|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   শিল্প সাহিত্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
নজরুল প্রয়াণ দিবস আজ

বিশ্ব মানচিত্র অনলাইন রিপোর্ট : ‘যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে!/ অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে-/ বুঝবে সেদিন বুঝবে।/ .... গাইতে বসে কণ্ঠ ছিড়ে আসবে যখন কান্না,/ বলবে সবাই- সেই যে পথিক তার শোনানো গান না?’ (কাজী নজরুল ইসলাম; অভিশাপ)।

আজ ১২ ভাদ্র, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১ তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৬ সালের এদিনে মৃত্যুবরণ করেন চির তারুণ্যের প্রতীক এই কবি। কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।  সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন তিনি।  তুরস্কে কামাল পাশার নেতৃত্বে প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা, রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব আর ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের তরঙ্গকে নজরুল তাঁর সাহিত্যে বিপুলভাবে ধারণ করেছেন। সেই সময়ে ধর্মান্ধ মুসলমানদের তিনি পুনর্জাগরণের ডাক দিয়েছেন এবং এক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল একজন বলিষ্ঠ নেতার মতো। কাজী নজরুল ইসলাম প্রেমের কবি, বিরহ-বেদনা ও সাম্যের কবি। বাংলা সাহিত্য-সঙ্গীত তথা সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান পুরুষ। তবে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তার লেখনী ধূমকেতুর মত আঘাত হেনে জাগিয়ে দিয়েছিল ভারতবাসীকে। তিনি পরিণত হন বিদ্রোহের কবিতে। আজও তার নানা ধরনের লেখার মাঝ থেকে বিদ্রোহের পংক্তিমালা বাঙালির হূদয়ে অনাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের দুন্দুভি বাজিয়ে চলে। তার কবিতা ‘চ্ল চল্ চল’ বাংলাদেশের রণসঙ্গীত।
কবির ডাক নাম ছিল দুখু মিয়া। জীবিকার তাগিদে রুটির দোকানে কাজ করা থেকে শুরু করে মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবেও কাজ করেছেন। মূলত লেটো দলে যোগদানের মাধ্যমেই সাহিত্যচর্চা অঙ্কুরিত হয়। এ দলের বিভিন্ন নাটকের জন্য তিনি গান ও কবিতা লেখেন। নজরুলের পড়ালেখার হাতেখড়ি হয় মক্তবে। দারিদ্র্যের কারণে মাত্র ১০ বছর বয়সেই পরিবারের ভার বহন করতে হয়েছে তাকে। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কিছুদিন কাজ করার পর তিনি পেশা হিসেবে বেছে নেন সাংবাদিকতাকে। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কবি তৎকালীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন। সক্রিয় রাজনীতি করার কারণে বারবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তিনি রচনা করেন ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’। বন্দিদশার ভেতর দিয়ে তার হাতে সৃষ্টি হয়েছে গান, কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস, ছোটগল্পসহ অসংখ্য রচনা।

১৯২১ সালের ডিসেম্বরে কুমিল্লা থেকে ফেরার পথে কাজী নজরুল ইসসলাম দুটি বৈপ্লবিক সাহিত্যকর্মের সৃষ্টি করেন। একটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও অপরটি ‘ভাঙ্গার গান’। এ দুই সাহিত্যকর্ম বাংলা পদ্য ও গণসঙ্গীতের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল তখন। ১৯২২ সালে তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে বাংলাকাব্য জগতে নতুন দিনের সূচনা হয়। এ কাব্যগ্রন্থের ‘প্রলয়োল্লাস’, ‘বিদ্রোহী কামাল পাশা’, ‘শাত-ইল-আরব’, ‘আগমনী’, ‘খেয়াপারের তরণী’সহ প্রতিটি কবিতাই বাংলা কাব্যে নতুন বাঁক সৃষ্টি করেছিল।

সঙ্গীত রচনায় নজরুল অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। তিনি প্রায় তিন হাজার গান রচনা ও সুর করেছেন। রাগ-রাগিণীকে দারুণভাবে খেলিয়েছেন গানে গানে। ছোটগল্প, উপন্যাস, সঙ্গীত, নাটক লিখলেও মূলত কবি হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিত। আজীবন বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গি আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠের কারণে তিনি ভূষিত হন ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে।

১৯৭২ সালের ২৪ মে স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। তাকে দেয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধি প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।


বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। প্রেম, দ্রোহ, সাম্যবাদ ও জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উত্স। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃত্ লেখক। তাঁর লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তাঁর কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে।

কর্মসূচি:জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন ও বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে।

আওয়ামী লীগ: কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে কবির সমাধিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: বাদ ফজর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে কোরানখানি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সকাল ৭টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ জমায়েত হবেন। সেখান থেকে তারা সকাল সোয়া ৭টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে শোভাযাত্রা সহকারে কবির সমাধিতে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। পরে কবির সমাধি প্রাঙ্গণে উপাচার্যের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ভীষ্মদেব চৌধুরী।

বাংলা একাডেমি: দিবসটি উপলক্ষে বিকেল চারটায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতা ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সভাপতিত্ব করবেন। অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর নজরুল বিষয়ে একক বক্তৃতা প্রদান করবেন। সন্ধ্যায় থাকবে নজরুল সঙ্গীতের পরিবেশনা।

নজরুল ইন্সটিটিউট: নজরুল ইনস্টিটিউট ‘নজরুল পদক-২০১৬’ প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

নজরুল প্রয়াণ দিবস আজ
                                  

বিশ্ব মানচিত্র অনলাইন রিপোর্ট : ‘যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে!/ অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে-/ বুঝবে সেদিন বুঝবে।/ .... গাইতে বসে কণ্ঠ ছিড়ে আসবে যখন কান্না,/ বলবে সবাই- সেই যে পথিক তার শোনানো গান না?’ (কাজী নজরুল ইসলাম; অভিশাপ)।

আজ ১২ ভাদ্র, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪১ তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৬ সালের এদিনে মৃত্যুবরণ করেন চির তারুণ্যের প্রতীক এই কবি। কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।  সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন তিনি।  তুরস্কে কামাল পাশার নেতৃত্বে প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা, রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব আর ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের তরঙ্গকে নজরুল তাঁর সাহিত্যে বিপুলভাবে ধারণ করেছেন। সেই সময়ে ধর্মান্ধ মুসলমানদের তিনি পুনর্জাগরণের ডাক দিয়েছেন এবং এক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল একজন বলিষ্ঠ নেতার মতো। কাজী নজরুল ইসলাম প্রেমের কবি, বিরহ-বেদনা ও সাম্যের কবি। বাংলা সাহিত্য-সঙ্গীত তথা সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান পুরুষ। তবে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তার লেখনী ধূমকেতুর মত আঘাত হেনে জাগিয়ে দিয়েছিল ভারতবাসীকে। তিনি পরিণত হন বিদ্রোহের কবিতে। আজও তার নানা ধরনের লেখার মাঝ থেকে বিদ্রোহের পংক্তিমালা বাঙালির হূদয়ে অনাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের দুন্দুভি বাজিয়ে চলে। তার কবিতা ‘চ্ল চল্ চল’ বাংলাদেশের রণসঙ্গীত।
কবির ডাক নাম ছিল দুখু মিয়া। জীবিকার তাগিদে রুটির দোকানে কাজ করা থেকে শুরু করে মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবেও কাজ করেছেন। মূলত লেটো দলে যোগদানের মাধ্যমেই সাহিত্যচর্চা অঙ্কুরিত হয়। এ দলের বিভিন্ন নাটকের জন্য তিনি গান ও কবিতা লেখেন। নজরুলের পড়ালেখার হাতেখড়ি হয় মক্তবে। দারিদ্র্যের কারণে মাত্র ১০ বছর বয়সেই পরিবারের ভার বহন করতে হয়েছে তাকে। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কিছুদিন কাজ করার পর তিনি পেশা হিসেবে বেছে নেন সাংবাদিকতাকে। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কবি তৎকালীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন। সক্রিয় রাজনীতি করার কারণে বারবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তিনি রচনা করেন ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’। বন্দিদশার ভেতর দিয়ে তার হাতে সৃষ্টি হয়েছে গান, কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস, ছোটগল্পসহ অসংখ্য রচনা।

১৯২১ সালের ডিসেম্বরে কুমিল্লা থেকে ফেরার পথে কাজী নজরুল ইসসলাম দুটি বৈপ্লবিক সাহিত্যকর্মের সৃষ্টি করেন। একটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও অপরটি ‘ভাঙ্গার গান’। এ দুই সাহিত্যকর্ম বাংলা পদ্য ও গণসঙ্গীতের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল তখন। ১৯২২ সালে তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে বাংলাকাব্য জগতে নতুন দিনের সূচনা হয়। এ কাব্যগ্রন্থের ‘প্রলয়োল্লাস’, ‘বিদ্রোহী কামাল পাশা’, ‘শাত-ইল-আরব’, ‘আগমনী’, ‘খেয়াপারের তরণী’সহ প্রতিটি কবিতাই বাংলা কাব্যে নতুন বাঁক সৃষ্টি করেছিল।

সঙ্গীত রচনায় নজরুল অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। তিনি প্রায় তিন হাজার গান রচনা ও সুর করেছেন। রাগ-রাগিণীকে দারুণভাবে খেলিয়েছেন গানে গানে। ছোটগল্প, উপন্যাস, সঙ্গীত, নাটক লিখলেও মূলত কবি হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিত। আজীবন বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গি আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠের কারণে তিনি ভূষিত হন ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে।

১৯৭২ সালের ২৪ মে স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। তাকে দেয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধি প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।


বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। প্রেম, দ্রোহ, সাম্যবাদ ও জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উত্স। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃত্ লেখক। তাঁর লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তাঁর কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে।

কর্মসূচি:জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন ও বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে।

আওয়ামী লীগ: কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে কবির সমাধিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: বাদ ফজর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে কোরানখানি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সকাল ৭টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ জমায়েত হবেন। সেখান থেকে তারা সকাল সোয়া ৭টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে শোভাযাত্রা সহকারে কবির সমাধিতে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। পরে কবির সমাধি প্রাঙ্গণে উপাচার্যের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ভীষ্মদেব চৌধুরী।

বাংলা একাডেমি: দিবসটি উপলক্ষে বিকেল চারটায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতা ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সভাপতিত্ব করবেন। অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর নজরুল বিষয়ে একক বক্তৃতা প্রদান করবেন। সন্ধ্যায় থাকবে নজরুল সঙ্গীতের পরিবেশনা।

নজরুল ইন্সটিটিউট: নজরুল ইনস্টিটিউট ‘নজরুল পদক-২০১৬’ প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

আজ বিশ্বকবির ৭৬তম মৃত্যুবার্ষিকী
                                  

আজ বাইশে শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারিভাবে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (বাংলা-পঁচিশে বৈশাখ-১২৬৮) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। মাতা সারদা সুন্দরী দেবী। রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুুরুষেরা খুলনা জেলার রুপসা উপজেলার পিঠাভোগে বাস করতেন। বাংলা ১৩৪৮ সালের বাইশে শ্রাবণ (ইংরেজি ৭ আগস্ট-১৯৪১) কলকাতায় পৈতৃক বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, ভাষাবিদ, চিত্রশিল্পী-গল্পকার। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে ‘তত্ববোধিনী পত্রিকা’য় তার প্রথম লেখা কবিতা ‘অভিলাষ’ প্রকাশিত হয়। অসাধারণ সৃষ্টিশীল লেখক ও সাহিত্যিক হিসেবে সমসাময়িক বিশ্বে তিনি খ্যাতিলাভ করেন। লিখেছেন বাংলা ও ইংরেজি ভাষায়। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় তার সাহিত্যকর্ম অনূদিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের পাঠ্যসূচিতে তার লেখা সংযোজিত হয়েছে। ১৮৭৮ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কবিকাহিনী’ প্রকাশিত হয়। এ সময় থেকেই কবির বিভিন্ন ঘরানার লেখা দেশ-বিদেশে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ পেতে থাকে। ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয় তার ‘গীতাঞ্জলী’ কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

লেখালেখির পাশাপাশি তিনি ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে তিনি সেখানেই বসবাস শুরু করেন। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ১৯২১ সালে গ্রামোন্নয়নের জন্য ‘শ্রীনিকেতন’ নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্বভারতী’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৯১ সাল থেকে পিতার আদেশে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে, পাবনা, নাটোরে এবং উড়িষ্যায় জমিদারীগুলো তদারকি শুরু করেন কবি। শিলাইদহে তিনি দীর্ঘদিন অতিবাহিত করেন। এখানে জমিদার বাড়িতে তিনি অসংখ্য কবিতা ও গান রচনা করেন। ১৯০১ সালে শিলাইদহ থেকে সপরিবারে কবি বোলপুরে শান্তিনিকেতনে চলে যান।

কবি দুই হাজার গান রচনা করেছেন। অধিকাংশ গানে সুরারোপ করেন। তার সমগ্র গান ‘গীতবিতান’ গ্রন্থে রয়েছে। কবির লেখা ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। ভারতের জাতীয় সংগীতটিও কবির লেখা। জীবিতকালে তার প্রকাশিত মৌলিক কবিতাগ্রন্থ হচ্ছে ৫২টি, উপন্যাস ১৩, ছোটগল্প’র বই ৯৫টি, প্রবন্ধ ও গদ্যগ্রন্থ ৩৬টি, নাটকের বই ৩৮টি। কবির মৃত্যুর পর ৩৬ খণ্ডে ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ প্রকাশ পায়। এ ছাড়া ১৯ খণ্ডের রয়েছে ‘রবীন্দ্র চিঠিপত্র।’ ১৯২৮ থেকে ১৯৩৯ পর্যন্ত কবির আঁকা চিত্রকর্ম’র সংখ্যা আড়াই হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে ১৫৭৪টি চিত্রকর্ম শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রভবনে সংরক্ষিত আছে। কবির প্রথম চিত্র প্রদর্শনী দক্ষিণ ফ্রান্সের শিল্পীদের উদ্যোগে ১৯২৬ সালে প্যারিসের পিগাল আর্ট গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আজ রবিবার বিকাল চারটায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে বিশেষজ্ঞ বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এতে ‘পরিবেশ, নির্মাণসংস্কৃতি ও রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করবেন পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট স্থপতি, রবীন্দ্র গবেষক ও পরিবেশবিদ অরুণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুদেষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইব্রাহিম হোসেন খান। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জমান। পরে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করবেন শিল্পী কাদেরী কিবরিয়া। এ ছাড়াও শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করেছে ‘রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোচনা ও সংগীতানুষ্ঠান। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. হায়াত্ মামুদ। এছাড়াও বাংলাদেশ রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সংস্থা, শিশু একাডেমি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এদিকে, ছায়ানট আয়োজন করেছে স্মরণ অনুষ্ঠানের। সন্ধ্যা সাতটায় ছায়ানট ভবনে শুরু হবে অনুষ্ঠান।

হুমায়ূন আহমেদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
                                  

বিশ্ব মানচিত্র অনলাইন রিপোর্ট : নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের এই দিনে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল গোটা জাতি। সেই শোক আজো কাটেনি ভক্ত-পাঠকদের। তবে হুমায়ূন আজো বেঁচে আছেন লক্ষ পাঠকের হূদয়ে।  দিবসটি উপলক্ষে কথাশিল্পী হুমায়ূন        আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকে গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রকাশকরা নুহাশ পল্লীতে কথাশিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাবেন এবং হুমায়ূন আহমেদ প্রতিষ্ঠিত ‘শহীদ স্মৃতি বিদ্যালয়ে’ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক। উপন্যাস, নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর। হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জনকও বটে। উপন্যাসে ও নাটকে তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’ তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে অনুকরণীয়।

হুমায়ূন আহমেদের শরীরে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মরণব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর তিনি উন্নত চিকিত্সার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান। সেখানে ২০১২ সালের জুলাই মাসের ১৬ তারিখ তিনি চলে যান লাইফ সাপোর্টে। সে অবস্থাতেই ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে এগারোটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিউইয়র্ক থেকে ২০১২ সালের ২৩ জুলাই দেশে ফিরিয়ে আনা হয় হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ। পরদিন তাকে সমাহিত করা হয় তারই গড়ে তোলা নন্দনকানন নুহাশ পল্লীর লিচুতলায়।

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। নব্বই দশকের মাঝামাঝি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করে লেখালেখিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেন।

হুমায়ূন আহমেদের লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি। তার পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে আগুনের পরশমনি, শ্যামল ছায়া, ঘেটুপুত্র কমলা প্রভৃতি। আশির দশকের মাঝামাঝি তাঁর টিভি নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ তাঁকে এনে দিয়েছিল তুমুল জনপ্রিয়তা। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৪ সালে হুমায়ূন আহমেদ ‘একুশে পদক’ লাভ করেন।

কবি সুফিয়া কামালের ১০৬তম জন্মদিন আজ
                                  

বিশ্ব মানচিত্র রিপোর্ট : কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১০৬তম জন্মদিন আজ। মানবতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার একজন সমাজসেবী ও নারীনেত্রীর  নাম বেগম সুফিয়া কামাল। নারী জাগরণের পুরোধা ব্যক্তিত্ব তিনি। ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলা ভাষার বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সাহিত্যিক, রাজনৈতিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন।

কবি সুফিয়া কামাল তার সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি নারীমুক্তি, মানবমুক্তি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজ করে গেছেন।

তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে—সাঁঝের মায়া, মায়া কাজল, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী, দিওয়ান, মোর জাদুদের সমাধি পরে প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। গল্পগ্রন্থ ‘কেয়ার কাঁটা’। ভ্রমণকাহিনী ‘সোভিয়েত দিনগুলি’। স্মৃতিকথা ‘একাত্তুরের ডায়েরি’ অন্যতম।

সুফিয়া কামাল ৫০টিরও অধিক পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি, সোভিয়েত লেনিন, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস পদক উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়। বাংলাদেশি নারীদের মধ্যে তিনিই প্রথম এ সম্মান লাভ করেন।

জন্মদিন উপলক্ষে নানা আয়োজন

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি সুফিয়া কামালের ১০৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এর মধ্যে রয়েছে কবি সুফিয়া কামাল স্মারক বক্তৃতা, কবি সুফিয়া কামাল সম্মাননা পদক প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আজ সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং শিক্ষা ও সুফিয়া কামাল শীর্ষক স্মারকবক্তৃতা, সম্মাননা পদক প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। স্মারক বক্তৃতা প্রদান করবেন- বিশিষ্ট সামজবিজ্ঞানী প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮তম জন্মবার্ষিকী আজ
                                  

বিশ্ব মানচিত্র রিপোর্ট : আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে—মনে অপার দুঃখ নিয়ে গেয়েছিলেন কবি নজরুল। তবে তার লেখা গান সত্যি হয়েছে। তাঁকে সত্যিই ভোলা যায় না। আমাদের অস্তিত্বে মিশে আছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ। গণমানুষের প্রিয় কবি বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮তম জন্মবার্ষিকী। সাম্যের কবি, বিরহ-বেদনার কবি, বিদ্রোহের কবি বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান পুরুষ।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়ভাবে  ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তাঁর লেখনী ধূমকেতুর মতো আঘাত হেনে জাগিয়ে দিয়েছিল ভারতবাসীকে। নজরুল তার কবিতা, গান, উপন্যাসসহ অন্যান্য লেখনী ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পরাধীন ভারতে বিশেষ করে অবিভক্ত বাংলাদেশে সামপ্রদায়িকতা, সামন্তবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বলিষ্ঠ ও সোচ্চার কণ্ঠ ছিলেন। সে কারণে ইংরেজ সরকার তাঁর গ্রন্থ ও রচনা বাজেয়াপ্ত করেছে এবং কারাদণ্ড দিয়েছে। কারাগারেও বিদ্রোহী নজরুল টানা চল্লিশ দিন অনশন করে বিদেশি সরকারের জেলজুলুমের প্রতিবাদ করেছিলেন।

‘বল বীর চির উন্নত মম শির’ কবিতার মাধ্যমে তিনি মানুষের সামনে আবির্ভূত হন ‘বিদ্রোহী’ কবি হিসাবে। আজও কবির নানা ধরনের লেখার মাঝ থেকে বিদ্রোহের পংক্তিমালা বাঙালির হূদয়ে অনাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের দুন্দুভি বাজিয়ে চলে। তার কবিতা ‘চ্ল চল্ চল্’ বাংলাদেশের রণসংগীত।

রবীন্দ্রসৃষ্ট বিশাল জগতের পাশে কবি নজরুল গড়ে তোলেন নিজস্ব জগত্। সেখানে ফুটিয়ে তোলেন স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ নজরুলের সদম্ভ অভ্যুদয়কে এই বলে স্বাগত জানিয়েছিলেন, ‘আয় চলে আয়রে ধূমকেতু, আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু’।’ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত কাজী নজরুল ইসলাম বিশ শতকের বিশ ও ত্রিশের দশকে উপমহাদেশের অবিভক্ত বাংলার সাংস্কৃতিক জগতে সবচেয়ে বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। দ্রোহ, প্রেম, মানবতা কবির রচনাকে করেছে চিরন্তন, নিয়ে গেছে গণমানুষের কাছাকাছি। শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত মানুষের আর্তি বিশেষভাবে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর রচনায়।

কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম বাংলা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬/১৮৯৯ ইং। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে। তার পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ, মা জাহেদা খাতুন। দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় দুঃখ-দারিদ্র্য ছিল তাঁর নিত্য সঙ্গী। তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া। পিতার অকাল মৃত্যুতে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তিনি শিশু বয়সেই মক্তবে শিক্ষকতা, হাজি পালোয়ানের মাজারে খাদেম এবং মসজিদের মুয়াজ্জিনের কাজ করেছেন। পরবর্তীকালে বাংলা সাহিত্যে ইসলামি ঐতিহ্যের সার্থক ব্যবহারে এ সম্পৃক্ততা খুব ফলপ্রসূ হয়েছে।

১৯৭২ সালের ২৪ মে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে কবি সপরিবারে বাংলাদেশে আসেন। বাংলাদেশ সরকার কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করেন এবং জাতীয় কবি হিসাবে ঘোষণা দেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশেই ছিলেন। তাঁর জীবনকাল ৭৮ বছর হলেও ১৯৪২ সালের জুলাই মাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর দীর্ঘ ৩৪ বছর ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি অসহনীয় নির্বাক জীবন কাটিয়েছেন।

জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠানমালা

দিনটি উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বছর নজরুল জন্মবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান হবে ঢাকায়। আজ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিকাল তিনটায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নজরুল ইন্সটিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন জাতীয় কবির পৌত্রী খিলখিল কাজী।  এছাড়া নজরুল ইন্সটিটিউট ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এ উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যত আয়োজন

জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ উপলক্ষে সকাল সোয়া ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা কলা ভবন প্রাঙ্গণে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমবেত হবেন। এরপর সকাল সাড়ে ৬টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে কবির মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। উপাচার্যের সভাপতিত্বে মাজার প্রাঙ্গণে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ বিরোধী সৈনিক নজরুল।’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের উদ্যোগে সন্ধ্যা ৭টায় ‘রবীন্দ্র-নজরুল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’র আয়োজন করা হয়েছে।

১৯৭৬ সালের ১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ
                                  

ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পানির ন্যায় সঙ্গত দাবিকে জাতীয় দাবিতে পরিণত করার লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ফারাক্কা অভিমুখে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে আজকের প্রেক্ষাপটে তার মূল্যায়ন সময়ের দাবি বলে আমার বিশ^াস।
১৯৭৬ সালে পানির দাবিতে পরিচালিত ওই আন্দোলনকে এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবীসহ রাজনৈতিক মহলের অনেকেই ভারত বিরোধী আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করতে চেয়েছিল। কিন্তু আজ বঙ্গবন্ধু কন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম পর্যন্ত সকলেই তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির দাবিতে জাতীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ। এই পরিবর্তন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে।
বৃটিশ ভারতে একটি রাজনৈতিক প্রবাদ বাক্য পরিচালিত ছিল-  ডযধঃ নধহমষব ঃযরহশং ঃড়ফধু, ৎবংঃ ড়ভ ওহফরধ ঃযরহশং ঃড়সড়ৎৎড়.ি এখানে বলতেই হয়, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সেই সময়ে তাৎক্ষণিকভাবে যেটা বুঝতে পারতেন, অন্যান্য নেতারা সেটা অনেক পরে উপলব্ধি করতে পারতেন।
১৯৫৭ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বুঝতে পেরেছিলেন পাকিস্তান আমাদের রাষ্ট্র নয়। তাই সংগ্রাম ছাড়া বাংলার মানুষের কোনো বিকল্প নেই। ১৯৭৬ সালে অশীতিপর বৃদ্ধ এই জননেতা বুঝতে পেরেছিলেন অভিন্ন নদীর পানি থেকে ভারতের শাসক শ্রেণি বাংলাদেশকে বঞ্চিত করতে চায়। এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম ছাড়া দেশকে বাঁচানোর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।
প্রথমে আমাদের জানতে হবে বাংলাদেশের পানির চাহিদার উৎস এবং পানির প্রয়োজনীয়তা। আমাদের সভ্যতা ও জীবন টিকিয়ে রাখার জন্য কতটা প্রয়োজন। আমরা সকলেই জানি মাটি, পানি ও শ্রম ব্যবস্থার সমন্বয়ে মানব সভ্যতা গড়ে উঠেছে এবং তা পরিচালিত হচ্ছে। পানি না থাকলে কৃষি ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে, মৎস্য উৎপাদন হবে না। এমনকি নগর সভ্যতা তথা যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম বাহন হচ্ছে- নদীর তীরে শহর সভ্যতা গড়ে ওঠা।
এভাবেই আদিকাল থেকে মানব জীবন পরিচালিত হয়েছে। সে কারণেই গুণী জনেরা বলেন, পানিই জীবন। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস বন্ধু রাষ্ট্রের শাসক শ্রেণি বাংলাদেশের সেই পানিই কেড়ে নিচ্ছে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে। তারই বিরুদ্ধে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে জনগণকে নিয়ে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ।
ওই লংমার্চ কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী নিজেই। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিল ১২ জন। সর্বকনিষ্ঠ সদস্য আমি শেখ শওকত হোসেন নিলু, বাকি প্রায় সকলেই ইহলোক ত্যাগ করেছেন। মশিউর রহমান যাদু মিয়া, হাজী মোহাম্মদ দানেশ,  ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম চৌধুরী, কাজী জাফর আহমেদ, আবু নাসের খান ভাসানী, মাওলানা আব্দুল মতিন, জনাব সিরাজুল হোসেন খান, জনাব এনায়েত উল্লাহ খান, ব্যারিস্টার কামরুল ইসলাম ছালাউদ্দীন, জনাব আনোয়ার জাহিদ, আব্দুল মান্নান ভূইয়া, এমরান আলী সরকার, এস এ বারী এটিরা গত হয়েছেন।
আমারও বয়স হয়েছে, সত্য কথা বলতে কী রোগে-শোকে ভারাক্রান্ত। তথাপি সেই ঐতিহাসিক ঘটনার কালের সাক্ষী হিসেবে ১৬ মে আসলেই কিছু বলতে ইচ্ছা করে।
১৯৭৪ সালে ভারত সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সময় ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রী ছিলেন বাবু  জগজীবন রাম, আর বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রী ছিলেন জনাব খন্দকার মোসতাক আহাম্মেদ। দিল্লিতে একাধিকবার ফারাক্কা চালুর প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এমনকি ভরতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বাংলদেশের পক্ষ থেকে দেন-দরবার করা হয়। পরিশেষে খন্দকার মোসতাক আহাম্মেদকে সরিয়ে দিয়ে আব্দুর রব সেরনিয়াবাদকে  বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। বলতে গেলে এক প্রকার চাপের মুখেই বাংলাদেশকে বাধ্য করা হয় পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা চালু করার জন্য। গঙ্গা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র- মূলত তিনটি অববাহিকা থেকে বাংলাদেশ পানি পায়। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন তিস্তা অববাহিকার পানিই হচ্ছে শতকরা ৬০ ভাগ। আর এ কারণেই তিস্তার চুক্তি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ভারতীয় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কলা-কৌশলের কারণেই দুইবার সমঝোতা চুক্তি হয় হয় করেও হয় নাই।
ঐতিহাসিক মিছিল
আমিসহ বহুবার বহুজনে এই লংমার্চের বর্ণনা দিয়েছেন। সে কারণেই আমার এই প্রবন্ধে মাদ্রাসা ময়দানের ১৫ মে মহাসমাবেশ ও মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ১৬ মে’র ফারাক্কা অভিমুখে পরিচালিত লংমার্চের খুব বেশি বর্ণনা দিলাম না। এক কথায় বলতে হয়, ১৫ মে রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন একমাত্র বক্তা, সকাল ১০টায় সভা শুরু হয়ে বেলা পৌনে ১১টায় বক্তব্য শেষ করেন তিনি। মোনাজাত পরিচালনা করেন লেবার পার্টির সভাপতি মাওলানা আব্দুল মতিন। বেলা ১১টায় শুরু হয় ঐতিহাসিক লংমার্চ। রাজশাহী থেকে ৩৩ কিলোমিটার পথ চাপাইনবাবগঞ্জ। রাস্তার দুই ধারে হাজার হাজার নারী-পুরুষ চিড়া, মুড়ি, কাঁচা আম দিয়ে মিছিলকারীদের আপ্যায়ন করিয়েছেন। একখান খোলা জিপে দাঁড়িয়ে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী হাত নেড়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন সর্বস্তরের জনগণের। ফুলে ফুলে বারবার ভরে যাচ্ছিল খোলা জিপখানী। আমার কাছে মনে হচ্ছিল মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বাংলাদেশে এক মুকুটহীন স¤্রাট। এই মাদ্রাসা ময়দানেই মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী জাতির উদ্দেশে তার শেষ ভাষণ দেন, যেটাকে দেশের জন্য তার নছিয়াত হিসেবেও গ্রহণ করা চলে।
প্রথমত তিনি বলেন- রাষ্ট্রের কোনো স্থায়ী বন্ধু নেই, রাষ্ট্রের আছে স্বার্থ। যিনি রাষ্ট্রনায়ক, রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করাই তার পবিত্র দায়িত্ব।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালে ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করেছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এই অঞ্চলে ভারত একটি আধিপত্যবাদী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ব্যক্তি ইন্দিরা গান্ধি কিংবা জ্যোতি বসুর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক যত ভালই থাকুক না কেন, আধিপত্যবাদী ভারত তার আধিপত্যের প্রকাশ ঘটানোর জন্য যা প্রয়োজন তাই করবে। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন শক্তির মানসিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের সিকিমের ন্যায় চুক্তির ষড়যন্ত্র যেমন আছে তেমনি একটি তাবেদার রাষ্ট্র বানিয়ে ক্ষমতায় থাকারও ষড়যন্ত্র আছে। কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ জাতীয়তাবাদী ভূমিকার কারণে সেই স্বাধীন-মর্যাদাবান বাংলাদেশের বিরোধী স্বার্থ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র সফল হয় নাই। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার উপরে গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, বিভক্ত জাতি সব সময়ই দুর্বল। ১৯৭৬ সালের ১৭ই নভেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন। কিন্তু মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক লংমার্চের ফলে জনগণের মধ্যে জাতীয় ঐক্যের বুুনিয়াদ সৃষ্টি হয়। তারপর সরকারের সঙ্গে ভারতের চুক্তি হয়েছে, কিন্তু সঠিকভাবে বাংলাদেশ ন্যায়সঙ্গত পানি পায় নাই।
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে দুই দুইবার তিস্তার পানি চুক্তি না হওয়ার কারণ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো সংবিধানীয় অক্ষমতার জন্য নয়, বরং ভারতের শাসক শ্রেণির বাংলাদেশকে পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার কৌশলের অংশ মাত্র।
আমি সুদীর্ঘদিন পানির ন্যায়সঙ্গত দাবিতে বহুভাবে আন্দোলোন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাতিসংঘ সর্বশেষ ভারতীয় নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে তাদের অভিমত বোঝার চেষ্টা করেছি। ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে পশ্চিম বাংলার একজন প্রখ্যাত সাংবাদিকের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়, তার নাম শ্রীকৃষ্ণ। আমাদের পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বাবুল সরদার চাখারীর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তিনিই আমাকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভার স্পিকার বিমল ব্যানার্জির সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকের ব্যবস্থা করিয়ে দেন।
বিমল ব্যানার্জির আদি বাড়ি বাংলাদেশের বরিশাল। বরিশাল শহরের অম্বিকা হল ময়দানের পিছনে তার দাদার বাড়ি ছিল। তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীরভাবে সহানুভূতিশীল। আমাদের প্রতিনিধি দলে আমি শেখ শওকত হোসেন নিলুসহ বাবুল সরদার চাখারী ও মিসেস আসা সিদ্দিকা ছিলাম।
তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভার বিভিন্ন দলের সদস্যদের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেন। কলকাতার মেয়রের সঙ্গে আমাদের একটি বৈঠকেরও ব্যবস্থা করেন তিনি। তার বক্তব্য, দুই দেশের সমস্যা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে দুই দেশের সমাজপতিদের জানা দরকার। তাহলে সরকারের পক্ষে সমঝোতায় উপনিত হওয়া সহজ হবে।
তিনি জোর দিয়ে গুরুত্ব সহকারে বলেন, বাংলাদেশের  প্রধান গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো পানির ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়। অন্যদিকে ভারতের দাবি কিংবা আকাক্সক্ষা হচ্ছে- ভারতের পূর্ব অঞ্চলের রাজ্যগুলোতে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশের সরকার কিংবা মাটি যেন কেউ ব্যবহার করতে না পারে। শ্রী বিমল ব্যানার্জি এবং আমি সমবয়সী হব বলেই মনে হয়। সে কারণেই তার সঙ্গে আমার একটা বন্ধুত্বের ভাব গড়ে উঠলো। তিনি আমাকে দিল্লির নেতাদের সঙ্গেও পরিচিত হওয়ার পরামর্শ দিলেন। এই বারের মতো আর দিল্লিতে যাওয়া হলো না। আমি চলে গেলাম ভেলরে চিকিৎসার জন্য। কিন্তু পরিকল্পনা করলাম আগামীতে দিল্লিতে যাওয়ার। এ সময় আমি কলকাতার কোনো হোটেলে ছিলাম না, বাংলাদেশের একজন ব্যবসায়ী তার এক বন্ধুর বাড়িতে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করেছিল। যার বাড়িতে আমরা ছিলাম তার নাম শ্রী বিল্লুসেট। কলকাতার মধ্যে তার এক হাজারটির বেশি ফ্ল্যাট-বাড়ি আছে। বাবুল সরদার চাখারী এই ব্যবস্থা করেছিল। বিল্লুসেটের বড় বোনের ছেলে থাকে ব্যনারসে। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মনোনিত স্থানীয় প্রতিনিধি। পার্লামেন্টের সদস্য না হয়েও তিনি প্রধানমন্ত্রীর স্থানীয় সকল দায়িত্বে নিয়োজিত। শ্রী বিল্লুসেটের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব গড়ে উঠলো। তিনি তার বোনের ছেলেকে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে আমাকে পরিচিত করানোর দায়িত্ব দিলেন।
২০১৫ সালের ১২ই আগস্ট আমার ভারত সফরের দিন ঠিক করা হলো। ঠিক হলো-১২ তারিখে কলকাতায় থেকে বিল্লুুসেটসহ অন্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রথমে আজমীর শরিফ মাজার জিয়ারত করে দিল্লিতে আসবো। এরপর  দিল্লি থেকে ভেলরে। এবারও আমার সফরসঙ্গী বাবুল সরদার চাখারী, সেই ছোটাছুটি করে। যাই হোক পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতির সঙ্গেও আমাদের দেখা হলো। তিনি বললেন, ১৭ই আগস্টের মধ্যে আপনাদের দিল্লিতে থাকতে হবে। সম্ভবত ১৮ই আগস্ট আপনাদের সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির সভাপতি শ্রী অমিত শাহ’র বৈঠক হবে। আমরা ১৭ই আগস্টের মধ্যে দিল্লিতে উপস্থিত থাকার পরিকল্পনা মাথায় রেখে ১২ই আগস্ট রাত্রিতে ট্রেনযোগে আজমির শরিফের উদ্দেশে যাত্রা করলাম। আজমির শরিফের প্রধান খাদেম বাংলাদেশে বিবাহ করেছেন বাবুল সরদার চাখারীর খালাতো বোনকে। তার নাম সৈয়দ হামিদ চিশতী। আমরা আজমির শরীফে সৈয়দ হামিদ চিশতী ও সাদিয়া চিশতীর আতিথেয়তা গ্রহণ করলাম। ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত আমরা আজমির শরিফে থেকেই রাত্রিতে আগ্রার উদ্দেশে রওয়ানা হলাম। ১৬ই আগস্ট আগ্রার তাজমহল ঘুরে-ফিরে দেখলাম, যেটি মুঘল সম্রাট শাহজাহানের ভালবাসার অমর সৃষ্টি। পরেরদিন হিন্দু সভ্যতার আদি স্থান মথুরা হয়ে দিল্লিতে এসে উপস্থিত হলাম। ভারতের রাজধানীতে প্রায় প্রতিটি প্রদেশেরই অতিথিশালা আছে। পশ্চিম বাংলার অতিথিশালার নাম বঙ্গভবন। সেই খানেই আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরদিন ১৮ই আগস্ট সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে অশোক রোডে ভারতীয় জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সর্বভারতীয় জনতা পার্টির সভাপতি শ্রী অমিত শাহ’র সঙ্গে আমাদের বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হলো।
একজন সাংবাদিক ১১ টার সময় এসে আমাদের জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়ে গেলেন। শ্রী অমিত শাহ’র পিএস গেটেই আমাদের অভিবাদন জানিয়ে গেস্টরুমে বসার ব্যবস্থা করলেন। নির্দিষ্ট সময়েই আমাদেরকে ভারতীয় জনতা পার্টির সভাপতির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক স্থানে নিয়ে গেলেন।
শ্রী অমিত শাহ সৌজন্যমূলকভাবে করমর্দন করে বললেন, বিষষপড়সব শেখ সাহেব। আমরা দুইজন, বাবুল সরদার চাখারীকে আমি পরিচয় করিয়ে দিলাম। তারা ৪ জন- এদের একজন জনতা পার্টির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক এসএম জোশি, তিনি এর আগে বিহারের জনতা পার্টির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথমে কুশল বিনিময়ে দিল্লিতে থাকতে আমাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে কিনা সেসবের খোঁজ-খবর নিলেন তিনি। আমি বললাম, বাঙ্গালি বন্ধুরা খুবই সদয় ও দায়িত্ববান, কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। তিনি আমার পার্টির সম্পর্কে জানতে চাইলেন। আমার মনে হলো, পিছনের সাারিতে যে দুইজন ছিলেন তাদের একজন আমার ও পার্টির সম্পর্কে শ্রী অমিত শাহকে আগেই এক ধরণের ধারণা দিয়েছিলেন। তিনি আমার সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত ছিলেন। আমি বললাম, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পটভূমিতে আমাদের দল খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি মৃদু হাসলেন এবং বললেন, সময়ের প্রয়োজনেই একটি রাজনৈতিক দল জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এক সময় ভারতীয় জনতা পার্টিও গুরুত্বপূর্ণ দল ছিল না। ১৯৭৪ সালে লোকসভায় মাত্র দু’জন সদস্য ছিলেন। একজন অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং অন্যজন শ্রী লালকৃষ্ণ আদবানী।
আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি (অমিত শাহ) একান্তে কথা বলতে চাইলেন। আমি বাদে সকলেই পাশের রুমে চলে গেলেন। আগামী নির্বাচনের কোনো কৌশল আমরা নির্ধারণ করেছি কিনা, তা জানতে চাইলেন। আমি বললাম, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরে বিভক্ত। তৃতীয় শিবির গড়ে তোলা খুব সহজ কাজ নয়। তিনি বললেন, কিন্তু অনেকেই  বলেন- এই দুইটি শিবির মুদ্রার দুই সিট মাত্র। যাই হোক আমি দুইটি প্রসঙ্গ উপস্থাপন করলাম, সিট মহল সমস্যর সমাধান ও  বাংলাদেশের ন্যায়সঙ্গত পানির দাবি। তিনি বললেন, নরেন্দ্র মোদির সরকারের আমলেই সিট মহল সমস্যার সমাধান হবে। তিনি পানি সমস্যার কথা বলতে গিয়ে বললেন, পানি সমস্যর সমাধান খুবই জটিল। শুষ্ক মৌসুমে উভয় দেশের পানির চাহিদা থাকে বেশি। সেক্ষেত্রে ভারতের চাহিদাকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। আমি বললাম, কিন্তু ভাটির বন্ধুদেশ হিসেবে ন্যায়সঙ্গত-গ্রহণযোগ্য পানি বাংলাদেশকে দিতে হবে।
সর্বশেষে অমিত শাহ বললেন, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান তাকে বলেছেন- বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়াসহ সবাই দিল্লিতে আসেন, তাদের সঙ্গে কথা হয়। কিন্তু এক রকম সীমান্ত পার হয়ে ঢাকায় উপস্থিত হলেই তাদের বক্তব্য পাল্টে যায়। আমি বললাম, মাননীয় সভাপতি আমি যতটুকু বুঝি- বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে পাকিস্তান আন্দোলনের নু ঢ়ৎড়ফঁপঃ হিসেবে এবং দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকবে, জাতীয় স্বার্থের দ্বন্দ্বও থাকবে। এই নিয়েই দুই প্রতিবেশি বন্ধু দেশকে চলতে হবে। বাইরে সাংবাদিকরা  উপস্থিত হয়েছিলেন। তাদের দুই-একটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বঙ্গভবনের দিকে রওয়ানা হলাম। মনের মধ্যে ৩৯ বছর আগের মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কথার উপলব্ধি ছিল। সেটা হলো-রাষ্ট্রনায়কের দায়িত্ব হচ্ছে রাষ্ট্রের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষা করা।

আজ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা
                                  

বিশ্ব মানচিত্র রিপোর্ট  : বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক মহামতি গৌতম বুদ্ধের জন্ম দিন আজ। শুধু জন্ম দিন নয়, এই একই দিনে সিদ্ধিলাভ আর মহাপরিনির্বাণ লাভ করেছিলেন তিনি। আজ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্রতম উত্সব। বৈশাখের পূর্ণিমা তিথিতে এই পুণ্যোত্সবে বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরা স্নান করেন, শুচিবস্ত্র পরিধান করে মন্দিরে মন্দিরে বুদ্ধের বন্দনায় রত থাকেন। অর্চনার পাশাপাশি তারা পঞ্চশীল, অষ্টশীল, সূত্রপাঠ, সূত্রশ্রবণ, সমবেত প্রার্থনা করেন।


পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় বোধি বৃক্ষতলে জগত্ আলোকিত করে মানবমুক্তির পথ বের করেন মহামতি গৌতম। লাভ করেন বুদ্ধত্ব। কপিলাবস্তু থেকে শ্রাবস্তী, বৈশালী, চুনার, কৌশাম্বী, কনৌজ, মথুরা, আলবী (বর্তমান নেপাল, ভারত, ভুটান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান) প্রভৃতি বহু জায়গায় তিনি ৪৫ বছর ধর্মপ্রচার করেন। জীবনের শেষ অধ্যায়ে তিনি রাজগৃহ থেকে কুশীনগর গমন করেন। কুশীনগরের কাছে পাবা নগরে উপস্থিত হয়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি মল্লদের শালবনে শালগাছের নিচে শয়ন করেন।

তখন আকাশে বৈশাখী পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে। আলোয় চারদিক উদ্ভাসিত। অনন্ত আকাশের তলে যুগ্ম শালবৃক্ষের নিচে সমবেত শিষ্যগণ। তিনি উচ্চারণ করেন মহাবাণী, উত্পন্ন দ্রব্য মাত্রেরই বিনাশ অবশ্যম্ভাবী, অপ্রমত্ত হয়ে কর্তব্য সম্পাদন কর। বৈশাখী পূর্ণিমাতেই ৮০ বছর বয়সে বুদ্ধ লাভ করেন মহাপরিনির্বাণ। বুদ্ধের মূলমন্ত্র ‘সব্বে সত্তা সুখিতা ভবন্তু/জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’। বুদ্ধ বলেছেন, জগতে কর্মই সব। মানুষ তার কর্ম অনুসারে ফল ভোগ করবে। ভাল কাজ করলে ভাল ফল এবং খারাপ কাজের জন্য খারাপ ফল পাবে। কর্মানুসারে মানুষ অল্প আয়ু, দীর্ঘ আয়ু, জটিল ব্যাধিগ্রস্ত, নীরোগ, বিশ্রী সুশ্রী, সুখী-দুঃখী, উঁচু-নিচু, জ্ঞান-মূর্খতা ইত্যাদি প্রাপ্ত হয়। মানুষ কর্মের অধীন।

সারাবিশ্বের বুদ্ধ অনুসারী ভক্তরা আজ বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভক্তিতে পালন করবে দিনটি। বাংলাদেশের বৌদ্ধ সমপ্রদায় যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে উদযাপন করবে পবিত্র দিবসটি। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এ উপলক্ষে দেশের বৌদ্ধ সমপ্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন। আজ সরকারি ছুটি।

বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ, বুড্ডিস্ট ফেডারেশন, বুড্ডিস্ট ইয়ুথ ফোরাম, বুড্ডিস্ট কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন প্রভৃতি সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রভাত ফেরি, বুদ্ধ পূজা, শোভাযাত্রা, সেমিনার, প্রদীপ প্রজ্বলন এবং সমবেত প্রার্থনা।

জেপি’র শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং  পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বুদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে জেপি নেতৃদ্বয় বলেন, মহামতি গৌতম বৌদ্ধ পৃথিবীতে সকল জনগণের জন্য অহিংসার মহান বাণী প্রচার করে গেছেন, শান্তি ও সৌহার্দ্যের এবং সকল জীবে ভালোবাসা ছিল তার আদর্শের মূলমন্ত্র, আজকে এই সংঘাতপূর্ণ বিশ্বে তার বাণী সৌহার্দ্য স্থাপন করতে পারে। কারণ তার শিক্ষার মূল মন্ত্র ছিল জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।

মোদের গরব মোদের আশা || রাহাত খান
                                  

১৯৭৬ সালের ঘটনা। সাংবাদিকতায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে পশ্চিম জার্মানির বার্লিনে গিয়েছিলাম। প্রশিক্ষণ নিতাম বিশ্বখ্যাত ‘ইন্টারন্যাশনাল ল ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম’ শিক্ষায়তনে আর সেখানে ১১টি দেশ থেকে আগত (এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার) বিদ্যার্থীর সংখ্যা ছিল ২১ জনের মতো। ছেলেমেয়ে সবাই যুববয়সী। একসঙ্গে বাস করতাম আমরা। ভারত থেকে গিয়েছিল দুজন, তাদের একজন তরুণ বসু, বাঙালি হলেও দুই পুরুষ থেকে দিল্লিতে বাস করছে। আমি ও তরুণ সুযোগ পেলেই বাংলায় কথা বলতাম। একদিন দুজনে শিক্ষায়তনের বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, একটু দূরে দাঁড়িয়ে সেখানকারই তৃতীয় কর্মকর্তা মিস হোফট যে আমাদের কথা শুনছিলেন তা আমরা কেউই লক্ষ্য করিনি। হঠাৎ মিস হোফট আাদের দিকে এগিয়ে এসে জানতে চাইলেন, আমরা দুজন কোন ভাষায় কথা বলছি?


পশ্চিম বাংলা ও বাংলাদেশের আটানব্বই ভাগ লোক বাংলায় কথা বলে, এ ধারণা সূত্র দিয়ে মিস হোফটকে জানালাম, আমরা বাংলায় কথা বলছি। মুগ্ধ ও বিস্মিত মিস হোফট জানালেন, বাংলা ভাষা এমন ধ্বনিময়, শুনতে এমন মধুর লাগে-এ সম্পর্কে তার আগে কোনো ধারণাই ছিল না।

মিস হোফটের কথা শুনে খুব খুশি হই দুই দেশে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী দুই যুবক। তরুণ বসু গেয়ে ওঠে- মোদের গরব মোদের আশা আ মরি বাংলা ভাষা। তরুণের বোধ হয় ভাঙা বেসুরো গলায় আরো বেশ কিছুক্ষণ বাংলা গানের সর্বনাশ করার ইচ্ছা ছিল। বাঙ্গালের (আমি) চোখে অগ্নি বর্ষণ হচ্ছে দেখে বেশ দুঃখিত হয়ে সংগীত চর্চার ইতি টানে তরুণ। তবে বাংলা ভাষা সম্পর্কে মিস হোফটের উক্তি আমাদের দুজনকেই খুব গর্বিত ও উদ্দীপ্ত করেছিল। এতদিনেও তা স্পষ্ট মনে আছে।

ভাষা হিসেবে বাংলার এই গুণ, মাধুর্য বহু বিদেশীকে মুগ্ধ করে; হাজার বছর ধরেই করে আসছে। সম্ভবত বিখ্যাত ইতিহাসবিদ সুখময় মুখোপাধ্যায়ের একটি বইতে পড়েছিলাম, ষোড়শ শতকের প্রথমার্ধে দিল্লীর মোগল সম্রাট বাবর বাংলার উপপ্রান্তে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন, বিহারের বৃহদাংশ অধিকার করার পর বঙ্গ দেশটিও জয় করে নেয়ার আশায়। বাবর ছিলেন সাহিত্যপ্রেমী। তুর্কি ভাষায় এ যাবৎকালের সেরা কবি ও গদ্য লেখকদের একজন বলে গণ্য করা হয় তাকে।

বাংলা ভাষার ধ্বনি মাধুর্য তাকে মুগ্ধ করেছিল। তখন বঙ্গদেশে (রাজধানী গৌড়) চলছিল হাবসীদের রাজত্ব। ছয় বছরে আটজন হাবসী সুলতান ছয়মাস থেকে এক বছরের স্থয়ীত্বে রাজত্ব করছেন। একজনকে খুন করে আরেকজনের সিংহাসন দখর করে সুলতান হওয়ার ভয়াবহ রক্তারক্তি কাণ্ড চলছিল তখন। সব দেখেশুনে বঙ্গদেশের উপপ্রান্ত থেকে পাততারি গুটিয়ে দিল্লি ফিরে গিয়েছিলেন বাবর। সম্রাট জাহাঙ্গীরের আগে পর্যন্ত বঙ্গদেশ ছিল মোগলদের অধরা। তবে মোগলদের আগে পাঠান এবং পাঠানদের আগে গুপ্ত, বৌদ্ধ ও সেন রাজারা বঙ্গদেশের একাংশ বা বৃহদাংশ জয় করে এদেশেই পুরুষানুক্রমে রাজত্ব করে গেছেন। অনেকে বাঙালির ভাষা সংস্কৃতির সঙ্গে লীন হয়ে গেছেন, মূলত ভাষার (বাংলা) মাধুর্যের কাছেই আত্মসমর্পণ করে।

কে জানে বঙ্গদেশে মোগলদের শাসনামলে মনে-প্রা্ণে এদেশী হয়ে যাওয়া ব্যক্তি বাঙলা ভাষার চর্চা করেছেন! শের আফগানের স্ত্রী, ‘ইরানি বুলবুল’ নূরজাহানও বাংলা সংগীত এবং বাঙালি সামাজিকতা ও আচার অনুষ্ঠানের সঙ্গেও পরিচিত ছিলেন কিনা কে জানে! নূরজাহান কবিতা গান (গজল) লিখতেন আর হাজার বছর ধরে বাংলা তো কবিতা ও গানেরই ভাষা।

তবে সেটা বাংলা ভাষার বহু স্বভাব বৈশিষ্টের একটি মাত্র। বাংলা যেমন নম্র, কোমল ধ্বনি মাধুর্যের ভাষা তেমনি বজ্র কঠোর উচ্চারণ সংগ্রাম ও গণযুদ্ধের ভাষা। ১৯৫২ সালেল ৮ ফাল্গুন ইংরেজি একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষার পক্ষে, ভাষার দাবিতে বাঙালির গণবিস্ফোরণ বিশ্ববাসী দেখেছিল অবাক বিস্ময়ে। বাংলা ভাষা মননশীল বাঙালি জাতির নিজ সত্তার কাছে এক হয়ে মিশে গেছে। জয়তু বাংলা ভাষা।

একুশে গ্রন্থমেলায় নাজমুল হক ইমনের পাঁচ বই
                                  

অনলাইন ডেস্ক : এবারের একুশে গ্রন্থমেলায় নাজমুল হক ইমনের পাঁচটি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। পাঁচ বইয়ের মধ্যে গ্রাফোসম্যান পাবলিকেশন (স্টল নং ৩৯৭, ৩৯৮) থেকে এসেছে তিনটি এবং আলোকবর্তিকা প্রকাশনী (স্টল নং ২২৮, পরিবেশক দোয়েল প্রকাশনী) থেকে এসেছে দুইটি নতুন বই।

শিশুদের জন্য তিনি লিখেছেন ‘ভূতের বাচ্চা পুটু’ ও ‘ঢিসিম’ এবং ‘সাহাবের গোয়েন্দা বাহিনী রিটার্নস’।

এ ছাড়া লেখকের উপন্যাস ‘অধ্যায় একাদশ’ ও ‘তুলিকা’ নামের একটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে এবারের গ্রন্থমেলায়।

‘ভূতের বাচ্চা পুটু’, ‘অধ্যায় একাদশ’ এবং ‘সাহাবের গোয়েন্দা বাহিনী রিটার্নস’ প্রকাশ করেছে গ্রাফোসম্যান পাবলিকেশন এবং ‘ঢিসিম’ ও তুলিকা প্রকাশ করেছে আলোকবর্তিকা প্রকাশনী তবে বইটির পরিবেশক হয়েছে দোয়েল প্রকাশনী।

লেখক ও সাংবাদিক নাজমুল হক ইমন নতুন বই ও গ্রন্থমেলা সম্পর্কে বলেন, প্রতিবারের মতো এবারো একুশে গ্রন্থমেলায় জোর দিয়েছি শিশুদের প্রতি। কারণ শিশুপাঠকই গ্রন্থমেলার প্রাণ। তাই এবারো আমি চেষ্টা করেঠি শিশুদের জন্য গুণগত ও ভালো গল্প দিয়ে বই সাজানোর। গ্রন্থমেলার প্রথমদিন থেকেই পাওয়া যাচ্ছে আমার ‘ভূতের বাচ্চা পুটু’ বইটির প্রচ্ছদ করেছেন গুটু ত্রিবেদী; ‘সাহাবের গোয়েন্দা বাহিনী রিটার্নস’ প্রচ্ছদ করেছেন রাশেদ বাবু, ‘অধ্যায় একাদশ’ বইটির প্রচ্ছদ করেছেন আশরাফুল ইসলাম রানা এবং ‘ঢিসিম’ ও ‘তুলিকা’ বই দুটির প্রচ্ছদ করেছেন জুলহাস আহমেদ। ‘তুলিকা’ বইটির দাম ১৫০ টাকা।

এ ছাড়া বাকি চার বইয়ের দাম রাখা হয়েছে ১২০ টাকা।

তরুণ এই লেখকের সবগুলো বই যেমন চমকপ্রদ, তেমনি প্রচ্ছদও। শিশু পাঠক থেকে শুরু করে বই পড়ুয়া পাঠক কারোই মন্দ লাগবে না। পাঠকের প্রাণ ছুঁয়ে যাবে, এটাই লেখকের আশা ও প্রত্যাশা। এছাড়া লেখক নাজমুল হক ইমনের প্রকাশিত পুরনো ২১টি বই গ্রন্থমেলায় পাওয়া যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, নাজমুল হক ইমন, পেশা সাংবাদিক। বর্তমানে দেশের একটি শীর্ষ দৈনিকে সহ-সম্পাদক হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি লিখছেন নিয়মিত। এর আগেও তার বেশ কিছু বই প্রকাশিত হয়েছে।

 
মঙ্গলবার জাতীয় নবান্ন উৎসব
                                  
বিশ্ব মানচিত্র রিপোর্ট : আগামী মঙ্গলবার পহেলা অগ্রহায়ণ জাতীয় নবান্ন উৎসব ১৪২৩। উত্সব অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় ও ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর মুক্তমঞ্চে। প্রথম অধিবেশনের অনুষ্ঠান শুরু হবে সকাল ৭টা ১মিনিট থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত, শেষ হবে নবান্ন শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে। দ্বিতীয় পর্ব একযোগে শুরু হবে রবীন্দ্র সরোবর মুক্তমঞ্চ ও চারুকলার বকুলতলায় বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। 
এবছরের উৎসবের উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল শনিবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে জাতীয় নবান্নোৎসব উদ্যাপন পর্ষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন পর্ষদের আহ্বায়ক শাহরিয়ার সালাম।,
লিখিত বক্তব্যের তিনি সকলকে হিংসা বিদ্বেষ ভুলে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নবান্ন উত্সবে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, উন্নত দেশগুলোতে যেখানে নবান্ন উত্সব রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজন হয়, সেখানে আমাদের দেশ কৃষি প্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও নবান্ন উৎসব রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করা হয় না। তাই আবারো পহেলা অগ্রহায়ণে সরকারি ছুটি ঘোষণা করে এই উত্সব রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি জানাই। 
উত্সবে সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি, নবান্ন শোভাযাত্রা, আদিবাসী পরিবেশনাসহ বিভিন্ন পরিবেশনা থাকবে। থাকবে ঢাক-ঢোলের বাদন আর মুড়ি-মুড়কি-বাতাসা ও পিঠার আয়োজন। সকলের জন্য উন্মুক্ত নবান্ন উৎসব।  
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপার্সন লায়লা হাসান, কো-চেয়ারপার্সন শুভ রহমান, কাজী মদিনা, মানজার চৌধুরী সুইট, ল্যাবএইডের কর্মকর্তা সাইফুর রহমান লেনিন, পর্ষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাঈম হাসান সুজা, সদস্য আবুল ফারাহ পলাশ, এনামুল লতিফ, আলোক বসু, জসিমউদ্দিন হূদয়, অনিকেত আচার্য প্রমুখ। নবান্ন উৎসব উদ্যাপনে সহযোগিতা করবে ল্যাবএইড।
‘নজরুল মেলা’ নজরুলসংগীত শিল্পী পরিষদের
                                  

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় তিন দিনের ‘নজরুল মেলা’র আয়োজন করেছে নজরুলসংগীত শিল্পী পরিষদ। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আগামী ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টায় এর উদ্বোধন করবেন ফেরদৌসী রহমান ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের দুই নাতনি অনিন্দিতা কাজী ও খিলখিল কাজী। 
মেলা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে নজরুলসংগীত শিল্পী নাশিদ কামাল, ফাতেমা-তুজ-জোহরা ও সুজিত মোস্তফাকে সম্মাননা জানাবে নজরুলসংগীত শিল্পী পরিষদ। সংগঠনটির চেয়ারম্যান ফেরদৌসী রহমান জানিয়েছেন, মেলার প্রথম দিন উৎসর্গ করা হচ্ছে শিল্পী আব্বাসউদ্দিন আহমেদকে। দ্বিতীয় দিন ফিরোজা বেগম ও সমাপনী দিনের আয়োজন উৎসর্গ করা হবে সোহরাব হোসেনকে। 
 
আব্বাসউদ্দিন আহমেদের রেকর্ড করা নজরুলের ৭০টি গান নিয়ে ‘ভুলিতে পারিনে তাই’ নামের সিডির প্রকাশনা হবে মেলায়। ফিরোজা বেগম ও সোহরাব হোসেনের রেকর্ড করা গান নিয়ে প্রকাশ হবে আরেকটি অ্যালবাম। এগুলো গেয়েছে নজরুলসংগীত শিল্পী পরিষদের ৬১টি জেলার শাখার শিশুশিল্পীরা। 
 
উদ্বোধনী আয়োজনে একক কণ্ঠে গাইবেন শাহীন সামাদ, ফেরদৌস আরা ও ইয়াকুব আলি খান। লুবনা মরিয়মের নৃত্য পরিচালনা ও সাধনার পরিবেশনায় থাকবে নৃত্যনাট্য ‘বাদল বরিষণে’। দ্বিতীয় দিন দলীয় নৃত্য পরিবেশন করবেন সাদিয়া ইসলাম মৌ ও তার দল। গাইবেন ফাতেমা-তুজ-জোহরা, সুজিত মোস্তফা, সুমন চৌধুরী ও শহীদ কবির পলাশ। 
 
সমাপনী অনুষ্ঠানে নাচবে মুনমুন আহমেদের দল। আবৃত্তি করবেন সীমা ইসলাম। গাইবেন ইয়াসমিন মুশতারি, রওশন আরা সোমা, ডালিয়া নওশীন, আশীষ কুমার সরকার, বুলবুল মহলানবীশ ও রাহাত আরা গীতি। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ও বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নানান পরিবেশনায় মুখর থাকবে মেলা। 

কুষ্টিয়ায় শুরু হয়েছে লালন ফকিরের স্মরণোৎসব
                                  

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহর ১২৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী স্মরণোৎসব।
রোববার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ৩ দিনের এ স্মরণোৎসব উদ্বোধন করেন।
বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহর ১২৫ বছর আগে এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন।
লালন মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভাসহ বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং লালন একাডেমির তত্ত্বাবধানে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়ার লালন আখড়া অসংখ্য লালন ভক্ত-অনুসারীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহর গান, বাউল মেলা, অলোচনা সভা ও সাধু সংঘের মধ্যে দিয়ে কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়ায় তিন দিনব্যাপী চলছে এই উৎসব।

কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্রোহী ও প্রেমিক
                                  

নজরুল, কাজী নজরুল ইসলাম, এক হতদরিদ্র পরিবার থেকে এসে কঠোর জীবিকার সংগ্রামের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করে বাঙালির জন্যে চিরস্থায়ী গান ও সাহিত্য রচনা করে গেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশের তিনি জাতীয় কবি, যদিও বিভাগপূর্ব বাংলায় বাঙালির কাছে তিনি ‘জাতীয়’ কবিই ছিলেন।

 

সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদের মানববিরোধী তৎপরতার কালে কবিতার মধ্য দিয়ে বিদ্রোহের পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরলেন নজরুল; স্পষ্টত জানিয়ে দিলেন উৎপীড়িতের কান্না না থামা পর্যন্ত, অত্যাচারী স্তব্ধ না হওয়া অবধি তিনি শান্ত হবেন না।

তাঁর উচ্চারণ ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলো অত্যাচারী শাসকশ্রেণীর, স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও সাহসী করে তুলেছিলো সাধারণ মানুষকে। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে এভাবেই নজরুল হয়ে উঠলেন অখণ্ড বাংলার প্রাণের কবি; বললে ভুল হবে না, জাতীয় কবি।

একাত্তরের বিজয়ের পর রণসঙ্গীত, অর্থাৎ সশস্ত্রবাহিনীর উদ্দীপনামূলক গান হিসেবে বেছে নেয়া হলো নজরুলের ‘চল্ চল্ চল্ ঊর্ধ্বগগণে বাজে মাদল’ গানটি। স্বাধীন দেশের বাঙালি এভাবেই সম্মাননা জানালো তাঁদের প্রিয় কবিকে। কিন্তু সত্য প্রকাশের দায়বোধ থেকে বলতে হবে, মূলতঃ এর কিছু কাল পর থেকেই সূচনা হলো নজরুলকে খণ্ডিতভাবে দেখার। এর নেপথ্যে যে আমাদের একাংশের সাম্প্রদায়িক মনোভাব জড়িত সেই সত্যকে আমরা কিছুতেই ঢাকতে পারবো না।

 

নজরুল কেবল মুসলমান বাঙালির কবি- এই ধারণা দৃঢ়ভাবে প্রোথিত করার জন্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে শুরু হলো পরিকল্পিত উদ্যোগ। তাই গণমাধ্যমে নিষিদ্ধ হয়ে গেল শ্যামাসঙ্গীত, এমনকি নজরুলের ভালোবাসার গান ও কবিতার চাইতে বেশি-বেশি বাজতে শুরু হলো গজল, হামদ ও অন্যান্য ইসলামি গান ও কবিতা। ভাগ্যিস প্রকৃতি আগেই বাকহারা করে ফেলেছিলো কবিকে, তা না হলে হয়তো ক্রোধে-চিৎকারে ছিন্ন হতো তাঁর কণ্ঠনালি।

বাঙালির মূঢ় অংশ বিস্মৃত হলো নজরুলের উত্থানকাল। তাঁর সৃজনসত্তা তারা অসম্মানিত করলো। সাম্রাজ্যবাদী শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা অনিবার্য ছিলো শ্রেণী ও কালসচেতন কবি নজরুলের জন্যে। তাঁর কবি-স্বভাবের ভেতরেই ছিলো মানবকল্যাণচেতনা। একটি জাতির ইতিহাস ও পূরাণে মেলে তার সাংস্কৃতিক উপাদান। বাঙালি সংস্কৃতির শেকড় রয়েছে হিন্দু ও আরব-পারস্যের পূরাণে, এমনকি ইংরেজবাহিত গ্রীক ও ইউরোপীয় পূরাণসমূহেও।

শত হাজার বছর ধরে বাঙালি সেগুলো আত্মীকরণ করেছে। ধর্ম-গোত্র-শ্রেণী নির্বিশেষে বাঙালির ভেতর যে বহমান সংস্কৃতি তার সমগ্রতা আত্মস্থ করায় ব্রতী ছিলেন নজরুল। আর তাই তো আজরাইল আর যম, কুরুক্ষেত্র আর কারবালা, ইস্রাফিলের শিঙ্গা, তূর্যনিনাদ আর অর্ফিয়াসের বাঁশরি, যশোদা আর আমেনা একীভূত হয়ে যায় তাঁর সৃষ্টিভাণ্ডারে। বাংলার একই বৃন্তে দুটি ফুলের মতো হিন্দু-মুসলমানকে সমভাবে উপলব্ধি করার জন্যে প্রকৃত অসাম্প্রদায়িক হয়ে উঠতে হয়।

নজরুল ছিলেন তা-ই। যদিও আত্মপরিচয় ভোলেননি নজরুল, অনুধাবন করলেন সমগ্র বাঙালির মানস বুঝতে হলে প্রধানত দুটি ধর্মীয় সংস্কৃতিতে বহমান জীবনের অন্তরঙ্গ পরিচয় জানতে হবে। এই অন্বেষণের সাধনায় তিনি মুসলমান ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের বাঙালির জন্যে বোধগম্য ভাষায় রচনা করে যেতে থাকলেন সাহিত্য ও গান।

সবচেয়ে বড় কথা তিনি ছিলেন মৌলিক প্রতিভার অধিকারী একজন বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীল লেখক। সৃষ্টিসুখের উল্লাসে তিনি রচনা করে গেছেন বাঙালির জীবন, জীবনসংগ্রামের চালচিত্র। হিন্দু-মুসলমান- এই ভেদনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না বলেই যে-কলমে গজল ও হামদ লিখেছেন, সেই একই কলমে সৃষ্টি করেছেন শ্যামাসঙ্গীত। প্রিয়ার কানে মন্ত্রোচ্চারণের মতো আবেগ থরথর ছন্দিত পঙ্‌ক্তি যে-খাতার পৃষ্ঠায় উৎকীর্ণ হয়েছে, সেই একই খাতার অন্য পাতায় ঢেলে দিয়েছেন অত্যাচারী শাসকের মর্মমূল দীর্ণ করার মতো তপ্ত শব্দ।

এমন প্রাণোদ্দীপ্ত প্রতিভা বিংশ শতক আর দেখেনি। একই সঙ্গে প্রেমিক ও বিদ্রোহী, পূজারী ও প্রার্থনাকারী বান্ধব-লেখক বাঙালি আর দ্বিতীয়টি পায়নি। অর্থকষ্টের নিয়তি নজরুলের পিছু ছাড়েনি, তাই সুস্থিরভাবে অধ্যয়নের অবকাশ তাঁর হয়নি। হলে তাঁর কাছ থেকে আরো অনেক কালজয়ী রচনা, গভীর দার্শনিকতাবোধসম্পন্ন সাহিত্য পাওয়া সম্ভব হতো। সেটা আমাদের দুর্ভাগ্য। যা হয়নি, তা হয়নি। কিন্তু যা পেয়েছি তার অনেকখানি লুকিয়ে রেখে কেন হীনম্মন্যতার পরিচয় দেবো!

আরো একটি ব্যাপার আছে, নজরুলকে স্বভাবকবি বলে তাঁর উচ্চতা খর্বের একটা প্রয়াস আছে উন্নাসিক পণ্ডিত মহলের। এই অপপ্রচারের একটা মোক্ষম জবাব উদাহরণসহ দিয়েছেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলছেন, ‘নজরুল স্বভাব কবি নন, মোটেই না; কিন্তু অবশ্যই স্বতঃস্ফূর্ত কবি। স্বভাব কবির অশিক্ষিত পটুত্ব তাঁর ছিলো না, ছিলো প্রখর একটি সৌন্দর্যবোধ, যার সাহায্যে উচ্ছ্বাসকে তিনি কাব্য করেছেন, উত্তেজনাকে বশ করেছেন শিল্প দিয়ে, বন্ধনহীন হবার আবেগকে শৃঙ্খলিত করে ফেলেছেন ভাষার নিষেধে। তাঁর বিদ্রোহী কবিতার কথাই ধরি না কেন। দেখা যাবে এই কবিতার সকল উত্তেজনার ভেতরে রয়েছে যুক্তির একটি শক্ত পারম্পর্য। রয়েছে বিজ্ঞানমনস্কতাও। এটি কোনো উত্তেজিত যুবকের স্বগতোক্তি নয়, এটি একটি সুসংগঠিত কবিতা। শৃঙ্খলা তাই বলে স্বতঃস্ফূর্ততা যে নষ্ট করে দেবে তাও ঘটেনি।’

ছন্দগবেষক আবদুল মান্নান সৈয়দ বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, নজরুল কী কুশলী ছন্দসচেতন কবি ছিলেন। প্রথম কাব্য ‘অগ্নিবীণা’-য় নজরুল মাত্রাবৃত্ত ও স্বরবৃত্ত ছন্দের বাইরে যাননি। গদ্যছন্দে মাত্র একটি কবিতা আছে তাঁর। ‘কবির মুক্তি’ কবিতাটি কেউ পড়লেই বুঝবেন এখানেও কী আশ্চর্য মিল আর ঝংকৃত ছন্দের স্বাক্ষর রেখেছেন এই অমর কবি।

নজরুল-পরবর্তী প্রজন্মের কবি জীবনানন্দ দাশ বাঙালির চিরকালের কবি। বাঙালির ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন বলে নয়, বাংলা ভাষায় লিখেছিলেন বলেও নয়; বলেছেন বাঙালি হয়ে, বাঙালির বয়ানে, বাঙলার প্রকৃতিতে মিশে থেকে, সে-কারণে। বহিরঙ্গে তিনি ছিলেন পুরোদস্তুর বাঙালি, ভেতরের মানুষটাও ভিন্ন ছিলো না। নজরুলও তাই। কাজী নজরুল ইসলাম যখন রণতূর্য বাজান, তখন শুনি: ঝড়-ঝড়-ঝড়- আমি- আমি ঝড়/শন্-শন-শনশন শন্ ক্বড়ক্বড়/কাঁদে মোর আগমনী আকাশ-বাতাস বনানীতে। আবার যখন প্রেমিকের বাঁশিতে সুর তোলেন তখন শুনি : মোর প্রিয়া হবে এস রানি দেব খোঁপায় তারার ফুল।

নদীমাতৃক আর গাছ-গাছালি-ভরা ভূঅঞ্চলের ঝড়ের শব্দের সঙ্গে ভিন্ন প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত লোকালয়ের ঝড়ের গর্জনে অবশ্যই পার্থক্য আছে। এই পার্থক্য ধরার জন্যে অসাধারণ শ্রুতির দরকার পড়ে না, কিন্তু কবিতায় চিত্রনের জন্য শেকড়ের কবি হতে হয়। বাঙালি পুরুষই তার প্রেয়সীর খোঁপায় ফুল গুঁজতে চাইবে, যেমন চাইবে কৃষিনির্ভর অঞ্চলের দীর্ঘকেশী নারীর প্রেমাষ্পদ। আধুনিক ইউরোপীয় রমণীর খোঁপা বাঁধার মতো কেশসম্পদ কোথায়? প্রায় অনুরূপ অবস্থা তো আজকের বাংলাদেশের অতিআধুনিক নারীরও। আকাশ থেকে তারা ছিঁড়ে এনে যে-পুরুষ কাঙ্ক্ষিত নারীর খোঁপায় জড়াতে চায় তাকে আমরা খুব সহজেই রোম্যান্টিক ও কবি বলে সনাক্ত করে উঠতে পারি।

১৯৪১ সালের ৬ এপ্রিল মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে "বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি"র রজত জয়ন্তী উৎসব অনুষ্ঠানে সভাপতিরূপে নজরুল অভিভাষণ দান করেন। দুরারোগ্য ব্যাধিতে চিরজীবনের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে যাবার পূর্বে এই ছিল তাঁর সর্বশেষ বক্তৃতা। যাঁরা সম্যকরূপে নজরুলকে চিনতে চান, তাঁদের জন্য এই বক্তৃতার চেয়ে উত্তম কিছুই হতে পারে না।

নজরুলের প্রেমিক সত্তার কী অপূর্ব বয়ানই না পাই এই বক্তব্যে : ‘যদি আর বাঁশী না বাজে, আমি কবি বলে বলছি নে, আমি আপনাদের ভালবাসা পেয়েছিলাম, সেই অধিকারে বলছি, আমায় আপনারা ক্ষমা করবেন। আমায় ভুলে যাবেন। বিশ্বাস করুন, আমি কবি হতে আসিনি। আমি নেতা হতে আসিনি। আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছিলাম। সে প্রেম পেলাম না বলে আমি এই প্রেমহীন নিরস পৃথিবী হতে নীরব অভিমানে চিরদিনের জন্য বিদায় নিলাম।’

নারীর প্রতি কবির দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে একটি কবিতাই যথেষ্ট। নারী-পুরুষে কোনো ভেদাভেদ করেননি কবি। সমানাধিকার ও সমঅবদানের বিষয়টি তাঁর মতো এত স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে আর কে বলেছেন! ‘নারী’ কবিতায় বলছেন :

সাম্যের গান গাই-

আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই।

বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,

অর্ধেক তার করিয়েছে নারী, অর্ধেক তার নর।

আজকের দাবি সুলভমূল্যে জাতীয় কবির সমগ্র রচনা পাঠকের হাতে তুলে দিতে হবে। আর শ্রোতাদের দাবি নজরুলের হাজার গান না হোক, প্রাথমিকভাবে বিচিত্র আঙ্গিক ও বিষয়সমৃদ্ধ নির্বাচিত শত গান গুণী শিল্পীদের কণ্ঠে ধারণ করে সিডি ও ক্যাসেটে প্রকাশ করা হোক। নজরুলের যে-গানগুলো আর শোনা যায় না সেই সব গান সরকারী ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রচারমাধ্যমে প্রচার করা হোক। খণ্ডিত নজরুল নয়, আমরা চাই সম্পন্ন পূর্ণাঙ্গ নজরুলকে।

রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবস আজ
                                  

‘প্রভু মোচন কর ভয়
সব দৈন্য করহ লয়
নিত্যচকিত চঞ্চলচিত কর নিঃসংশয়
তিমির রাত্রি অন্ধ যাত্রী
সমুখে তব দীপ্ত দীপ তুলিয়া ধর হে-’
আমাদের চিত্ত যখন সংশয়ে পূর্ণ, চারপাশে যখন ঘোর অমানিশা, মানসিক দৈন্য যখন দৃশ্যমানভাবে প্রকট ইত্যাদি সংকটে রবীন্দ্রনাথেই আমরা আশ্রয় খুঁজে পাই। তিনি যেন সেই মহান মুক্তিদাতা পুরুষ যিনি দীপ্তশিখায় পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছেন। আজ সেই পরম পুরুষের মহাপ্রয়াণ দিবস। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের (১৯৪১ সাল) এমন এক শ্রাবণ দিনে কবি কলকাতার পৈতৃক বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সে হিসাবে আজ তার ৭৬তম প্রয়াণ দিবস।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘কবিগুরু’ ও ‘বিশ্বকবি’ অভিধায় নন্দিত। তিনি যথার্থই ‘বিশ্বকবি’।  বিশেষণটি প্রথম ব্যবহার করেন ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়। কবি এমন এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যার প্রভাব তৎকালীন ভারতে, বিশেষ করে বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে অনস্বীকার্য। সেই পরিবারে স্বশিক্ষায় বেড়ে ওঠেন তিনি। মাত্র ৮ বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকায় তার ‘অভিলাষ’ কবিতাটি প্রকাশিত হয়। ১৮৭৮ সালের ৫ নভেম্বর কবির প্রথম বই ‘কবি কাহিনী’ প্রকাশিত হয় তার অগোচরে। সে সময় কবি পড়াশোনার জন্য বিলেত ছিলেন। বন্ধু প্রবোধচন্দ্র ঘোষ বইটি প্রকাশ করে কবির কাছে পাঠিয়েছিলেন। সেই হলো শুভসূচনা।  
রবীন্দ্রনাথ অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীত স্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকার, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বহুমুখী সৃজনশীলতা বাংলা সাহিত্য ও শিল্পের প্রায় সব কটি শাখা স্পর্শ করেছে, সমৃদ্ধ করেছে, যা ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ও বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলা সাহিত্যে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করে। একপর্যায়ে তার রচনা বিশ্বসাহিত্যেও উচ্চারিত হয়। আর এভাবেই রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বসাহিত্যের সম্মানের আসনে পৌঁছে দেন। তার হাত ধরেই আমরা অর্জন করি প্রথম নোবেলের সম্মান।
১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার কবিকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করে। কিন্তু ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কবি নাইট উপাধি ত্যাগ করে ভাইসরয় লর্ড চেমসফোর্ডকে চিঠি দেন। এখানে স্বদেশপ্রেমী, প্রতিবাদী এক রবীন্দ্রনাথকে আমরা পাই। কবির এ পরিচয় নতুন ছিল না। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিরুদ্ধে কবি কলম ধরলেন। লিখলেন প্রবন্ধ ‘লড়াইয়ের মূল’। উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরোধিতা করে বিভিন্ন রচনা লিখেছেন তিনি। ১৯১৬ সালে কবি জাপান সরকারের সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে লিখলেন। সে বছর ঔপনিবেশিক নীতির প্রতিবাদে কানাডা ভ্রমণের আমন্ত্রণও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এমনকি ১৯৩৪ সালে পূর্ব বিহারে ভূমিকম্পের কারণ হিসেবে মহাত্মা গান্ধী যখন ‘অস্পৃশ্যতার পাপের ফল’ বলে মন্তব্য করলেন, তখনো এই অভিমতের বিরুদ্ধে কবি দৃঢ় প্রতিবাদ জানিয়েছেন।  
রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক চেতনায় ছিল মানবমুক্তি। মানুষের কল্যাণের জন্য যে সাধনা তাই ছিল তার ধর্ম। তিনি বিশ্বাস করতেন বিশ্বমানবতায়। শুধু বাঙালির নয়, বিশ্বলোকের মুক্তির বার্তা তাকে আলোকিত করেছে। সেই আলোয় আজও আমরা উদ্ভাসিত। আনন্দে, বেদনায় এমনকি দ্রোহে তিনি তাই আমাদের প্রেরণার প্রধান উত্স। সৃজনশীল সাহিত্য রচনার পাশাপাশি অর্থনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র নিয়ে তার ভাবনা তাকে তাড়িত করেছে আমৃত্যু।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন চ্যানেলের আয়োজনে উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে থাকছে নাটক, টক শো, কবিতা আবৃত্তি, সংগীতানুষ্ঠান, প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ইত্যাদি। এই এত দিন পরেও সেখানে উচ্চারিত হবে প্রাসঙ্গিক কবিগুরুর পঙ্‌ক্তিমালা-  

‘কামনা করি একান্তে
হউক বরষিত নিখিল বিশ্বে সুখ শান্তি।
পাপতাপ হিংসা শোক পাসরে সকল লোক,
সকল প্রাণী পায় কূল
সেই তব তাপিতশরণ অভয়চরণপ্রান্তে।’

ইতিহাসের এই দিন সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ কাজী মোতাহার হোসেনের জন্ম
                                  

ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভালো, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ।

তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে বাংলানিউজের পাঠকদের জন্য নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিন’।

৩০ জুলাই ২০১৬, শনিবার। ১৫ শ্রাবণ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ। এক নজরে দেখে নিন ইতিহাসের এ দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

ঘটনা
১৬৫৬ - পোলিশদের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ওয়ারশ যুদ্ধের অবসান হয়।
১৯৩৫ - বিশ্বখ্যাত পেঙ্গুইন প্রকাশনীর বই প্রথম প্রকাশিত হয়।
১৯৬৯ - মার্কিন নভোখেয়া মেরিনার-৬ এর মাধ্যমে মঙ্গল থেকে পৃথিবীতে টিভি ছবি পাঠানো হয়।

জন্ম ১৮৯৮ - বিশ্বখ্যাত ইংরেজ ভাস্কর হেনরি মুর।
১৮৯৭ – বাঙালি পরিসংখ্যানবিদ, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ কাজী মোতাহার হোসেন। কাজী মোতাহার হোসেনের জন্ম ও শিক্ষা জীবনের শুরু কুষ্টিয়া জেলায়। পেশাজীবনে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ধ্যান-ধারণায় বিশ্বাসী। সেই আলোকে দেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সুদৃঢ় ভিত গড়ে তোলার জন্য তিনি লেখনী পরিচালনা করেন। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষার সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর দাবিতে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তিনি ছিলেন তার একজন দৃঢ় পৃষ্ঠপোষক।

মৃত্যু ১৭৭১ - ইংরেজ কবি টমাস গ্রে।

চলে গেলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী
                                  
উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী মহাশ্বেতা দেবী মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার ‘হাজার চুরাশির মা’ খ্যাত এই লেখকের মৃত্যুর সময়ে তার বয়স হয়েছিল ৯০।
 
গত ২২ মে ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়েছিলেন। মহাশ্বেতা দেবী কিডনি ও ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন। 
 
বামপন্থী লেখক হিসেবে পরিচিত মহাশ্বেতা দেবীর লেখালেখির পাশাপাশি আদিবাসীদের সমাজ মান উন্নয়নে নিরলস কাজ করেছেন। বিশেষ করে লোধা ও শবরদের জীবন মান উন্নয়নে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে লড়াই করে গিয়েছেন। প্রায় এককভাবেই তিনি এই লড়াই করেছেন। প্রখ্যাত কবি মণীশ ঘটকের (যুবনাশ্ব) এই কন্যার জন্ম ১৯২৬ সালে ঢাকায়। তাঁর পিতা মনীশ ঘটক ছিলেন কল্লোল যুগের প্রখ্যাত সাহিত্যিক এবং তাঁর চাচা ছিলেন বিখ্যাত চিত্রপরিচালক ঋত্বিক ঘটক। তিনি ঢাকাতেই লেখাপড়া করেন। তবে ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর ভারতে চলে যান। 
মহাশ্বেতা দেবী শিক্ষালাভের জন্য শান্তিনিকেতনে ভর্তি হন । তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন । পরে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এম এ ডিগ্রী লাভ করেন। প্রখ্যাত নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্যকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। ঝাঁসির রাণী লক্ষীবাইকে নিয়ে প্রথম লিখে সকলের নজরে আসেন। এরপরে তিনি অসংখ্য গল্প উপন্যাস লিখেছেন। 
সমাজের প্রত্যন্ত মানুষের জীবন ও নকশাল আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে লেখা এই উপন্যাসগুলি বেশ সাড়া ফেলেছিল। তার লেখা ‘অরণ্যের অধিকার’, ‘হাজার চুরাশির মা’, ‘অগ্নিগর্ভ’ প্রভৃতি উপন্যাসের জন্য তিনি সমাদৃত হয়েছে সাহিত্যিক মহলে। তার লেখা অসংখ্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে। র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার থেকে শুরু করে জ্ঞানপীঠ, সাহিত্য একাডেমি প্রবর্তিত বহু পুরস্কার পেয়েছেন। পেয়েছেন পদ্মশ্রী ও পদ্ম বিভূষণের মতো জাতীয় সম্মানও। এছাড়া ২০০৭ সালে পেয়েছিলেন সার্ক সাহিত্য পুরস্কার।

   Page 1 of 2
     শিল্প সাহিত্য
নজরুল প্রয়াণ দিবস আজ
.............................................................................................
আজ বিশ্বকবির ৭৬তম মৃত্যুবার্ষিকী
.............................................................................................
হুমায়ূন আহমেদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
কবি সুফিয়া কামালের ১০৬তম জন্মদিন আজ
.............................................................................................
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮তম জন্মবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
১৯৭৬ সালের ১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ
.............................................................................................
আজ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা
.............................................................................................
মোদের গরব মোদের আশা || রাহাত খান
.............................................................................................
একুশে গ্রন্থমেলায় নাজমুল হক ইমনের পাঁচ বই
.............................................................................................
মঙ্গলবার জাতীয় নবান্ন উৎসব
.............................................................................................
‘নজরুল মেলা’ নজরুলসংগীত শিল্পী পরিষদের
.............................................................................................
কুষ্টিয়ায় শুরু হয়েছে লালন ফকিরের স্মরণোৎসব
.............................................................................................
কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্রোহী ও প্রেমিক
.............................................................................................
রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবস আজ
.............................................................................................
ইতিহাসের এই দিন সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ কাজী মোতাহার হোসেনের জন্ম
.............................................................................................
চলে গেলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী
.............................................................................................
হুমায়ূন আহমেদের প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে স্মরণ অনুষ্ঠান
.............................................................................................
কিলোমাঞ্জারোর তুষার | আর্নেস্ট হেমিংওয়ে (পর্ব-২)
.............................................................................................
তারুণ্য অপসংস্কৃতির বেড়াজালে
.............................................................................................
৯ মে তুর্কি-বাংলা সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু
.............................................................................................
জব্বারের বলীখেলায় অংশ নিচ্ছে ২০০ বলী
.............................................................................................
বেঙ্গলে বর্ষবরণ আজ শেষ
.............................................................................................
প্রজাপতি, প্রজাপতি
.............................................................................................
বঙ্গ সম্মেলন ও বাংলা সাহিত্য
.............................................................................................
পোশাকশিল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে : শিল্পমন্ত্রী
.............................................................................................
সালমান তারেক শাকিলের গুচ্ছ কবিতা
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো: হাবিবুর রহমান সিরাজ
আইন উপদেষ্টা : অ্যাড. কাজী নজিব উল্লাহ্ হিরু
সম্পাদক ও প্রকাশক : অ্যাডভোকেট মো: রাসেদ উদ্দিন
সহকারি সম্পাদক : বিশ্বজিৎ পাল
যুগ্ন সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান রিপন
নির্বাহী সম্পাদক: মো: সিরাজুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : সাগর আহমেদ শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস ৫২ / ২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সূত্রাপুর ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৯৯ মতিঝিল , করিম চেম্বার ৭ম তলা , রুম নং-৭০২ , ঢাকা থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭২৬-৮৯৬২৮৯, ০১৬৮৪-২৯৪০৮০ Web: www.dailybishowmanchitra.com
Email: news@dailybishowmanchitra.com, rashedcprs@yahoo.com
    2015 @ All Right Reserved By dailybishowmanchitra.com

Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD