা গাছের চারা এখনও সরকারিভাবে উৎপাদিত হয়নি। যে গুলো তিনি বপন করেছেন সে গুলো সাধারণ লেবু গাছ। এরপর তিনি বপন করা গাছ কেটে পরিস্কার করে সেখানে বারি-১ জাতের মাল্টা গাছ বপন করেন। এর ফলে তিনি আবাদে পিছিয়ে পড়েন। তবে বর্তমানে বারি-১ জাতের যে মাল্টা গাছে তিনি বপন করেছেন সেগুলোতে মাল্টা ফল আসলে ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রি হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হেমায়েত ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, এই মাল্টা বাগানে লিচু গাছ ২৫০টি ও ৬০০টি আম গাছ আছে। বাগানে নতুন ফল মাল্টা গতবার তেমন ধরেনি। তবে এবার ভাল মাল্টা ধরবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে বাগানে কারিগরি সহযোগীতা দেওয়া হচ্ছে। মাল্টা আবাদ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে তারা আর্থিকভাবে লাভবান এবং স্বাবলম্বী হবে। অল্প জায়গায় লেবু জাতীয় ফল হওয়ায় এ চাষ দামুড়হুদা উপজেলায় ছড়িয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া এ বাগান থেকে মাল্টা চারা উৎপাদনও করা হচ্ছে। যা দেশের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

সঠিক পরিচর্যা আর পরিকল্পিতভাবে মাল্টা আবাদ চাষীদের আরো আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করে তুলবে এমনটিই প্রত্যাশা করছে চুয়াডাঙ্গার কৃষি বিভাগ।

কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার
                                  

জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের ওপর অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

 

মঙ্গলবার রাজধানীর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি মিলনায়তনে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত বাংলাদেশ ইন্সপায়ার্ড প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আমির হোসেন আমু বলেন, জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬ এর উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের তালিকায় কৃষি/খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী শিল্পকে শীর্ষে রাখা হয়েছে। এ শিল্পখাতে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সরকার রপ্তানির বিপরীতে শতকরা ২০ ভাগ ভর্তুকি দিচ্ছে। নতুন করে যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে, সেগুলোতে কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কাঁচামালের সহজপ্রাপ্যতা বিবেচনা করে এলাকাভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তুলতে হবে। এর পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার খালি জায়গাতে কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হবে।

এলাকাভিত্তিক কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জেলা পর্যায়ে স্থাপিত বিসিক শিল্পনগরীগুলোতে আগ্রহী নতুন উদ্যোক্তাদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প উদ্যোক্তারা বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পখাত থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা রপ্তানি সম্ভব।

তারা বলেন, বর্তমানে কৃষিভিত্তিক এ শিল্পখাত থেকে বছরে এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। এ শিল্পখাতে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ঘটাতে তারা স্বল্প সুদে ঋণ, কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র কারখানায় অগ্রাধিকারভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ প্রদান এবং সহজ কিস্তিতে শিল্প প্লটের মূল্য পরিশোধের সুযোগ দিতে সরকারের কাছে দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃষিভিত্তিক পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে মূল্য সংযোজনের সুযোগ অনেক বেশি। ভারতসহ প্রতিবেশি দেশগুলো এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করছে। বাংলাদেশে কৃষিভিত্তিক শিল্পখাত থেকে রপ্তানি বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও তা এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।

তারা এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্যের জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ চালুর পরামর্শ দেন। এ শিল্পখাতে দক্ষ উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে তারা বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ এবং পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদ্যোক্তা বিষয়ক কোর্স চালুর তাগিদ দেন।

বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)- প্রেসিডেন্ট এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরেন বাপা-ইন্সপায়ার্ড প্রকল্পের উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. মোসলেম আলী।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রকল্পের পরিচালক ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুষেণ চন্দ্র দাস, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ এম ইসলাম, বাংলাদেশ ইন্সপায়ার্ড প্রোগ্রামের টিম লিডার আলী সাবেত, বিসিকের সাবেক পরিচালক মো. আবু তাহের খান, তরুণ এসএমই উদ্যোক্তা আবদুর রহমান ও প্রিয়দর্শি চাকমা বক্তব্য রাখেন।

পশ্চিমের জেলাগুলোতে বাজার ঊর্ধ্বমুখী ধান চালের
                                  
পশ্চিমের জেলাগুলোতে ধান চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। পোয়াবারো ব্যবসায়ী ও মজুতদারদের। তারা বাম্পার লাভ করছে। চাষির ঘরের ধান ফুরানোর পর বাজার চড়েছে। ধানের দাম বৃদ্ধির কারণে চালের উত্পাদন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলাতে এবার বোরো চাষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এসব জেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৬১ হাজার ২২০ হেক্টর। চাষ হয়েছে ৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৫ হেক্টরে। গত বছরের চেয়ে এক লাখ হেক্টর কম জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। বেশ কয়েক বছর যাবত্ ধানের দাম কম পাওয়ায় চাষি চলতি বছরে বোরো চাষ কমিয়ে দেয়। তারা ডাল জাতীয় ও অন্য ফসলের চাষ করে।
এপ্রিল মাসে নতুন বোরো ধান উঠার পর মোটা ধান স্বর্ণ, গুটি স্বর্ণ, রত্না ও বি আর-৩৩ জাতের ধান প্রতি মান সাড়ে ৫শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়। বড় বড় চালকল মালিক ও মজুতদাররা ধান কিনে মজুত করে। চাষির ঘরের ধান ফুরিয়ে গেলে মোটা ধানের দাম চড়তে থাকে। বর্তমানে হাট বাজার ও মজুতদারদের আড়তে প্রতি মণ মোটা ধান সাড়ে ৮শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাত্ মনে ৩শ’ টাকা বেড়েছে। ফসল উঠার পর মাঝারি সরু বিআর-২৮ ও সুবললতা ধানের দাম ছিল সাড়ে ৬শ’ টাকা থেকে ৭শ’ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৯শ’ টাকা দরে। সরু ধান মিনিকেট ও বাসমতি ধান উঠার পর প্রতি মণ সাড়ে ৮শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়। এখন সাড়ে ৯শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
বোরো ধান উঠার পর এপ্রিল মে মাসে বাজারে মোটা চালের চাহিদা কম ছিল। পাইকারি প্রতি কেজি ২১ -২২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। আর খুচরা ২৩-২৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। জুন থেকে ধানের দাম বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে চালের দাম বেড়ে চলেছে। মোটা চাল কেজি প্রতি কমপক্ষে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। স্বর্ণ, গুটি স্বর্ণ ও রত্না চাল পাইকারি ৩৩/৩৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা প্রতি কেজি ৩৫/৩৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি চিকন চাল বিআর-২৮ ও সুবলতলা প্রতি কেজির ৩৪/৩৫ টাকা দাম ছিল, এখন বেড়ে হয়েছে ৪০/৪১ টাকা। কাজলতলা ৩৬ টাকা থেকে বেড়ে ৪০/৪১ টাকা হয়েছে। মিনিকেট চালের দাম ছিল ৪০/৪২ টাকা। এখন বেড়ে ৪৬/ ৪৭ টাকা হয়েছে।
যশোরের ঝিকরগাছার চালের ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ বিশ্বাস জানান, চালের বাজার অটো মিল মালিকদের নিয়ন্ত্রণে। প্রচুর ধান মজুত আছে।  ওই চাল এখন চড়া দামে বিক্রি করছে মজুতদাররা। তিনি বলেন, সরু চালের দাম তুলনামূলকভাবে কম বেড়েছে। ঝিনাইদহের ডাকবাংলা মোকামের চাল ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলাম মোল্লা ও কুষ্টিয়ার খাজানগরের ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, চালের বাজার এখন অটো চাল মিল মালিকদের নিয়ন্ত্রণে।
দেশের প্রধান চাল উত্পাদনকারী এলাকা হচ্ছে কুষ্টিয়ার খাজানগর। এখানে সরকার নিবন্ধিত চালকল আছে ৩শ’ ৬৪টি। তার মধ্যে অটোমিল আছে ৩১টি। কয়েক বছর ধরে চালের বাজার মন্দা ছিল। প্রতিদিন খাজারনগর থেকে এক-দেড়শ’ ট্রাক চাল দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান যায়। অটো মেজর এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির কুষ্টি শাখার সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন প্রধান বলেন, ধানের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে। অটোমিল মালিকদের গুদামে ধানের মজুত নেই। মিল চালু রাখার জন্য যে পরিমাণ ধানের দরকার, সে পরিমাণ ধান মজুত আছে। আর এখন তেমন ধান পাওয়া যাচ্ছে না। উত্তরবঙ্গ থেকে ধান আসে। বন্যার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে। এসব কারণে চালের উত্পাদন ব্যয় বেড়েছে। তার প্রভাব পড়েছে বাজারে।
এদিকে আমন ধান না উঠা পর্যন্ত ধানের দর পতনের সম্ভবনা নেই বলে ব্যবসায়ীরা জানান। তবে মাঠে আউশ ধান পাকতে শুরু করেছে। কয়েকদিন পর বাজারে আসতে শুরু করবে। তখন দাম কিছুটা কমতে পারে।
টমেটো চাষীদের প্রশিক্ষণ দিল প্রাণ
                                  
রাজশাহীতে চুক্তিভিত্তিক চাষীদেরকে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল জাতের টমেটো চাষ এবং রোগ-বালাই দমন ব্যবস্থাপনার উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছে প্রাণ।  সম্প্রতি এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রাণ এগ্রো বিজনেস লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন বলেন, ঐ প্রশিক্ষণে কিভাবে টমেটো চাষের উত্পাদন খরচ কমানো যায় এবং ফসল পরবর্তী  ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যায় সে বিষয়ে কৃষকদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
প্রাণ এর চুক্তি ভিত্তিক ৪০ জন লিড টমেটো চাষীদেরকে নিয়ে নাটোরে প্রাণের এগ্রো লিমিটেডের কারখানায় দিনব্যাপী এ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে রাজশাহী  বিভাগের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান, নাটোর জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আলহাজ্ব উদ্দিন এবং সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
মাহতাব উদ্দিন বলেন, প্রাণ তার চুক্তিভিত্তিক টমেটো চাষীদেরকে নানামুখী প্রশিক্ষণ, কারিগরি জ্ঞান ও স্বল্প মূল্যে উচ্চ ফলন বীজ প্রদান করছে। এটি কৃষকদেরকে উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে বলে তিনি মনে করেন।
১৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট, চারা নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক
                                  

দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যায় হাজার হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে যাওয়ায় আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন পানি কমতে থাকলেও নষ্ট হয়েছে বেশির ভাগ চারা। ফলে নতুন করে আবারও চারা রোপনের আশায় বুক বাঁধছেন কৃষক। তবে ধানের চারা নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা। একদিকে বীজতলা প্রস্তুত করার পরিস্থিতি নেই, অন্যদিকে বীজও নেই কৃষকের হাতে। তাই সরকারের সহায়তার দিকেই চেয়ে আছেন তারা।

জানা গেছে, ঘাঘট, তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র এবং ধরলার পানিতে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে মোট ১২ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধান ও পাট খেত।

গাইবান্ধায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আকম রুহুল আমিন জানান, আমন ধান নষ্ট হয়েছে ১ হাজার ৭১ হেক্টর জমিতে। অনেকে আউশ ধান রোপন করেছিলেন। সেটাও বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে ২৪৫ হেক্টর জমিতে। সব মিলে ৩ হাজার ৬৫১ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এদিকে কুড়িগ্রামে নষ্ট হয়েছে ৮ হাজার ৯৪৪ হেক্টর জমির ফসল।
কৃষকরা বলছেন, সরকার থেকে চারা না দিলে আর আমন ধান রোপন করা সম্ভব হবে না। কেননা ভাদ্র মাস পর্যন্ত ধান রোপন করার সময় থাকলেও চারা নেই।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, কিছু বীজতলা তৈরা করা হয়েছে। এ দিয়ে কিছু চাহিদা মেটানো যাবে। এছাড়া লালমনিরহাট, দিনাজপুর, রংপুর থেকেও চারা এনে দেওয়ারও চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে।

কুড়িগ্রামের কৃষি কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন বলেন, পানি আরো কমে গেলে একটা জরিপ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে চারার সংকটের কথা চিন্তা করে স্থানীয় কিছু জাত আছে, সেগুলো দেওয়া হবে। এছাড়া কিছুকিছু জমি আছে, যেগুলোতে পানি সরতে সময় লাগবে। সেখানে অন্য ফসল বা শাক সব্জির বীজ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কৃষক আসগর আলী বলেন, বন্যায় খুব ক্ষতি হইয়া গ্যাল। পানি কইমলে আবার ধান লাগাবো। কিন্তু চারা যে নাই। সরকার দিলে ভালাই হবে।

এদিকে পাটেরও বেশ ক্ষতি হয়েছে। পানি ডুবে যাওয়ায় সময়ের আগেই কাটতে হয়েছে পাট গাছ। ফলে গুণগত আঁশ না পাওয়ার কারণে এবার তেমন দামও পাবেন না উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা। গাইবান্ধা, কুড়িগ্রামে অন্তত ৩ হাজার হেক্টর জমির পাটচাষিরা এভাবেই ক্ষতির স্বীকার হয়েছেন।

কুড়িগ্রামের রমনা ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল করিম জানান, পাট গাছ তো কুমলা (পরিপক্ক নয়) থাকতেই কাটতে হল। এ পাট থেকে যে আঁশ পাওয়া যাবে তার দাম ভালো হবে না।

ছয় মাস বেকার, ছয় মাস কৃষক
                                  

 

সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলার অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে চাইলে হাওর এলাকাতেই আসতে হবে। গ্রাম বাংলার সৌন্দর্য হাওরেই প্রস্ফূটিত হয়। আর বর্ষা মৌসুমে চারদিকে থৈ থৈ পানি। এর মাঝে মাঝে ছোট ছোট টিনের ঘর হিজল গাছের সবুজ পাতায় ঢেকে রেখেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে পানির ওপর কোনো বাগান ভেসে যাচ্ছে।
 
হাওরের মানুষগুলোও সহজ-সরল। কাউকে পেলেই সাধ্যমতো আপ্যায়নের চেষ্টা করেন। বাঙালি যে অতিথি পরায়ণ হাওরের মানুষদের এ চিত্র দেখলেই বোঝা যায়। বর্ষাকালে হাওরের এসব গ্রামে চলার একমাত্র মাধ্যম নৌকা।
 
কিন্তু হাওরের মানুষের জীবনাচার অন্যদের চাইতে ভিন্ন। তারা বছরের ৪ মাস পানিবন্দি থাকেন। আরো দুই মাস পানি শুকানো না পর্যন্ত বেকার হয়ে পড়েন। ফলে হাওরের মানুষগুলো ছয় মাস কৃষি কাজ করেন। কেউ কেউ বাকি ছয় মাস গার্মেন্টসে বা লেবারের কাজ করেন। কেউবা আবার একদমই বেকার থাকেন।
 
রোববার (১৭ জুলাই) বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কাছাড়িয়া হাওর (স্থানীয়দের ভাষায় কছড়া হাওর) এলাকা ঘুরে স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন এমন চিত্রই পাওয়া যায়।

বিশ্বম্ভরপুর বাজারে ধানের আড়তদার মো. শহিদুল ইসলাম। হাওরে তারও রয়েছে ৮ বিঘা জমি। তিনি জানান, ‘আমরা ছয় মাস নিজের জমিত থোন কাজ করবার পারি, বাকি ছয় মাস বেকার থাকতি অয়’।
 
তার বর্ণনায় কাছাড়িয়া হাওরে এখন (বর্ষার সময়) যেখানে ৫০ ফুট পানি, শুকনা মৌসুমে সেখানেই ইরি ২৮ ও ২৯ জাতের ধান হয়। এছাড়াও আলু, মূলা, লাউ, মিষ্টি আলু, পটল, করল্লা, মরিচ হয়। এই হাওরে যে সবজি উৎপাদন হয় তা দিয়ে এলাকার মানুষের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিও করা হয়।
 
কাছাড়িয়া হাওরে প্রতি বিঘা (৩৩ শতাংশে এক বিঘা) জমিতে ১৮ থেকে ২০ মণ ধান উৎপাদন হয়। এক বিঘা জমিতে ধান লাগাতে ৩ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। শ্রমিকের মজুরি ৩০০ টাকা হিসেবে বিঘা প্রতি খরচ হয় ৯০০ টাকা। আবার ধান কাটতে ৪ জন শ্রমিকের খরচ হয় ১২০০ টাকা। স্থানীয় বাজারে মণ প্রতি ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। তবে এখানকার চাষিদের বড় সুবিধা ধান চাষ করতে কোনো কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না।

বাংলা পৌষ মাস শুরু হলেই শুরু হয় ধান লাগানোর উৎসব, চলে ফাল্গুন পর্যন্ত। এসময় রংপুর, সিরাজগঞ্জ বা আশপাশের জেলা থেকেও কাজ করতে আসেন মানুষ। আবার বৈশাখের ৪/৫ তারিখ থেকেই শুরু হয় ধান কাটার উৎসব। ঘরে ঘরে চলে পিঠা-পুলির আয়োজন।
 
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চিনাকান্দি ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা চাষি হোসেন আলী ফকির (৫০) জানান, আমরা বড় কষ্টে আছি বা, বর্ষায় কোনো কাজ থাকে না। হাওরে মাছ ধরবাম হেও পরি না, মহাজনের লোকরা ধরতে দেয় না।
 
জানা যায়, ডাকের মাধ্যমে বিভিন্ন মহাজন নিয়ে নেন কাছাড়িয়া হাওর। তাই বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই কোনো চাষি আর জমিতে নামতে পারেন না। তখন বেকার বসে থাকতে হয়। নায়তো অন্য কোথাও কাজে যেতে হয়।
 
শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা সজিব চন্দ্র বর্মন। তিনিও জানান, আমরা ছয় মাসের জন্য জমির মালিক থাকি, বাকি ছয় মাস বেকার থাকতে হয়।

ভালোমানের সোনালী আঁশ ঘরে তুলতে যা করণীয়
                                  

চাষিরা এখন পাট কাটা, জাগ দেওয়ার পাশাপাশি পাটের আঁশ ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই সোনালী আঁশ যত উন্নত মানের হবে তত ভালো দাম পাবেন চাষিরা। তাই যত্নে ঘরে তুলতে হবে পাটের আঁশ।  ভালো মানের আঁশ উৎপাদনের জন্য সঠিক সময়ে পাট কাটা, সঠিকভাবে জাগ দেয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গুরুত্বসহকারে সম্পাদন করতে হবে। কৃষিবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাট চাষিদের জন্য তুলে ধরা হলো।
পাট কাটা ও জাগ দেয়া

ভালমানের আঁশ উৎপাদনের জন্য পাট গাছে ফুলের কুড়ি আসা মাত্রই পাট কাটতে হবে। কাটার পর চিকন ও মোটা পাট গাছ আলাদা করে আঁটি বেঁধে পাতা ঝড়িয়ে গাছের গোড়া তিন থেকে চার দিন এক ফুট পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে। পরে পরিস্কার পানিতে জাগ দিতে হবে।জাগ দেওয়ার জন্য খুব গভীর পানির দরকার নেই। মাঠে ঘাসের ওপর এক ফুট থেকে দেড় ফুট পানি থাকলে সেখানেও জাগ দেওয়া যায়। তবে পাট গাছ বেশি হলে জাগ ডুবিয়ে রাখার মতো গভীর পানির দরকার হয়।মাঠে ঘাস থাকলে পাট গাছগুলো মাটির সংস্পর্শে আসে না, ফলে পাটের রং ভাল থাকে। ঘাস না থাকলে কিছু খড় বিছিয়ে তার উপরও জাক দেওয়া যায়। জাগের ওপর কচুরী পানা বা খড় বিছিয়ে দিলে খুব ভাল হয়, তবে কখনই সরাসরি মাটি দিয়ে চাপা দেওয়া যাবে না।

জাগ দেওয়ার পর নিয়মিত গাছ পরীক্ষা করে দেখতে হয় যাতে বেশি পঁচে না যায়। আঁশ মাটিতে বসিয়ে না নিয়ে পানিতে ভাসিয়ে নেওয়া ভাল। কেননা তাতে আঁশে মাটি, কাঁকর থাকার সম্ভাবনা কমে যায়। এরপর পরিস্কার পানিতে ধোয়া দরকার।
পানির অভাব হলে যা করতে হবে

পানির অভাব দেখা দিলে অথবা জাগ দেওয়ার জায়গা না থাকলে পাট গাছ না পঁচিয়ে পাট গাছের ছাল পঁচানো যায় এবং এতে পঁচন তাড়াতাড়ি শেষ হয়।এ জন্য বাঁশের খুটির মাথায় ইংরেজি অক্ষর ইউ এর মত করে কেটে তার মাঝে পাট গাছ রেখে অতি সহজে গাছ থেকে ছাল ছড়ানো সম্ভব। এরপর চাড়িতে বা চারকোণা গর্ত করে পাটের ছাল জাগ দেয়া যায়। পঁচানোর সময় পঁচন পানিতে যদি ছালের ওজনের আনুমানিক ৩৭ কেজি ওজনের জন্য ৫ গ্রাম ইউরিয়া সার মিশিয়ে দেয়া যায় তবে পঁচন আরো তাড়াতাড়ি হয়।
গোড়ার দিকের কালো অংশ বা কাটিংস দূর করার উপায়

সঠিক পদ্ধতিতে পাট না পঁচানোর জন্য অথবা পঁচন পানির অভাবজনিত কারণে পাট আঁশ ছালযুক্ত ও নিচু মানের হলে পাট আঁশের ওজন প্রতি ৩৭ কেজিতে ৫ গ্রাম ইউরিয়া পানিতে মিশিয়ে আঁশের গোড়ায় ছালযুক্ত স্থানে ছিটিয়ে দিয়ে এক সপ্তাহ পলিথিন বা ছালা দিয়ে ঢেকে রেখে গোড়ার দিকটা পুনরায় ধুয়ে নিলেই আঁশ ছালমুক্ত হয় এবং আঁশের মানও ভাল হয়। ধোয়া  আঁশ কখনই মাটির উপর বিছিয়ে শুকাতে নেই। বাঁশের আড়, রেলিং, ঘরের চাল ইত্যাদিতে বিছিয়ে শুকানো ভাল। মনে রাখবেন উন্নতমানের আঁশের দাম সর্বোচ্চ এবং সব সময় এর গ্রাহক থাকে। পক্ষান্তরে নিম্নমানের অতিরিক্ত পঁচানো, কম পঁচানো, রঙ জলা, কালচে, বাকল, কাঠি লেগে থাকা আঁশের বাজার মূল্য সব সময়ই কম হয়ে থাকে।এর বাইরে আরও তথ্য জানার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এছাড়া স্বল্প মূল্যে মোবাইল থেকে ১৬১২৩ নম্বরে (শুক্রবার ছাড়া) প্রতিদিন সকাল ৯টা হতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফোন করে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

মালটা চাষে সাফল্য
                                  

৫ জুন ২০১৬ ইং
নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁয় মালটা ফল চাষে অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চাকরির পাশাপাশি শখের বসে আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর বাজার এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিক নিজ বাড়িতে শুরু করেন বিভিন্ন জাতের ফল চাষ। ফল চাষে তিনি ব্যাপক সফল হয়েছেন। এতে একদিকে যেমন বাড়ির সকলের পুষ্টির চাহিদা মেটে অন্যদিকে প্রতি বছর প্রায় ২০হাজার টাকার বেশি ফল বাজারেও বিক্রি করে থাকেন। অন্যান্য ফলের পাশাপাশি ২০১২ সালে উপজেলার মিরাপুর একটি নার্সারি থেকে একটি মালটা ফলের গাছ এনে লাগান আবু বক্কর সিদ্দিক। চলতি বছর ওই গাছে প্রায় ৮০/৮৫টি মালটা ফল ধরেছে। প্রায় প্রতিদিনই স্থানীয়রা এই ফল দেখতে আসেন। এলাকাবাসীদেরও এই ফল চাষে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। ফল গাছের প্রতি ভালোবাসা ও নিজ প্রয়োজনে চাকরির পাশাপাশি ২০০৪ সালে বাড়ির ২৭শতক জায়গায় প্রথমে দেশীয় আম, লিচু, জাম, আমড়া, কামরাঙ্গা, পেঁপে, বেদেনা, পেয়ারা, কাঁঠাল, কলার গাছ লাগান। কয়েক বছরের মধ্যে এই গাছগুলো থেকে ফলও পেতে শুরু করেন। এমতাবস্তায় বিভিন্ন মিডিয়াতে ফল চাষের সংবাদ দেখে ও পড়ে ২০১০ সালের দিকে, আপেল, আগুর, কমলা, চেরি ফল, জামরুল, গোলাপজাম, সফেটা, পাম ফলের গাছ লাগান। এর মধ্যে একটি মালটা গাছে প্রায় ৮০/৮৫টি মালটা ফল ধরেছে। এ ছাড়াও তার বাগানে নারিকেল, সুপারি, মসলা গাছসহ প্রায় অর্ধশত ফলের গাছ রয়েছে। আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, প্রথম গাছে মালটা ফল ধরায় পর থেকে নওগাঁয় এই ফল চাষের ব্যাপক সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই স্থানীয়রা এই ফল দেখতে আসেন এবং কিভাবে চাষ করা যায় এই পরামর্শ নিয়ে যান। তিনি আরো জানান, আম, লিচু, জাম, আমড়া, কামরাঙ্গা, পেঁপে, পেয়ারা, কাঁঠাল ফলের বাড়ির চাহিদা মিটিয়েও প্রতি বছর প্রায় ২০হাজার টাকার বিক্রি করা সম্ভব হয়। এছাড়াও আগামী দুই/এক বছরের মধ্যে অন্যান্য ফল চাষে সাফল্য দেখা দিবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি। ভবানীপুর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফি উদ্দিন আহম্মেদ জানান, আমাদের এলাকায় এটাই প্রথম মালটা চাষ। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে সার্বিক পরামর্শ দিয়ে আসছি। আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. কেএম কাউছার বলেন, আবু বক্কর সিদ্দিক মালটা চাষে সাফল্য হওয়ায় নওগাঁ অঞ্চলে মালটা চাষের অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আশা করছি আবু বক্কর সিদ্দিকের সাফল্য দেখে এলাকার মানুষ আরো উদ্বুদ্ধ হবে। এসব ফলমূল চাষে এগিয়ে আসলে দেশে চাহিদা মিটানো সম্ভব হবে।

কৃষক সরকারিভাবে ধান বিক্রির সুফল পাচ্ছেন না
                                  

২ জুন ২০১৬ ইং

খাদ্য বিভাগের গাফলতির কারণে সিরাজগঞ্জে সরকারিভাবে ধান বিক্রির সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ কৃষক। সরকারি ঘোষণার প্রায় একমাস পেরিয়ে গেলেও এখনো জেলার নয় উপজেলার বেশিরভাগ এলাকায় শুরু হয়নি ধান চাল সংগ্রহ কার্যক্রম।

চলতি মাসের পাঁচ তারিখ থেকে সরকারিভাবে সারাদেশে ২৩ টাকা কেজি দরে ধান সংগ্রহের ঘোষণা দেয় খাদ্য বিভাগ। সিরাজগঞ্জে ১৮ মে থেকে মাত্র দুই উপজেলায় ধান সংগ্রহ অভিযানের কার্যক্রম শুরু হয়। কৃষকের অভিযোগ, স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে ধান কেনার জন্য কৃষকদের তালিকা করা হলেও সঠিক প্রচার না থাকায় সময়মতো কার্যক্রম শুরু না করায় এর সুফল পাচ্ছেন না তারা।

তাই একপ্রকার বাধ্য হয়ে কম মূল্যে খোলা বাজারে উৎপাদিত ধান বিক্রি করছেন কৃষক। এ কারণে লোকসানও গুনতে হচ্ছে তাদের। সিরাগঞ্জের এসব কৃষকরা বলছেন, সরকারের মূল্য ৯২০টাকা থাকলেও আমরা বিক্রি করছি ৪০০টাকা করে। এতে করে বহু লোকসান গুনতে হচ্ছে। সরকারিভাবে ধান বিক্রি করা হচ্ছে কিন্তু কিভাবে করতে সেটি আমরা ঠিকমতো জানি না। 

অবশ্য কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় যে পরিমাণ ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অপ্রতুল। এ কারণে তালিকা তৈরী হলেও অনেক কৃষক সরকারিভাবে ধান বিক্রি করতে পারছেন না।

এদিকে সিরাজগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর আলী শেখ বলেন, সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রচুর ধান উৎপাদন হয়।এই মৌসুমেই এ এলাকায় ধান উৎপাদন হয়েছ ছয়লাখ মেট্রিক টন। সেখানে মাত্র ২০হাজার মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ নিতান্ত খুবই কম। এজন্যেই সব কৃষকের কাজ থেকে ধান নেওয়া যাবে না। কৃষি বিভাগের কাছ থেকে সময়মতো তালিকা না পাওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় নির্ধারিত সময়ে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা যায় নি বলে জানিয়েছেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম।

অন্যদিকে জেলায় এ বছর ১৯ হাজার সাতশ’ ৭৬ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এ পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৩৩ মেট্রিক টন ধান।


   Page 1 of 2
     কৃষি
এসডিজি অর্জনের চালক হবে কৃষি
.............................................................................................
মাগুরায় গমের ভালো ফলনের আশা কৃষি বিভাগের
.............................................................................................
চলনবিল অঞ্চলে রসুন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৩২ হাজার টন
.............................................................................................
এবার ফুলকপি চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে
.............................................................................................
তারুণ্যের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে কৃষি
.............................................................................................
হেমন্ত মৌসুমে সালথায় উফশি আমন ধানের বাম্পার ফলন
.............................................................................................
আন্তর্জাতিক কৃষি কনফারেন্স উদ্বোধন করলেন রাষ্ট্রপতি
.............................................................................................
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাল্টা চাষে সাফল্য
.............................................................................................
কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার
.............................................................................................
পশ্চিমের জেলাগুলোতে বাজার ঊর্ধ্বমুখী ধান চালের
.............................................................................................
টমেটো চাষীদের প্রশিক্ষণ দিল প্রাণ
.............................................................................................
১৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট, চারা নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক
.............................................................................................
ছয় মাস বেকার, ছয় মাস কৃষক
.............................................................................................
ভালোমানের সোনালী আঁশ ঘরে তুলতে যা করণীয়
.............................................................................................
মালটা চাষে সাফল্য
.............................................................................................
কৃষক সরকারিভাবে ধান বিক্রির সুফল পাচ্ছেন না
.............................................................................................
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলাচ্ছে কৃষি
.............................................................................................
খাদ্য অধিকার বিল সংসদে উথাপনের দাবি
.............................................................................................
রাঙ্গামাটিতে আনারসের বাম্পার ফলন
.............................................................................................
কৃষক বাঁচাও
.............................................................................................
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আমনা ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মনে সংশয়
.............................................................................................
মৌসুমের শুরুতে শিমের বাজার চড়া থাকলেও এখন স্বাভাবিক- বেচাকেনার ধুম
.............................................................................................
এখন ভাত পেতে বেশি কষ্ট করতে হয় না, দেশ এখন স্বনির্ভরের পথে- কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী
.............................................................................................
সবজি চাষে বদলে যাচ্ছে খুলনাঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্যের চিত্র
.............................................................................................
গ্রামের নারীরা পিছিয়ে পড়ার কারন জ্বালানি সংকট- কৃষিমন্ত্রী
.............................................................................................
ছাদে পালং শাক চাষ করুন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো: হাবিবুর রহমান সিরাজ
আইন উপদেষ্টা : অ্যাড. কাজী নজিব উল্লাহ্ হিরু
সম্পাদক ও প্রকাশক : অ্যাডভোকেট মো: রাসেদ উদ্দিন
সহকারি সম্পাদক : বিশ্বজিৎ পাল
যুগ্ন সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান রিপন
নির্বাহী সম্পাদক: মো: সিরাজুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : সাগর আহমেদ শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস ৫২ / ২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সূত্রাপুর ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৯৯ মতিঝিল , করিম চেম্বার ৭ম তলা , রুম নং-৭০২ , ঢাকা থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭২৬-৮৯৬২৮৯, ০১৬৮৪-২৯৪০৮০ Web: www.dailybishowmanchitra.com
Email: news@dailybishowmanchitra.com, rashedcprs@yahoo.com
    2015 @ All Right Reserved By dailybishowmanchitra.com

Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD