|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   অর্থ-বাণিজ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ভোক্তাঋণ নিয়ে বিপাকে ব্যাংক

জামানতবিহীন ঋণে বিপাকে পড়ে গেছেন ব্যাংকাররা। ৫৭ হাজার কোটি টাকার এ ভোক্তাঋণ আদায়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। করোনার কারণে অনেকের ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। চাকরি হারিয়েছেন অনেকেই। এতে বন্ধ হয়ে গেছে আয়ের পথ। অনেকের বেতনভাতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি আছে বেতন নেই। এমনি পরিস্থিতিতে সংসারের অতি প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে উচ্চ সুদে ঋণ নেয়া এ ভোক্তাঋণের কিস্তি অনেকেই পরিশোধ করতে পারছেন না। এতে বিপাকে পড়ে গেছেন ব্যাংকার ও সাধারণ ঋণগ্রহীতারা।

এ বিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান গতকাল জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে ঋণখেলাপি করা যাবে না। এ কারণে সেপ্টেম্বরের পরে বোঝা যাবে এ খাতের প্রকৃত অবস্থা। তবে, তিনি বলেন, সাধারণত এক সাথে বেশি পরিমাণ কিস্তি বকেয়া পড়লে সাধারণ গ্রাহকদের পরিশোধে অসুবিধা হবে। এ কারণে আমরা করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনে কিস্তির মেয়াদ এক বছর পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে বিবেচনা করব। কারণ, করোনার কারণে মানুষের আয় কমে গেছে। কারো কারো আয়ের পথই বন্ধ হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে এসব জামানতবিহীন ঋণ আদায় করতে বিকল্প পথ ছাড়া সম্ভব হবে না বলে তিনি মনে করেন। 

জানা গেছে, ব্যাংকগুলো শিল্পঋণের পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য ভোক্তাঋণও বিতরণ করে থাকে। প্রধানত চারটি খাতে ভোক্তাঋণ দেয়া হয়। ক্রেডিট কার্ড, ভোক্তাপর্যায়ে অটো কার, ফ্ল্যাট বা বাড়ি করার ঋণ ও ব্যক্তিপর্যায়ের ঋণ। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ড ও ব্যক্তিপর্যায়ের ঋণ শতভাগই জামানতবিহীন। চালু প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বেতনভাতার বিপরীতে এসব ঋণ দেয়া হয়।

ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন সূচক নিয়ে তৈরি বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন মতে, ব্যাংকিং খাতে ভোক্তাঋণের পরিমাণ গত ডিসেম্বর শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা। যা আগের বছরে ছিল ৪৭ হাজার কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ভোক্তাঋণ বেড়েছে প্রায় সাড়ে ২১ শতাংশ। এর মধ্যে ব্যক্তিপর্যায়ে ঋণ গত এক বছরে ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩২ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ক্রেডিট কার্ডে ৪ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। আবাসন খাতের ঋণ ১৫ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। তবে গত এক বছরে কমেছে অটোকার ঋণ। আটোকার ঋণ আগের বছরে যেখানে ছিল ২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, গেল বছরে তা কমে নেমেছে ২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। শতকরায় সবচেয়ে বেশি ভোক্তাঋণ বেড়েছে ব্যক্তিপর্যায়ে ৩২ শতাংশ। আর ক্রেডিট কার্ডে বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। আবাসন খাতে দেড় শতাংশের কিছু বেশি বাড়লেও অটোকার খাতে কমেছে ২ শতাংশের বেশি। 

জানা গেছে, ভোক্তাপর্যায়ের সব ঋণই প্রায় জামানতবিহীন। এ জন্য এ ঋণের সুদহার বেশি। যেমন, ক্রেডিট কার্ডের সুদ ২৫ শতাংশের নিচে নেই। ক্ষেত্রবিশেষে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। অন্য ভোক্তাঋণের ক্ষেত্রেও সুদ ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। যেখানে শিল্পঋণের সুদহার ৯ শতাংশ রয়েছে। আর এ ভোক্তাঋণের বেশির ভাগ গ্রাহকই অতি সাধারণ শ্রেণীর। ব্যাংকগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য মুনাফা আসে এ অপ্রচলিত খাত থেকে। প্রতিটি ব্যাংকেরই এ খাতের ঋণ আদায়ের জন্য আলাদা একটি শক্তিশালী টিম রয়েছে। এ খাতের কেউ কিস্তি পরিশোধে বিলম্বিত হলে গ্রাহককে ফোন, চিঠি দিয়ে ও নানা উপায়ে পেরেশানি করে তোলেন ব্যাংকাররা। এ কারণে ভোক্তাঋণের খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতের অন্য যেকোনো ঋণের চেয়ে কম। যেমন, গত বছরের ৫৭ হাজার কোটি টাকার ভোক্তাঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণ মাত্র ২ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। যা শতকরা হিসেবে পৌনে চার ভাগ। তাও আবার সমস্যাকবলিত আবাসন খাতেই ১ হাজার কোটি টাকা। 

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, গত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর ভোক্তাঋণ আদায়ে ভাটা পড়ে যায়। প্রায় চার মাস হতে চলল এ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের বেশির ভাগেরই আয় কমে গেছে। কারও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। কারও অফিস বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো কোনো গ্রাহক চাকরি হারিয়েছেন। যাদের চাকরি আছে তাদের বেশির ভাগেরই বেতনভাতা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। কারো আবার চাকরি আছে বেতন নেই। এসব কারণে গ্রাহকের আয় কমে যাওয়ায় ভোক্তাঋণের আদায়ে মারাত্মকভাবে প্রভাব পড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্রাহককেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ রাজধানীতে ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। কেউবা চাকরি হারিয়ে গ্রামে চলে গেছেন। কারো আবার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। সবমিলেই ভোক্তাঋণের গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা যাচ্ছে না। এমনি পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়ে গেছেন ব্যাংকার ও গ্রাহক। আয় না থাকায় ব্যাংকের ঋণ যেমন পরিশোধ করতে পারছেন না গ্রাহক, অপর দিকে ব্যাংকেরও অন্যতম আয়ের খাত বন্ধ হয়ে লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে। সবমিলে পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকেই যাচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় পাচ্ছেন না অনেকেই।

 
 
ভোক্তাঋণ নিয়ে বিপাকে ব্যাংক
                                  

জামানতবিহীন ঋণে বিপাকে পড়ে গেছেন ব্যাংকাররা। ৫৭ হাজার কোটি টাকার এ ভোক্তাঋণ আদায়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। করোনার কারণে অনেকের ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। চাকরি হারিয়েছেন অনেকেই। এতে বন্ধ হয়ে গেছে আয়ের পথ। অনেকের বেতনভাতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি আছে বেতন নেই। এমনি পরিস্থিতিতে সংসারের অতি প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে উচ্চ সুদে ঋণ নেয়া এ ভোক্তাঋণের কিস্তি অনেকেই পরিশোধ করতে পারছেন না। এতে বিপাকে পড়ে গেছেন ব্যাংকার ও সাধারণ ঋণগ্রহীতারা।

এ বিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান গতকাল জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে ঋণখেলাপি করা যাবে না। এ কারণে সেপ্টেম্বরের পরে বোঝা যাবে এ খাতের প্রকৃত অবস্থা। তবে, তিনি বলেন, সাধারণত এক সাথে বেশি পরিমাণ কিস্তি বকেয়া পড়লে সাধারণ গ্রাহকদের পরিশোধে অসুবিধা হবে। এ কারণে আমরা করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনে কিস্তির মেয়াদ এক বছর পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে বিবেচনা করব। কারণ, করোনার কারণে মানুষের আয় কমে গেছে। কারো কারো আয়ের পথই বন্ধ হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে এসব জামানতবিহীন ঋণ আদায় করতে বিকল্প পথ ছাড়া সম্ভব হবে না বলে তিনি মনে করেন। 

জানা গেছে, ব্যাংকগুলো শিল্পঋণের পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য ভোক্তাঋণও বিতরণ করে থাকে। প্রধানত চারটি খাতে ভোক্তাঋণ দেয়া হয়। ক্রেডিট কার্ড, ভোক্তাপর্যায়ে অটো কার, ফ্ল্যাট বা বাড়ি করার ঋণ ও ব্যক্তিপর্যায়ের ঋণ। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ড ও ব্যক্তিপর্যায়ের ঋণ শতভাগই জামানতবিহীন। চালু প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বেতনভাতার বিপরীতে এসব ঋণ দেয়া হয়।

ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন সূচক নিয়ে তৈরি বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন মতে, ব্যাংকিং খাতে ভোক্তাঋণের পরিমাণ গত ডিসেম্বর শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা। যা আগের বছরে ছিল ৪৭ হাজার কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ভোক্তাঋণ বেড়েছে প্রায় সাড়ে ২১ শতাংশ। এর মধ্যে ব্যক্তিপর্যায়ে ঋণ গত এক বছরে ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩২ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ক্রেডিট কার্ডে ৪ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। আবাসন খাতের ঋণ ১৫ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। তবে গত এক বছরে কমেছে অটোকার ঋণ। আটোকার ঋণ আগের বছরে যেখানে ছিল ২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, গেল বছরে তা কমে নেমেছে ২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। শতকরায় সবচেয়ে বেশি ভোক্তাঋণ বেড়েছে ব্যক্তিপর্যায়ে ৩২ শতাংশ। আর ক্রেডিট কার্ডে বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। আবাসন খাতে দেড় শতাংশের কিছু বেশি বাড়লেও অটোকার খাতে কমেছে ২ শতাংশের বেশি। 

জানা গেছে, ভোক্তাপর্যায়ের সব ঋণই প্রায় জামানতবিহীন। এ জন্য এ ঋণের সুদহার বেশি। যেমন, ক্রেডিট কার্ডের সুদ ২৫ শতাংশের নিচে নেই। ক্ষেত্রবিশেষে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। অন্য ভোক্তাঋণের ক্ষেত্রেও সুদ ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। যেখানে শিল্পঋণের সুদহার ৯ শতাংশ রয়েছে। আর এ ভোক্তাঋণের বেশির ভাগ গ্রাহকই অতি সাধারণ শ্রেণীর। ব্যাংকগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য মুনাফা আসে এ অপ্রচলিত খাত থেকে। প্রতিটি ব্যাংকেরই এ খাতের ঋণ আদায়ের জন্য আলাদা একটি শক্তিশালী টিম রয়েছে। এ খাতের কেউ কিস্তি পরিশোধে বিলম্বিত হলে গ্রাহককে ফোন, চিঠি দিয়ে ও নানা উপায়ে পেরেশানি করে তোলেন ব্যাংকাররা। এ কারণে ভোক্তাঋণের খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতের অন্য যেকোনো ঋণের চেয়ে কম। যেমন, গত বছরের ৫৭ হাজার কোটি টাকার ভোক্তাঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণ মাত্র ২ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। যা শতকরা হিসেবে পৌনে চার ভাগ। তাও আবার সমস্যাকবলিত আবাসন খাতেই ১ হাজার কোটি টাকা। 

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, গত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর ভোক্তাঋণ আদায়ে ভাটা পড়ে যায়। প্রায় চার মাস হতে চলল এ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের বেশির ভাগেরই আয় কমে গেছে। কারও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। কারও অফিস বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো কোনো গ্রাহক চাকরি হারিয়েছেন। যাদের চাকরি আছে তাদের বেশির ভাগেরই বেতনভাতা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। কারো আবার চাকরি আছে বেতন নেই। এসব কারণে গ্রাহকের আয় কমে যাওয়ায় ভোক্তাঋণের আদায়ে মারাত্মকভাবে প্রভাব পড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্রাহককেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ রাজধানীতে ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। কেউবা চাকরি হারিয়ে গ্রামে চলে গেছেন। কারো আবার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। সবমিলেই ভোক্তাঋণের গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা যাচ্ছে না। এমনি পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়ে গেছেন ব্যাংকার ও গ্রাহক। আয় না থাকায় ব্যাংকের ঋণ যেমন পরিশোধ করতে পারছেন না গ্রাহক, অপর দিকে ব্যাংকেরও অন্যতম আয়ের খাত বন্ধ হয়ে লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে। সবমিলে পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকেই যাচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় পাচ্ছেন না অনেকেই।

 
 
বিকল্প উপায়ে ব্যাংক খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা
                                  

ব্যাংকারদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে বেতনভাতার ওপর হাত দিচ্ছে না বেশির ভাগ ব্যাংক। বিপরীতে বিকল্প উপায়ে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে বছর শেষে মুনাফা একটু কম হলেও মেনে নিতে রাজি বেশির ভাগ ব্যাংক উদ্যোক্তা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এমনিতেই ঝুঁকি নিয়ে অফিস করছেন ব্যাংকাররা। এরওপর বেতনভাতা কমানো হলে কাজের স্পৃহা হারিয়ে ফেলবেন তারা। এ কারণেই ব্যয় কমানোর বিকল্প পথ বের করতে বেশির ভাগ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিয়েছে। এ দিকে ব্যাংক কর্মকর্তাদের মনোবলের কথা ভেবে বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরে এসেছে দেশের দ্বিতীয় প্রজন্মের ইসলামী ধারার অন্যতম প্রতিষ্ঠান আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক। আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে।

ব্যাংকারদের শীর্ষ সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান গতকাল জানিয়েছেন, আমরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা কমানোর কথা ভাবছি না। আমরা বিকল্প উপায়ে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছি। যেমনÑ ভাড়া অফিসগুলোর পরিসর কমিয়ে ভাড়া কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কমানো হচ্ছে নানা ধরনের পরিচালনব্যয়। প্রয়োজনে যেসব লোকবল স্বাভাবিক অবসরে যাচ্ছেন আপৎকালীন সময়ে এর বিপরীতে নতুন লোকবল নেয়া হবে না। এতে বিদ্যমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর একটু চাপ বাড়লেও বেতন না কমলে মানসিকভাবে স্বস্তিতে থাকবেন তারা। ব্যাংকের বিভিন্ন সম্মেলন কমানো হয়েছে। সব মিলিয়েই আমরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে বেতনভাতার ওপর হাত না দিয়ে অন্যভাবে সমন্বয় করার চেষ্টা করছি।

পূবালী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আব্দুল হালিম চৌধুরী গতকাল জানিয়েছেন, ব্যাংকিং খাতে এখনো এমন কোনো সমস্যা হয়নি যে যার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা কমাতে হবে। তিনি বলেন, করোনাকালীন আমদানি-রফতানি কমে যাওয়ায় বছর শেষে মুনাফা একটু কমে যেতে পারে। কিন্তু এর জন্য যাদের দিয়ে ব্যাংক মুনাফা করবে তাদের কষ্ট দেয়ার কোনো যুক্তি তিনি দেখছেন না। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় ব্যয় হলো সুদব্যয়। আমানতের বিপরীতে মুনাফা দিতে হয়। আগে এফডিআরের গড় সুদ ছিল আট শতাংশের ওপরে। এখন তা ৫ থেকে সাড়ে ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার পরে এত দিন যে সমস্যা হচ্ছিল তা অনেকটা কেটে গেছে। ঋণ ও আমানতের মুনাফার ব্যবধান (ব্যাপ্তি) সহনীয় পর্যায়ে নেমে এসেছে। অপর দিকে, অফিস ভাড়া, নানা ইউটিলিটি বিলও অনেক বেশি রয়েছে। আমরা তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। আগে ব্যাংকের নানা ধরনের কনফারেন্স হতো। এতে একটি ব্যয় হতো। কিন্তু করোনাকালীন কনফারেন্স কমে গেছে। যেটুকু হচ্ছে তার কোনো ব্যয় হয় না। কারণ ভার্চুয়াল কনফারেন্সের কারণে ব্যয় হয় না বললেই চলে। এ কারণে আমরা বিকল্প ব্যবস্থায় ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছি। 

এ দিকে করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ব্যাংকারদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটি গত ১৮ জুন পরিচালনা পর্ষদের সভায় ৪০ হাজার টাকা বেশি বেতন পান তাদের ধাপ অনুযায়ী ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মধ্যে ৪০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ, ১ লাখ ১ টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ, ২ লাখ ১ টাকার ওপরে ২০ শতাংশ, আর ডিএমডিদের বেতন ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন ১৩ লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা কমিয়ে ৮ লাখ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। বেতন কমানোর এ সিদ্ধান্ত আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল ব্যাংকটির ৩৪৮তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

এ বিষয়ে ব্যাংকটির একজন পর্ষদ সদস্য গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, করোনার কারণে এমনিতেই ব্যাংকাররা ঝুঁকি নিয়ে অফিস করছেন। এরওপর বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত ব্যাংকারদের মনোবল ভেঙে গিয়েছিল। যেহেতু ব্যাংকারদের কষ্টের বিনিময়ে ব্যাংকের সব কার্যক্রম পরিচালনা হয়; তাই ব্যাংকারদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। আগামী প্রান্তিকের পর অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বরের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে এ বিষয়ে আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা অন্য কোনো পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঋণ অনুমোদন প্রণোদনার ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার
                                  

প্রণোদনার ঋণ বিতরণে ব্যাংকের ধীরগতির মধ্যেই বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ঋণ দেয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ব্যাংকগুলোর আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে সেবা খাত হিসেবে বাংলাদেশ বিমানেরই রয়েছে এক হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে এ নিয়ে গতকাল পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পোদ্যোক্তাদের ঋণ বিতরণের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। এর মধ্যে বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা রয়েছে। ঋণ বিতরণের নীতিমালায় বলা হয়েছিল কোনো ঋণখেলাপি হলে প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ওই ঋণের উদ্যোক্তা ঋণ পাবেন না। অপর দিকে, ২০১৯ সালের মধ্যে মঞ্জুর করা চলতি মূলধনের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ঋণ নিতে পারবেন উদ্যোক্তারা। সার্কুলারের সব নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রকৃত উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে কি না তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য শর্ত দিয়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো কোম্পানি বা উদ্যোক্তা ঋণের জন্য আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক প্রথমে সার্কুলার অনুসারে যাচাই-বাছাই করবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠাতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এমন নির্দেশনা পাওয়ার পর ব্যাংকগুলো অনেকটা নড়েচড়ে বসে। তারা বিভিন্ন গ্রাহক থেকে প্রাপ্ত ঋণের প্রস্তাব নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদ থেকে অনুমোদন নিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠাতে শুরু করেছে। তবে, যেভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা উদ্যোক্তারা আশা করছেন সেই গতিতে দেয়া হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় পর্ষদ সদস্যরা প্রণোদনার প্যাকেজ কী পরিমাণ বাস্তবায়ন হয়েছে তা জানতে চান। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, প্রণোদনার প্যাকেজের আওতায় বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সেবা খাত হিসেবে বাংলাদেশ বিমানের জন্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এক হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তা চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ব্যাংকগুলো তহবিল সঙ্কটের কারণে প্রণোদনার প্যাকেজ বাস্তবায়ন করতে অসুবিধা হচ্ছে বলে প্রথমে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানিয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার অর্ধেক অর্থাৎ ১৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়। অপর দিকে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। ব্যাংকগুলোর আর্থিক সঙ্কটের দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকার জোগান দেয়ার ঘোষণা দেয়। ফলে ৫০ হাজার কোটি টাকার অর্ধেক অর্থাৎ ২৫ হাজার কোটি টাকাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জোগান দেয়া হবে। কিন্তু এর পরেও ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের ঋণ বিতরণে অনীহা প্রদর্শন করছে। বলা হচ্ছে এ মুহূর্তে ঋণ দিলে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার আরো বেড়ে যাবে। কারণ, ব্যাংকগুলো কোনো গ্রাহককে ঋণ দিলে অর্ধেক বাংলাদেশ ব্যাংক জোগান দেবে। কিন্তু দিন শেষে ঋণ ফেরত না পেলে ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান খেলাপি ঋণ আরো বেড়ে যাবে। অপর দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে থাকা ব্যাংকগুলোর অ্যাকাউন্ট থেকে দিন শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন তহবিল সমন্বয় করবে। এতে উভয় সঙ্কটে পড়বে ব্যাংকগুলো। এ কারণেই চলমান অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের ঋণ বিতরণে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে ব্যাংকগুলো।

হাহাকার বেসরকারি কর্মজীবীদের
                                  

ঢাকার একটি ব্রোকারেজ হাউজে চাকরি করতেন মোহসীন আলী। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শেয়ার ব্যবসা মন্দার কারণে প্রতিষ্ঠানটি বেতন প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। ৩০ হাজার টাকার বেতন এখন নেমে এসেছে ১০ হাজারে। তাও নিয়মিত দিতে পারছে না চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানটি। ফলে হাহাকার নেমে এসেছে তার জীবনে। টিকে থাকার লড়াইয়ে বাসা ছেড়ে দিয়ে স্ত্রী সন্তানকে ভোলার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়েছেন তিনি। বেকারত্বের ভয়ে একটি মেসে থেকে এক-তৃতীয়াংশ বেতনেই নিয়মিত অফিস করছেন তিনি।

এমন পরিস্থিতি শুধু মোহসীন আলীর নয়। ঢাকায় বসবাসরত প্রায় প্রতিটি বেসরকারি চাকরিজীবী পরিবারে এমন হাহাকার দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যাংক বেতন কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দোকানে বিক্রি না হওয়ায় ব্যবসা গুটিয়ে গ্রামে ফিরে যাচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। বেসরকারি চাকরিজীবীরা বাসা ছেড়ে দিয়ে গ্রামে ফিরে যাওয়ায় ঢাকার আবাসিক এলাকাগুলোর প্রায় প্রতিটি বাড়িতে বাসা ভাড়া দেয়ার বিজ্ঞাপন ঝুলছে। বাসাভাড়া কমিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।

রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করতেন ডা: শরীফুল ইসলাম। করোনা পরিস্থিতিতে হাসপাতালটি বেতন বন্ধ করে দেয়। এরপর জমানো অর্থ দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে ইস্কাটনের ভাড়া বাসায় অবস্থান করেন। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি খারাপ হয়ে যাওয়ায় গতমাসে বাড়িওয়ালাকে ভাড়া কমিয়ে দেয়ার প্রস্তাব করেন তিনি। অবস্থা বুঝে বাড়িওয়ালা তার ২২ হাজার টাকা ভাড়া থেকে সাত হাজার টাকা কমিয়ে দিতে রাজি হন। যেটা করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ২২ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হবে তাকে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের পরিস্থিতি আরও নাজুক। করোনা পরিস্থিতিতে দু-একটি ছাড়া প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতনভাতা বন্ধ প্রায়। ফলে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাদের।

রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সজীব হোসেন। লকডাউন শুরু হলে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এরপর বন্ধ হয়ে যায় তার বেতন-ভাতা। ঢাকার বাসা ছেড়ে দিয়ে স্ত্রী সন্তান নিয়ে উত্তরাঞ্চলের একটি জেলার নিজ গ্রামে গিয়ে ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন এই শিক্ষক।
করোনা পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন গণমাধ্যম কর্মীরাও। কয়েকটি পত্রিকা ছাপানো বন্ধ করে অনলাইন কার্যক্রম চালাচ্ছে। বেতন বকেয়া পড়েছে অনেক গণমাধ্যমে। বেতন বন্ধ হয়ে গেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের, চলছে ছাঁটাইও। গত ঈদুল ফিতরের সময় বহু সংবাদকর্মী বোনাস পাননি। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার আয়ের প্রধান উৎস বিজ্ঞাপন। কিন্তু বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়ায় অধিকাংশ গণমাধ্যম ঠিকমতো বেতন দিতে পারছে না। ফলে পরিবারে হাহাকার নেমে এসেছে তাদেরও। 

তবে করোনার এই সময়ে দুশ্চিন্তামুক্ত রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। করোনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে রোস্টার করে ডিউটি পালন করতে হচ্ছে তাদের। এ ছাড়াও একটি বড় অংশের কর্মকর্তা-কর্মচারী মাসে ৪-৫ দিন অফিস করছেন। এর পরেও বেতন বা ভাতায় কোনো প্রভাব পড়ছে না তাদের। এরপরে করোনা আক্রান্ত বা মৃত্যু বরণ করলে রয়েছে ৫ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার প্রণোদনা।

মার্চ মাসের শুরুতে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকলে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়তে থাকে। সর্বশেষ গত ৩০ মে শেষ হয় টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি। দীর্ঘ ছুটি, লকডাউন, সংক্রমণ পরিস্থিতির ক্রমাবনতির কারণে বেসরকারি বিভিন্ন খাতের চাকুরে ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্দিন চলছে। 

সামষ্টিক অর্থনীতি পর্যালোচনায় করোনার প্রভাবের সার্বিক চিত্র নিয়ে গত ৭ জুন সংবাদ সম্মেলন করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। তারা বলেছে, করোনার কারণে আয় কমে যাওয়ায় দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে সার্বিকভাবে দারিদ্র্যের হার ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি আয় ও ভোগের বৈষম্যও বেড়েছে।

সিপিডির মতে, করোনার কারণে ভোগের বৈষম্য বেড়ে দশমিক ৩৫ পয়েন্ট হয়েছে। ২০১৬ সালে এটি ছিল দশমিক ৩২ পয়েন্ট। একইভাবে আয়ের বৈষম্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে দশমিক ৫২ পয়েন্ট। ২০১৬ সালের হিসাবে এটি ছিল দশমিক ৪৮ পয়েন্ট। করোনার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল কিংবা সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারেনি। এতে একদিকে চাকরি হারিয়েছেন অনেকে, অনেকে কম বেতন পেয়েছেন।

পরের দিন গত ৮ জুন এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত জানান, মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে সরকারঘোষিত ৬৬ দিনের লকডাউনে প্রায় পৌনে চার কোটি মানুষ কাজ হারিয়েছে। এ সময়ে পাঁচ কোটি ৯৫ লাখ মানুষের শ্রেণিকাঠামোর পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে দুই কোটি ৫৫ লাখ মানুষ হতদরিদ্র হয়েছে। তবে অতি ধনীর অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।

সরকারের কোষাগারে ১০ প্রতিষ্ঠানের জমা ১৬ হাজার ৪৬ কোটি টাকা
                                  

 

চলতি অর্থবছরের শেষ সময়ে বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে ১০ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হবে। এতে ব্যাংকিং খাত আরো চাপে পড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যাংকাররা। তারা জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেবে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। এরওপর ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনার প্যাকেজ বাস্তবায়ন হবে ব্যাংক খাতের মাধ্যমে। বিপরীতে ব্যাংকগুলোর নগদ টাকার প্রবাহ কমে গেছে। আয় কমে যাওয়ায় ও অভাবের তাড়নায় প্রান্তিক সঞ্চয়টুকুও অনেকে ভেঙে খাচ্ছেন। এতে ব্যাংকে আমানতপ্রবাহ কমে গেছে। এরওপর ব্যাংকে থাকা স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়ী আমানত সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হলে ব্যাংকগুলো আরো চাপে পড়ে যাবে বলে ব্যাংকাররা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায় উন্নয়নব্যয়ের জন্য গত সেপ্টেম্বরে ব্যাংকঋণের পাশাপাশি সরকার তার ৬৮টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ জন্য গত জানুয়ারিতে ‘স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান আইন, ২০২০’ প্রণয়ন করা হয়।

জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানত হিসাবে ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি জমা আছে ২৫টি প্রতিষ্ঠানের কাছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কাছে জমা আছে ২১ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। পেট্রোবাংলার কাছে ১৮ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কাছে আছে ১৩ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জমা টাকার পরিমাণ ৯ হাজার ৯১৩ কোটি। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জমা টাকা আছে ৪ হাজার ৩০ কোটি। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনব্যয়, নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নে ও বার্ষিকব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জমা রাখার বিধান করা হয়। আপৎকালীন ব্যয় নির্বাহের জন্য পরিচালনব্যয়ের ২৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ সংরক্ষণ করার বিধান রাখা হয়। একই সাথে বিধি মোতাবেক পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ডও রেখে দেয়ার বিধায় করা হয়। এর বাইরে যে অর্থ থাকবে সেটাই উদ্বৃত্ত অর্থ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, সবধরনের ব্যয় নির্বাহের পরও ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ এক লাখ কোটি টাকার ওপরে রয়েছে। আইন অনুসারে সরকারের উন্নয়নব্যয় নির্বাহের জন্য এ উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হবে। আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার জন্য ‘স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান আইন, ২০২০’ প্রণয়ন করা হয়। এ আইনের আওতায় চলতি অর্থবছরে ১০টি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে ১৬ হাজার ৪৬ কোটি টাকা।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, এমনিতেই চলমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকে কেউ আমানত রাখছেন না। মানুষের আয় কমে যাওয়ায় তাদের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমনি পরিস্থিতিতে অনেকেরই বিদ্যমান সঞ্চয় ভেঙে খেতে হচ্ছে। ফলে আমানতপ্রবাহ কমে যাচ্ছে। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য সরকার প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এ প্রণোদনার প্যাকেজ বাস্তবায়ন হবে ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে।

অপর দিকে, বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেয়া হবে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। এতে এক ধরনে চাপে থাকবে দেশের ব্যাংকিং খাত। এসব চাপ সামলিয়ে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করা এক ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়ে গেছে। এরওপর স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংকে রাখা স্থায়ী আমানতের অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হলে ব্যাংকগুলোর তহবিল সঙ্কট আরো বেড়ে যাবে। এতে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করা ব্যাংকগুলোর জন্য কষ্টকর হয়ে পড়বে।

বাড়বে কি কর্মক্ষেত্র ও ক্রয়ক্ষমতা
                                  

করোনা আর বিশ্বমন্দার এই সময়ে ব্যয় বরাদ্দ বাড়িয়ে নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ব্যয় কাঠামো উপস্থাপন করেছেন জাতীয় সংসদে।

বৃহস্পতিবার করোনার কারণে সীমিত উপস্থিতিতে তিনি বাজেট বক্তৃতা প্রদান করেন। এতে করোনাপরবর্তী অর্থনীতি নিয়ে কিছু পদক্ষেপের কথা বলেন। তার আগে মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করা হয়।

অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার দ্বিতীয় বাজেট। বাজেট প্রণয়নের প্রাক্কালে বিশ্বব্যাপী যে প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা মোকাবিলা করে আগামী বাজেট বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে সে প্রশ্ন চলে এসেছে শুরুতেই।

বিশেষত করোনা ও মন্দার কারণে সারাবিশ্ব জর্জরিত। উন্নত দেশগুলোতেও করোনা পরবর্তী মন্দা জেঁকে বসায় ব্যাপকহারে কর্মসংস্থানহীন হয়ে পড়ছে মানুষ। কমে যাচ্ছে আয়। তাদের, (বিশেষত যেসব দেশে বাংলাদেশি পণ্য রফতানি হয়ে থাকে) আয় কমে গেলে চাহিদাও কমে যাবে।

ক্রয়ক্ষমতা হারালে ওসব দেশ থেকে রপ্তানি আদেশও কমে যাবে যা সার্বিক রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সে পরিস্থিতি হলে বাংলাদেশে কর্মসংস্থানহীন হয়ে সাধারণ ক্রয়ক্ষমতাও হারাবে। তাই এই বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জই থাকছে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। পাশাপাশি ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে দরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

সেক্ষেত্রে নগদ অর্থ সরবরাহ বাড়িয়ে হলেও তা করতে হবে। নইলে বছর শেষে ভোগ্যব্যয় কমে গেলে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধিও (৮ দশমিক ২ শতাংশ ) অর্জিত হবে না। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে বছর শেষে কি পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে—তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ দরকার। সেটি কীভাবে হবে?

অর্থমন্ত্রী নতুন সাতটি খাতে কর অবকাশ সুবিধা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০টি খাত এখন এই সুবিধা পাচ্ছে। আরো কিছু খাতে মূল্যসংযোজন কর বা ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে এবং আগামী বছরেও তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। আবার কিছু খাতে নতুন করে শুল্কহার বাড়িয়েছেন। উত্পাদনমুখী খাত বা আমদানি খাতই হোক না কেন, দিনশেষে মানুষকে ক্রয়ে সামর্থ্যবান করতে না পারলে সুফল আসবে না। সেটি করতে হলে যে পরিমাণ বরাদ্দ এবং ব্যয়ের প্রয়োজন তার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা বাজেটে উঠে আসেনি।

করোনাবিধ্বস্ত বেসরকারি খাত কর্মীদের বেতন দিতেই হিমশিম খাচ্ছে। শুরু হয়ে গেছে ছাঁটাই। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে না পারলে কর্মী কেন, ব্যবসায়ী নিজেও টিকে থাকতে পারবে না। ইতিপূর্বেকার ঘোষিত প্রণোদনার অর্থও সঠিক ভাবে মেলেনি। ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের শর্ত থাকায় ব্যাংকের কাছে সবাই দ্বারস্থ হলেও সুবিধা পাচ্ছে বড়োরা। ছোটোদের গুরুত্ব নেই। ব্যাংকগুলো নিজেরাও নানা সমস্যায় জর্জরিত। নেই সুশাসন। পরিচালকদের বেনামি ঋণেই ব্যাংকিং খাত জর্জরিত। ফলে, প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ ব্যবসায়ীরা যে আশাবাদের অপেক্ষা করছিলেন, তা হয়নি।

করোনাকালে স্বাস্থ্য খাতের বিষয়টি ছিল আলোচিত। এখাতে ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ‘থোক বরাদ্দ’ সব সময়ই বাজেট শৃঙ্খলার পরিপন্থি। সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যয়ও এবারে খুব একটা বাড়ানো হয়নি। বরং বেড়েছে বেতন-ভাতাসহ অনুন্নয়ন ব্যয়। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার মাত্র ২ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের বিপরীতে রাজস্ব প্রাপ্তির প্রাক্বলন করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা।

প্রশ্ন হচ্ছে—চলতি বছরেই রাজস্ব আদায় হতে পারে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা কম। সেক্ষেত্রে করোনাবিধ্বস্ত অর্থনীতি আগামী বছরে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিতে পারবে না সরকারকে। তাহলে বেতনভাতা দিতে গিয়েই হিমশিম খেতে হবে। হতে হবে ঋণ নির্ভর। সেটি অভ্যন্তরীণ মানে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকেই হোক, আর বাহ্যিক তথা কোনো দেশ বা উন্নয়ন সংস্থা থেকেই হোক। কিন্তু সারাবিশ্ব যেখানে বিপর্যস্ত, সেখানে ঋণ প্রাপ্তির পরিমাণও কম হবে।

অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে সেটি বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। রাজস্ব আদায় না হলে বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে ঋণ আরো বেশি গ্রহণ করতে হবে। ফলে, বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সংশয় একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির আয়করের সর্বনিম্ন সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর ভাষায়—মুদ্রাস্ফীতির কারণে এটি করা হয়েছে। মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে তিনি করদাতাদের জন্য এটি করেছেন। তবে পরিস্থিতি যেভাবে উপলব্ধি করেছেন তাতে আয় হ্রাসের এই সময়ে এটি আরো বেশি হওয়া দরকার ছিল। আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম কর কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে। কালো টাকা সাদা করার অবারিত সুযোগ দিয়ে ভবিষ্যতে কোনো দপ্তর থেকে প্রশ্ন না করার বিধান রাখা হয়েছে।

এরমাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশা করা হয়েছে। যদিও ইতিপূর্বে দেওয়া সুবিধাদি কোনো কাজে আসেনি। প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এই বরাদ্দ ব্যয় নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তথাপি এটি আরো বাড়ানোর দরকার ছিল এবং সঠিক ব্যয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে মানুষের হাতে নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সমাজের একটি অংশের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো যেত।

রাজস্ব আদায় : প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আদায় করতে হবে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৩ কোটি টাকা। আর কর বহির্ভূত অন্যান্য আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৮ হাজার কোটি টাকা। মোট ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ শতাংশ।

এনবিআরকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় করতে হবে ভ্যাট খাত থেকে। এই খাতে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। আয়কর থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা এবং শুল্ক খাতে ৯৫ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা আদায় করতে হবে।

বাজেটে ঘাটতি : আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার মোট বাজেটে অনুদান ছাড়া ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা যা জিডিপির ৬ শতাংশ। ঘাটতির এই পরিমাণ অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি। অনুদানসহ হিসাব করলে আয় ও ব্যয়ের ঘাটতি থাকবে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা যা মোট জিডিপির ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাজেটের এই ঘাটতি মেটানোর জন্য সরকারের তা ঋণ করে পূরণ করতে হবে অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক উত্স থেকে। সেজন্য অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা এবং বিদেশ থেকে ৭৬ হাজার ৪ কোটি টাকা ঋণ করার পরিকল্পনা ধরা হচ্ছে নতুন বাজেটে। অভ্যন্তরীণ খাতের মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আরো ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ছিল ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। কিন্তু সংশোধিত বাজেটে এটি বাড়িয়ে ৮২ হাজার ৪২১ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়। একই সঙ্গে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা।

এডিপি : এবার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আরো ৯ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে এডিপির আকার দাঁড়াল ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১১ কোটি টাকা। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের মূল এডিপির আকার ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আগামী এডিপির মূল আকার বাড়ছে মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ। করোনার কারণে এবার এডিপির আকার প্রতিবারের মতো বাড়ানো হচ্ছে না। তবে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ ১০ হাজার ১০৮ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৩ হাজার ২২৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া চলতি অর্থবছরে কৃষি খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৬ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছর কৃষি খাতে বরাদ্দ ৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৮ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। তবে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন খাত। এ খাতে মোট বরাদ্দ ৫২ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা। এডিপির ২৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ বরাদ্দ পেয়েছে এই খাতটি।

এরপরে ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাত ২৫ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা বিদ্যুত্ খাতে ২৪ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাত রয়েছে সাত নম্বরে। কৃষি খাত অষ্টম স্থানে।

সংশোধিত বাজেট : অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেছেন, কোভিড-১৯-এর প্রভাবে রাজস্ব আয় ও ব্যয় উভয়ই প্রত্যাশিত মাত্রার চেয়ে কম হবে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের মূল বাজেটে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য ছিল ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এই লক্ষ্যমাত্রা ২৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা হ্রাস করে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এই ব্যয় ২১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা হ্রাস করে ৫ লাখ ১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেটে ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা যা জিডিপির সাড়ে ৫ শতাংশ।

হু হু করে বাড়ছে কুষ্টিয়ার খোলা বাজারে ধান ও চালের দাম
                                  

দেশের বৃহৎ চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে প্রতিদিনই বাড়ছে নিত্য পণ্য চালের দাম। ঈদের আগে নতুন ধান আসায় দাম কমলেও ঈদের পরেই কয়েক দফায় চালের বাজার বেড়েছে। যার প্রভাব সারা দেশের চালের বাজারে ইতোমধ্যে পড়েছে।

এদিকে দাম বাড়ায় সরকারিভাবে চাল সংগ্রহে বেঘাত ঘটছে। শেষ পর্যন্ত সরকারিভাবে চাল সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা ঠিকঠাক মতো পুরণ না হলে মওসুমের শেষের দিকে চালের বাজার আরো বাড়তে পারে। তবে চালের দাম বৃদ্ধিতে খুশি কৃষক

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চিকন, মোটা ও মাঝারি সব চালের বাজার বেশি। ধানের বাজারের সাথে পাল্লা দিয়ে চালের দাম বাড়ছে। মিলমালিকরা বলছেন ধানের দামের সাথে সমন্বয় করে বাড়ছে চালের দাম।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, গত বছর জুন মাসে যে চালের কেজি ছিল ৩২ থেকে ৩৩ টাকা সেই চাল এ বছরে একই সময়ে ৪৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত দুবছরের মধ্যে এবারই চালের বাজার সব থেকে বেশি। আমন মওসুমের আগ পর্যন্ত চালের বাজারে দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে এ ব্যবসার সাথে জড়িতরা মনে করছেন।

করোনা পরিস্থিতিতে বাইরে থেকে সহজেই চাল আমদানি করা যাবে না মনে করে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী, ফড়িয়া ও আড়ৎদাররা ধান ও চাল মজুদ শুরু করেছে। এমন তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার কাছে রয়েছে বলে জানা যায়।

মিলমালিক, কৃষক ও খাদ্য কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রমজানের মধ্যে সারা দেশে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয়। ঈদের পর নতুন ধান মিলগুলোতে আসায় চালের বাজার ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ঈদের আগ পর্যন্ত মিনিকেট, কাজললতা, বাসমতি, আঠাশ ও মোটা পারিজা জাতের চালের বাজার কেজিতে মিল গেটে ৩ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত কমে যায়। তবে ঈদের পরের চিত্র মিল গেট থেকেই একেবারে ভিন্ন।

কুষ্টিয়া হাসকিং মিলমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান জানান, ঈদের আগে কুষ্টিয়ার মিলগুলো পুরোপুরি চালু হলেও নওগাঁ, দিনাজপুরসহ অন্যান্য জেলার মিলগুলো পুরো দমে উৎপাদনে ছিল না। ঈদের পর সব জেলায় পুরোদমে উৎপাদনে গেছে। প্রচুর ধান কিনছে মিলমালিকরা। ছাঁটাই ও বিপণন কার্যক্রম চলছে জোর গতিতে। ঈদের আগে ধানের যে বাজার ছিল ঈদের পর তা থেকে বাজার অনেক বেশি। সব জাতের ধান প্রতিমণে ২৫০ টাকা বেড়েছে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে আঠাশ, কাজললতা ও মিনিকেট (সরুজাত) ধানের বাজার এখন অনেক বেশি। যে ধান গত বছর এই সময়ে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ ছিল এখন তা হাজারে ঠেকেছে। পাশাপাশি সরু ধান গত বছর এই সময়ে ৮০০ টাকা মণ বিক্রি হলেও এখন ১ হাজার ১০০ টাকার বেশি বিক্রি হচ্ছে। ধানের বাজার আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় আইলচারা ধানের হাটে সরেজমিনে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় ধানের দাম প্রতিমণে মান ভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। শুকনা ধান গড়ে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ধানের দাম বাড়াতে খুশি কৃষকরা।

পৌর বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী স্বপন কুমার জানান, ঈদের আগের তুলনায় এখন বাজার চড়া। করোনার কারণে বাইরে থেকে চাল আনা সহজ হবে না এমনটা আঁচ করা গিয়েছিল আগেই। তিনি জানান, যে মিনিকেট চাল ঈদের আগে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা ছিল তা এখন ৫০ টাকা, আঠাশের চাল ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৬ টাকা, কাজললতাও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। এমন কি যে মোটা চাল ৩০ টাকা ছিল তার দামও বেড়ে ৪০ টাকায় উঠেছে।

খাজানগর মোকামে মিলারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার চালের বাজার বাড়ার প্রবণতা অনেক বেশি। যার আঁচ ইতোমধ্যে বাজারে পড়েছে। বাজার শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে সেটাই দেখার বিষয়।

মিলাররা জানান, গত বছর জুনে এই মোকামে সরু চালের দাম ছিল ৪০ থেকে ৪২ টাকা, যে আঠাশ ও কাললতা চালের কেজি ছিল ৩২ থেকে ৩৩ টাকা তা এখন ৪৪ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মোটা পারিজা জাতের চালের দাম ছিল ২০ থেকে ২২ টাকার মধ্যে তা এখন ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা মিলগেটে বিক্রি হচ্ছে। খোলা বাজারে ধান ও চালের বাজার বেশি হওয়ায় এ বছর সংগ্রহ অভিযান থমকে গেছে। সরকারি গোডাউনে কৃষক ও মিলররা ধান ও চাল দিতে পারছে না। মোটা চালের দাম সরকার ৩৬ টাকা নির্ধারণ করলেও তা এখন বাইরে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪ টাকা লোকসানে কোনো মিলার গুদামে চাল দিতে চাইবে না। পাশাপাশি বাইরে বেশি দাম পাওয়ায় নানা ঝামেলার কারণে কৃষকরা গোডাউনে ধান দিতে চাচ্ছে না। জেলায় এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ধান সংগ্রহ হয়নি। ৩৪ হাজার টনের মধ্যে মাত্র ১ হাজার টন চাল সংগ্রহ হয়েছে।’

চাল মিল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান, সিন্ডিকেট করে কোনো মিলার চাইলেও দাম বাড়াতে পারে না। এখন প্রতিযোগিতার সময়। ধানের বাজারের সাথে সমন্বয় রেখে চালের বাজার বাড়ছে। দেশে আমফান ও ঝড়ে ১৫ ভাগ ধান নষ্ট হলেও বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে দেশীয় বাজারে ধান ও চালের সংকট হবে না। তবে দামের হেরফের হবে। ধানের ভাল দাম পাচ্ছে কৃষকরা। দাম আরো বাড়তে পারে। ধানের দাম বাড়লে চালের বাজার আরো বাড়বে। এছাড়া তিনি বলেন, করোনার একটা প্রভাব বাজারে পড়ছে। অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ অভিযান এ বছর দামের কারণে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। সংগ্রহ ঠিকভাবে না হলে সরকারের খাদ্য মজুদ কমে আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকার চাইলে বাইরে থেকে চাল আনতে পারে। তাতেও বাজার স্বাভাবিক থাকবে।

৬ বছরের ব্যবধানে বাজেটে বিদেশী ঋণনির্ভরতা বেড়েছে সাড়ে ৭ গুণ
                                  

ছয় বছরের ব্যবধানে বাজেটে বিদেশী ঋণ সহায়তা নির্ভরতা সাড়ে ৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেটে বিদেশী নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। সেখানে আগামী অর্থবছরে এই নিট ঋণ সহায়তা প্রাক্কলন করা হয়েছে ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরে বিদেশী ঋণ সহায়তা একটি হিসাব প্রাক্কলন করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, বিশ্বব্যাংক, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ আরো কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ বাজেটে সহায়তা হিসেবে পাওয়া গেছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রকল্প সহায়তা হিসেবে বিদেশী ঋণ ধরা রয়েছে ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বিদেশী অনুদান খাতে পাওয়া যাবে আরো চার হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশী ঋণ ও সুদ পরিশোধে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৮২০ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মূলত, বাজেট সহায়তা পাবার কারণে এবারকার বাজেটে বিদেশী সহায়তার অঙ্ক বাড়ছে। বেশ কয়েক বছর ধরে আমরা দাতা সংস্থার কাছ থেকে কোনো ধরনের বাজেট সহায়তা পাচ্ছিলাম না। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম। কারণ করোনার কারণে সরকারের পক্ষ থেকে যে বাজেট সহায়তা চাওয়া হয়েছিল তাতে এরই মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। বিশ্বব্যাংক, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ও এডিবির পক্ষ থেকে এরই মধ্যে বাজেট সহায়তা দেয়া শুরু হয়েছে। ফলে আগামী অর্থবছরে বাজেটে বিদেশী ঋণ সহায়তা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি হবে।

এদিকে অর্থ বিভাগের বাজেট ডকুমেন্ট ঘেটে দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নিট বিদেশী ঋণ সহায়তা পাওয়া গিয়েছিল ১১ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ৪১ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৩ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরে এখাতে ধরা রয়েছে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা।

এর আগে গত মাসে বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছে টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে চলতি ও আগামী অর্থবছরের বাজেটে বাড়তি আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এর মধ্যে এআইআইবির ( চীনভিত্তিক বিনিয়োগ উন্নয়ন ব্যাংক) কাছে বাজেট সহায়তা খাতে চলতি অর্থবছরে আর ৫০ কোটি ডলার এবং আগামী দুই অর্থবছরে ৫০ কোটি ডলার ও করোনা মোকাবেলায় ১০ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক- এডিবির কাছে চাওয়া হয়েছে ১০০ কোটি ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর কাছে ৭০ কোটি ডলার।

বিশ্বব্যাংকের কাছে চলমান সহায়তার বাইরে ৫০ কোটি ডলার এবং ‘ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক’ (আইএসডিবি)-এর কাছে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ১৫ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে। শুধু বাজেট সহায়তা হিসেবেই নয়, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার এরই মধ্যে দাতা সংস্থারগুলোর কাছ থেকে সহায়তা কামনা করেছে। চলতি অর্থবছরে করোনায় স্বাস্থ্যজনিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাংক ১০ কোটি ডলার, ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক’ (এডিবি) বাজেট সহায়তাসহ অন্যান্য খাতে ৬০ কোটি ২৩ লাখ ডলার এবং ‘এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক’ (এআইআইবি) ৪৫ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট ক্রেডিটের আওতায় বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রাপ্য ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ২৫ কোটি ডলার দ্রুত ছাড়ের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। বেশ কয়েকটি সংস্থা অর্থ ছাড়ও শুরু করেছে।

 
অপ্রত্যাশিত খাতেই ব্যয় ৩ হাজার কোটি টাকা
                                  

আগামী অর্থবছরের বাজেটে ‘অপ্রত্যাশিত’ খাতে ব্যয় ৫০০ কোটি টাকা বাড়ানো হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা ছিল আড়াই হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের বাজেটে সেটি বাড়িয়ে ৩ হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। মূলত করোনা-পরবর্তী বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলায় এ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে ব্যয় হয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাতে একই পরিমাণ বরাদ্দ রাখা হলেও ব্যয় হয়েছে মাত্র ২৯ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে একই পরিমাণ বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় মাত্র ৬০ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ খাতে দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে মাত্র দুই কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরে অপ্রত্যাশিত খাতে ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতি বছরই এ খাতে দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। দেশে কোনো দৈব-দুর্বিপাক পরিস্থিতির উদ্ভব হলে এ খাত থেকে অর্থ ব্যয় করা হয়। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে হঠাৎ টাকার প্রয়োজন হলেও এ খাত থেকে অর্থের সংস্থান করা হয়ে থাকে। যেমন গত বছর ‘রোজ গার্ডেন’ কেনার অর্থও এ খাত থেকে দেয়া হয়েছিল। আগামী অর্থবছরে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় হঠাৎ করে যদি কোনো অর্থের প্রয়োজন হয় সে জন্য এবার এখানে বরাদ্দ ৫০০ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে।

জানা গেছে, ‘অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাত’ নামে পরিচিত এ খাত থেকে গত কয়েক অর্থবছরে তেমন অর্থ ব্যয় না হলেও চলতি অর্থবছরে এ খাতের প্রায় পুরো অর্থই ব্যয় হয়েছে। ব্যয়িত অর্থের বেশির ভাগই গেছে করোনার কারণে দেয়া স্বাস্থ্য ও প্রণোদনা খাতে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত ছয় অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দের বিপরীতে খরচ প্রায় নেই বললেই চলে। তবে ব্যতিক্রম শুধু গত ২০১৮-১৯ ও চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছর। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ‘অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা’ খাতে দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। বরাদ্দের বিপরীতে খরচ হয়েছে প্রায় সব টাকা। সেই অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি টাকা গিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতায় কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডের ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত অনিষ্পন্ন আবেদনগুলো নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সম্ভাব্য ৭৫৭ কোটি টাকার মধ্যে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা এ খাত থেকে ছাড় করা হয়।

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। করোনার আঘাতের কারণে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা বাবদ সুদ ব্যয় এবং দরিদ্র পরিবারকে নগদ অর্থের পাশাপাশি ওএমএসের মাধ্যমে ১০ টাকায় ভর্তুকি দিয়ে চাল বিক্রিতে সরকারের খরচ হয় আরো প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা। এ অর্থও অপ্রত্যাশিত খাত থেকে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ বাবদ যে অর্থ দেয়া হবে তা-ও এ খাত থেকেই যাবে। বছর শেষে পুরো টাকাই ব্যয় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই অর্থ যেন অপ্রয়োজনীয় বা অস্বচ্ছ খাতে ব্যয় না করা হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন তারা।

 

 
অস্ট্রেলিয়া থেকে মাংস আমদানি স্থগিত করল চীন
                                  

চীন বার্লি আমদানির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পর এবার স্থগিত করল অস্ট্রেলিয়ার মাংস আমদানি। এতে দুই দেশের সম্পর্ক অবনতির দিকে মোড় নিচ্ছে। এ স্থগিতাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন বেইজিংয়ের বাণিজ্যযুদ্ধ কৌশল হিসেবে।

সোমবার অস্ট্রেলিয়া থেকে রপ্তানি করা বার্লির ওপর ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কর আরোপের ঘোষণা দেয় চীন। মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মাংস আমদানি স্থগিত করল তারা । চীন এমন সময় এই মাংস আমদানি স্থগিতাদেশ ঘোষণা করল, যখন অস্ট্রেলিয়া চীনের কাছে করোনাভাইরাস বিস্তার ও উৎস সম্পর্কে আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছে।

গত মাসের শেষ দিকে করোনাভাইরস নিয়ে অস্ট্রেলিয়া-চীন সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত চেং জিংয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি বন্ধ করে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছিলেন।
এই আমদানি স্থগিত নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী সাইমন বার্মিংহাম এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, অস্ট্রেলিয়া গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

অস্ট্রেলিয়ার স্থগিতাদেশপ্রাপ্ত মাংস বিক্রির এই প্রধান ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ৩৫ শতাংশ মাংস রপ্তানি করে চীনে। সাম্প্রতিক বছরে চীনে অস্ট্রেলিয়ার মাংসের চাহিদা অনেক বেড়েছিল। এই বছর অস্ট্রেলিয়া রপ্তানি করেছিল ৩৫০ কোটি ডলারের মাংস। এ ছাড়া, অস্ট্রেলিয়া চীনের সবচেয়ে বড় বার্লি রপ্তানিকারক দেশ। দেশটির ৮৮ শতাংশ বার্লি রপ্তানি হয় চীনে।

ব্যাংকিং খাত নানামুখী সঙ্কটে
                                  

নানামুখী সঙ্কটের মুখে পড়ে গেছে দেশের ব্যাংকিং খাত। ঋণের সুদহার কমে যাওয়া, দুই মাসের সুদ স্থগিত হওয়া, খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় আয় কমে গেছে। পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া ও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে সরকারের ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে গেছে। শুধু চলতি মাসেই ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার ৭ হাজার ১৩ কোটি টাকার নিট ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সব মিলে ব্যাংকিং খাত অনেকটাই চাপে পড়ে গেছে। অস্তিত্ব রক্ষার্থে তাই অনেকেই পরিচালনব্যয় কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, চলতি বছরের মার্চ থেকে অনেকটা চাপে পড়েই ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ কার্যকর করা হয়েছে। ক্রেডিট কার্ড ছাড়া আর সব ঋণের সুদহার ১ মার্চ থেকে ৯ শতাংশ করা হয়। এতে অনেক ভালো ব্যাংকের মুনাফা অর্ধেকে নেমে গেছে। দেশের নতুন প্রজন্মের একটি ব্যাংকের এমডি গতকাল  জানিয়েছেন, শুধু ঋণের সুদহার কার্যকর করতে গিয়ে এক মাসের ব্যবধানে মুনাফা এক-চতুর্থাংশে নেমে গেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে যেখানে মুনাফা হয়েছিল ২০ কোটি টাকা, মার্চ শেষে তা নেমে গেছে ৫ কোটি টাকায়। অথচ পরিচালনব্যয় এর চেয়ে বেশি। প্রথম প্রজন্মের অপর একটি ব্যাংকের এমডি গতকাল জানান, প্রতি মাসে যেখানে পরিচালন মুনাফা ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকা হতো, ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ কার্যকর করতে গিয়ে এক মাসের ব্যবধানে মুনাফা ৩০ কোটি টাকায় নেমে গেছে।

এ দিকে ঋণের সুদহার বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যখন ব্যাংকগুলো হিমশিম খাচ্ছে তখনই হানা দিয়েছে করোনাভাইরাসের মতো মহামারী। গত ২৪ মার্চ থেকে একটানা সাধারণ ছুটি চলছে। এতে ব্যাংকগুলো সীমিত পরিসরে লেনদেন করছে। কখনো এক ঘণ্টা, কখনো দুই বা তিন ঘণ্টা খোলা রাখা হচ্ছে। আবার ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন বেড়ে যাওয়ায় সব শাখাই খোলা রাখা হচ্ছে না। সর্বোচ্চ এক- চতুর্থাংশ শাখা খোলা রাখা হচ্ছে। এমন সময়ে দুই মাসের সুদহার স্থগিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। ব্যাংকাররা জানান, এক মাসে সুদ আয় স্থগিত করা হলে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার আয় কমে যায়। সেখানে এপ্রিল ও মে মাসের সুদ-আয় স্থগিত করা হলে ১৫ হাজার কোটি টাকার আয় কমে যাবে। এ আয় কিভাবে ব্যাংকগুলো সমন্বয় করবে তার কোনো দিকনির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এখনো দেয়া হয়নি। অথচ দুই মাসে শুধু আমানতকারীদেরই মুনাফা পরিশোধ করতে হবে ১০ হাজার কোটি টাকা থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা।

অন্য দিকে করোনাভাইরাসের প্রভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে গেছে। এতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার ধারে কাছেও যেতে পারছে না রাজস্ব বিভাগ। কিন্তু সরকারের ব্যয় কমছে না। এ পরিস্থিতিতে ব্যয় ঠিক রাখতে সরকারকে হয় বিদেশ থেকে, না হয় ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ করতে হবে। দেখা যাচ্ছে বিদেশ থেকে কাক্সিক্ষত হারে ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে ব্যাংকব্যবস্থা থেকেই সরকারকে বেশি মাত্রায় ঋণ নিতে হচ্ছে। গত মাসের শেষ দুই সপ্তাহেই ব্যাংকিং খাত থেকে নেয়া হয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকা। চলতি মাসেও শুধু নিট ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ১৩ কোটি টাকা। তবে প্রতিশ্রুত অর্থ না পাওয়া গেলে এ ঋণ গ্রহণের মাত্রা বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এমনিতেই চলমান অবস্থায় ব্যাংকগুলো নগদ অর্থব্যবস্থাপনা করতে হিমশিম খাচ্ছে। এর ওপর অতিমাত্রায় ব্যাংক খাত থেকে সরকার ঋণ নিলে ব্যাংকগুলো আরো বেকায়দায় পড়ে যাবে। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে অনেক ব্যাংকই নিশ্চিত লোকসান থেকে রক্ষা ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পরিচালনব্যয় কমানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এ বিষয়ে কয়েকজন ব্যাংকার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যে কত ভয়াবহ হবে তা সামনে বোঝা যাবে। শুধু দুই মাসের সুদ-আয় স্থগিত রাখার ধকলও কোনো ব্যাংকই সামলাতে পারবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সুদ-আয় সমন্বয় করার উদ্যোগ না নিলে বেশির ভাগ ব্যাংকই নিশ্চিত লোকসানের মুখে পড়বে। পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য তাই নানাভাবে ব্যাংকের ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা নিতে হচ্ছে।

দুই মাসে ব্যাংকের আয় স্থগিত হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা
                                  
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় দুই মাসে ব্যাংকের আয় স্থগিত হয়ে যাবে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এই দুই মাসে আমানতকারীদের মুনাফা পরিশোধ করতে হবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। দুই মাসের আয় স্থগিত হওয়ায় ব্যাংকগুলোর লোকসান কিভাবে সমন্বয় করা হবে তা সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়নি। এতে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন ব্যাংকাররা। এমনই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন তারা।

ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখার গতকাল সোমবার জানান, দুই মাসের ঋণের সুদ ব্লক অ্যাকাউন্টে রাখলে তাদের লোকসান হবে। তবে, এ লোকসান কিভাবে আমরা সমন্বয় করব সে ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।

এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক যে সার্কুলার দিয়েছে তাতে সবধরনের ঋণের দুই মাসের সুদ হিসাবে ব্লক অ্যাকাউন্টে রাখতে হবে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু আমাদের আমানতকারীদের দুই মাসে সুদ পরিশোধ করতে হবে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা। আমানতকারীদের সুদতো আমাদের দিতেই হবে। এতে ব্যাংকগুলোর লোকসান সমন্বয় করা সম্ভব হবে না। এ কারণে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন। নিশ্চয়ই তারা ব্যাংকগুলোর দিকটিও বিবেচনা করবে। পূবালী ব্যাংকের এমডি মো: আব্দুল হালিম চৌধুরী বলেন, সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে আসলে ব্যাংকগুলো মানতে বাধ্য। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে যে নির্দেশনা দেবে তা পরিপালন করতে যে সমস্যার সৃষ্টি হবে তা সমাধানও বাংলাদেশ ব্যাংক দেবে। তিনি মনে করেন, দুই মাসের আয় ব্লক অ্যাকাউন্টে রাখার যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তাতে ব্যাংকগুলো নিঃসন্দেহে লোকসানের মুখে পড়বে। এ বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্যই বিবেচনা করবে বলে তারা আশা করছেন।

সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম কামাল হোসেনও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা তারা পরিপালন করতে শুরু করেছেন। এতে যে লোকসান হবে তা কিভাবে সমন্বয় করা হবে সে ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন।

ব্যাংকাররা জানান, ব্যাংকিং খাতের প্রায় ১০ লাখ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। ক্রেডিট কার্ড ভোক্তা ঋণ ও শিল্প ঋণসহ গড়ে প্রতি মাসে ১০ শতাংশ মুনাফা হিসেবে বছরে আয় হয় এক লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের কারণে গড়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকগুলোর মুনাফা স্থগিত হিসেবে রাখা হয়। বাকি ৯০ হাজার কোটি টাকার ১২ মাসের হিসাবে প্রতি মাসে শুধু ঋণের মুনাফাবাবদ আয় হয় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে দুই মাসে ১৫ হাজার কোটি টাকা মুনাফা হয়। আবার এ মুনাফার বড় একটি অংশই আমানতকারীদের পরিশোধ করতে হয়। প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা আমানতের গড়ে ৬ শতাংশ মুনাফা আমানতকারীদের দিতে হলে বছরে মুনাফা দিতে হয় ৬৬ হাজার কোটি টাকা। আর ১২ মাসের হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে দুই মাসে ঋণের মুনাফা থেকে আমানতকারীদের ফেরত দিতে হবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।

করোনার কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সবধরনের ঋণের সুদ দুই মাসের জন্য ব্লক অ্যাকাউন্টে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থাৎ দুই মাসে ঋণের যে মুনাফা হবে তা ব্যাংকগুলোর আয় খাতে নেয়া যাবে না।

পরিকল্পনার চেয়ে বেশি খুলে গেছে কারখানা
                                  

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে এলাকাভেদে ধাপে ধাপে সীমিত পরিসরে পোশাক কারখানা চালুর পরিকল্পনা থাকলেও সেটি রক্ষা করা যায়নি। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া ও চট্টগ্রামে গত দুই দিনে হাজার খানেক পোশাক ও বস্ত্র কারখানা উৎপাদন শুরু করেছে। দূরদূরান্তের শ্রমিকদের আপাতত কর্মস্থলে আসতে নিষেধ করা হলেও তাঁরা শিল্পাঞ্চলে ফিরছেন। ফলে নতুন করে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকছেই।

এদিকে সাভার-আশুলিয়ার কয়েকটি কারখানার মালিকপক্ষ গতকাল চালু করতে চাইলেও শ্রমিকদের অনীহার কারণে সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদ, বকেয়া মজুরি ও লে-অফ করা কারখানা খুলে দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন। এর মধ্যে গাজীপুরে তিনটি মোটরসাইকেল ও আটটি বাইসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিকেএমইএ গত শনিবার তাদের সব সদস্য কারখানাকে স্যাম্পল, নিটিং ও ডায়িং সেকশন পরদিন রোববার থেকে চালুর নির্দেশনা দেয়। পাশাপাশি বলা হয়, সুইংসহ (সেলাই) অন্যান্য সেকশন ২ মে থেকে খোলা যাবে। তবে জরুরি রপ্তানি ক্রয়াদেশ থাকলে সংশ্লিষ্ট কারখানা তাদের প্রয়োজনীয় সেকশনগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখনই চালাতে পারবে। অন্যদিকে বিজিএমইএর নির্দেশনা ছিল, রোববার ও সোমবার ঢাকার ২১৩ কারখানা চালু হবে। আশুলিয়া, সাভার, ধামরাই ও মানিকগঞ্জের কারখানা খুলবে ২৮ থেকে ৩০ এপ্রিল। এ ছাড়া রূপগঞ্জ, নরসিংদী ও কাঁচপুরের কারখানা ৩০ এপ্রিল এবং গাজীপুর ও ময়মনসিংহের কারখানা ২ ও ৩ মে চালু হবে। তবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত শুধুই নিটিং, ডায়িং ও স্যাম্পল (নমুনা) সেকশন, ২ মে কাটিং এবং ৩ মে থেকে সেলাই বা সুইং সেকশন চালু করতে পারবে কারখানাগুলো।

কিন্তু রোববারই ঢাকাসহ সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক কারখানা চালু হয়েছে। সেদিনই বিষয়টি নজরে আনলে বিজিএমইএর তিনজন নেতা দাবি করেন, বিজিএমইএ ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কারখানাগুলো খুলেছে। গতকালও অনেক কারখানা চালু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সংখ্যাটি আরও বাড়বে বলে জানান বিজিএমইএর এক নেতা।

শিল্পপুলিশ জানায়, সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও খুলনায় বিজিএমইএর সদস্য ৭১৮টি কারখানা গতকাল উৎপাদন শুরু করেছে। এসব এলাকায় গতকাল বিকেএমইএর ১৫৭টি ও বস্ত্রশিল্প মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সদস্য ৭২টি বস্ত্রকল উৎপাদন শুরু করেছে। তা ছাড়া রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকাগুলোর (ইপিজেড) ৩৬৪টি কারখানার মধ্যে ২০৬টি চালু হয়েছে। তার মধ্যে বেশ কিছু পোশাক কারখানাও রয়েছে।

গতকাল জানতে চাইলে বিজিএমইএর সহসভাপতি আরশাদ জামাল বলেন, বেশির ভাগ কারখানাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন চালাচ্ছে। তবে কারখানার বাইরে শারীরিক দূরত্ব মেনে চলা কঠিন। সে জন্য স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি প্রশাসনের সহযোগিতা লাগবে।

বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বাস্তবে স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ মেনে চলা কঠিন। আমরা দেখেছি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চেষ্টা করেও রাজধানীর বাজারগুলোতে সামাজিক দূরত্ব পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিভিন্ন পরামর্শের আলোকে বিজিএমইএ সদস্য কারখানাগুলোর জন্য একটি গাইডলাইন তৈরি করে সেটি মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে। তাতে কারখানায় প্রবেশের সময় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, কর্মীদের জুতায় জীবাণুনাশক স্প্রে ও শরীরের তাপমাত্রা মাপতে থার্মোমিটার ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কারখানার ভেতরে কর্মীদের পরস্পরের কাছ থেকে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা, প্রতিবার টয়লেট ব্যবহারের পর তা জীবাণুমুক্ত করা, প্রতিদিন মেশিন জীবাণুমুক্ত করা, খাবারের সময় শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিকেএমইএ অনুরূপ কিছু নির্দেশনা তাদের সদস্যদের দিয়েছে।

নির্দেশনা যাচাইয়ে আমরা কথা বলি ভিন্ন এলাকার দুই শ্রমিকের সঙ্গে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুরের একটি কারখানার শ্রমিক আয়েশা বেগম জানান, কারখানায় প্রবেশের আগে থার্মোমিটার দিয়ে শ্রমিকদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয়। মেশিনের মধ্যকার দূরত্ব কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে আশুলিয়ার এক কারখানার শ্রমিক শাহিদা খান অভিযোগ করেন, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়নি। মেশিনের মধ্যকার দূরত্ব বাড়ানো হয়নি। অধিকাংশ শ্রমিককেই কাজ যোগ দিতে হয়েছে।

অভিযোগ আছে, ধাপে ধাপে কারখানার উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টি মানা হচ্ছে না। যেমন সাভারের উলাইল এলাকার একটি কারখানা গত রোববারই তাদের ২০ হাজার শ্রমিকের মধ্যে ১৫ হাজার জনকে কাজে লাগায়। গতকাল একটি গ্রুপ প্রায় ৪ হাজার শ্রমিককে একসঙ্গে কাজে যোগদানের জন্য কারখানায় আনে। তখন স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়কে ইস্যু করে কারখানায় ভাঙচুর চালান শ্রমিকেরা। পরে শিল্প পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর বিজিএমইএ শ্রমিকদের যথাযথ স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে সব কারখানা মালিকদের পুনরায় নির্দেশ দেয়।

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে মো. শাকিল নামের একজন পোশাকশ্রমিক বলেন, ‘কারখানা থেকে ফোন করে জানাইছে, কাজে যোগ না দিলে চাকরি থাকবে না। চাকরি না থাকলে পরিবারকে কে দেখবে?’

জানতে চাইলে শ্রমিকনেতা বাবুল আক্তার গত রাতে , স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধাপে ধাপে সীমিত পরিসরে কারখানা খোলার বিষয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর পরিকল্পনা মোটামুটি ভালো ছিল। বাস্তবে সেটি অনুসরণ হয়নি। হ-য-ব-র-ল হয়ে গেছে।

সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বস্ত্র খাত
                                  

সরকার রপ্তানিকারকদের জন্য ঋণসুবিধা হিসেবে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করলেও বস্ত্র খাত এই সুবিধা পাচ্ছে না। গত বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকদের এসএমই খাতের জন্য বরাদ্দকৃত ২০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ থেকে তহবিল নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, সরকারের রপ্তানি নীতি আদেশ অনুযায়ী, বস্ত্র খাতের অনেক প্রতিষ্ঠানই রপ্তানিকারক হিসেবে স্বীকৃত। ফলে তারা রপ্তানিকারকদের জন্য ঘোষিত ৫ হাজার কোটি টাকা থেকেই প্রণোদনার সুবিধা প্রাপ্য।

অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) খাতের জন্য ঘোষিত তহবিল থেকেও বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী তারা প্রাপ্য হবেন না। কেননা, বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো অপেক্ষাকৃত বড়ো বিনিয়োগের হওয়ায় তারা এসএমই ঋণের আওতায় পড়বেন না। তারা বলছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার অনুযায়ী বস্ত্র খাত কার্যত সরকারের প্রণোদনা-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর ফলে করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ইস্যুটি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ জানিয়ে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছে বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিটিএমএ। এতে রপ্তানি নীতি আদেশের বিদ্যমান ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলা হয়, নতুন প্রজ্ঞাপনটি রপ্তানি নীতি আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর ফলে এ খাতের উদ্যোক্তাদের পক্ষে প্রণোদনার সুবিধা নেওয়ায় জটিলতা তৈরি হবে। আদেশটি তৈরি করার সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করায় হতাশা প্রকাশ করা হয়।

করোনা ভাইরাসের কারণে গার্মেন্টস পণ্যের রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া, রপ্তানির অর্থ না আসাসহ বেশ কিছু সমম্যা তুলে ধরে এ খাতের উদ্যোক্তাদের তারল্য সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

বিটিএমএর সাবেক চেয়ারম্যান এ মতিন চৌধুরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতা করতে চেয়েছেন। অথচ মন্ত্রণালয় উলটা-পালটা করে ফেলেছে। এসএমইর ঋণ কোথায় কী হারে বণ্টন হবে, তা ইতিমধ্যেই বলা আছে। বৃহত্ শিল্প হিসেবে সেখান থেকে তো বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ নেই। বস্ত্র খাতের রপ্তানিকারকদের পাশাপাশি স্থানীয় সরবরাহকারীরা বৈশাখ ও ঈদকেন্দ্রিক বাজারও পাচ্ছে না। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বস্ত্র খাত বিপদে পড়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যেভাবে বাড়ছে চালের দাম
                                  

সরকারি হিসাবে দেশে এ বছর চাহিদার তুলনায় ৩৫ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত। তাই বাড়তি চালের কিছু অংশ রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। এ জন্য ১৫ শতাংশ ভর্তুকিও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এখন, যখন বাজারে চালের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, তখনই সরবরাহে টান পড়েছে। ফলে দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

বাজারে এখন মোটা চালের দাম উঠেছে প্রতি কেজি সর্বনিম্ন ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়, যা সপ্তাহ দেড়েক আগেও সর্বনিম্ন ৩২ টাকা ছিল। জনপ্রিয় সরু মিনিকেট চালের দাম বেড়ে প্রতি কেজি ৫৬ থেকে ৬০ টাকায় উঠেছে। এ ক্ষেত্রে বাড়তি ৫ থেকে ৬ টাকা। মাঝারি বিভিন্ন চালের দামও কেজিতে চার-পাঁচ টাকা বেড়েছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী গত ১০ দিনে মোটা চালের দাম ২৬ শতাংশের মতো বাড়তি।

আরেকটু পেছনে তাকালে দেখা যাবে, চালের দাম ধাপে ধাপে বেড়ে এ পর্যায়ে এসেছে। গত নভেম্বর মাসেও বাজারে সরু মিনিকেট চাল ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা কেজি ছিল। নভেম্বরের শেষের দিকে সেটা বেড়ে ৫০ টাকার আশপাশে দাঁড়ায়।
এরপর আরেক দফা বেড়ে ৫৩-৫৪ টাকা হয়। বাকিটা বাড়ল করোনাভাইরাসের আতঙ্কে বাড়তি কেনাকাটার কারণে।

বাজারে আতঙ্কের কেনাকাটার চাপ এখন কিছুটা কমেছে। তাই পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম কিছুটা কমতি। কিন্তু চাল ব্যবসায়ীরা স্বস্তির খবর দিতে পারছেন না। তাঁরা বলছেন, সরবরাহ এখনো কম। দাম চড়াই আছে। তাঁরা এ-ও বলছেন, বিপুল চাল থাকলে সরবরাহ কম কেন? কারণ, কুষ্টিয়া অথবা উত্তরবঙ্গ থেকে চালের ট্রাক দুপুরে রওনা দিলে রাতে ঢাকায় এসে পৌঁছে যায়।

পুরান ঢাকার চালের মোকাম বাবুবাজারের একজন আড়তমালিক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এতটা উদ্বৃত্ত আছে বলে মনে হয় না।

সরকারি হিসাবে এ বছর ৩৫ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত
পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহে টান পড়ায় দাম বাড়তি

সরু চালের দাম এখন ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের সংকটকালের কাছাকাছি। ওই বছর বন্যায় বোরো মৌসুমে চালের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাতে বাজারে দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। মৌসুম শেষে দেখা যায়, আগের বছরের তুলনায় ওই বছর চালের উৎপাদন কম হয়েছিল প্রায় ১১ লাখ টন। এ বছর কিন্তু উৎপাদন পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। আগের বছরের তুলনায় ১১ লাখ টন উৎপাদন বেড়েছে। দুই বছরে বেড়েছে ২৭ লাখ টন।

বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, চালের কোনো সংকট নেই, বরং মজুত পর্যাপ্ত।

ভর্তুকি দিয়েও পিছু হটা

চাল রপ্তানিতে বেশি আগ্রহী ছিল কৃষি মন্ত্রণালয়। গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি সভায় এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দাবি করেন, চাল উদ্বৃত্ত আছে ৪৪ লাখ টন। অবশ্য সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের প্রতিনিধি দাবি করেন, উৎপাদন ও ভোগ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, খুব বেশি উদ্বৃত্ত থাকে না।

যদিও ট্যারিফ কমিশনই আবার চাল রপ্তানিতে প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এ বিষয়ে কমিশনের প্রতিবেদনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়, চাল উদ্বৃত্ত ৩৫ লাখ টন।

ডিসেম্বরে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে আবার চাল রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া বন্ধ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপর গত ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক চাল রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

দাম বাড়াতে চান মিলমালিকেরা

কুষ্টিয়া থেকে প্রতিনিধি জানান, জেলার মিলগুলো থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন চালকল মালিক সমিতির নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন। মিলমালিকদের বক্তব্য শোনার পর জেলা প্রশাসক জানান, চালের দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৪৯ টাকায় বিক্রির জন্য মিলমালিকদের জানিয়ে দেন। যদিও মিলমালিকদের দাবি ছিল প্রতি কেজি ৫২ টাকা।

সভায় মিল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও কুষ্টিয়া খাজানগর এলাকার সবচেয়ে বড় চাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রশিদ অ্যাগ্রো ফুডের মালিক আবদুর রশিদ দাবি করেন, ৫২ টাকা কেজি দরের নিচে চাল বিক্রি করলে লোকসানে পড়তে হবে।

এ নিয়ে বাহাসের পর মিলমালিকেরা চলে যান। তবে তাঁরা আশ্বাস দেন, চালের দাম বাড়বে না। কিন্তু গতকাল রোববার মিলগেটে প্রতি কেজি ৫০ টাকায় মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির কুষ্টিয়া শাখার এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, চাল ৫১ বা ৫২ টাকার নিচে বিক্রি করলে লোকসানে পড়তে হবে। তাই ৪৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যাচ্ছে না।

খোলাবাজারে বিক্রি বন্ধ

সরকার ঢাকায় খোলাবাজারে (ওপেন মার্কেট সেল বা ওএমএস) যে চাল বিক্রি করত, তা-ও এখন বন্ধ রয়েছে। ফলে আয় কমে যাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষদের চাল কিনতে হচ্ছে বাজার থেকে প্রতি কেজি ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়। অবশ্য সরকারি চালের দাম যে খুব কম, তা-ও নয়। খাদ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ মূল্য হলো প্রতি কেজি ৩০ টাকা।

খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সরবরাহ ও বিপণন) আমজাদ হোসেন বলেন, ওএমএস আবার শুরু করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সম্মতি দিলে আবার শুরু হবে। কিন্তু চাল কিনতে আসা মানুষেরা সমাগম করেন কি না, এর মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায় কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, চাল রপ্তানির বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল গত বছর দাম কমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে। ভর্তুকির সিদ্ধান্ত এসেছে এ বছরের জানুয়ারিতে। এটা সময়োচিত হয়নি। তিনি বলেন, এখন বাজারে চালের উচ্চ মূল্য আছে। চাহিদা আছে। মাসখানেক পর নতুন চাল উঠবে। এ সময়ে আরও মুনাফার আশায় ব্যবসায়ীরা মজুত ধরে রাখবেন বলে মনে হয় না। হয়তো সমস্যাটি সাময়িক।

গোলাম মোয়াজ্জেম এখন নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পরিমাণ সুনির্দিষ্ট করে দিয়ে খোলাবাজারে চাল বিক্রির পরামর্শ দেন। করোনার কারণে আয় কমে যাওয়ায় দরিদ্রদের জন্য দাম আরেকটু কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

ভ্রমণ-পর্যটন খাতে ৫ কোটি কর্মসংস্থান ‘নেই’ হয়ে যেতে পারে
                                  

করোনাভাইরাস-আতঙ্কে বিশ্বজুড়ে পর্যটন ও ভ্রমণ খাতের কয়েক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার দ্য ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল 

অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মহামারির কারণে ৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ‘নেই’ হয়ে যেতে পারে।

ডব্লিউটিটিসির প্রধান নির্বাহী গ্লোরিয়া গুয়েভারা বলেন, ‘ডব্লিউটিটিসির পরিসংখ্যানে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের ওপর বর্তমান কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের স্পষ্ট প্রভাব দেখতে যাচ্ছে। বিশ্লেষণ করে বোঝা যাচ্ছে যে বিশ্বব্যাপী এই খাতে ৫ কোটি চাকরি ঝুঁকিতে রয়েছে।’

ডব্লিউটিটিসির নতুন পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, করোনার বর্তমান প্রভাব অব্যাহত থাকলে ২০২০ সালে বিশ্ব ভ্রমণ খাত অন্তত ২৫ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হয়ে যেতে পারে। ফলে ১২ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কর্মসংস্থান কমে যাবে।

এদিকে, বাংলাদেশেও ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভারত সরকার গতকাল পর্যটন ভিসা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ায়এ দেশের বিমান সংস্থাগুলো বড় ঝুঁকিতে পড়েছে। ভারত এক মাসের জন্য ভিসা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।

দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ সময় দেশের রাষ্ট্রমালিকানাধীন ও বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর প্রায় ৭৫০ উড্ডয়ন বাতিল করতে হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে আকাশপথ সংকুচিত হয়ে গেছে। ফলে সার্বিকভাবে দেশের এভিয়েশন খাতের রাজস্ব আয় অর্ধেকে নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

করোনাভাইরাসের কারণে ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী বিমান পরিবহন সংস্থার হাজার হাজার আন্তর্জাতিক উড্ডয়ন বাতিল হয়ে গেছে। এমনকি কিছু বিমা সংস্থা নতুন গ্রাহকের জন্য ভ্রমণবিমা স্থগিত করেছে। এবার ডব্লিউটিটিসি জানাল কর্মসংস্থানের ক্ষতির বিষয়টি। এ অবস্থায় সংস্থাটি বিভিন্ন দেশের সরকারকে শিল্প সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। সেগুলো হলো ভিসা করার ব্যয় কমানোসহ ভিসা–জটিলতা সহজ করা, স্থলবন্দর এবং বিমানবন্দরগুলোয় ‘অপ্রয়োজনীয় বাধা’ শিথিল করা, যাত্রী শুল্কের মতো বিষয়গুলো ভ্রমণকারীদের জন্য কমানো, ভ্রমণ গন্তব্যগুলোর সুন্দর প্রচারের জন্য বাজেট বাড়ানো।

গুয়েভারা মনে করছেন, কোভিড-১৯–এর প্রাদুর্ভাব সামগ্রিকভাবে এ খাতে নিযুক্ত ব্যক্তি ও ভ্রমণে ইচ্ছুক মানুষের জন্য স্পষ্টভাবেই একটি উল্লেখযোগ্য হুমকি। তবে ভ্রমণ ও পর্যটন খাত এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করার শক্তি রাখে।

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় পর্যটনশিল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু দেশ এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। করোনাভাইরাস–আতঙ্কে চাহিদা কমে যাওয়ায় বিশ্ব এয়ারলাইন ব্যবসাও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বেশির ভাগ মানুষই এ সময়ে উড়োজাহাজে চলাচল এবং ভ্রমণ এড়িয়ে চলছেন। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইটিএ) তথ্য অনুযায়ী, করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী যাত্রী পরিবহন করা উড়োজাহাজগুলো ১১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। গত বছর এয়ারলাইনসগুলোর আয় ছিল ৮৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

ইউরোপীয় কমিশন এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এ সপ্তাহে উড়োজাহাজ চলাচলের নানা বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। এয়ারলাইনসগুলোকে তাদের বরাদ্দ করা ফ্লাইট স্লট ধরে রাখতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ উড্ডয়ন করতেই হবে—সেই বিধি থেকেও সরে এসেছে তারা।


   Page 1 of 13
     অর্থ-বাণিজ্য
ভোক্তাঋণ নিয়ে বিপাকে ব্যাংক
.............................................................................................
বিকল্প উপায়ে ব্যাংক খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা
.............................................................................................
ঋণ অনুমোদন প্রণোদনার ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার
.............................................................................................
হাহাকার বেসরকারি কর্মজীবীদের
.............................................................................................
সরকারের কোষাগারে ১০ প্রতিষ্ঠানের জমা ১৬ হাজার ৪৬ কোটি টাকা
.............................................................................................
বাড়বে কি কর্মক্ষেত্র ও ক্রয়ক্ষমতা
.............................................................................................
হু হু করে বাড়ছে কুষ্টিয়ার খোলা বাজারে ধান ও চালের দাম
.............................................................................................
৬ বছরের ব্যবধানে বাজেটে বিদেশী ঋণনির্ভরতা বেড়েছে সাড়ে ৭ গুণ
.............................................................................................
অপ্রত্যাশিত খাতেই ব্যয় ৩ হাজার কোটি টাকা
.............................................................................................
অস্ট্রেলিয়া থেকে মাংস আমদানি স্থগিত করল চীন
.............................................................................................
ব্যাংকিং খাত নানামুখী সঙ্কটে
.............................................................................................
দুই মাসে ব্যাংকের আয় স্থগিত হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা
.............................................................................................
পরিকল্পনার চেয়ে বেশি খুলে গেছে কারখানা
.............................................................................................
সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বস্ত্র খাত
.............................................................................................
যেভাবে বাড়ছে চালের দাম
.............................................................................................
ভ্রমণ-পর্যটন খাতে ৫ কোটি কর্মসংস্থান ‘নেই’ হয়ে যেতে পারে
.............................................................................................
কারণ ছাড়াই বাড়ছে চালের দাম
.............................................................................................
বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় হবে ১২,৫০০ ডলার
.............................................................................................
এক হাজার কোটি টাকা দিল গ্রামীণফোন
.............................................................................................
রোববার বিটিআরসিকে ১ হাজার কোটি টাকা দেবে গ্রামীণফোন
.............................................................................................
আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
.............................................................................................
অর্থনীতিতে চাপ নিয়েই নতুন বছরের শুরু
.............................................................................................
চা নিলামের শীর্ষে চট্টগ্রাম
.............................................................................................
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে ব্যয় বাড়বে ২৩ শতাংশ
.............................................................................................
ব্যাংকগুলো সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ মানছে না
.............................................................................................
এক বছরে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৪২৩%
.............................................................................................
গুণী গ্রাহক সম্মাননা পেলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান
.............................................................................................
মালয়েশিয়ার পছন্দ বাংলাদেশি পোশাক
.............................................................................................
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে অসৎ কর্মকর্তার জায়গা হবে না
.............................................................................................
বাণিজ্য মেলায় ২০০ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ মিলেছে, মাসব্যাপী মেলায় দর্শক এসেছে ৫০ লাখ
.............................................................................................
৫ ব্যাংক নেবে ১২৭ কর্মকর্তা
.............................................................................................
প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৫০, খাসি ২০ টাকা নির্ধারণ
.............................................................................................
চালের দাম কমেছে দ্রুত পেঁয়াজের দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
ধারাবাহিকভাবে কমছে মাছ রপ্তানি
.............................................................................................
মেগা উন্নয়নের হাতছানি
.............................................................................................
আজ সংসদে বাজেট অধিবেশন
.............................................................................................
ভ্যাট আইনে ‘স্বস্তি’র ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর
.............................................................................................
রমজানকে সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের মজুদ বাড়ছে
.............................................................................................
শ্রমিকদের জন্য ভবিষ্য তহবিল করছে সরকার
.............................................................................................
টেলিটককে নতুন কোনো ঋণ দেবে না অর্থ মন্ত্রণালয়
.............................................................................................
ঢাকায় চার দিনের থাই মেলা শুরু
.............................................................................................
মোবাইল ব্যাংকিং সেবা আনল মেঘনা ব্যাংক
.............................................................................................
আজ বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস
.............................................................................................
বেড়েছে সবজির দাম
.............................................................................................
গ্যাস সিলিন্ডারের দামে অস্থিরতা
.............................................................................................
১৭ লাখ ফ্রিজ বিক্রির টার্গেট ওয়ালটনের
.............................................................................................
গ্যাসের দাম জুন থেকে ১ চুলা ৯০০, ২ চুলা ৯৫০
.............................................................................................
জুয়েলার্স সমিতির ৩ প্রস্তাব সোনা আমদানির জট খুলতে চান অর্থমন্ত্রী
.............................................................................................
গণতন্ত্রে টেকসই হয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
.............................................................................................
বেড়েছে সবজির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো: হাবিবুর রহমান সিরাজ
আইন উপদেষ্টা : অ্যাড. কাজী নজিব উল্লাহ্ হিরু
সম্পাদক ও প্রকাশক : অ্যাডভোকেট মো: রাসেদ উদ্দিন
সহকারি সম্পাদক : বিশ্বজিৎ পাল
যুগ্ন সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান রিপন
নির্বাহী সম্পাদক: মো: সিরাজুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : সাগর আহমেদ শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস ৫২ / ২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সূত্রাপুর ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৯৯ মতিঝিল , করিম চেম্বার ৭ম তলা , রুম নং-৭০২ , ঢাকা থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭২৬-৮৯৬২৮৯, ০১৬৮৪-২৯৪০৮০ Web: www.dailybishowmanchitra.com
Email: news@dailybishowmanchitra.com, rashedcprs@yahoo.com
    2015 @ All Right Reserved By dailybishowmanchitra.com

Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD