|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   উপসম্পাদকীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
দৈনিক বিশ্ব মানচিত্র পত্রিকার উদ্যোগে “বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস উপলক্ষে” আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পীরজাদা শহীদুল হারুন।

গত ২৮ মে বিকাল ৪.০০ ঘটিকায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তন, ২২/১ তোপখানা রোড, ঢাকায় দৈনিক বিশ্ব মানচিত্র পত্রিকার উদ্যোগে “বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস উপলক্ষে” আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পীরজাদা শহীদুল হারুন। মঞ্চে উপবিষ্ট রয়েছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম ও জনশক্তি বিভাগের সম্পাদক ও দৈনিক বিশ্ব মানচিত্র পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি- মোঃ হাবিবুর রহমান সিরাজ, সভাপতি দৈনিক বিশ্ব মানচিত্র পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং মানবাধিকার সংস্থা সিপিআরএস-এর চেয়ারম্যান- অ্যাডভোকেট মোঃ রাসেদ উদ্দিন ও অন্যান্য বিশেষ অতিথিবৃন্দ।

দৈনিক বিশ্ব মানচিত্র পত্রিকার উদ্যোগে “বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস উপলক্ষে” আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পীরজাদা শহীদুল হারুন।
                                  

গত ২৮ মে বিকাল ৪.০০ ঘটিকায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তন, ২২/১ তোপখানা রোড, ঢাকায় দৈনিক বিশ্ব মানচিত্র পত্রিকার উদ্যোগে “বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস উপলক্ষে” আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পীরজাদা শহীদুল হারুন। মঞ্চে উপবিষ্ট রয়েছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম ও জনশক্তি বিভাগের সম্পাদক ও দৈনিক বিশ্ব মানচিত্র পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি- মোঃ হাবিবুর রহমান সিরাজ, সভাপতি দৈনিক বিশ্ব মানচিত্র পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং মানবাধিকার সংস্থা সিপিআরএস-এর চেয়ারম্যান- অ্যাডভোকেট মোঃ রাসেদ উদ্দিন ও অন্যান্য বিশেষ অতিথিবৃন্দ।

বন্ধে যথাযথ উদ্যোগ নিক এনবিআর
                                  

৩১ মে ২০১৬ ইং

বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ বেশ পুরনো। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর ফাঁকি শনাক্ত করলেও অর্থ আদায়ে তেমন সুবিধা করতে পারছে না বলেই খবর মিলছে। সম্প্রতি অ্যাকশনএইড আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘অপচুক্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে সংস্থাটি। এতে বলা হয়, ‘অপচুক্তির সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশই বিশ্বে এগিয়ে। বাংলাদেশে এ ধরনের চুক্তির সংখ্যা ১৮, যার সুযোগ নিয়ে অতিমাত্রায় কর ফাঁকি দেয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। এ চুক্তিগুলোর একটি ধারার কারণে বিদেশী অংশীদারদের অর্থের ওপর কর আহরণে বাংলাদেশের ক্ষমতাও সীমিত। ফলে এসব চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের ১৫টি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ দেশে বছরে অন্তত ৭০০ কোটি টাকার কর ফাঁকি দিচ্ছে।’ বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগজনক। এ কারণে সরকারের রাজস্ব আহরণে প্রভাব পড়ছে, চাপ বাড়ছে স্থানীয় কর প্রদানকারীদের ওপর। এ পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন প্রয়োজন। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আকর্ষণের অন্যতম কারণ ছিল কর্মসংস্থান। সেটি হয়নি বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের। উল্টো তারা দেশ থেকে অর্থ নিয়ে যাচ্ছে বৈধ ও অবৈধ উপায়ে। বিদেশী বিনিয়োগ আমাদের প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান কিংবা দক্ষতা বৃদ্ধিতে কতটা কাজে আসছে, সে বিষয়টি এখন বিবেচনায় নিতে হবে। এক্ষেত্রে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ যথার্থই বলেছেন। তার মতে, এখন চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়ন বা বাতিল করা উচিত।

আশির দশকে আমাদের মূলধন ও দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি ছিল। সেটি মেটাতে বিদেশী বিনিয়োগ দরকার মনে করেছিল সরকার। তাই বিদেশী বিনিয়োগকারীদের রীতিমতো জামাই আদরে ডেকে আনা হয়েছে, দেয়া হয়েছে নানা সুযোগ-সুবিধা। এ সুযোগে তারা তাদের মতো করে চুক্তি সাজিয়েছে। তারা বিপুল অর্থ নিয়ে গেলেও আমাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়নি, সৃষ্টি হয়নি আশানুরূপ কর্মসংস্থান। আমাদের সক্ষমতার অভাব বা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে করপোরেটরা বেশি সুযোগ নিচ্ছে, কর ফাঁকি দিচ্ছে। আমাদের অবশ্যই বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তবে সেটা করতে গিয়ে আমরা যদি তাদের কর ফাঁকি দেয়ার সুযোগ করে দেই, সেটা যৌক্তিক নয়। অনেক সময় বিনিয়োগ আকর্ষণে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি কিছু সুবিধা দেয়া হয়। এতে অবশ্য কর ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না। তাই স্থানীয় ও বহুজাতিক কোম্পানির মধ্যে কর ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনতে হবে। এক্ষেত্রে সুষ্ঠু কর পরিকল্পনার চর্চা; জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি ও যথাযথ প্রতিবেদন প্রণয়ন; কর্তৃপক্ষের কাজে জবাবদিহি; কর আরোপ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন, সুষ্ঠু কর ব্যবস্থাপনা ও অনুশাসন; করনীতির পর্যালোচনা; কর-সম্পর্কিত প্রভাবন ও কর প্রণোদনা প্রভৃতি বিষয়ে নজর দেয়া জরুরি।

বাংলাদেশ হলো জিডিপির তুলনায় বিশ্বের সবচেয়ে কম কর আদায়কারী দেশ। একই কাতারে থাকা কেনিয়া, সিয়েরালিওনেও বাংলাদেশের তুলনায় বেশি কর আদায় হয়। বাংলাদেশে মানুষ বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কর ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা বেশি। এখানে আইন ও নীতি দুর্বল। আর এ সুযোগ নেয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এটি বন্ধে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া বিকল্প নেই। প্রয়োজনীয় সম্পদ ও দক্ষতার অভাবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের রাজস্ব আদায়কারী কর্তৃপক্ষকে বহুজাতিক কোম্পানির কর ফাঁকি ঠেকাতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। কারণ বড় বড় কোম্পানি দক্ষ ও সুচারু হিসাবরক্ষক দল নিয়োগ করে রাখে, যাদের কাজই প্রযোজ্য করের অঙ্ক কোনোভাবেই প্রকাশ হতে না দেয়া। এক্ষেত্রে আমাদের দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও কর ফাঁকি দেয়ার ফাঁকফোকরগুলো বন্ধে জোর দিতে হবে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কর ফাঁকি রোধে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে— এমন চুক্তি বাতিল করা প্রয়োজন। অনেকে অবশ্য এর বিরোধিতা করেন বিদেশে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে বলে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো যেতে পারে। তবে সর্বাগ্রে কর ফাঁকির প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকি-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিচার কার্যক্রম গতিশীল করতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ বা বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার বিদ্যমান নীতিমালা দেশে বাস্তবায়ন করা গেলে কর ফাঁকির পরিমাণ কমিয়ে আনা যাবে। একটি আন্তর্জাতিক ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে এটি করতে হবে।

এই বৈশাখে চাই মুক্তিবৃক্ষের আশীর্বাণী
                                  

০৫ মে, ২০১৬ ইং

অনলাইন ডেস্ক

বৈশাখে দাবদাহে ওষ্ঠাগত প্রাণ। রৌদ্র চড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নিদাঘের প্রচণ্ডতায় আঁইঢাঁই প্রাণ। শুষ্ক চারিদিক। এ সময় ঘরে কিংবা বাইরে যদি তাপানুকূল পরিবেশ না থাকে, তাহলে গ্রীষ্মের দাপট বেশ ভালো বোঝা যায়। একমাত্র বৃক্ষের ছায়ায় কিছুটা শান্তি মেলে বুঝি। শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য গ্রীষ্ম মোটেই কারো প্রিয় ঋতু হতে পারে না। কিন্তু তবুও কী যেন আছে এই ঋতুটির মাঝে, যা আমাকে উদাস করে দেয়। প্রসঙ্গত, রবীন্দ্রনাথের সেই বিখ্যাত গানটির কথা মনে পড়ে যায়—‘মধ্যদিনে যবে গান বন্ধ করে পাখি/হে রাখাল, বেণু তব বাজাও একাকী... জাগায় বিদ্যুৎ ছন্দে আসন্ন বৈশাখী/হে রাখাল বেণু যবে বাজাও একাকী।’ আমি একবার আমাদের দেশের প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম বছরের কখন শান্তিনিকেতনে যাওয়ার প্রকৃষ্ট সময়। জবাবে বন্যা বলেছিল, ‘শুনলে বিশ্বাস করবেন না হয়তো, রবীন্দ্রনাথ বোলপুরে গ্রীষ্মকালকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। এবং তাঁর অনেক কবিতা, গান ভরা গ্রীষ্মে রচিত।’ এই রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য একবার ভরা গ্রীষ্মে আমি শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলাম। বীরভূম জেলার অন্তর্গত বোলপুরে গ্রীষ্মকালে সত্যিই প্রচণ্ড দাবদাহ বয়ে যায়। শান্তিনিকেতনে বেশির ভাগ মানুষ সাইকেলে চলাচল করে। ওই সময় দেখেছি যে তাপ প্রতিহত করার জন্য তারা মুখের ওপর কাপড় জড়িয়ে নেয়। সূর্যের উত্তাপ এতটাই হয় তখন,  শরীরের চামড়া পুড়ে যায়। কিন্তু অবাক কাণ্ড, শান্তিনিকেতনে যে বিশাল বৃক্ষরাজি তার নিচে গেলে গ্রীষ্মকে আর তত অত্যাচারী বলে মনে হয় না। আমি ওই গ্রীষ্মে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সর্বত্র গাছের ছায়ায় ছায়ায় ঘুরে বেড়িয়েছি। আর মনে হয়েছে রবীন্দ্রনাথের কথা। যেন দিব্য দৃষ্টিতে দেখতে পেয়েছি শ্মশ্রুমণ্ডিত রবীন্দ্রনাথ, পেছনে দুই হাত, গাছের ছায়ায় ছায়ায় তাঁর সৃষ্টি শান্তিনিকেতনের সর্বত্র মৃদুমন্দ গতিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
আমাদের বাংলাদেশে ছয়টি ঋতুরই আগমন এবং প্রস্থান মোটামুটি বোঝা যায়। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে গ্রীষ্মের কথাটি মনে পড়ে সবচেয়ে বেশি। আমার বাল্যকাল কেটেছে বাংলাদেশের ছোট ছোট শহরে, বাবার চাকরিসূত্রে। ওই সব জায়গায় পাকা বাড়িঘর তখন ছিল অতি নগণ্য সংখ্যায়। বেশির ভাগ জায়গাজুড়ে থাকত বিশাল বৃক্ষরাজির বন। আম, কাঁঠাল, জারুল, সেগুন, মেহগনি, কড়ই আরো কত বিচিত্র বৃক্ষ। স্কুল না থাকলে এসব বৃক্ষের নিচেই আমাদের সময় কাটত বেশির ভাগ। লুকোচুরি, ডাণ্ডা-গুলি, গোল্লাছুট ইত্যাদি খেলা নিয়ে মাতামাতি। কী সব দিন গেছে শৈশবে! মাঝেমধ্যে বাড়ির কাছের পুকুরে কিংবা অল্প দূরের নদীতে সুশীতল পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে শান্তিতে ভরে গেছে দেহ-মন। আরেকটু বড় হওয়ার পর, আমরা তখন ঢাকায় এসে থিতু হয়েছি, গ্রীষ্মে ওই একইভাবে গাছের ছায়ায় ছায়ায় কেটেছে দিন। চৈত্রদিনের শেষে কোকিলের আহাজারি মনকে সিক্ত করে দিয়েছে। পহেলা বৈশাখে কুটিরশিল্পের মেলায় নানা রকম খাদ্য-অখাদ্যকে অমৃত বলে মনে হয়েছে। বাঙালির এই শতবর্ষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে আমরা আজীবন বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠি দেখিয়ে এসেছি ঔপনিবেশিক আগ্রাসনকে। আমাদের বাল্যকাল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আমরা পাকিস্তানের উপনিবেশ ছিলাম। কী এক বিচিত্র দেশ ছিল সেই পাকিস্তান! এক উদ্ভট দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেই দেশ। যে ভদ্রলোক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই তত্ত্বের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, তিনি বলেছিলেন যে মুসলমানরা একটি জাতিগোষ্ঠী। অতএব অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে তাদের থাকা চলবে না। তাদের জন্য চাই ভিন্ন এক দেশ। অথচ তিনি নিজেও সম্পূর্ণ মুসলমান ছিলেন না। এটা ঐতিহাসিক সত্য। তিনি নিয়মিত মদ্য পান করতেন। বরাহ মাংস ভক্ষণ করতেন। জীবনে কোনো দিন নামাজ পড়েছেন বলে কেউ বলতে পারবে না। এমন এক ব্যক্তি কেবল ক্ষমতার লোভে একটি দেশের প্রধান হয়ে গেলেন। তাঁর এই দ্বিজাতিতত্ত্ব যে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ছিল, তা বুঝতে সময় নেয়নি জনগণ। সেই ১৯৪৮ সালেই ভাষার প্রশ্নে আন্দোলন শুরু করেছিল তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ। তার পরের ইতিহাস তো আমাদের সবারই জানা। ক্রমেই আমরা পাকিস্তানের পূর্ব প্রদেশের মানুষেরা—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, সবাই মিলে এ দেশের মানুষের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্র জন্ম দেওয়ার কথা ভাবতে শুরু করি। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে এ দেশবাসী স্পষ্ট মত দেয় বাংলাদেশের পক্ষে। এবং তারপর এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়। এই যুদ্ধে ওই ধর্ম, নীতি এবং বিবেকভ্রষ্ট পাকিস্তানিদের পক্ষে কিছু বাঙালি কুলাঙ্গার এ দেশের মানুষের ওপর চরম অত্যাচার করে। এরাই আজকের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী। বিশ্বের সর্বত্র গণমানুষের মুক্তির যুদ্ধে যারা শত্রুপক্ষের হয়ে অন্যায়-অত্যাচার করে, তাদের শাস্তির বিধান করা হয় যুদ্ধের পর। আমরা ইতিহাসের পাতায় দেখতে পাই হিটলার ও তার সাঙাতদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচার করা হয় ন্যুরেমবার্গে এবং জীবিত ও মৃত অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি প্রদান করা হয়। কম্বোডিয়ায়ও একই ধরনের বিচারিক প্রক্রিয়ার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশেও স্বাধীনতার পরপরই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়, কিন্তু এক সুদূরপ্রসারী চক্রান্তের মাধ্যমে আমাদের জাতির পিতাকে হত্যা করে বাংলাদেশের মুক্তির পেছনের সব আদর্শ ও মূল্যবোধকে জলাঞ্জলি দিয়ে সেই পাকিস্তানিদের দোসররা আবার একটি প্রক্রিয়া শুরু করে, যাতে করে এই দেশ নব্য পাকিস্তান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরই মাঝে দেশের মানুষ আবার ঘুরে দাঁড়ায়। তারা সহজে এই চক্রান্তের কাছে পরাজয়বরণ করতে রাজি নয়। সর্বশেষ আজকে বাংলাদেশে অধিষ্ঠিত সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বিধৃত যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করে আবার। এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরপরই আবারও সেই পাকিস্তানপন্থীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। দেশের লাখ লাখ তরুণ রাস্তায় নেমে আসে ও প্রতিবাদমুখর হয় ওই চক্রান্তের বিরুদ্ধে। কিন্তু চক্রান্ত থেমে থাকে না।
গণমানুষের যেকোনো দাবি উচ্চারিত হলেই ‘ইসলাম খাতরে মে হ্যায়’—‘ইসলাম বিপন্ন’ এই একটি ভণ্ডামির আশ্রয় পাকিস্তানিরা সব সময় নিয়ে এসেছে। আজও আমরা দেখতে পাই যে তাদের বাংলাদেশি দোসররা ওই একই স্লোগান দিয়ে গণমানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কেবল বিভ্রান্ত নয়, তারা সত্যনিষ্ঠ যুব সম্প্রদায়কে আঘাত করার চেষ্টা করছে এই অভিযোগ দিয়ে যে তারা নাস্তিক। এ অতি হাস্যকর একটি অভিযোগ। এবং আমরা সবাই জানি যে এ ধরনের সুবিধাবাদী কথাবার্তা ধোপে কখনোই টেকে না। একদিন বাংলাদেশের মানুষ রুখে দাঁড়াবেই এই ষড়যন্ত্রকে। শাস্তি হবেই যুদ্ধাপরাধীদের। বাংলাদেশ ফিরে পাবে তার হৃতগৌরব মুক্তবুদ্ধির দেশ হিসেবে।

তবে এই বৈশাখের খরদাহে যখন পারিপার্শ্বিকতা বড় উষ্ণ হয়ে উঠেছে, যখন নাগিনীরা চারিদিকে ফেলিছে বিষাক্ত নিঃশ্বাস, তখন আমাদের যাত্রাপথ খুব একটা মসৃণ হবে বলে আশা করা বোধ হয় ভুল হবে। ভরসা আমাদের একটি। বাঙালি হারতে জানে না। তাই সব ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াবে। দাঁড়াবেই।

 

বৈশাখে দাবদাহে ওষ্ঠাগত প্রাণ। রৌদ্র চড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নিদাঘের প্রচণ্ডতায় আঁইঢাঁই প্রাণ। শুষ্ক চারিদিক। এ সময় ঘরে কিংবা বাইরে যদি তাপানুকূল পরিবেশ না থাকে, তাহলে গ্রীষ্মের দাপট বেশ ভালো বোঝা যায়। একমাত্র বৃক্ষের ছায়ায় কিছুটা শান্তি মেলে বুঝি। শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য গ্রীষ্ম মোটেই কারো প্রিয় ঋতু হতে পারে না। কিন্তু তবুও কী যেন আছে এই ঋতুটির মাঝে, যা আমাকে উদাস করে দেয়। প্রসঙ্গত, রবীন্দ্রনাথের সেই বিখ্যাত গানটির কথা মনে পড়ে যায়—‘মধ্যদিনে যবে গান বন্ধ করে পাখি/হে রাখাল, বেণু তব বাজাও একাকী... জাগায় বিদ্যুৎ ছন্দে আসন্ন বৈশাখী/হে রাখাল বেণু যবে বাজাও একাকী।’ আমি একবার আমাদের দেশের প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম বছরের কখন শান্তিনিকেতনে যাওয়ার প্রকৃষ্ট সময়। জবাবে বন্যা বলেছিল, ‘শুনলে বিশ্বাস করবেন না হয়তো, রবীন্দ্রনাথ বোলপুরে গ্রীষ্মকালকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। এবং তাঁর অনেক কবিতা, গান ভরা গ্রীষ্মে রচিত।’ এই রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য একবার ভরা গ্রীষ্মে আমি শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলাম। বীরভূম জেলার অন্তর্গত বোলপুরে গ্রীষ্মকালে সত্যিই প্রচণ্ড দাবদাহ বয়ে যায়। শান্তিনিকেতনে বেশির ভাগ মানুষ সাইকেলে চলাচল করে। ওই সময় দেখেছি যে তাপ প্রতিহত করার জন্য তারা মুখের ওপর কাপড় জড়িয়ে নেয়। সূর্যের উত্তাপ এতটাই হয় তখন,  শরীরের চামড়া পুড়ে যায়। কিন্তু অবাক কাণ্ড, শান্তিনিকেতনে যে বিশাল বৃক্ষরাজি তার নিচে গেলে গ্রীষ্মকে আর তত অত্যাচারী বলে মনে হয় না। আমি ওই গ্রীষ্মে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সর্বত্র গাছের ছায়ায় ছায়ায় ঘুরে বেড়িয়েছি। আর মনে হয়েছে রবীন্দ্রনাথের কথা। যেন দিব্য দৃষ্টিতে দেখতে পেয়েছি শ্মশ্রুমণ্ডিত রবীন্দ্রনাথ, পেছনে দুই হাত, গাছের ছায়ায় ছায়ায় তাঁর সৃষ্টি শান্তিনিকেতনের সর্বত্র মৃদুমন্দ গতিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

বদিশেী মোবাইল কম্পানি কনে বায়োমট্রেকি ডাটাবইেজ বানাচ্ছ?

                                  

০৫ মে, ২০১৬ ইং

অনলাইন ডেস্ক

আমি বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধন নিয়ে উদ্বিগ্ন। সেটা রাষ্ট্র করুক, কিম্বা কোন কম্পানি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজের বায়োমেট্রিক ডাটা রাষ্ট্র কিম্বা বেসরকারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার বিপদ রয়েছে। দুইয়ের মধ্যে ফারাক আছে বটে, কিন্তু অবস্থাভেদে যে কোন প্রকার ডিজিটাল নজরদারি নাগরিকদের জন্য ভয়ঙ্কর হতে পারে। মোবাইল কম্পানি বিশেষত বিদেশী যদি সিম নিবন্ধনের নামে বাংলাদেশের নাগরিকদের বায়োমেট্রিক ডাটাবেইজ তৈরি করে, তাহলে তা জাতীয় প্রতিরার দিক থেকে বিপজ্জনক। মেনে নেওয়া যায় না।
বাংলাদেশের নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র তৈয়ার করে রাষ্ট্র নাগরিকদের ওপর নজরদারির যে ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রচলন করে তার বিরোধিতা কেন করা উচিত সেটা ব্যক্তির নিজের ‘প্রাইভেসি’ বা অনাকাক্সিত উপদ্রব বা নজরদারি থেকে মুক্ত থাকার অধিকারের সঙ্গে যুক্ত। সে কারণে রাষ্ট্র যখন সেটা করে তখন যুক্তিসঙ্গত আইনের অধীনে গণতান্ত্রিক বিধান অনুযায়ী করছে বলে দাবি করে বটে, কিন্তু ব্যক্তির ওপর রাষ্ট্রের খবরদারি, নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ে বৈ কমে না। বিষয়টি ডিজিটাল যুগে আধুনিক রাষ্ট্রের চরিত্র এবং একালে টেকনোলজির বিবর্তনের পর্যালোচনা করে বুঝতে হবে। সারা দুনিয়ার মানুষের ওপর অল্প কিছু মতাবান মানুষ ও কর্পোরেশানের কৃৎকৌশলগত নিয়ন্ত্রণের সমূহ সুযোগ ডিজিটাল বিপ্লব এনে দিয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের বিশেষ হুঁশ নাই। তবুও তর্ক আছে যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনি সুরার কিছু সুযোগ থাকে। অন্য দেশের ভিসা নেবার সময় বা ভিনদেশে প্রবেশের মুখে সীমান্তে বা এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশানের কাছে আমরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে বাধ্য থাকি। রাষ্ট্রের আদৌ ডিজিটাল নজরদারির এখতিয়ার আছে কি না তা নিয়ে বিস্তর তর্ক আছে। ইতালির দার্শনিক আগামবেন একবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কিছুতেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেবেন না এবং নিজেকে ডিজিটাল নজরদারির অধীন করার ঘোরবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন। শেষমেশ তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাননি, এবং নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির কোর্স বাতিল করেছেন। তাহলে বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী তাত্ত্বিক কিম্বা দার্শনিক যুক্তি রয়েছে। এ বিষয়ে আগামবেনের যুক্তি আমাদের শোনা দরকার। তেমনি আরেকজন ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোকে নিয়েও আমরা কথা বলব। ‘জনগণ’কে নজরদারি ও শাস্তির ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আধুনিক রাষ্ট্র কিভাবে ‘শৃংখলাধীন’ ( বা শৃংখলিত) করে সেই দিক নিয়েও খানিক আলোচনা করব। আধুনিক রাষ্ট্রের চরিত্র পর্যালোচনা এবং এ কালের রাজনৈতিক কর্তব্যগুলো সুনির্দিষ্ট ভাবে বোঝার জন্য বায়োমেট্রিক নিবন্ধন পর্যালোচনা খুবই জরুরি। এই লেখাটির উদ্দেশ্য এটাই।
তাহলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়া কিম্বা নিজেকে অন্য কোন বায়োমেট্রিক পদ্ধতির নজরদারির অধীনস্থ করাকে স্বাভাবিক ও যুক্তিসঙ্গত মনে করা মারাত্মক ভুল। এতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার কিম্বা তথাকথিত অপরাধ দমনের সম্পর্ক অতি ীণ। সমাজব্যবস্থাই যদি অপরাধ সংঘটনের কারণ হয়, তাহলে সমাজের সংস্কার বা রূপান্তরের কথা না বলে অপরাধকে টেকনোলজি দিয়ে দমন অবাস্তব। বর্তমান বিশ্ব অসম; পরদেশ লুণ্ঠনসহ যুদ্ধবিগ্রহ সহিংসতা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নিত্যদিনের কারবার; প্যালেস্টাইন, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া ইত্যাদি দেশ থেকে সাধারণ মানুষকে উৎখাত করা হয়েছে, তাদের দেশান্তরী ও অভিবাসী জীবনে বাধ্য করা হয়েছে; অন্যায় মোচনের পরিবর্তে ক্রমাগত অন্যায় ও অবিচারকে প্রশয় দেয়া হচ্ছে। তাহলে সন্ত্রাস দমনের নামে আরো অধিক সন্ত্রাস, যুদ্ধ ও সহিংসতার বিস্তার ও বিশ্বব্যাপী যুদ্ধকৌশলের অংশ হিসাবেই বায়োমেট্রিক নিবন্ধন মতাসীনদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। সমাজে যখন ধনি গরিবের ব্যবধান বাড়ে, বিশ্বে যখন অল্প কিছু লোক অধিকাংশের সম্পদ কুগিত করে, রাষ্ট্র যখন বাজারব্যবস্থার মহিমার নামে মানুষের জীবন ও জীবিকার আর্থ-সামাজিক ত্রেগুলো সঙ্কুচিত করে সেখানে রাষ্ট্র ও বহুজাতিক কম্পানির বিরুদ্ধে নানান প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ ঘটবেই। ডিজিটাল নজরদারি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অব্যবস্থা ও কুব্যবস্থার সমাধান নয়। তাহলে সমাজ, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন নিয়ে তর্ক করলে ডিজিটাল যুগে নানাবিধ গোয়েন্দাগিরি ও নজরদারির ব্যাখ্যা করা যাবে না। সে কারণে এখানে আমরা সাধারণ ভাবে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন ও আধুনিক রাষ্ট্রের নজরদারি নিয়েই কিছু প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে চাইছি, কিন্তু সেটাও দুই এক কিস্তিতে শেষ করা সম্ভব না। বাংলাদেশে এই তর্কটা মোবাইল কম্পানির সিম নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে, ফলে সেই বিষয়ে শুরুতে কিছু প্রাথমিক আলোচনা করে নেওয়া যাক।

বিদেশী মোবাইল কম্পানির সিম নিবন্ধন বিপজ্জনক
মোবাইল কম্পানি যাদের অধিকাংশই বিদেশী তাদের কাছে আমাদের ব্যক্তিগত বায়োমেট্রিক তথ্য তুলে দেবার কোনই যুক্তি নাই। সে কারণে যারা এর বিরোধিতা করছেন আমি তাঁদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছি অনেক আগেই। এপ্রিলে সিম নিবন্ধনের সময়সীমা অতিক্রম হয়ে যাবার আগে ফেইসবুকে সেটা প্রকাশও করেছি। নিবন্ধনের সময় সীমা মে মাসের জন্য আবার বাড়ানো হয়েছে। অনেকেই সিম হারাবার ভয়ে এবং মোবাইল কম্পানির প্রচারণার চাপে নিবন্ধন করেছেন। কিন্তু তারা নিদেনপে তাদের নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে এ ধরনের কোন যুক্তিসঙ্গত আইন না থাকার পরেও মোবাইল কম্পানির কাছে তাঁদের আঙুলের ছাপ দিয়ে নিজেদের নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছেন।
সিমের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের জন্য কোন আইন নাই। নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ব্যক্তির নিজের ‘প্রাইভেসি’ বা অনাকাক্সিত উপদ্রব বা নজরদারি থেকে মুক্ত থাকার অধিকারের সঙ্গে যুক্ত। বিদেশী মোবাইল কম্পানিগুলোর কাছে সিম ব্যবহারকারী বাংলাদেশের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন কেন জরুরি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেটাই বিশাল একটি প্রশ্ন। নাগরিকদের বায়োমেট্রিক ডাটাবেইজ তৈয়ারি ও সংরণ সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। তাহলে মোবাইল কম্পানির বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধন জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই বিপজ্জনক।
মোবাইল কম্পানিগুলো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, তদুপরি অধিকাংশই বিদেশী। তারা নাগরিকদের বায়োমেট্রিক তথ্য কিভাবে ব্যবহার করবে, কাকে দেবে, কিম্বা এই ডাটাবেইজের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা কিভাবে কাজে লাগাবে এ ব্যাপারে কোন আইন নাই। জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত তথ্যভাণ্ডারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার কোন আইন না থাকা একটি অতিশয় দুর্বল এবং পরাধীন রাষ্ট্রের লণ। নাগরিকদের ডাটাবেইজ সংবেদনশীল কিন্তু সেই েেত্র জাতীয় প্রতিরার কোন ব্যবস্থা নাই। তুমুল অরতি অবস্থায় নাগরিকদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের নামে বিদেশী মোবাইল কম্পানিগুলো মূলত বাংলাদেশের নাগরিকদের ওপর অতিশয় সংবেদনশীল ডাটাবেইজ তৈরি করছে। যা অবশ্যই অবিলম্বে প্রতিরোধ করা উচিত।
শুধু সিম নিবন্ধন নয়, সাধারণভাবে রাষ্ট্রের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের সঙ্গে নিরাপত্তা, নাগরিকদের ওপর রাষ্ট্র ও সরকারের নজরদারি বৃদ্ধির বিপদ, ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর হুমকি এবং সর্বোপরি আধুনিক কৃৎকৌশলের সুবিধা নিয়ে অল্প কিছু ব্যক্তির পুরা সমাজকে নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি ইত্যাদি নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু জড়িত। এই েেত্র বায়োমেট্রিক কায়দায় সিম নিবন্ধন সাধারণভাবে যে কোন প্রকার বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের অন্তর্গত বটে, তবে তাদের মধ্যে পার্থক্য আছে। পাসপোর্ট করতে, ভিসা পেতে এমনকি বিদেশী কোন রাষ্ট্রের সীমান্ত অতিক্রম করবার সময় আমরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে বাধ্য থাকি। রাষ্ট্র দাবি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার জন্য এটা তাদের এখতিয়ার। আধুনিক রাষ্ট্র তার সার্বভৌম মতা বলে ব্যক্তিকে এই টেকনোলজিকাল নজরদারির অধীনস্থ করে। এই দিক থেকে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন আধুনিক রাষ্ট্রের বিশেষ চরিত্রের লণ যা আমাদের আরো ঘনিষ্ঠ ভাবে পর্যালোচনা করে দেখা ও বোঝা উচিত।
নয়-এগারোর পর বিশ্বব্যাপী ‘নিরাপত্তা’র ধারণা আমূল বদলে গিয়েছে। রাষ্ট্র, মতাসীন সরকার কিম্বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থার চোখে আমরা সকলেই রাতারাতি সম্ভাব্য সন্ত্রাসী বা অপরাধী হয়ে গিয়েছি। এগুলো খুবই মৌলিক ও গুণগত পরিবর্তন। বায়োমেট্রিক নিবন্ধনকে এই নতুন বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখবার কোন উপায় নাই।
অন্য দিকে ডিজিটাল যুগে একটা নতুন ভূগোলের আবির্ভাব ঘটেছে আর অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনের জন্য সেই ডিজিটাল জগৎকে নিয়ন্ত্রিত ও শৃংখলিত করবার জন্য রাষ্ট্রও সমানতালে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আমরা সামাজিক পরিচয় হারিয়ে টেকনোলজির সংকেত সংখ্যায় রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছি। খবর রাখছি না। এই সকল দিকে আমাদের নজর দ্রুত ফেরানো জরুরি হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রের নজরদারির বিরুদ্ধে নয়, মোবাইল কম্পানির বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের বিরুরেূ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ শুরু হয়েছে। আগেই বলেছি, মোবাইল কম্পানির বায়োমেট্রিক নিবন্ধন দরকার হোল কেন সেটা খুবই সন্দেহের বিষয়। মতাসীনরা তার অনুমতি দিয়েছে কি? সিম নিবন্ধনের জন্য যে কোন পরিচয়পত্রই যথেষ্ট। বড় জোর তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের দাবি করতে পারে। কিন্তু ডিজিটাল বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের অর্থ হচ্ছে তারা রাষ্ট্রের এখতিয়ারের বাইরে আলাদা ডাটাবেইজ তৈরি করতে চায় এবং বাংলাদেশে ডাটাবেইজের নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইনের অভাবের সুযোগ নিয়ে এই ডাটাবেইজ দিয়ে আলাদা ব্যবসা করতে চায়। যে ডাটাবেইজ তারা তৈরি করছে তার স্বত্ব কার? সেই ডাটাবেইজের নিরাপত্তা কে দেবে? Ñ এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
অধিকাংশ মানুষ ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে নিবন্ধনের সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে হুঁশিয়ার নন। এর মাধ্যমে তৈরি ডাটাবেইজ মুনাফাকারী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশী রাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের কাছেও হস্তান্তর করতে পারে। কিম্বা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে যে সকল শক্তি জড়িত তাদের হাতেও স্বেচ্ছায় কিম্বা অনিচ্ছায় কিম্বা টাকার বিনিময়ে তুলে দিতে পারে। এগুলো খুবই সম্ভব। কথা হোল, তারা কি পারে আর কি পারে না সে সম্পর্কে কোন আইন নাই। নাগরিকদের পে কোন রা কবচ নাই। বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনের যারা বিরোধিতা করছেন, তাঁরা ঠিকই বিপদ অনুধাবন করতে পেরেছেন। এখন আমাদের কাজ হচ্ছে ব্যাপারটিকে তথ্য ও বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে আরো স্পষ্ট করে তোলা।
তাহলে শুরুতেই এই দিকটা আমরা মনে রাখব যে মোবাইল কম্পানি, বিশেষত বিদেশী ও বহুজাতিক কর্পোরেশানের ডিজিটাল বায়োমেট্রিক নিবন্ধন আর রাষ্ট্রের নাগরিক নিবন্ধন এক কথা নয়। রাষ্ট্রের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন প্রবল বিতর্কের বিষয় হলেও বহুজাতিক ব্যবসায়ী কম্পানির বায়োমেট্রিক নিবন্ধন খুবই সন্দেহের। এ কারণে যারা বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনের বিরোধিতা করছেন আমাদের সামষ্টিক নিরাপত্তার জন্য তাঁদের প্রতিবাদকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেছি এবং অকুণ্ঠচিত্তে সমর্থন করেছি।
বায়োমেট্রিক নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে অনেক কথা অনেকে বলছেন। অনেকের দাবি, এতে মোবাইল ফোন কেন্দ্রিক অপরাধ দমন করা যাবে, কিম্বা সহজ হবে। মোবাইল ফোনগুলো অপরাধ দমনের প্রতিষ্ঠান নয়। তারা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। তারা মুনাফার জন্য বায়োমেট্রিক ডাটাবেইজ নিজেরা ব্যবহার করে নিজেরাই ক্রাইম করবে না তার গ্যারান্টি কী? বায়োমেট্রিক ডাটাবেইজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডার। এই তথ্যভাণ্ডার গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ ও মুনাফা কামানোর ত্রে। বিপজ্জনক হচ্ছে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ডাটাবেইজ কে কিভাবে ব্যবহার করবে সেই বিষয়েও আমাদের দেশে কোন আইন নাই। মোবাইল কম্পানিগুলো তাদের বায়োমেট্রিক ডাটাবেইজ কোথায় কিভাবে সংরণ ও ব্যবহার করবে তার ওপর রাষ্ট্রের কোন নিয়ন্ত্রণ নাই, নীতিমালাও নাই। এই অবস্থায় নাগরিকদের হাতের ফিঙ্গারপ্রিন্ট মোবাইল কম্পানির হাতে তুলে দেওয়া ভয়ানক বিপজ্জনক।
সিমের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন অপরাধ দমন করবে বা অপরাধ দমনে সহায়ক হবে এর চেয়ে হাস্যকর অনুমান আর কিছুই হতে পারে না। অপরাধ দমনের জন্য সবার আগে দরকার সুষ্ঠু বিচারব্যবস্থা, স্বচ্ছ প্রশাসন ও পুলিশ, পুলিশি ব্যবস্থাকে দলীয়করণ থেকে মুক্তি, ইত্যাদি। অর্থাৎ একটি দ ও স্বচ্ছ ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা। এখানেই শেষ নয়। দরকার স্বচ্ছ ও বলবৎযোগ্য আইন ও তার সুষ্ঠু প্রয়োগ। নিদেনপে এই ব্যবস্থাকে আইনানুগ হতে হবে। তো তার কোন খবর নাই কিন্তু মোবাইল কম্পানির সিম নিবন্ধন দিয়ে অপরাধ দমন খুবই হাস্যকর অনুমান।
আমি ফেইস বুকে সিম নিবন্ধনের বিরোধিতা করায় অনেকে খুব বীর হয়ে গিয়েছেন। লিখেছেন, আমি তো সন্ত্রাসী বা চোর নই তবে কেন ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে সিম নিবন্ধন করতে ভয়? এটা ভীতু বা বীরত্ব প্রদর্শনের তর্ক নয়। অনেকের দাবি এতে ভুয়া আইডি বন্ধ হবে। এটাও হাস্যকর যুক্তি। এতে বরং বিপদ বাড়বে। ঠিক যে এখন অপরাধীরা ভুয়া আইডি ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু কোথা থেকে কল করছে নতুন প্রযুক্তিতে তা ট্রেইস করা সম্ভব এবং ধরা মোটেও কঠিন নয়। ফোন কল অনুসরণ করে অপরাধী ধরা পড়েছে তার বিস্তর নজির আছে। কিন্তু এখন ভুয়া আইডি ব্যবহার না করে অপরাধীরা অন্যের নামে, ধরুন আপনার নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করবে। অপরাধী হবেন আপনি। মোবাইল কম্পানিগুলো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, তারা ব্যবসার জন্য ডাটাবেইজ থেকে অন্যের তথ্য ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে অপরাধীদের কাছে সিম বিক্রি করতে পারে। এটা রোধ করার কোন আইনী ব্যবস্থা নাই। তারা যে সেটা করবে না তার গ্যারান্টি কী? নিরপরাধ নাগরিক অপরাধী হিসাবে শাস্তি পেয়ে যেতে পারেন। সাধু সাজার জন্য বা আমি অপরাধী না তাহলে সিম নিবন্ধনে ভয় কী বলে অনেকে সিম নিবন্ধনের যে যুক্তি দিচ্ছেন তারা নিশ্চয়ই জানেন বা অনায়াসেই অনুমান করতে পারেন চোর, ডাকাত, খুনিসহ নানান কিসিমের ছোট-বড় অপরাধীও বায়োমেট্রিক কায়দায় সিম নিবন্ধন করেছে। তো আপনি সিম নিবন্ধন করে একই কাতারেই যোগ দিয়েছেন, সাধু হননি। সিম নিবন্ধনের মধ্যে নিজেকে অপরাধী না ভাবা, নিজেকে সাধু জ্ঞান করা, অন্যে করছে না বলে ভীতু বা অপরাধী ভাবার মতো আহাম্মকি আর কিছুই হতে পারে না। আশা করি তাঁরা বুঝবেন বিষয়টি আরো অনেক বড়।

‘সমাজ নিরপরাধ ও অপরাধীতে বিভক্ত’: সমাজ বোধের মারাত্মক বিকৃতি
অপরাধ দমন তত্ত্বের জায়গায় দাঁড়িয়ে সিম নিবন্ধনের পে অবস্থানের বিপদ অনেক অনেক গভীরে। এখানে অনুমান হচ্ছে সমাজ অপরাধী ও সাধু এই দুই ভাগে বিভক্ত। অপরাধের আর্থসামাজিক বিচার এখানে অনুপস্থিত। বাজার ব্যবস্থার চোটে ভেঙে পড়া সমাজে সামাজিক সম্পর্ক ও নৈতিক ভিত্তিগুলো কিভাবে দুর্বল হয়ে গিয়েছে সেটা বোঝার কারো অবসর নাই। আধুনিক সমাজে ব্যক্তি আছে, কিন্তু সমাজ নাই, অতএব এই অনুমানই বদ্ধমূল হয় যে নীতিহীনতা ও অপরাধের মোকাবিলা করবে সমাজ থেকে আলাদা ও সমাজের ঊর্ধ্বে থাকা ফৌজদারি আইন ও পুলিশ। তদারকি করবে রাষ্ট্র। সমাজ বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির নিরাপত্তার অধিক কোন সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তার ধারণা করবার সামর্থ্য ব্যক্তিতান্ত্রিক সমাজ হারিয়ে ফেলে। এই ধারণার প্রাবল্যের ওপর পুলিশি রাষ্ট্র গড়ে ওঠে ও শক্তিশালী হয়। যারা নিজেদের অপরাধী মনে করে না তাদের তাই উচিত সিম নিবন্ধন করাÑ এই ধারণা এই সমাজে গড়ে ওঠার সঙ্গত কারণ রয়েছে। এমনকি নিজের অধিকার ুণœ করে হলেও নিজেকে রাষ্ট্রীয় নজরদারির হাতে সমর্পণ করবার জন্য বায়োমেট্রিক নিবন্ধনকে স্বাগত জানাতে সমাজ গররাজি হয় না। সিম নিবন্ধনের জন্য মানুষের ভিড় দেখে আমরা তা আন্দাজ করতে পারি।
তাহলে দেখা যাচ্ছে বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনের বিরোধিতা নিয়ে কিছু বলার আগে আমাদের এইসব নানান অনুমান নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। অথচ বিষয়টি এতোই গুরুত্বপূর্ণ যে এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা-পর্যালোচনা দরকার।
রাষ্ট্র নাগরিকদের নাম সাকিন পরিচয় নিবন্ধিত করে, এটা নতুন কিছু নয়। নাগরিকদের শাসন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য আধুনিক রাষ্ট্র কেন এখন আরো বিস্তৃত ও নিখুঁত টেকনোলজিকাল নজরদারির মতা আয়ত্ত করতে চাইছে সেটা একালে মতা, আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্রতত্ত্বের প্রধান আলোচ্য বিষয়। যাঁরা ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো কিম্বা ইতালির দার্শনিক আগামবেনের লেখালেখির খোঁজখবর রাখেন তারা নিশ্চয়ই জনগণকে শৃংখলিত ও নিয়ন্ত্রিত রাখবার জন্য আধুনিক রাষ্ট্রের নানাবিধ কারিগরি সম্পর্কে অবহিত। এই কারিগরির বিচার নাগরিকত্ব, কোন প্রকার উপদ্রব ও বাইরের হস্তপে ছাড়া ব্যক্তির শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা দেবার প্রতিশ্রুতিÑ যা ব্যক্তিস্বাধীনতা বা ‘প্রাইভেসি’র অধিকার হিসাবে পরিচিত ইত্যাদি নানান প্রসঙ্গের সঙ্গে জড়িত। তাহলে আধুনিক রাষ্ট্রের নজরদারির শক্তি ও বিস্তৃতি ভয়ানক ভাবে বৃদ্ধির সঙ্গে এ কালে আধুনিক রাষ্ট্রের রূপান্তর জড়িত। কী সেই রূপান্তর সেটা আমাদের বোঝা দরকার। এই দিকটি না বুঝলে একালে কোন প্রকার অর্থপূর্ণ গণমানুষের রাজনীতির বিকাশ ও পুনর্গঠন অসম্ভব।
আগামী কিস্তিগুলোতে আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করব।
৪ মে ২০১৬।
আরশিনগর।

 

আমি বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধন নিয়ে উদ্বিগ্ন। সেটা রাষ্ট্র করুক, কিম্বা কোন কম্পানি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানÑ নিজের বায়োমেট্রিক ডাটা রাষ্ট্র কিম্বা বেসরকারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার বিপদ রয়েছে। দুইয়ের মধ্যে ফারাক আছে বটে, কিন্তু অবস্থাভেদে যে কোন প্রকার ডিজিটাল নজরদারি নাগরিকদের জন্য ভয়ঙ্কর হতে পারে। মোবাইল কম্পানি বিশেষত বিদেশী যদি সিম নিবন্ধনের নামে বাংলাদেশের নাগরিকদের বায়োমেট্রিক ডাটাবেইজ তৈরি করে, তাহলে তা জাতীয় প্রতিরার দিক থেকে বিপজ্জনক। মেনে নেওয়া যায় না।
বাংলাদেশের নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র তৈয়ার করে রাষ্ট্র নাগরিকদের ওপর নজরদারির যে ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রচলন করে তার বিরোধিতা কেন করা উচিত সেটা ব্যক্তির নিজের ‘প্রাইভেসি’ বা অনাকাক্সিত উপদ্রব বা নজরদারি থেকে মুক্ত থাকার অধিকারের সঙ্গে যুক্ত। সে কারণে রাষ্ট্র যখন সেটা করে তখন যুক্তিসঙ্গত আইনের অধীনে গণতান্ত্রিক বিধান অনুযায়ী করছে বলে দাবি করে বটে, কিন্তু ব্যক্তির ওপর রাষ্ট্রের খবরদারি, নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ে বৈ কমে না। বিষয়টি ডিজিটাল যুগে আধুনিক রাষ্ট্রের চরিত্র এবং একালে টেকনোলজির বিবর্তনের পর্যালোচনা করে বুঝতে হবে। সারা দুনিয়ার মানুষের ওপর অল্প কিছু মতাবান মানুষ ও কর্পোরেশানের কৃৎকৌশলগত নিয়ন্ত্রণের সমূহ সুযোগ ডিজিটাল বিপ্লব এনে দিয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের বিশেষ হুঁশ নাই। তবুও তর্ক আছে যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনি সুরার কিছু সুযোগ থাকে। অন্য দেশের ভিসা নেবার সময় বা ভিনদেশে প্রবেশের মুখে সীমান্তে বা এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশানের কাছে আমরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে বাধ্য থাকি। রাষ্ট্রের আদৌ ডিজিটাল নজরদারির এখতিয়ার আছে কি না তা নিয়ে বিস্তর তর্ক আছে। ইতালির দার্শনিক আগামবেন একবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কিছুতেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেবেন না এবং নিজেকে ডিজিটাল নজরদারির অধীন করার ঘোরবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন। শেষমেশ তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাননি, এবং নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির কোর্স বাতিল করেছেন। তাহলে বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী তাত্ত্বিক কিম্বা দার্শনিক যুক্তি রয়েছে। এ বিষয়ে আগামবেনের যুক্তি আমাদের শোনা দরকার। তেমনি আরেকজন ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোকে নিয়েও আমরা কথা বলব। ‘জনগণ’কে নজরদারি ও শাস্তির ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আধুনিক রাষ্ট্র কিভাবে ‘শৃংখলাধীন’ ( বা শৃংখলিত) করে সেই দিক নিয়েও খানিক আলোচনা করব। আধুনিক রাষ্ট্রের চরিত্র পর্যালোচনা এবং এ কালের রাজনৈতিক কর্তব্যগুলো সুনির্দিষ্ট ভাবে বোঝার জন্য বায়োমেট্রিক নিবন্ধন পর্যালোচনা খুবই জরুরি। এই লেখাটির উদ্দেশ্য এটাই।
তাহলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়া কিম্বা নিজেকে অন্য কোন বায়োমেট্রিক পদ্ধতির নজরদারির অধীনস্থ করাকে স্বাভাবিক ও যুক্তিসঙ্গত মনে করা মারাত্মক ভুল। এতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার কিম্বা তথাকথিত অপরাধ দমনের সম্পর্ক অতি ীণ। সমাজব্যবস্থাই যদি অপরাধ সংঘটনের কারণ হয়, তাহলে সমাজের সংস্কার বা রূপান্তরের কথা না বলে অপরাধকে টেকনোলজি দিয়ে দমন অবাস্তব। বর্তমান বিশ্ব অসম; পরদেশ লুণ্ঠনসহ যুদ্ধবিগ্রহ সহিংসতা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নিত্যদিনের কারবার; প্যালেস্টাইন, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া ইত্যাদি দেশ থেকে সাধারণ মানুষকে উৎখাত করা হয়েছে, তাদের দেশান্তরী ও অভিবাসী জীবনে বাধ্য করা হয়েছে; অন্যায় মোচনের পরিবর্তে ক্রমাগত অন্যায় ও অবিচারকে প্রশয় দেয়া হচ্ছে। তাহলে সন্ত্রাস দমনের নামে আরো অধিক সন্ত্রাস, যুদ্ধ ও সহিংসতার বিস্তার ও বিশ্বব্যাপী যুদ্ধকৌশলের অংশ হিসাবেই বায়োমেট্রিক নিবন্ধন মতাসীনদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। সমাজে যখন ধনি গরিবের ব্যবধান বাড়ে, বিশ্বে যখন অল্প কিছু লোক অধিকাংশের সম্পদ কুগিত করে, রাষ্ট্র যখন বাজারব্যবস্থার মহিমার নামে মানুষের জীবন ও জীবিকার আর্থ-সামাজিক ত্রেগুলো সঙ্কুচিত করে সেখানে রাষ্ট্র ও বহুজাতিক কম্পানির বিরুদ্ধে নানান প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ ঘটবেই। ডিজিটাল নজরদারি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অব্যবস্থা ও কুব্যবস্থার সমাধান নয়। তাহলে সমাজ, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন নিয়ে তর্ক করলে ডিজিটাল যুগে নানাবিধ গোয়েন্দাগিরি ও নজরদারির ব্যাখ্যা করা যাবে না। সে কারণে এখানে আমরা সাধারণ ভাবে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন ও আধুনিক রাষ্ট্রের নজরদারি নিয়েই কিছু প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে চাইছি, কিন্তু সেটাও দুই এক কিস্তিতে শেষ করা সম্ভব না। বাংলাদেশে এই তর্কটা মোবাইল কম্পানির সিম নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে, ফলে সেই বিষয়ে শুরুতে কিছু প্রাথমিক আলোচনা করে নেওয়া যাক।

বিদেশী মোবাইল কম্পানির সিম নিবন্ধন বিপজ্জনক
মোবাইল কম্পানি যাদের অধিকাংশই বিদেশী তাদের কাছে আমাদের ব্যক্তিগত বায়োমেট্রিক তথ্য তুলে দেবার কোনই যুক্তি নাই। সে কারণে যারা এর বিরোধিতা করছেন আমি তাঁদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছি অনেক আগেই। এপ্রিলে সিম নিবন্ধনের সময়সীমা অতিক্রম হয়ে যাবার আগে ফেইসবুকে সেটা প্রকাশও করেছি। নিবন্ধনের সময় সীমা মে মাসের জন্য আবার বাড়ানো হয়েছে। অনেকেই সিম হারাবার ভয়ে এবং মোবাইল কম্পানির প্রচারণার চাপে নিবন্ধন করেছেন। কিন্তু তারা নিদেনপে তাদের নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে এ ধরনের কোন যুক্তিসঙ্গত আইন না থাকার পরেও মোবাইল কম্পানির কাছে তাঁদের আঙুলের ছাপ দিয়ে নিজেদের নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছেন।
সিমের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের জন্য কোন আইন নাই। নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ব্যক্তির নিজের ‘প্রাইভেসি’ বা অনাকাক্সিত উপদ্রব বা নজরদারি থেকে মুক্ত থাকার অধিকারের সঙ্গে যুক্ত। বিদেশী মোবাইল কম্পানিগুলোর কাছে সিম ব্যবহারকারী বাংলাদেশের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন কেন জরুরি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেটাই বিশাল একটি প্রশ্ন। নাগরিকদের বায়োমেট্রিক ডাটাবেইজ তৈয়ারি ও সংরণ সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। তাহলে মোবাইল কম্পানির বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধন জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই বিপজ্জনক।
মোবাইল কম্পানিগুলো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, তদুপরি অধিকাংশই বিদেশী। তারা নাগরিকদের বায়োমেট্রিক তথ্য কিভাবে ব্যবহার করবে, কাকে দেবে, কিম্বা এই ডাটাবেইজের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা কিভাবে কাজে লাগাবে এ ব্যাপারে কোন আইন নাই। জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত তথ্যভাণ্ডারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার কোন আইন না থাকা একটি অতিশয় দুর্বল এবং পরাধীন রাষ্ট্রের লণ। নাগরিকদের ডাটাবেইজ সংবেদনশীল কিন্তু সেই েেত্র জাতীয় প্রতিরার কোন ব্যবস্থা নাই। তুমুল অরতি অবস্থায় নাগরিকদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের নামে বিদেশী মোবাইল কম্পানিগুলো মূলত বাংলাদেশের নাগরিকদের ওপর অতিশয় সংবেদনশীল ডাটাবেইজ তৈরি করছে। যা অবশ্যই অবিলম্বে প্রতিরোধ করা উচিত।
শুধু সিম নিবন্ধন নয়, সাধারণভাবে রাষ্ট্রের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের সঙ্গে নিরাপত্তা, নাগরিকদের ওপর রাষ্ট্র ও সরকারের নজরদারি বৃদ্ধির বিপদ, ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর হুমকি এবং সর্বোপরি আধুনিক কৃৎকৌশলের সুবিধা নিয়ে অল্প কিছু ব্যক্তির পুরা সমাজকে নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি ইত্যাদি নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু জড়িত। এই েেত্র বায়োমেট্রিক কায়দায় সিম নিবন্ধন সাধারণভাবে যে কোন প্রকার বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের অন্তর্গত বটে, তবে তাদের মধ্যে পার্থক্য আছে। পাসপোর্ট করতে, ভিসা পেতে এমনকি বিদেশী কোন রাষ্ট্রের সীমান্ত অতিক্রম করবার সময় আমরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে বাধ্য থাকি। রাষ্ট্র দাবি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার জন্য এটা তাদের এখতিয়ার। আধুনিক রাষ্ট্র তার সার্বভৌম মতা বলে ব্যক্তিকে এই টেকনোলজিকাল নজরদারির অধীনস্থ করে। এই দিক থেকে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন আধুনিক রাষ্ট্রের বিশেষ চরিত্রের লণ যা আমাদের আরো ঘনিষ্ঠ ভাবে পর্যালোচনা করে দেখা ও বোঝা উচিত।
নয়-এগারোর পর বিশ্বব্যাপী ‘নিরাপত্তা’র ধারণা আমূল বদলে গিয়েছে। রাষ্ট্র, মতাসীন সরকার কিম্বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থার চোখে আমরা সকলেই রাতারাতি সম্ভাব্য সন্ত্রাসী বা অপরাধী হয়ে গিয়েছি। এগুলো খুবই মৌলিক ও গুণগত পরিবর্তন। বায়োমেট্রিক নিবন্ধনকে এই নতুন বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখবার কোন উপায় নাই।
অন্য দিকে ডিজিটাল যুগে একটা নতুন ভূগোলের আবির্ভাব ঘটেছে আর অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনের জন্য সেই ডিজিটাল জগৎকে নিয়ন্ত্রিত ও শৃংখলিত করবার জন্য রাষ্ট্রও সমানতালে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আমরা সামাজিক পরিচয় হারিয়ে টেকনোলজির সংকেত সংখ্যায় রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছি। খবর রাখছি না। এই সকল দিকে আমাদের নজর দ্রুত ফেরানো জরুরি হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রের নজরদারির বিরুদ্ধে নয়, মোবাইল কম্পানির বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের বিরুরেূ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ শুরু হয়েছে। আগেই বলেছি, মোবাইল কম্পানির বায়োমেট্রিক নিবন্ধন দরকার হোল কেন সেটা খুবই সন্দেহের বিষয়। মতাসীনরা তার অনুমতি দিয়েছে কি? সিম নিবন্ধনের জন্য যে কোন পরিচয়পত্রই যথেষ্ট। বড় জোর তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের দাবি করতে পারে। কিন্তু ডিজিটাল বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের অর্থ হচ্ছে তারা রাষ্ট্রের এখতিয়ারের বাইরে আলাদা ডাটাবেইজ তৈরি করতে চায় এবং বাংলাদেশে ডাটাবেইজের নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইনের অভাবের সুযোগ নিয়ে এই ডাটাবেইজ দিয়ে আলাদা ব্যবসা করতে চায়। যে ডাটাবেইজ তারা তৈরি করছে তার স্বত্ব কার? সেই ডাটাবেইজের নিরাপত্তা কে দেবে? Ñ এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
অধিকাংশ মানুষ ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে নিবন্ধনের সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে হুঁশিয়ার নন। এর মাধ্যমে তৈরি ডাটাবেইজ মুনাফাকারী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশী রাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের কাছেও হস্তান্তর করতে পারে। কিম্বা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে যে সকল শক্তি জড়িত তাদের হাতেও স্বেচ্ছায় কিম্বা অনিচ্ছায় কিম্বা টাকার বিনিময়ে তুলে দিতে পারে। এগুলো খুবই সম্ভব। কথা হোল, তারা কি পারে আর কি পারে না সে সম্পর্কে কোন আইন নাই। নাগরিকদের পে কোন রা কবচ নাই। বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনের যারা বিরোধিতা করছেন, তাঁরা ঠিকই বিপদ অনুধাবন করতে পেরেছেন। এখন আমাদের কাজ হচ্ছে ব্যাপারটিকে তথ্য ও বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে আরো স্পষ্ট করে তোলা।
তাহলে শুরুতেই এই দিকটা আমরা মনে রাখব যে মোবাইল কম্পানি, বিশেষত বিদেশী ও বহুজাতিক কর্পোরেশানের ডিজিটাল বায়োমেট্রিক নিবন্ধন আর রাষ্ট্রের নাগরিক নিবন্ধন এক কথা নয়। রাষ্ট্রের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন প্রবল বিতর্কের বিষয় হলেও বহুজাতিক ব্যবসায়ী কম্পানির বায়োমেট্রিক নিবন্ধন খুবই সন্দেহের। এ কারণে যারা বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনের বিরোধিতা করছেন আমাদের সামষ্টিক নিরাপত্তার জন্য তাঁদের প্রতিবাদকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেছি এবং অকুণ্ঠচিত্তে সমর্থন করেছি।
বায়োমেট্রিক নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে অনেক কথা অনেকে বলছেন। অনেকের দাবি, এতে মোবাইল ফোন কেন্দ্রিক অপরাধ দমন করা যাবে, কিম্বা সহজ হবে। মোবাইল ফোনগুলো অপরাধ দমনের প্রতিষ্ঠান নয়। তারা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। তারা মুনাফার জন্য বায়োমেট্রিক ডাটাবেইজ নিজেরা ব্যবহার করে নিজেরাই ক্রাইম করবে না তার গ্যারান্টি কী? বায়োমেট্রিক ডাটাবেইজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডার। এই তথ্যভাণ্ডার গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ ও মুনাফা কামানোর ত্রে। বিপজ্জনক হচ্ছে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ডাটাবেইজ কে কিভাবে ব্যবহার করবে সেই বিষয়েও আমাদের দেশে কোন আইন নাই। মোবাইল কম্পানিগুলো তাদের বায়োমেট্রিক ডাটাবেইজ কোথায় কিভাবে সংরণ ও ব্যবহার করবে তার ওপর রাষ্ট্রের কোন নিয়ন্ত্রণ নাই, নীতিমালাও নাই। এই অবস্থায় নাগরিকদের হাতের ফিঙ্গারপ্রিন্ট মোবাইল কম্পানির হাতে তুলে দেওয়া ভয়ানক বিপজ্জনক।
সিমের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন অপরাধ দমন করবে বা অপরাধ দমনে সহায়ক হবে এর চেয়ে হাস্যকর অনুমান আর কিছুই হতে পারে না। অপরাধ দমনের জন্য সবার আগে দরকার সুষ্ঠু বিচারব্যবস্থা, স্বচ্ছ প্রশাসন ও পুলিশ, পুলিশি ব্যবস্থাকে দলীয়করণ থেকে মুক্তি, ইত্যাদি। অর্থাৎ একটি দ ও স্বচ্ছ ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা। এখানেই শেষ নয়। দরকার স্বচ্ছ ও বলবৎযোগ্য আইন ও তার সুষ্ঠু প্রয়োগ। নিদেনপে এই ব্যবস্থাকে আইনানুগ হতে হবে। তো তার কোন খবর নাই কিন্তু মোবাইল কম্পানির সিম নিবন্ধন দিয়ে অপরাধ দমন খুবই হাস্যকর অনুমান।
আমি ফেইস বুকে সিম নিবন্ধনের বিরোধিতা করায় অনেকে খুব বীর হয়ে গিয়েছেন। লিখেছেন, আমি তো সন্ত্রাসী বা চোর নই তবে কেন ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে সিম নিবন্ধন করতে ভয়? এটা ভীতু বা বীরত্ব প্রদর্শনের তর্ক নয়। অনেকের দাবি এতে ভুয়া আইডি বন্ধ হবে। এটাও হাস্যকর যুক্তি। এতে বরং বিপদ বাড়বে। ঠিক যে এখন অপরাধীরা ভুয়া আইডি ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু কোথা থেকে কল করছে নতুন প্রযুক্তিতে তা ট্রেইস করা সম্ভব এবং ধরা মোটেও কঠিন নয়। ফোন কল অনুসরণ করে অপরাধী ধরা পড়েছে তার বিস্তর নজির আছে। কিন্তু এখন ভুয়া আইডি ব্যবহার না করে অপরাধীরা অন্যের নামে, ধরুন আপনার নামে নিবন্ধিত সিম ব্য

মানবিকীকরণ বাংলাদেশের ভূমি নীতির
                                  

০৩ মে, ২০১৬ ইং

অনলাইন ডেস্ক

গত ২৪ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু কনভেনশন হলে দু’দিনব্যাপী বিআইডিএস বাংলাদেশের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনামূলক কথোপকথন (ক্রিটিক্যাল কনভারসেশন)-এর আয়োজন করেছিল। উক্ত অনুষ্ঠানের একটা পর্বের বিষয় ছিল ভূমি ব্যবহার প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আলোচনা। ওই আলোচনায় আমি প্যানেলিস্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। সভাপতিত্ব করেছিলেন সাজ্জাদ জহির লেলিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মনজুর হোসেন।

ভূমি নিয়ে আলোচনায় প্রথম যে বিষয়টির কথা সবাই বলেন, তা হচ্ছে বাংলাদেশে জনসংখ্যার অতিমাত্রায় ঘনত্ব। জমি এখানে সোনার টুকরোতে পরিণত হতে চলেছে। এমনকি আমেরিকাতেও জমির যা দাম বাংলাদেশে সেই দাম বেশ অনেকগুণ বেশি (সুদূর পঞ্চগড়ে ১ একর শিল্প জমির বিজ্ঞাপন দাম যেখানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা, সেখানে আমেরিকায় ৮০ লাখ টাকায় তার চেয়ে ভালো জমি আপনি শহরাঞ্চলে পেতে পারেন!)। বাংলাদেশের ধনীদের একটা স্বভাব হচ্ছে উত্পাদনশীল প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ না করে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করে সেখানে নিরাপদ বিনিয়োগ করা। একটি ফ্ল্যাটের জায়গায় দশটি ফ্ল্যাট, একটি বাগানবাড়ির জায়গায় ছয়টি বাগানবাড়ি—এইভাবে সম্পদের কেন্দ্রীভবন হচ্ছে। অবশ্য বাংলাদেশের ধনীদের একা দোষ দিয়ে কি লাভ। অক্সফামের সর্বশেষ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, সারা দুনিয়ায় ৬৬ জন লোকের হাতে যে পরিমাণ সম্পদ কেন্দ্রীভূত হয়েছে তা বিশ্বের অর্ধেক মানুষের সম্পদের চেয়েও বেশি। বিল গেটস নিজেও হয়তো জানেন না কোথায় তার কত জমি আছে। বাংলাদেশের ধনীরা জমি কিনে সম্পদ জমানোর বদলে এখন কর ফাঁকি দেয়ার স্বর্গরাজ্যগুলোতে অর্থ পাচার শুরু করেছেন। আমেরিকার একটা প্রতিষ্ঠান নিয়মিত বিভিন্ন দেশ থেকে অর্থ পাচারের হিসাব দিয়ে থাকে। কিছুদিন আগে পানামা কেলেঙ্কারির খবরও আমরা দেখেছি। সর্বশেষ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে ২০১৩ সালে অর্থ পাচারের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯.৬৬ বিলিয়ন ডলার, অর্থাত্ প্রায় ১০০০ কোটি ডলার বা ৭৬ (ছিয়াত্তর) হাজার কোটি টাকা। ঐ রিপোর্ট অনুযায়ী গড়ে ২০০৪-১৩ সালের মধ্যে প্রতিবছর জিডিপির ৩ শতাংশ এবং বাজেটের ১৫ শতাংশ এভাবে পাচার হয়ে গেছে বলে ঐ আমেরিকান থিংক ট্যাংকটি দাবি করছে (দেখুন, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৫, ঢাকা ট্রিবিউনে প্রকাশিত সংবাদ)। এই হিসেবগুলো দিচ্ছি এই কারণে যে, এই টাকাগুলো দেশের মধ্যে বিনিয়োগ হলে হয়তো রিয়েল ইস্টেট বা জমির বদলে উত্পাদনশীল খাতেও বিনিয়োগ হতে পারতো, তখন লোকজনের চাকরি হতো, জিডিপি বৃদ্ধি হতো এবং বড়লোকরাও আরও বড়লোক হতে পারতেন কিন্তু বৈধ পথে। অনেকে বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য শিল্প জমি নেই। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন কৃষিজমি বেদখল করা চলবে না। তাহলে আমরা শিল্প-কলকারখানার জমি কোথা থেকে পাবো? এটাই তাদের প্রশ্ন। এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে পাল্টা বক্তব্য হলো, সরকার পরিকল্পিতভাবে ২৮টি “স্পেশাল ইকোনোমিক জোন” তৈরি করে জমির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছেন। ইচ্ছা করলে বিনিয়োগকারীরা সেখানে বিনিয়োগ করতে পারেন। সেখানে গ্যাস, ইলেক্ট্রিসিটি ও পানির ব্যবস্থাও থাকবে। সেখানে সরকার ওয়ান স্টপ সার্ভিসের আয়োজন করেছে। তবে ঐ জমি বার করার জন্য সরকারকে ধৈর্যের সঙ্গে ঐ জমিতে বসবাসকারী জনগণের সঙ্গে আগে থেকে নিবিড় সংলাপে বসতে হবে।

বিআইডিএস সেমিনারে আমরা জানতে পারলাম বাংলাদেশের মোট জমির পরিমাণ বাড়ছে। সেটা দক্ষিণাঞ্চলগুলোতে বদ্বীপের মাধ্যমে। সেই দ্বীপাঞ্চলগুলোতে বনভূমি তৈরি করা হয়েছে এবং হরিণ ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এখন বাঘ ছাড়ার কথাও উঠেছে। কিন্তু অনায়াসেই এইসব জায়গায় বিরাট পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা যায়। কোটি কোটি টাকা খরচ করে সেই জায়গায় পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার ক্ষমতা বা ইচ্ছা সরকারের বা সাহসী উদ্যোক্তাদের কারোরই নেই। সবচেয়ে দুর্বল যে তার জমিটিই কেড়ে নিতে হবে। কারণ সেটাই সবচেয়ে সোজা! সম্প্রতি হবিগঞ্জে চা শ্রমিকদের শত শত বিঘা কৃষিজমি যা তারা দেড়শ বছর ধরে চাষাবাদ করে আসছেন, সেটা স্পেশাল ইকোনোমিক জোনের নাম করে দখল করা হচ্ছে। অধ্যাপক মেসবাহ কামালের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী সেখানে একটি শ্রমিক পরিবারের ২ জন মহিলা সদস্য দৈনিক ৬৯ টাকা রোজ হিসেবে আয় করেন ১৩৮ টাকা কিন্তু তাতে পাঁচজনের পরিবার মোটেও চলে না। মালিক সেজন্যই তাদেরকে এই কৃষি জমিটুকু দিয়েছে যাতে তারা খাবার জোগাড় করতে পারেন। বাংলাদেশের ভূমি আইন অনুযায়ী কেউ যদি ১২ বছর ভূমি দখল করে রাখেন তাহলে সেখানে তাদের একধরনের স্বত্ব কায়েম হয়ে যায়। চা বাগানের এই আদিবাসী শ্রমিকদের ১৫০ বছরের ভোগ দখলি কৃষিজমি সরকার বাহাদুর কেন নিয়ে নিবেন তা মোটেও বোধগম্য নয়। এটা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বিরোধী কাজ এবং ভূমি আইন বিরোধী কাজ। কিন্তু নিশ্চয়ই সেখানে শক্তিশালী ধনাঢ্য গ্রুপ রয়েছে যার জন্য সেটার মধ্যে নজর পড়েছে।

বাংলাদেশে যত মামলা হয় তার অর্ধেকের বেশি হয় ভূমি মালিকানা মামলা। বাংলাদেশে যত খাস জলাভূমি আছে তার একটা বিরাট অংশ ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত করে দেয়ার পরও তাদের হাতে তা আর থাকেনি। হাত ঘুরে তা এখন প্রভাবশালী মহলের মালিকানায় চলে এসেছে।

অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাতের হিসাব অনুযায়ী ভূমিহীনদের বরাদ্দকৃত জমির ৫৬ শতাংশ তাদের মালিকানায় তারা ধরে রাখতে পারেনি। বিআইডিএস সেমিনারে ভূমি সংক্রান্ত একটি ডিজিটাল ইনফরমেশন সিস্টেমের প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বিভিন্ন বিভাগে বিভিন্ন ভূমির রেকর্ড একজায়গায় করে প্লট বাই প্লট ভূমির বর্তমান অবস্থান ও ব্যবহার এবং মালিকানা চিহ্নিত করা প্রয়োজন। এই কাজটি ঠিকমত হলে বেআইনিভাবে দখলকৃত খাস জমি চিহ্নিত করাও সহজ হবে। একাজটি শুরু হয়েছে কিন্তু কবে যে শেষ হবে তা আমরা জানি না। চীনের দৃষ্টান্তটি প্রণিধানযোগ্য। সেখানে ভূমির মালিকানা দুই ভাগে নির্ধারিত হয়। শহরের জমির মালিক রাষ্ট্র, গ্রামাঞ্চলের জমির মালিক গ্রামের স্বায়ত্তশাসিত আঞ্চলিক সংস্থাগুলো। রাষ্ট্র এই স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার লোকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে শিল্প ও শহরের পরিসীমা বৃদ্ধি করার ফলে জমির ক্ষেত্রে একধরনের বাজার লেনদেন প্রথা তৈরি হয়েছে; যার উপরে সরকারের পরিকল্পিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাও সম্ভব হয়েছে। সেখানে ব্যক্তিগতভাবে জমি ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। বাংলাদেশে বাজার অর্থনীতিতে সে ব্যবস্থা নেই। এখানে দুর্বল মালিক নানাভাবে জমি হারাচ্ছেন এবং সবল মালিকরা তা যা-তা দামে কিনে নিচ্ছেন অথবা দখল করে নিচ্ছেন। এতে শুধু অশান্তির সৃষ্টি হচ্ছে না, রক্তারক্তিও হচ্ছে। এবং জমির সার্বিক কল্যাণকর ব্যবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

আমার আলোচনায় সেদিন আমি একটি বিকল্প জমি ব্যাংকের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সরকার যদি একটি জমি ব্যাংক (Land Bank) স্থাপন করেন এবং নিজেই জমি কিনে নেন অথবা যেসব জমির মালিক জমিতে আটকে থাকতে চাচ্ছেন না তাদের একটা জীবনব্যাপী পেনশনের ব্যবস্থা করে দেন অথবা শহরে তাদের জন্য যদি আলাদা ফ্ল্যাট তৈরি করে দেন তাহলে স্বেচ্ছায় গ্রামের জমিগুলো তারা হয়তো সরকারকে দিয়ে দেবেন। পরবর্তীতে পরিকল্পিত গ্রামীণ উন্নয়নের কাঠামোতে ঐ জমিগুলোর ভারসাম্যপূর্ণ কৃষিজ ও অকৃষিজ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তাহলেই আমরা উন্নয়নের একটি দানবীয় মূর্তির বদলে মানবিক মূর্তির সাক্ষাত্ পাবো। জমিকে কেন্দ্র করেই এইধরনের একটি মাঝামাঝি পদ্ধতির সুষম পরিকল্পিত উন্নয়নের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

 

আগামী পাঁচ বছরে বিচারব্যবস্থায় সুশাসন
                                  

অনলাইন ডেস্ক

সদ্য সমাপ্ত ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মধ্যমেয়াদি মূল্যায়নে সুশাসন অর্জনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে তিনটি অন্তরায় ছিল। এক. বিচার বিভাগের কার্যকারিতা। দুই. জনপ্রশাসনের সক্ষমতা। তিন. অর্থনৈতিক সুশাসন। প্রথম বিষয়ের দুর্বলতা দূর করার জন্য সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় মোট সাতটি কৌশল নির্ণয় করা হয়। এক. বিচার ব্যবস্থাপনার সব পর্যায়ে ডিজিটাল পদ্ধতি প্রবর্তনকে কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে ডিজিটালভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপন এবং এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে তথ্য প্রাপ্তির জন্য এ ২১ কর্মসূচির উদ্দেশ্যভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা। দুই. জননিরাপত্তা বিধানে উন্নতি অর্জন। অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ। তিন. অপরাধের মাত্রা হ্রাসের জন্য এলাকাভিত্তিক প্রক্রিয়া চালু করে অপরাধ ও অপরাধী সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণ। চার. প্রতি জেলায় একজন পোগ্রামার, একজন সহকারী প্রোগ্রামার নিয়োগ করে ডিজিটাল পদ্ধতি কার্যকর করা। পাঁচ. সুপ্রিম কোর্টসহ অধস্তন আদালতের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা। ছয়. আইন কমিশন এবং আইন ও বিচার বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পাঁচ হাজার বিচারক নিয়োগ। সাত. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ব্যতীত গণতান্ত্রিক সুশাসন অর্জন করা সম্ভব নয় বিধায় বিচারকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা। কারণ এ ধরনের প্রণোদনা স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। একই সঙ্গে একটি ঢালাও মন্তব্য ছিল বিচারকদের জন্য বিচারকাজ চালানোর অবকাঠামো নেই, যার ফলে বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া বিচারকদের জন্য যানবাহনের বরাদ্দও অতি প্রয়োজনীয়।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার কৌশল অংশের পূর্বে দাবি করা হয় যে বর্ণিত কৌশলগুলো ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মধ্যমেয়াদি মূল্যায়নের ভিত্তিতে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু এ মূল্যায়নের পূর্বেও এসব কৌশলের বিষয় সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জনগণ জানতে পারে। বিশেষ করে বিচার ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করার ক্ষেত্রটি। ই-বিচার ব্যবস্থাপনা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অধস্তন আদালতের বিচারকদের দ্বারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করার কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু স্বল্প মেয়াদে এ বিষয়ে কী উন্নতি অর্জিত হয়েছে তা কিছুই বলা হয়নি। এর পরের কৌশলটি হলো জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দোষী ব্যক্তিদের জবাবদিহির বিষয়ে এলাকাভিত্তিক প্রক্রিয়া ও তথ্য সংরক্ষণের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। বাস্তবে এ প্রক্রিয়ার নির্দেশনা হলো কমিউনিটি পুলিশ, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট থানা অপরাধ প্রতিরোধসহ অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। কাজেই প্রক্রিয়াটি কী তা অনেকাংশেই ধোঁয়াশে বা অস্পষ্ট। কৌশল হিসেবে প্রতি জেলায় একজন প্রোগ্রামার ও একজন সহকারী প্রোগ্রামারের সংস্থানের কথা বলা হয়েছে। এঁদের কাজ হবে বিচার ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান। এঁদের প্রয়োজন রয়েছে। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী এর জন্য স্থায়ী পদ সৃষ্টি করতে হবে এবং কম্পিউটার যন্ত্রও দিতে হবে। এ বিষয়টি সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রথম কর্মসূচি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এতে দাবি করা হয়, প্রতি জেলার কেস ম্যানেজমেন্ট ও সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। স্মরণ করা যায়, নব্বইয়ের দশকে প্রবর্তিত বিচার ব্যবস্থাপনা উন্নীতকরণ প্রকল্পে এ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মধ্য মেয়াদি মূল্যায়নে এ কার্যক্রম উন্নীত ও টেকসই করার জন্য কোনো বাড়তি কৌশলের বিষয় আছে কি না তা উল্লেখ করা হয়নি।

এর পরের কৌশলটি হলো সুপ্রিম কোর্টসহ জেলা বিচারকদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা। এ ক্ষেত্রেও যে অপ্রতুলতা রয়েছে তা কারো অজানা নয়। কয়েক বছর ধরে এ বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে একাধিকবার জানা যায়। কিন্তু এর জন্য নির্বাহী বিভাগ কী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে তার বাস্তব চিত্র ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মধ্যমেয়াদি মূল্যায়নে বলা হয়েছে কি না সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। বিচারিক অবকাঠামোর অপ্রতুলতা দূর করার কৌশলের পর আইন কমিশন এবং আইন ও বিচার বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সুপারিশকৃত পাঁচ হাজার বিচারক নিয়োগের বিষয়টিও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পূর্বেই জানা যায়। এ কৌশলেরও প্রয়োজন রয়েছে। তবে পাহাড়সম অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা হ্রাসের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলেরও প্রয়োজন অস্বীকার করা যায় না। এ কৌশলটি হলো বিচারকপ্রতি মাসওয়ারি মানদণ্ড। এ মানদণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। বিচার ব্যবস্থাপনাসহ জননিরাপত্তা বিধান ও অপরাধীদের সফলভাবে চিহ্নিত করার বিষয়টির উন্নতিকল্পে সব সময়ই বিচারকসহ পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি সব সরকারের কাছেই করা হয়। মহানগর পুলিশ বাহিনীর ক্ষেত্রে এ দাবি সব সময়ই উদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সরকার সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। ফলে দেখা যায়, এক বা একাধিক থানা নিয়ে জোন সৃষ্টি করা হয়। প্রতি জোনের জন্য উচ্চতর কর্মকর্তাও নিয়োগ করা হয়, যা আগে ছিল না। এর পরও গুরুতর অপরাধের সংখ্যা হ্রাস করা সম্ভব হয়নি। থানার ওসিদের পরিদর্শক পদে উন্নীত করা হয়। বেশির ভাগ থানায় মহানগর পরিদর্শক (তদন্ত) নিয়োগ করা হয়। এর জন্য সরকারি কোষাগারের যে অর্থ ব্যয় হয় তার তুলনায় ফল কী হয়েছে সে বিষয়ে মূল্যায়ন প্রয়োজন। এর ভিত্তিতে কৌশলও নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শূন্যতার কথা অস্বীকার করা যায় না। বিচারকদের ক্ষেত্রে কিছু অনভিপ্রেত আচরণের কথা বিচার বিভাগ সূত্রেই সাম্প্রতিক সময়ে জানা যায়। যেমন দেরিতে বিচারকার্য শুরু করা অথবা সাপ্তাহিক ছুটি ভোগের জন্য কর্মস্থল বিনা অনুমতিতে ত্যাগ করে ঢাকায় চলে আসা। সার্বিকভাবে বলা যায়, দুই ক্ষেত্রেই কর্ম সংস্কৃতি বা work culture-এর বড় অভাব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কৌশল কি হবে সে বিষয়টিও চিহ্নিত করা প্রয়োজন, যা সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ অবশ্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানা যায়। ফল কী হয়েছে তার মূল্যায়ন প্রয়োজন।

বর্ণিত কৌশলের শেষ ক্ষেত্রটি হলো গণতান্ত্রিক সুশাসনের জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিচারকদের জন্য উচ্চ বেতন নির্ধারণ করা। এ কৌশলে দাবি করা হয়েছে যে উচ্চ বেতন-ভাতা ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ ধরনের ঢালাও যুক্তি কিছুটা হলেও অসম্পূর্ণ। উচ্চ বেতন-ভাতার প্রয়োজন রয়েছে, তবে স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য তা যথেষ্ট নয়। এ বাস্তবতা মেনে নিয়ে অন্যান্য কৌশল কী হবে তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন। উচ্চ বেতন-ভাতার সঙ্গে রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদের বিষয়টিও বিবেচ্য। এ ছাড়া রয়েছে মানবিক মূল্যবোধসহ অন্যান্য বিষয় যেমন কর্মদক্ষতা। এসব ক্ষেত্রের উন্নতির জন্য কার্যকর প্রশিক্ষণ, নিবিড় পরীবিক্ষণ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঠিক ও গঠনমূলক নির্দেশনা। এসবের সঙ্গে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো ত্রুটিমুক্ত নিয়োগ পদ্ধতি যার মধ্যে অনুরাগ বা বিরাগ স্থান পাবে না। বিচারকদের নিয়োগ এখন জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়। বিচার বিভাগ স্বাধীন হওয়ার আগে এ দায়িত্ব সরকারি কর্মকমিশন পালন করত। এ কারণে ধারণা করা যায়, অধস্তন আদালতের বিচারক নিয়োগের বিষয়টি ত্রুটিমুক্ত হবে। এর পরও কর্মরত বিচারকদের অনভিপ্রেত আচরণ কেন হচ্ছে সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে উপযুক্ত কৌশল অবলম্বনের প্রয়োজন রয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিচার বিভাগে সুশাসন অর্জনের জন্য যে কৌশলের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ হলো মামলা নিষ্পত্তিসংক্রান্ত অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা। এ ২১ কর্মসূচিই এর প্রধান অংশ। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী এ কথাই বলেছেন। এর উদ্দেশ্য বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে কয়েক মাস ধরে প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের জনকল্যাণমুখী সংস্কারের বিষয় উল্লেখ করেছেন। একাধিকবার উল্লিখিত বিষয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল অবসরের পর রায়ের অকার্যকারিতার বিষয়। ২৯ এপ্রিল প্রায় প্রতিটি দৈনিকেই এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়। জানা যায়, রায় ঘোষণার পর ১৬৮টি মামলার আবার শুনানি হবে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ আদালতে রায় ঘোষণার পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা ১৬৮টি মামলার পুনঃশুনানি হবে। এর মধ্যে ১৬১টি রায় লেখার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারককে চিহ্নিত করা হয়। বাকি সাতটি লেখার দায়িত্ব ছিল এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির। এ ধরনের তথ্য আগে একেবারেই অজানা ছিল। অন্তত জনগণের জন্য অজানা ছিল। সুপ্রিম কোর্টের আলোচ্য সিদ্ধান্ত মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। এক মতবাদ হলো এর ফলে বিচার প্রার্থীদের ঝামেলা বৃদ্ধি পাবে। অন্য মতবাদ হলো অবসরগ্রহণের পর কোনো পাবলিক ডকুমেন্ট সই করা যায় না। এ বিতর্কের স্থায়ী সমাধান বাঞ্ছনীয়।

সদ্য সমাপ্ত ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মধ্যমেয়াদি মূল্যায়নে সুশাসন অর্জনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে তিনটি অন্তরায় ছিল। এক. বিচার বিভাগের কার্যকারিতা। দুই. জনপ্রশাসনের সক্ষমতা। তিন. অর্থনৈতিক সুশাসন। প্রথম বিষয়ের দুর্বলতা দূর করার জন্য সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় মোট সাতটি কৌশল নির্ণয় করা হয়। এক. বিচার ব্যবস্থাপনার সব পর্যায়ে ডিজিটাল পদ্ধতি প্রবর্তনকে কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে ডিজিটালভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপন এবং এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে তথ্য প্রাপ্তির জন্য এ ২১ কর্মসূচির উদ্দেশ্যভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা। দুই. জননিরাপত্তা বিধানে উন্নতি অর্জন। অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ। তিন. অপরাধের মাত্রা হ্রাসের জন্য এলাকাভিত্তিক প্রক্রিয়া চালু করে অপরাধ ও অপরাধী সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণ। চার. প্রতি জেলায় একজন পোগ্রামার, একজন সহকারী প্রোগ্রামার নিয়োগ করে ডিজিটাল পদ্ধতি কার্যকর করা। পাঁচ. সুপ্রিম কোর্টসহ অধস্তন আদালতের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা। ছয়. আইন কমিশন এবং আইন ও বিচার বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পাঁচ হাজার বিচারক নিয়োগ। সাত. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ব্যতীত গণতান্ত্রিক সুশাসন অর্জন করা সম্ভব নয় বিধায় বিচারকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা। কারণ এ ধরনের প্রণোদনা স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। একই সঙ্গে একটি ঢালাও মন্তব্য ছিল বিচারকদের জন্য বিচারকাজ চালানোর অবকাঠামো নেই, যার ফলে বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া বিচারকদের জন্য যানবাহনের বরাদ্দও অতি প্রয়োজনীয়।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার কৌশল অংশের পূর্বে দাবি করা হয় যে বর্ণিত কৌশলগুলো ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মধ্যমেয়াদি মূল্যায়নের ভিত্তিতে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু এ মূল্যায়নের পূর্বেও এসব কৌশলের বিষয় সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জনগণ জানতে পারে। বিশেষ করে বিচার ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করার ক্ষেত্রটি। ই-বিচার ব্যবস্থাপনা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অধস্তন আদালতের বিচারকদের দ্বারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করার কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু স্বল্প মেয়াদে এ বিষয়ে কী উন্নতি অর্জিত হয়েছে তা কিছুই বলা হয়নি। এর পরের কৌশলটি হলো জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দোষী ব্যক্তিদের জবাবদিহির বিষয়ে এলাকাভিত্তিক প্রক্রিয়া ও তথ্য সংরক্ষণের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। বাস্তবে এ প্রক্রিয়ার নির্দেশনা হলো কমিউনিটি পুলিশ, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট থানা অপরাধ প্রতিরোধসহ অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। কাজেই প্রক্রিয়াটি কী তা অনেকাংশেই ধোঁয়াশে বা অস্পষ্ট। কৌশল হিসেবে প্রতি জেলায় একজন প্রোগ্রামার ও একজন সহকারী প্রোগ্রামারের সংস্থানের কথা বলা হয়েছে। এঁদের কাজ হবে বিচার ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান। এঁদের প্রয়োজন রয়েছে। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী এর জন্য স্থায়ী পদ সৃষ্টি করতে হবে এবং কম্পিউটার যন্ত্রও দিতে হবে। এ বিষয়টি সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রথম কর্মসূচি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এতে দাবি করা হয়, প্রতি জেলার কেস ম্যানেজমেন্ট ও সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। স্মরণ করা যায়, নব্বইয়ের দশকে প্রবর্তিত বিচার ব্যবস্থাপনা উন্নীতকরণ প্রকল্পে এ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মধ্য মেয়াদি মূল্যায়নে এ কার্যক্রম উন্নীত ও টেকসই করার জন্য কোনো বাড়তি কৌশলের বিষয় আছে কি না তা উল্লেখ করা হয়নি।

এর পরের কৌশলটি হলো সুপ্রিম কোর্টসহ জেলা বিচারকদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা। এ ক্ষেত্রেও যে অপ্রতুলতা রয়েছে তা কারো অজানা নয়। কয়েক বছর ধরে এ বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে একাধিকবার জানা যায়। কিন্তু এর জন্য নির্বাহী বিভাগ কী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে তার বাস্তব চিত্র ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মধ্যমেয়াদি মূল্যায়নে বলা হয়েছে কি না সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। বিচারিক অবকাঠামোর অপ্রতুলতা দূর করার কৌশলের পর আইন কমিশন এবং আইন ও বিচার বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সুপারিশকৃত পাঁচ হাজার বিচারক নিয়োগের বিষয়টিও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পূর্বেই জানা যায়। এ কৌশলেরও প্রয়োজন রয়েছে। তবে পাহাড়সম অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা হ্রাসের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলেরও প্রয়োজন অস্বীকার করা যায় না। এ কৌশলটি হলো বিচারকপ্রতি মাসওয়ারি মানদণ্ড। এ মানদণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। বিচার ব্যবস্থাপনাসহ জননিরাপত্তা বিধান ও অপরাধীদের সফলভাবে চিহ্নিত করার বিষয়টির উন্নতিকল্পে সব সময়ই বিচারকসহ পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি সব সরকারের কাছেই করা হয়। মহানগর পুলিশ বাহিনীর ক্ষেত্রে এ দাবি সব সময়ই উদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সরকার সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। ফলে দেখা যায়, এক বা একাধিক থানা নিয়ে জোন সৃষ্টি করা হয়। প্রতি জোনের জন্য উচ্চতর কর্মকর্তাও নিয়োগ করা হয়, যা আগে ছিল না। এর পরও গুরুতর অপরাধের সংখ্যা হ্রাস করা সম্ভব হয়নি। থানার ওসিদের পরিদর্শক পদে উন্নীত করা হয়। বেশির ভাগ থানায় মহানগর পরিদর্শক (তদন্ত) নিয়োগ করা হয়। এর জন্য সরকারি কোষাগারের যে অর্থ ব্যয় হয় তার তুলনায় ফল কী হয়েছে সে বিষয়ে মূল্যায়ন প্রয়োজন। এর ভিত্তিতে কৌশলও নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শূন্যতার কথা অস্বীকার করা যায় না। বিচারকদের ক্ষেত্রে কিছু অনভিপ্রেত আচরণের কথা বিচার বিভাগ সূত্রেই সাম্প্রতিক সময়ে জানা যায়। যেমন দেরিতে বিচারকার্য শুরু করা অথবা সাপ্তাহিক ছুটি ভোগের জন্য কর্মস্থল বিনা অনুমতিতে ত্যাগ করে ঢাকায় চলে আসা। সার্বিকভাবে বলা যায়, দুই ক্ষেত্রেই কর্ম সংস্কৃতি বা work culture-এর বড় অভাব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কৌশল কি হবে সে বিষয়টিও চিহ্নিত করা প্রয়োজন, যা সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ অবশ্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানা যায়। ফল কী হয়েছে তার মূল্যায়ন প্রয়োজন।

বর্ণিত কৌশলের শেষ ক্ষেত্রটি হলো গণতান্ত্রিক সুশাসনের জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিচারকদের জন্য উচ্চ বেতন নির্ধারণ করা। এ কৌশলে দাবি করা হয়েছে যে উচ্চ বেতন-ভাতা ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ ধরনের ঢালাও যুক্তি কিছুটা হলেও অসম্পূর্ণ। উচ্চ বেতন-ভাতার প্রয়োজন রয়েছে, তবে স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য তা যথেষ্ট নয়। এ বাস্তবতা মেনে নিয়ে অন্যান্য কৌশল কী হবে তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন। উচ্চ বেতন-ভাতার সঙ্গে রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদের বিষয়টিও বিবেচ্য। এ ছাড়া রয়েছে মানবিক মূল্যবোধসহ অন্যান্য বিষয় যেমন কর্মদক্ষতা। এসব ক্ষেত্রের উন্নতির জন্য কার্যকর প্রশিক্ষণ, নিবিড় পরীবিক্ষণ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঠিক ও গঠনমূলক নির্দেশনা। এসবের সঙ্গে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো ত্রুটিমুক্ত নিয়োগ পদ্ধতি যার মধ্যে অনুরাগ বা বিরাগ স্থান পাবে না। বিচারকদের নিয়োগ এখন জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়। বিচার বিভাগ স্বাধীন হওয়ার আগে এ দায়িত্ব সরকারি কর্মকমিশন পালন করত। এ কারণে ধারণা করা যায়, অধস্তন আদালতের বিচারক নিয়োগের বিষয়টি ত্রুটিমুক্ত হবে। এর পরও কর্মরত বিচারকদের অনভিপ্রেত আচরণ কেন হচ্ছে সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে উপযুক্ত কৌশল অবলম্বনের প্রয়োজন রয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিচার বিভাগে সুশাসন অর্জনের জন্য যে কৌশলের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ হলো মামলা নিষ্পত্তিসংক্রান্ত অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা। এ ২১ কর্মসূচিই এর প্রধান অংশ। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী এ কথাই বলেছেন। এর উদ্দেশ্য বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে কয়েক মাস ধরে প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের জনকল্যাণমুখী সংস্কারের বিষয় উল্লেখ করেছেন। একাধিকবার উল্লিখিত বিষয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল অবসরের পর রায়ের অকার্যকারিতার বিষয়। ২৯ এপ্রিল প্রায় প্রতিটি দৈনিকেই এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়। জানা যায়, রায় ঘোষণার পর ১৬৮টি মামলার আবার শুনানি হবে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ আদালতে রায় ঘোষণার পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা ১৬৮টি মামলার পুনঃশুনানি হবে। এর মধ্যে ১৬১টি রায় লেখার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারককে চিহ্নিত করা হয়। বাকি সাতটি লেখার দায়িত্ব ছিল এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির। এ ধরনের তথ্য আগে একেবারেই অজানা ছিল। অন্তত জনগণের জন্য অজানা ছিল। সুপ্রিম কোর্টের আলোচ্য সিদ্ধান্ত মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। এক মতবাদ হলো এর ফলে বিচার প্রার্থীদের ঝামেলা বৃদ্ধি পাবে। অন্য মতবাদ হলো অবসরগ্রহণের পর কোনো পাবলিক ডকুমেন্ট সই করা যায় না। এ বিতর্কের স্থায়ী সমাধান বাঞ্ছনীয়।

- See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/sub-editorial/2016/05/01/353513#sthash.dB9na5hG.dpuf
ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি সময়ের দাবি
                                  

৩০ এপ্রিল, ২০১৬ ইং

অনলাইন ডেস্ক

সমাজ-সভ্যতার পরিবর্তন ঘটছে খুব দ্রুত। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বদলে গেছে। ব্যাংক, বীমা এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান নানাভাবে মানুষকে আর্থিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে। অতীতে একজন মানুষ ব্যাংকে না গিয়েও ঠিকই জীবন চালিয়ে নিতে পারলেও এখন তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আর এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সঠিক, নিরাপদ, লাভজনক এবং স্থিতিশীল রাখার জন্য এখন আর্থিক শিক্ষা বা ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সবার জন্য। ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড, ব্যবসা-বাণিজ্য, দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন প্রভৃতিতে আর্থিক শিক্ষা মানে ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসির যথার্থ প্রয়োগ এবং গুরুত্বের বিষয়টি এখন সবাই উপলদ্ধি করছেন। ব্যাংকে হিসাব খোলা, আর্থিক লেনদেন করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সঞ্চয়ী স্কিমে টাকা জমা করার মাধ্যমে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবকিছুতেই আর্থিক নানা কৌশল জানা থাকা প্রয়োজন।

সঠিক আর্থিক শিক্ষা বা জ্ঞানের অভাবে আমাদের দেশে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ নানাভাবে প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব খোয়াচ্ছেন। প্রায়ই পত্র-পত্রিকায় সমবায় সমিতি কিংবা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পানির নামে বিভিন্ন প্রতারক চক্রের লোভনীয় ফাঁদে পড়ে কোটি কোটি টাকা হারিয়ে সহজ সরল সাধারণ মানুষের নিঃস্ব রিক্ত হয়ে যাবার খবর প্রকাশিত হয়। ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসির চর্চা থাকলে প্রতারক চক্র এভাবে সহজ সরল সাধারণ মানুষকে নয়ছয় বুঝিয়ে, অবিশ্বাস্য মুনাফার লোভ দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ পেত না কোনোভাবেই। শেয়ার বাজারে না বুঝে, না জেনে স্রেফ হুজুগে মেতে রাতারাতি অনেক টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে নিজের সর্বস্ব বিক্রি করে, বন্ধক রেখে, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করেছিল অনেকেই, ন্যূনতম আর্থিক শিক্ষা অর্থাত্ ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি থাকলে এভাবে আত্মঘাতী আর্থিক কর্মকাণ্ডে কেউ কোনোভাবেই লিপ্ত হতেন না।

এসব কারণেই এখন ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসির গুরুত্ব এবং এর যথার্থ প্রয়োগ নিয়ে সবাই ভাবছেন। ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসির জন্য বাণিজ্য কিংবা হিসাব বিজ্ঞান কিংবা অর্থনীতি, ব্যবসা প্রশাসন বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ডিগ্রির প্রয়োজন নেই। আর্থিক লেনদেনকে নিরাপদ, নিশ্চিত, লাভজনক এবং টেকসই করতে কিছু ন্যূনতম জ্ঞান থাকা জরুরি সবার। আর এটাকেই ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি বা আর্থিক শিক্ষার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসির যথার্থ বিকাশ হলে ব্যাংকিং খাত, আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য, খুচরা-পাইকারি ব্যবসা সবই নিরাপদ হয়ে উঠবে— এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। গত একদশকে যেসব আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে আমাদের ব্যাংকিং খাতে তার পেছনেও আর্থিক শিক্ষার অর্থাত্ ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসির অভাবকে দায়ী করা যেতে পারে অনেকাংশে। ব্যাংক ঋণের অর্থ ব্যবসা বাণিজ্য শিল্প উদ্যোগে সঠিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি একটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কোন সময়ে কোন ব্যবসাটি লাভজনক হবে তা ঠিকমতো ধরতে না পারলে এবং ভুল পথে বিনিয়োগ করলে সে ব্যবসায় লোকসান ছাড়া লাভের আশা করা বৃথা।

দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বিশেষত সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষতা গড়ে তুলতে ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি বা আর্থিক শিক্ষা নামে একটি জাতীয় কর্মসূচি নিয়ে কাজ শুরু করেছে দেশের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, গৃহিণী, কৃষক, দিনমজুরসহ সর্বস্তরের মানুষকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে পর্যায়ক্রমে। আগামী জুলাই মাসে জাতীয় পর্যায়ে একটি সেমিনারের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলে জানা গেছে।

সোহরাওয়াদী উদ্যানে গাঁজা সেবনের মহোৎসব ঐতিহাসিক মর্যাদা ও পরিবেশ বিনষ্ট
                                  

সোহরাওয়াদী   উদ্যান ইতিহাসের আলোকে একটি ঐতিহাসিক স্থান । ঐই  ঐতিহাসিক   স্থানে  সাকাল, দুপুর, বিকাল, এমনকি  সন্ধ্যা  পেরিয়ে  রাত পর্যন্ত  অবাধে  চলে  গাঁজা  সেবনের  মহোৎসব । নি¤œ শ্রেনীর খেটে খাওয়া মানুষ  থেকে শুরু করে বিত্তশালী পরিবারের বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া বখাটে ছেলেরা বৃত্তাকারে  বসে  গাঁজা  সেবনে মেতে উঠে। পাশাপাশি চলে তাসের জুয়া খেলার আসর। সরজমিনে দেখে যায়, কেউবা গাঁজা  সেবনে ব্যস্ত। আবার কেউবা মনের আনন্দে সেবন করতে যাচ্ছে, আর চোঁখের দৃষ্টি যেন নিবদ্ধ হয়ে আছে তাসের হরতন ,রুইতন ,  কিংবা ইস্কাপনের দিকে । এতে  উদ্যানের পরিবেশ যেমন বিনষ্ট হচ্ছে, তেমনি নেশার চাহিদা অনুযায়ী যোগান দিতে ব্যর্থ হয়ে ছিনতাইয়ের পথ বেছে নিচ্ছে । এমন পরিস্থিতিতে, পরিবার পরিজন নিয়ে পরিদর্শনে আসা নাগরিক জীবনের নিরাপওা আজ  হুমকীর সম্মুখীন । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইতিহাস সমৃদ্ধ সোহরাওয়াদী  উদ্যানে আছে শিখা চিরন্তন । যার উজ্জ্বল  আলো জ্বলজ্বল করছে প্রতিনিয়ত । এই আলোয় আলোকিত হওয়ার কথা ছিল সমগ্র বাংলাদেশের। কিন্তু  প্রদীপের এক টুকরো  আলোর নীচে যেমন আঁধার থাকে, তেমনি  সোহরাওয়াদী   উদ্যানে  আলোকিত পরিবেশকে প্রতিনিয়ত কলঙ্কিত করছে কিছু  গাঁজা সেবনকারী ।


   Page 1 of 1
     উপসম্পাদকীয়
দৈনিক বিশ্ব মানচিত্র পত্রিকার উদ্যোগে “বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস উপলক্ষে” আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পীরজাদা শহীদুল হারুন।
.............................................................................................
বন্ধে যথাযথ উদ্যোগ নিক এনবিআর
.............................................................................................
এই বৈশাখে চাই মুক্তিবৃক্ষের আশীর্বাণী
.............................................................................................
বদিশেী মোবাইল কম্পানি কনে বায়োমট্রেকি ডাটাবইেজ বানাচ্ছ?
.............................................................................................
মানবিকীকরণ বাংলাদেশের ভূমি নীতির
.............................................................................................
আগামী পাঁচ বছরে বিচারব্যবস্থায় সুশাসন
.............................................................................................
ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি সময়ের দাবি
.............................................................................................
সোহরাওয়াদী উদ্যানে গাঁজা সেবনের মহোৎসব ঐতিহাসিক মর্যাদা ও পরিবেশ বিনষ্ট
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো: হাবিবুর রহমান সিরাজ
আইন উপদেষ্টা : অ্যাড. কাজী নজিব উল্লাহ্ হিরু
সম্পাদক ও প্রকাশক : অ্যাডভোকেট মো: রাসেদ উদ্দিন
সহকারি সম্পাদক : বিশ্বজিৎ পাল
যুগ্ন সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান রিপন
নির্বাহী সম্পাদক: মো: সিরাজুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : সাগর আহমেদ শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস ৫২ / ২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সূত্রাপুর ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৯৯ মতিঝিল , করিম চেম্বার ৭ম তলা , রুম নং-৭০২ , ঢাকা থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭২৬-৮৯৬২৮৯, ০১৬৮৪-২৯৪০৮০ Web: www.dailybishowmanchitra.com
Email: news@dailybishowmanchitra.com, rashedcprs@yahoo.com
    2015 @ All Right Reserved By dailybishowmanchitra.com

Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD