|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   খেলাধূলা -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
করোনায় আক্রান্ত আরো সাত পাকিস্তানি ক্রিকেটার

আগস্টে হতে চলা তিন ম্যাচের টেস্ট ও টি-২০ সিরিজ খেলতে চলতি সপ্তাহেই ইংল্যান্ড উড়ে যাওয়ার কথা পাকিস্তান ক্রিকেট দলের। আসন্ন সফরের কথা মাথায় রেখে রোববার ২৯ জন ক্রিকেটারের করোনা টেস্ট করায় পিসিবি। তার মধ্যে সোমবার তিন ক্রিকেটার হায়দার আলি, হ্যারিস রউফ ও শাদাব খানের কোভিড পজিটিভ ধরা পড়েছিল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়াল ১০। মঙ্গলবার নতুন করে আরো সাত পাক ক্রিকেটারের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে বলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই সাত ক্রিকেটার হলেন ফখর জামান, ইমরান খান, কাশিফ ভাট্টি, মহম্মদ হাফিজ, মুহম্মদ হাসনাইন, মহম্মদ রিজওয়ান ও ওয়াহাব রিয়াজ।

এছাড়া দলের এক সার্পোট স্টাফের রিপোর্টও পজিটিভ এসেছে। তবে বাকি সকলের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তবে এখনও শোয়েব মালিক, কোচ ওয়াকার ইউনিস ও ক্লিফে ডেকনের টেস্ট হয়নি। বৃহস্পতিবার ফের একবার দলের সকলের করোনা টেস্ট করা হবে বলে পিসিবি জানিয়েছে।

পাকিস্তানে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ড সফরে যাওয়া ঝুঁকি হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান দলের মেডিক্যাল ডিরেক্টর সোহেল সালিম। তবে জাইলস আপাতত আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ নিয়ে মনোসংযোগ করছেন। তিনি বলেন, ‘যেভাবে গোটা বিশ্বে এই সংক্রমণ এখনো দাপট দেখাচ্ছে, সেখানে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ ঘিরে আমাদের অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে।’

মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের ফের করোনা টেস্ট হলো। আগামী ৮ জুলাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট খেলতে নামবেন বেন স্টোকসরা। তার আগে গোটা দল স্টেডিয়াম সংলগ্ন হোটেলে আইসোলেশনে ছিল। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় করোনা টেস্ট হওয়ার পর বৃহস্পতিবার থেকে প্রস্তুতিতে নেমে পড়ার কথা ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের। আপাতত দু’ভাগে সকালে ও বিকালে আলাদা সেশনে অনুশীলন হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলেরও সোমবার ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের পর্ব শেষ হয়েছে। তাদেরও পুনরায় করোনা টেস্ট হবে। তারপর অনুশীলনে নামবে হোল্ডারবাহিনী। 

 
 
করোনায় আক্রান্ত আরো সাত পাকিস্তানি ক্রিকেটার
                                  

আগস্টে হতে চলা তিন ম্যাচের টেস্ট ও টি-২০ সিরিজ খেলতে চলতি সপ্তাহেই ইংল্যান্ড উড়ে যাওয়ার কথা পাকিস্তান ক্রিকেট দলের। আসন্ন সফরের কথা মাথায় রেখে রোববার ২৯ জন ক্রিকেটারের করোনা টেস্ট করায় পিসিবি। তার মধ্যে সোমবার তিন ক্রিকেটার হায়দার আলি, হ্যারিস রউফ ও শাদাব খানের কোভিড পজিটিভ ধরা পড়েছিল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়াল ১০। মঙ্গলবার নতুন করে আরো সাত পাক ক্রিকেটারের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে বলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই সাত ক্রিকেটার হলেন ফখর জামান, ইমরান খান, কাশিফ ভাট্টি, মহম্মদ হাফিজ, মুহম্মদ হাসনাইন, মহম্মদ রিজওয়ান ও ওয়াহাব রিয়াজ।

এছাড়া দলের এক সার্পোট স্টাফের রিপোর্টও পজিটিভ এসেছে। তবে বাকি সকলের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তবে এখনও শোয়েব মালিক, কোচ ওয়াকার ইউনিস ও ক্লিফে ডেকনের টেস্ট হয়নি। বৃহস্পতিবার ফের একবার দলের সকলের করোনা টেস্ট করা হবে বলে পিসিবি জানিয়েছে।

পাকিস্তানে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ড সফরে যাওয়া ঝুঁকি হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান দলের মেডিক্যাল ডিরেক্টর সোহেল সালিম। তবে জাইলস আপাতত আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ নিয়ে মনোসংযোগ করছেন। তিনি বলেন, ‘যেভাবে গোটা বিশ্বে এই সংক্রমণ এখনো দাপট দেখাচ্ছে, সেখানে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ ঘিরে আমাদের অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে।’

মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের ফের করোনা টেস্ট হলো। আগামী ৮ জুলাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট খেলতে নামবেন বেন স্টোকসরা। তার আগে গোটা দল স্টেডিয়াম সংলগ্ন হোটেলে আইসোলেশনে ছিল। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় করোনা টেস্ট হওয়ার পর বৃহস্পতিবার থেকে প্রস্তুতিতে নেমে পড়ার কথা ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের। আপাতত দু’ভাগে সকালে ও বিকালে আলাদা সেশনে অনুশীলন হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলেরও সোমবার ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের পর্ব শেষ হয়েছে। তাদেরও পুনরায় করোনা টেস্ট হবে। তারপর অনুশীলনে নামবে হোল্ডারবাহিনী। 

 
 
করোনায় মারা গেলেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার
                                  

ক্রিকেট বিশ্বের সবাই তাঁকে চিনবে, এই স্বপ্ন নিয়েই হয়তো ক্রিকেট খেলতে শুরু করেছিলেন জাফর সরফরাজ। সবার সব স্বপ্ন পূরণ হয় না, জাফরেরও হয়নি। ঘরোয়া ক্রিকেটের গণ্ডিই যে পেরোতে পারেননি পাকিস্তানের সাবেক এই ক্রিকেটার। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট দুনিয়া জানল জাফর সরফরাজের নাম। তাঁকে চিনিয়েছে করোনাভাইরাস নামের প্রাণঘাতী এক রোগ। গতকাল করোনাভাইরাসে ভুগে মারা গেছেন সাবেক এই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার। করোনায় প্রাণ হারানো প্রথম পাকিস্তানি ক্রিকেটার জাফর।

৫০ বছর বয়সী জাফর মারা গেছেন পেশোয়ারের এক বেসরকারি হাসপাতালে। করোনাভাইরাস পরীক্ষায় পজিটিভি হওয়ার পর তিন দিন ওই হাসপাতালে ছিলেন আট বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ১৫টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা জাফর। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ১৯৯৪ সালে খেলা ছাড়ার পর যোগ দেন ক্রিকেট কোচিংয়ে। পেশোয়ারের অনূর্ধ্ব–১৯ ও সিনিয়র দলের কোচ ছিলেন তিনি।

জাফরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন পুরো না হলেও তাঁর ছোট ভাই আখতার সরফরাজ খেলেছেন পাকিস্তান জাতীয় দলের হয়ে। ১৯৯৭ ও ১৯৯৮ সালের মধ্যে চারটি ওয়ানডে খেলেছেন আখতার। যার সর্বশেষটি ১৯৯৮ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মিনি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। আখতারও অবশ্য বেঁচে নেই। ১০ মাস আগে গত বছরের জুনে কোলন ক্যানসারে ভুগে মাত্র ৪৩ বছর বয়সেই মারা গেছেন আখতার। জাফর ও আখতারের ছোট ভাই ইরফান সরফরাজও খেলেছেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট।

বাফুফের নির্বাচন স্থগিত
                                  

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে নেমে আসা বিপর্যয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যে কোনো মূল্যে নির্বাচন আয়োজনে গোঁ ধরেছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সবার অনুরোধ অগ্রাহ্য, দাবি উপেক্ষা করে ২০ এপ্রিল নির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর ছিল তারা। শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসে অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বাচন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে বাফুফে। শুক্রবার এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা এক জরুরি সভায় মিলিত হন। সেই সভায় সবার মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বাফুফের নির্বাহী কমিটি নির্বাচন স্থগিত করলেও ফিফা ও এএফসির অনুমোদন বাধ্যতামূলক। কারণ, গঠণতন্ত্র অনুসারে ৩০ এপ্রিল শেষ হয়ে যাবে বর্তমান নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ। এর মধ্যেই নতুন নির্বাচন করতে হবে। তবে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাওয়ায় ফিফা ও এএফসি কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে বর্তমান কমিটির মেয়াদ বাড়িয়ে দেবে, এই আশা বাফুফের। নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত বাফুফে জানাবে ফিফা ও এএফসিকে।

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বলেন, ‘মেয়াদপূর্তির পরই হয়তো নির্বাচন করতে হবে। করোনার কারণে আগে করা যাচ্ছে না। কবে করতে পারব, বলতে পারছি না। বলতে পারেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত। আমরা এই বিষয়টি ফিফা ও এএফসিকে অবহিত করব। আশা করছি, তারা বিষয়টি বুঝবে।’

করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই বাফুফের দুই সহ-সভাপতি বাদল রায় ও মহিউদ্দিন আহমেদ মহি নির্বাচন পেছানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। মহি ফিফাকে নির্বাচন পেছানোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠিও লেখেন। বাদল রায় বলেন, ‘এটা সঠিক সিদ্ধান্ত। করোনা-দুর্যোগ কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত নির্বাচনী কর্মকাণ্ড স্থগিত করা উচিত।’

৩০ মার্চ পর্যন্ত কাউন্সিলরদের নাম পাঠানোর দিন নির্ধারিত ছিল। অনেক সংস্থা ইতোমধ্যে নাম পাঠিয়েছে। অনেকে এখনও পাঠায়নি। জানা গেছে, আজ কাউন্সিলরদের নাম পাঠানোর সময় বাড়ানোর বিষয়ে কথা বলছেন বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী।

করোনায় প্রাণ হারালেন রিয়ালের সাবেক সভাপতি
                                  

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে প্রাণ হারালেন ইউরোপের শীর্ষ ফুটবল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক সভাপতি লরেঞ্জো সাঞ্জ (৭৬)।

স্থানীয় সময় ২১ মার্চ স্পেনের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান বলে নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে ফার্নান্দো সাঞ্জ।

স্প্যানিশ গণমাধ্যমকে ফার্নান্দো বলেন, কয়েকদিন আগে বাবার শরীরে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়। তিনি অসুস্থ বোধ করলে গত বুধবার একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয় তাকে । কিন্তু নভেল করোনার সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হলেন তিনি।

করোনায় বাবার বিয়োগে আবেগ তাড়িত হয়ে টুইট করেছেন ফার্নান্দো।

তিনি লেখেন, ‘আমার বাবা মারা গেছেন। তার এভাবে চলে যাওয়ার কথা ছিল না। আমার দেখা অন্যতম দয়ালু, সাহসী ও কঠোর পরিশ্রম করা মানুষটি চলে গেলেন। পরিবার এবং রিয়াল মাদ্রিদ ছিল তার ভালোবাসা।’

এদিকে সাবেক সভাপতির মৃত্যুতে বিবৃতি দিয়েছে রিয়েল মাদ্রিদ ক্লাব।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রিয়াল মাদ্রিদ এবং বোর্ড পরিচালকরা অত্যন্ত দুঃখ ও শোকের সঙ্গে জানাচ্ছে, লরেঞ্জো সাঞ্জ মারা গেছেন। তিনি ১৯৯৫ থেকে ২০০০ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ছিলেন। আমরা শোকাহত এমন এক সভাপতির জন্য, যিনি জীবনের একটা বড় অংশ নিংড়ে দিয়েছিলেন রিয়ালের জন্য। এই অবস্থায় রিয়াল যত দ্রুত সম্ভব তাকে প্রাপ্য মর্যাদা দেয়ার চেষ্টা করবে।’

সাঞ্জের মৃত্যুতে আবেগঘন টুইট করেছেন রিয়ালের সাবেক অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস।

তিনি লিখেছেন, ‘শান্তিতে ঘুমাও সভাপতি। এই কঠিন সময়ে সাঞ্জের পরিবার ও বন্ধুদের সমবেদনা জানাই। করোনাভাইরাসে সাঞ্জের মতো যারা চলে গেছেন, তাদেরও গভীর শ্রদ্ধা জানাই।’

প্রসঙ্গত, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর ক্লাবের পরিচালক ছিলেন লরেঞ্জো সাঞ্জ। ১৯৯৫ সালে তিনি রিয়ালের সভাপতি হন। সাঞ্জের অধীনে অন্যতম সেরা ক্লাবের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করে রিয়াল। ৩২ বছরের খরা কাটিয়ে ১৯৯৮ ও ২০০০ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিল তারা।

করোনা: রক্ষা পেতে নামাজ পড়তে বললেন মিরাজ-মোস্তাফিজ
                                  

মারণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বের প্রায় সব ক্রীড়া ইভেন্ট স্থগিত হয়ে গেছে। ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশও। বন্ধ হয়ে গেছে দেশের ক্রীড়া আসরও। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোস্তাফিজুর রহমান।

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করেছে করোনা। চীন, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্সসহ বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ দেশের সীমানা পেরিয়ে তা আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। স্বভাবতই আতঙ্কিত দেশের মানুষ।

প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের কারণে সর্তকভাবে চলছেন ক্রিকেটাররা। সেই সঙ্গে দেশের মানুষদের সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়েছেন মিরাজ-মোস্তাফিজ। এ মহাবিপদ থেকে রক্ষা পেতে সর্বশক্তিমান আল্লাহতাআলার কাছে প্রার্থনা করেছেন তারা।

করোনা আগ্রাসনে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে দুর্যোগ। সবার মাঝে বিরাজ করছে আতঙ্ক আর ভয়। বুধবার মিরপুর স্টেডিয়ামে প্রবেশে সর্বোচ্চ সর্তকতা দৃষ্টি কাড়ে।  

অন্য যেকোনো দিনের চেয়ে এদিন মিরপুর স্টেডিয়ামে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সাংবাদিক, ক্রিকেটার, বোর্ড কর্তাদের পদাচরণায় মুখরিত থাকা বিসিবিতে ভর করে রাজ্যের নীরবতা। ক্রীড়া বিশ্বে করোনার হিংস্র থাবা এতটা পড়বে ভাবতে পারেননি ক্রিকেটাররা। রীতিমতো বিস্মিত, আশ্চর্য তারা।

মিরাজ বলেন, এতদিন টুকটাক কাজে বাসার বাইরে গিয়েছি। মাঠে গিয়েছি। তবে মাস্ক ব্যবহার করেছি। করোনার জন্য আর বাইরে বের হবো না। গৃহবন্দি বলতে পারেন।িএ ভাইরাস নিয়ে আমি আতঙ্কিত নই। সত্যি বলতে কি, সেরকম ভয় কাজ করছে না।

তিনি বলেন, আমার স্ত্রীর সঙ্গে করোনা নিয়ে কথা হয়। সবাই দোয়া করছি। আল্লাহ যেন সবাইকে হেফাজত করেন। সবাই নিরাপদ থাকেন। নিয়মিত হাত ধুতে হবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। যেন তিনি আমাদের সবাইকে এরকম মহামারীর হাত থেকে হেফাজত করেন।

মোস্তাফিজ বলেন, আমি ঢাকাতে আছি। এমনিতে মাঠে যাচ্ছি। তবে কাজ ছাড়া বাসা থেকে বের হই না। যারা বের হচ্ছেন, তাদের হয়তো সমস্যা হচ্ছে। আমি মনে করি, প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের না হওয়াটাই ভালো। কম বের হই। তাই আমার হয়তো সেভাবে সমস্যা হচ্ছে না। যারা কমবেশি ঘুরতে যেত, করোনাভাইরাসের কারণে তারাও দেখছি এখন ঘরে। সেভাবে বাসা থেকে বের হচ্ছে না কেউ।

কাটার মাস্টার বলেন, আতঙ্কিত বলতে শুধু আমি না, সবাই! একজনের হলে আরো অনেকের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কীভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখা যায়, সবার সেই চেষ্টা করতে হবে। যে নিয়মগুলো বলা হচ্ছে, সেগুলো মেনে চলা উচিত। আমি বলব, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়াটা খুব জরুরি।

তিনি বলেন, করোনা নিয়ে বউয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছে নিয়মিত। সে অনেক সাহসী। ভার্সিটি বন্ধ, বাসায় আছে। বাইরে যেতে দিচ্ছি না। মঙ্গলবার ঘুরতে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু বের হইনি।

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ দেশের ক্রিকেট
                                  

এমনিতেই করোনা পরিস্থিতির কারণে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব ধরনের ঘরোয়া খেলাধুলা স্থগিত করে দিয়েছে সরকার। কিন্তু আজ বিসিবি দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট বন্ধ করে দিয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্যই। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বিসিবির অধীনে স্বীকৃত কোনো টুর্নামেন্ট বা খেলা মাঠে গড়াবে না।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে করোনা পরিস্থিতির কারণে সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান।

বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন, এ মাসে তো নয়ই, এপ্রিলের ১৫ তারিখের আগে ঘরোয়া ক্রিকেট লিগ মাঠে গড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হাসান বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ক্রিকেটের সকল খেলা আপাতত স্থগিত। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত।’

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই দেশের শীর্ষ ক্লাবগুলোকে নিয়ে শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। দুই দিন (এক রাউন্ড) খেলা অনুষ্ঠানের পর সরকারি ঘোষণায় এটি স্থগিত হয়ে যায়। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) প্রথম রাউন্ডের পরই আমরা এটা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম অপেক্ষা করি। পরিস্থিতিটা পর্যবেক্ষণ করি। ওটা ছিল তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্দ। আর এখন আমরা সবাই মিলে বসে আলোচনা করে যেটা সঠিক মনে হয়েছে সে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

জয়ে আবারও শীর্ষে বার্সেলোনা
                                  

লা লিগায় রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। পেনাল্টি থেকে গোল করেন মেসি। মৌসুমে বার্সেলোনা ফের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠল।

ন্যু ক্যাম্পে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে শেষ ২১ ম্যাচের সব কটিতেই জিতেছে বার্সেলোনা। এর মধ্যে ১২ ম্যাচ আবার ক্লিন শিট। আর এই মাঠে সোসিয়েদাদ শেষবার বার্সেলোনার বিপক্ষে হার এড়াতে পেরেছে সেই ১৯৯৫ সালে (১-১)। আজও হয়তো গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারত অতিথিরা। রেকর্ড বইয়ের পাতায় নতুন করে কাটাকাটি হয়ে যেত। কিন্তু ম্যাচের ৮১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে মেসির গোল সেটা হতে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ন্যু ক্যাম্প থেকে আরও একটি পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল সোসিয়েদাদ।

ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ। যোগ হওয়া সময়ের খেলাও ততক্ষণে প্রায় শেষ। ফাতির বাড়ানো বল সামান্য দূর থেকে জালে জড়িয়ে ব্যবধান বাড়ান আলবা। কিন্তু ভিএআর চেকিংয়ে সেই গোল বাতিল হয়। শেষতক ১-০-তেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো স্বাগতিকদের।

ম্যাচে প্রথম আক্রমণটা করে বার্সেলোনাই। গোলের সুযোগও তৈরি করেন মেসি। খেলার মিনিট দশেকের মাথায় মেসির শট আটকে দলকে রক্ষা করেন সোসিয়েদাদের গোলরক্ষক। ১৪ মিনিটে ফের সুযোগ তৈরি করেন মেসি। এবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক অ্যালেক্স রেমিরো। প্রথমার্ধে গোলহীন থাকা ম্যাচে গোলের দেখা নেই দ্বিতীয়ার্ধের শেষ পর্যন্ত। বার্সেলোনাকে মোটামুটি আটকেই রাখে সোসিয়েদাদ রক্ষণ। শেষ মুহূর্তে বিতর্কিত এক পেনাল্টি থেকে দলকে জয় এনে দেন মেসি।
এ জয়ে আবারও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠল কাতালানরা। ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ২ পয়েন্ট এগিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা।

যেভাবে কয়েক মুহূর্তের জন্য সবাই মাশরাফি হয়ে গেল
                                  

তামিমের কাঁধে চড়ে মাশরাফি হাত নাড়ছিলেন উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে। ‘থ্যাংক ইউ ক্যাপ্টেন, থ্যাংক ইউ ক্যাপ্টেন’ স্লোগানে তখন মুখরিত চা–বাগানঘেঁষা স্টেডিয়ামের রাতের আকাশ

কাভারে দাঁড়িয়ে ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ইয়র্কারটা চার্লটন শুমারের স্টাম্প উপড়ে ফেলতেই সবাই জড়ো হতে থাকলেন কাভারে দাঁড়িয়ে থাকা মাশরাফির দিকে। ম্যাচ শেষ। গুটিগুটি পায়ে তিনি এগোচ্ছিলেন দলটার দিকে। সবার আগে দৌড়ে এসে মাশরাফিকে জড়িয়ে ধরলেন সাইফউদ্দিন। তাঁর প্রথম অধিনায়ক বলে কথা!

আবেগ কিছুটা তো কাজ করবেই। প্রথম অধিনায়কের যে নেতা হিসেবে শেষ ম্যাচ। এরপর একে একে সবাই জড়িয়ে ধরতে লাগলেন মাশরাফিকে। মাহমুদউল্লাহ ভিড়ের বাইরে থেকে মাশরাফি মাথা থেকে ক্যাপটা নামিয়ে চুলগুলো এলোমেলো করে দিলেন। পুরো মুহূর্তটা নিশ্চয়ই মনে মণিকোঠায় জমা থাকবে অনেক বাংলাদেশির।

দলটা কিছুক্ষণ পর সারিবদ্ধ হলো। এগোতে লাগল জিম্বাবুয়ের ড্রেসিংরুমের দিকে। সবার সামনে মাশরাফি। জার্সিটা একটু নাড়াচাড়া দিয়ে কলার উঁচু করে এগিয়ে গেলেন জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটারদের দিকে। একে একে সবার সঙ্গে হাত মেলানো পর্ব শেষ করতেই মাশরাফিকে কাঁধে তুলে নিলেন তামিম ইকবাল। মাশরাফির হাত–পা ধরে ছিলেন তাইজুল, সৌম্য, মিরাজ, মোস্তাফিজরা। বাংলাদেশের ক্রিকেটটাকে এত দিন তিনিই কাঁধে তুলে এগিয়ে নিয়েছেন; এবার তাঁকে কাঁধে তুলে নেওয়ার পালা বাকি ক্রিকেটারদের।

তামিমের কাঁধে চড়ে মাশরাফি হাত নাড়ছিলেন উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে। ‘থ্যাংক ইউ ক্যাপ্টেন, থ্যাংক ইউ ক্যাপ্টেন’ স্লোগানে তখন মুখরিত চা–বাগানঘেঁষা স্টেডিয়ামের রাতের আকাশ। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের জিম্বাবুয়ের ড্রেসিংরুমের সামনে থেকে সাইট স্ক্রিনের পাশ দিয়ে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম বরাবর পৌঁছে মাশরাফিকে কাঁধ থেকে নামানো হয়। খুব সতর্কতার সঙ্গে। বাউন্ডারি লাইনের ঠিক বাইরে।

বেশিক্ষণ বাইরে না থেকে দলটা চলে যায় ড্রেসিংরুমে। কিন্তু সেখানেও বেশিক্ষণ থাকেনি। নিজেদের জার্সি খুলে সামনে ‘থ্যাংক ইউ ক্যাপ্টেন’ ও পেছনে ‘মাশরাফি’ লেখা জার্সি পরে একে একে বেরিয়ে এলেন ১৪ ক্রিকেটার। কয়েক মুহূর্তের জন্য বাংলাদেশ দলের সবাই যেন মাশরাফি হয়ে গেলেন! পরে মাশরাফি জানিয়েছেন, তিনি এসব আয়োজন সম্বন্ধে জানতেন না। এরপর মাশরাফিকে বিসিবির পক্ষ ক্রেস্ট তুলে দেন বিসিবিপ্রধান নাজমুল হাসান। এত ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে খেলা সম্প্রচারকদের মাশরাফি বলছিলেন, ‘এটা সম্মানের। মাঠের মধ্যে এটাই মনে হয় আমার সেরা সম্মান। ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ। আমার ছেলেদের ধন্যবাদ। ওরা অসাধারণ।’

মাশরাফি–কোহলিরা কেন মেজাজ হারাচ্ছেন?
                                  

তিনটি ঘটনা তিন জায়গায়, তিন অধিনায়কের সংবাদ সম্মেলনে। তবুও কী দারুণ মিল! তিন অধিনায়কেরই ‘সফট টার্গেট’ হয়েছেন সাংবাদিক। তাঁরা মনের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাংবাদিকের ওপর।

প্রথম ঘটনাটা গত নভেম্বরে ইন্দোর টেস্টে। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ দল। ব্যাটিং বিপর্যয় হতেই পারে। কিন্তু ভারতীয় বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের এত ভীত দেখাল কেন? বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক দায় চাপালেন সাংবাদিকদের ওপর, ‘...আপনারা এমনভাবে সব প্রশ্ন করেন, যেমন ধরুন রশিদ খান আছে, সেটা বারবার মনে করিয়ে দিতে থাকেন। আপনি যতই সেটা চিন্তা না করতে চান, আপনাকে ভাবিয়ে তুলবেই...।

দ্বিতীয় ঘটনা এই কদিন আগে সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের আগে। সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে প্রশ্ন করা হলো, ‘যেসব প্রশ্ন আপনার কাছে আসে, তা অনেকটা আত্মসম্মানের। যে জায়গাটায় এখন দাঁড়িয়ে আছেন, বিশেষ করে ৮ ম্যাচে উইকেট নেই। ২০০১ সালে যখন শুরু করলেন নভেম্বরে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে, ওয়ানডে খেললেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শুরু হয়েছিল, ফ্লাওয়ার-ব্রাদার্সের উইকেট নিলেন। ২০০৭-০৮ সালে তিন–চারটা ম্যাচে আপনি উইকেট পাননি, কিন্তু এই পরিস্থিতিতে আপনাকে পড়তে হয়নি। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে বলেই কি একটা বাড়তি মোটিভেশন কাজ করছে, আপনার যদিও মোটিভেশনের দরকার পড়ে না।’
দীর্ঘ এ প্রশ্নের যে উত্তরটা মাশরাফি দিলেন, সেটিতে যেন কাঠগড়ায় উঠতে হলো প্রশ্নকর্তাকেই, ‘আত্মসম্মান বা লজ্জা, আমি কি চুরি করি মাঠে? আমি কি চোর? খেলার সঙ্গে লজ্জা, আত্মসম্মান আমি মেলাতে পারি না। এত জায়গায় এত চুরি হচ্ছে, চামারি হচ্ছে, তাদের লজ্জা নাই? আমি মাঠে এসে উইকেট না পেলে আমার লজ্জা লাগবে। আমি কি চোর?’

তৃতীয় ঘটনাটা মাশরাফির সংবাদ সম্মেলনের ঠিক পরের দিন। ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে হেরে ধবলধোলাই নিশ্চিত হয়েছে ভারতের। ম্যাচ শেষে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলেন, খেলার সময় প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের ফেরানোর পর কোহলি যেসব ভঙ্গি করেছেন, সেটি ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে সঠিক আচরণ কি না? উত্তর দিতে গিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে কড়া কথাবার্তাই বিনিময় হয়ে গেল তাঁর। উত্তর দেবেন কী, কোহলি উল্টো জানতে চাইলেন, ‘আপনি কী মনে করেন, সেটাই শুনি...আপনার বের করা উচিত আসলে কী হয়েছিল এবং এ ব্যাপারে ভালো প্রশ্ন করা। ঘটনাটা পুরোপুরি না জেনে প্রশ্ন করা ঠিক হয়নি আপনার...।’

তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ম্যাচে, তিন ভিন্ন অধিনায়কের এ তিনটি ঘটনা দেখে মনে হতে পারে সাংবাদিকদের সঙ্গে বুঝি ক্রিকেটারদের মরু মেরু দূরত্ব! আসলেই কি তা–ই? কোহলির সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের দূরত্ব থাকতে পারে। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে সাংবাদিকদের সব সময়ই সুসম্পর্ক থাকে বলে মনে করেন সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক উৎপল শুভ্র, ‘খেলোয়াড়-সংগঠকদের সঙ্গে আমাদের দেশে সাংবাদিকদের সঙ্গে সম্পর্কটা একটু বন্ধুর মতো হয়ে যায়। তবে নিজের সমালোচনা কেউই পছন্দ করে না। মাশরাফির ক্ষেত্রে যেটা মনে হয়েছে, তিনি যে প্রশ্নে অমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, সেটি মাশরাফিসুলভ নয়। ২০ বছর ধরে যে মাশরাফিকে চিনি, তাতে খুবই অবাক হয়েছি। আর মুমিনুল দিয়েছিলেন হালকা অজুহাত। সাংবাদিকের কাজই তো এটা। আলোচিত বিষয় তুলে ধরা। অপ্রিয় প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলা। কোহলির আগেও সাংবাদিকদের সঙ্গে টুকটাক লেগেছে। মাঝে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছিল। নিউজিল্যান্ডে ভরাডুবির কারণে হয়তো আবার সেটা হয়েছে।’

অথচ মাশরাফির ওরকম উত্তরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা নানা আলোচনায় ‘খলনায়ক’ বনে যান প্রশ্নকর্তা। কিন্তু পর্দার পেছনের গল্পটা হচ্ছে, সংবাদ সম্মেলনের পর মাশরাফি নিজেই ওই সাংবাদিককে ফোন করে ঝাঁজাল উত্তর দেওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের বেশির ভাগ ক্রিকেটারের সঙ্গে সাংবাদিকদের সম্পর্কটা আসলে এ রকমই উষ্ণ। তবুও প্রশ্ন থেকে যায়। উৎপল শুভ্র যে বললেন ‘উত্তরটা ঠিক মাশরাফিসুলভ নয়।’ প্রায় ২০ বছরের ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে কেন এ বিস্ফোরণ ঘটল অধিনায়কের কণ্ঠে? কিংবা ভীষণ চুপচাপ আর সংবাদমাধ্যমবান্ধব মুমিনুলই–বা কেন ব্যাটিং বিপর্যয়ের দায় চাপালেন সাংবাদিকের ওপর? ১৫০ কোটি মানুষের চাপ সামলানো কোহলি কেন পারেননি মেজাজ ধরে রাখতে?

সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকর আতহার আলী খান বলছেন, বিষয়টা পুরোই মনস্তাত্ত্বিক, ‘একজন খেলোয়াড় অনেক সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। মানসিকভাবে যতই শক্ত থাক, সুন্দর ব্যাটিং করতে করতে একটা বাজে শট খেলে ফেলার মতো ভুল হয়ে যায়। তার কাজ হচ্ছে খেলা। কিন্তু ছোট ছোট অনেক বিষয় মাথায় জড়ো হয়ে যায়। পরে যেটির বিস্ফোরণ ঘটে এভাবে।’

উৎপল শুভ্রও বলছেন একই কথা। চারদিক ধেয়ে আসা নানা আলোচনা, সমালোচনা, বারবার একই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া—সব মিলিয়ে এক অদৃশ্য চাপ অক্টোপাসের মতো ঘিরে ধরে একজন ক্রিকেটারকে। আর তাতে ভেঙে পড়েন মাশরাফির মতো ভীষণ শক্ত খেলোয়াড়ও, ‘তার চারপাশে যে নানা কথাবার্তা হচ্ছে, এটার চাপে মাশরাফি এভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তার উত্তরটা প্রশ্নের সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিত নয়। চাপ এমন জিনিস তাতে মাশরাফিও ভেঙেও পড়েন। মাশরাফি প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছি। এত দিন তাকে যেভাবে দেখছি, নেতিবাচক কিছু লেখা হলেও কখনোই তিনি এভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান না।’

ক্রিকেটারদের এই মনস্তাত্ত্বিক বিষয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল মনোবিদ মোহিত কামালের কাছে। তিনিও হতাশা আর চাপে নুয়ে পড়ার কথাই বললেন, ‘হতাশা থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব তৈরি হয়। যে উদাহরণগুলো এখানে আসছে, প্রত্যেকে যে আক্রমণাত্মক উত্তর দিয়েছে, সেটি হয়েছে হতাশা থেকে। মাশরাফি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও তাঁর বয়স বেড়েছে। এখন তিনি সাংসদ হওয়ায় অনেক টিপ্পনী, কথা, সমালোচনা শুনতে হচ্ছে। ছোট ছোট দুঃখ-হতাশা তাঁর ভেতরে জমা হয়েছে। সেটারই বহিঃপ্রকাশ হয়েছে। কোহলির হতাশা তৈরি হয়েছে ধবলধোলাই থেকে। হতাশা কাটিয়ে ওঠার ক্ষমতা দুর্বল বা কম হলেই এমনটা হয়ে থাকে।’

কথায় আছে, রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে সাংবাদিকেরা হচ্ছেন ‘ন্যাসেসারি ইভিল’। যাঁরা সব সময়ই অন্যায়-ভুল-অসংগতি তুলে ধরে যন্ত্রণা দেন, কিন্তু তাঁদের এড়িয়ে চলা যায় না। ব্রায়ান লারা একবার বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন, সাংবাদিকেরা ‘আনন্যাসেসারি ইভিল’! ক্যারিবীয় কিংবদন্তি মুখে যতই বলুন, আধুনিক ক্রিকেটে এই অপরিহার্য অংশকে কি তিনিও কখনো এড়িয়ে চলতে পেরেছেন? কন্ডিশন কঠিন হতেই পারে। তাই বলে সেটিকে তো এড়িয়ে চলা যায় না। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই বরং বড় ক্রিকেটারের গুণ।

বড় ইনিংস আসছে, জানতেন তামিম
                                  

ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে কড়া সমালোচনার মধ্যে ছিলেন তামিম ইকবাল। কিন্তু বড় রান পাবেন, এই আস্থা ছিল নিজের ওপর

২০-৩০ রান পাচ্ছিলেন। সেটাও আবার মন্থর গতিতে। কিন্তু সেখান থেকে সেঞ্চুরি পাচ্ছিলেন না। সঙ্গে স্ট্রাইক রেটের সমালোচনা তো আছেই। এই সময়টায় তামিমের পাশে ছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। নিজের দিনে তামিম কী করতে পারেন, সেটি কার না জানা! তামিমও জানতেন, বড় রান থেকে খুব বেশি দূরে তিনি নেই।

কাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ১৩৬ বলে তামিম খেলেন ১৫৮ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে নিজের গড়া ১৫৪ রানের রেকর্ড গড়েন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চের নতুন রেকর্ড। ম্যাচ শেষে তামিম বলছিলেন, ‘টিম ম্যানেজমেন্টকে বড় কৃতিত্ব দিতে হবে, কারণ তাঁরা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন। টেস্টে এবং নেটে আমি ভালো ব্যাট করছিলাম। আমি জানতাম বড় কিছু আসছে।’

তামিমের সেঞ্চুরিতে ভর করে বাংলাদেশ তুলেছে ৩২২ রান। শেষ পর্যন্ত জিতেছে ৪ রানে। বড় স্কোরের ভিত গড়ে দিলেও কৃতিত্বটা একা নিলেন না এই অভিজ্ঞ ওপেনার, ‘বল একটু ওঠা-নামা করেছে। কিন্তু সব মিলিয়ে ব্যাট করার জন্য দারুণ উইকেট। মুশফিক অন্যদিকে খুব ভালো ব্যাট করেছে। লিটন আগের ম্যাচে খুব ভালো ব্যাট করেছে, শান্তকে স্বচ্ছন্দ মনে হয়েছে। সেও বড় কিছু করবে। আমরা ভালো ব্যাট করছি।’

নেইমারের অভাব বুঝতেই দেননি এমবাপ্পে-ইকার্দি
                                  

বোর্দোর বিপক্ষে লিগের আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখে নেইমার নিষিদ্ধ। তবু পিএসজির জন্য ম্যাচটা এমন কঠিন কিছু ছিল না। একে তো প্রতিপক্ষ দিজঁ ২০ দলের লিগের পয়েন্ট তালিকায় আছে ১৭ নম্বরে, তারওপর ম্যাচটা পিএসজির ঘরের মাঠে। সহজ ম্যাচটাকে আরও সহজ বানিয়ে দিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও মাউরো ইকার্দিরা। নেইমারের অভাব টেরই পেল না পিএসজি!

এমবাপ্পের জোড়া গোল আর মাউরো ইকার্দি ও পাবলো সারাবিয়ার একটি করে গোল নিয়ে ম্যাচটা ৪-০ গোলে জিতেছে পিএসজি। ইকার্দি যাঁর বদলি নেমেছেন ম্যাচের ২০ মিনিট বাকি থাকার সময়, সেই এডিনসন কাভানি আর এমবাপ্পে নিজেই কিছু সহজ সুযোগ হাতছাড়া না করলে ম্যাচটা ৬-৭ গোলেও জিততে পারত পিএসজি। কাভানির একটি মিস তো মৌসুমের সবচেয়ে হাস্যকর মিসের কাতারেই পড়বে। ৩৮ মিনিটে এমবাপ্পের দারুণ ক্রসটা শুধু পোস্টে রাখাই কাভানির কাজ ছিল, কিন্তু পাঁচ গজ দূর থেকে উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার উড়িয়ে মেরেছেন বাইরে। এর দুমিনিট পর গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি এমবাপ্পে।

নেইমার না থাকায় এমবাপ্পের পাশে কাভানি, অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া ও পাবলো সারাবিয়াকে দিয়ে আক্রমণভাগ সাজিয়েছেন পিএসজি কোচ টমাস টুখেল। ৩ মিনিটেই সারাবিয়ার গোল পিএসজির এগিয়ে যাওয়া। সৌভাগ্যপ্রসুত গোলই বটে। পিএসজি ডিফেন্ডার মারকিনিওসের শটটা মোটেও ঠিকঠাক ছিল না, কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট সে শটের পর বক্সে বলটা লুফে নিয়ে সেটিকে জালে জড়িয়ে দেন সারাবিয়া। বিরতিতে গোল ওই একটিই। এর মধ্যে ম্যাচের শুরুর দিকেই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়া ডি মারিয়া ১৭ মিনিটে মাঠ ছাড়েন, তাঁর বদলে নামেন ইউলিয়ান ড্রাক্সলার।

দ্বিতীয়ার্ধে ৭৪ মিনিটে ড্রাক্সলারের থ্রু ধরে গোলকিপারকে কাটিয়ে গোল এমবাপ্পের। তার দুমিনিট পরই ব্যবধান ৩-০। এবারে গোলের যোগানদাতা এমবাপ্পে, তাঁর পাসে দারুণ ফিনিশিং পাঁচ মিনিট আগে মাঠে নামা ইকার্দির। আর যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ম্যাচে এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোল। ড্রাক্সলারের শট দিজঁর এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফেরে, কিন্তু পড়বি তো পড় এমবাপ্পের সামনে! এমন সুযোগ আর হাতছাড়া করলেন না ফরাসি স্ট্রাইকার।

এ জয়ে ২৭ ম্যাচে ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে পিএসজি। দুইয়ে থাকা মার্শেইয়ের পয়েন্ট ২৭ ম্যাচে ৬৫।

সৌম্যর বিয়েতে মারামারির ঘটনায় গ্রেফতার ২
                                  

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বাঁহাতি ওপেনার সৌম্য সরকারের বিয়েতে সাতটি মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। একে ঘিরে বিয়ের আসরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে সৌম্যের বড় ভাইসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, খুলনা ক্লাবে সৌম্যর বিয়ে উপলক্ষে ছাদনাতলা তৈরি করা হয়। ভিড়ে ঠাসা গেট দিয়ে বিয়েবাড়িতে প্রবেশের সময় দীনবন্ধু মিত্র নামে এক বরযাত্রীর মোবাইল চুরি হয়। এর পর ক্রিকেটারের বাবা, বন্ধু আলিসহ আরও ৬ জন ফোন হারান।

ক্রিকেটারের মামা স্বদেশ কুমার সরকার বলেন, চোরদের হাতেনাতে ধরে ফেললে খুলনা ক্লাবের কর্মচারীরা বরযাত্রীদের ওপর হামলা পড়ে। দুই পক্ষের হাতাহাতিতে সৌম্যর বড় ভাই প্রণব গুরুতর আহত হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটার পর চুরি হওয়া একটি মোবাইলে কল করলে ভরা বিয়েবাড়িতে সেটি বেজে ওঠে। যার কাছে সেটি পাওয়া যায়, তাকে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে বাকি মোবাইলের হদিশ মেলে। ঘটনায় গ্রেফতার দুই ব্যক্তিকে স্থানীয় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। উত্তেজনা সামাল দিতে খুলনা ক্লাবে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

খুলনা সদর থানার ওসি আসলাম বাহার বুলবুল বলেন, সৌম্যর বিয়েতে মোবাইল চুরি, মারামারি, হাতাহাতির ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একজনের নাম মোহাম্মদ সেলিম (৩৮), আর অপরজনের নাম মোহাম্মদ রাসেল। দুজনই ঢাকার মিরপুরে থাকে। আমাদের কাছে তথ্য আছে, তারা পেশাদার চিন্থিত চোর। হট্টগোলের উদ্দেশেই সেখান থেকে এখানে আসে ওরা। তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আন্তর্জাতিক স্তরে নাম কুড়ানো ক্রিকেটারের বিয়েতে এমন ঘটনা কেন ঘটবে, সেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। পুলিশের বিরুদ্ধে নিরাপত্তায় গাফিলতির অভিযোগও তুলছেন তারা।

খুলনার মেয়ে প্রিয়ন্তি দেবনাথ পূজার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন সৌম্য। বুধবার মধ্যরাতে সাতপাকে বাঁধা পড়েছেন তারা। একে অপরের গলায় মালাবদল করেছেন।

জমকালো আয়োজনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন সৌম্য-পূজা। ইতিমধ্যে জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করেছেন তারা।

বিশ্বরেকর্ড গড়লেন রস টেইলর
                                  

বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটেই অন্তত ১০০ করে ম্যাচ খেলার বিশ্বরেকর্ড গড়লেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান রস টেইলর। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নেমেই এই বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি।

ভারতের বিপক্ষে চলমান সিরিজের টি-২০ ফরম্যাটে শততম ম্যাচ খেলেন টেইলর। ইতোমধ্যে ওয়ানডে খেলেছেন ২৩১টি।

ওয়েলিংটনের আগে টেইলের ঝুলিতে ছিলো ৯৯টি টেস্ট। তাই শততম টেস্ট ম্যাচ থেকে এক ধাপ দূরে ছিলেন তিনি। আজ ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে সেই মাইলফলকও স্পর্শ করলেন টেইলর। যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিন ফরম্যাটে একশ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েন এই ব্যাটসম্যান।

বিশ্ব ক্রিকেটে ৬৮তম খেলোয়াড় হিসেবে শততম টেস্ট খেললেন টেইলর। অন্তত ১০০টি ওয়ানডে খেলা খেলোয়াড় হলেন ২৬৩ জন। আর তিনজন খেলেছেন ১০০টি টি-২০ ম্যাচ।

২০০৬ সালের মার্চে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু হয় টেইলরের। ঐ বছরই টি-২০ ও পরের বছর টেস্ট আঙ্গিনায় পা রাখেন তিনি। ১৪ বছরের মধ্যে ১০০টি টেস্ট, ২৩১টি ওয়ানডে ও ১০০টি টি-২০ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন টেইলর। টেস্টে ৭১৭৪, ওয়ানডেতে ৮৫৭০ ও টি-২০তে ১৯০৯ রান করেছেন তিনি।

দেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ৪৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে সর্বমোট ১৭, ৬৫৩ রান করেছেন টেইলর।

জিম্বাবুয়ে শিবিরে প্রথম আঘাত আবু জায়েদের
                                  

সিরিজের একমাত্র টেস্টে মুখোমুখি বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ক্রেগ অরভিন।

তবে ব্যাট করতে নেমে সাবলীল ছিলেন না সফরকারী দলের দুই ওপেনার প্রিন্স মাসভাউরে ও কেভিন কাসুজা। রান পেতে ভুগছিলেন তারা। প্রথম ৬ ওভারে কোনো রানের খাতা খুলতে পারেননি এ জুটি।

স্বভাবতই চাপ বাড়ছিল। তা কাটাতে গিয়ে সাজঘরে ফিরলেন কাসুজা। আবু জায়েদের বলে গালিতে তার দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেছেন নাঈম হাসান। এ রিপোর্ট লেখার সময় জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৯ রান।

মিরপুরের উইকেট স্পিনবান্ধব। সেই কথা মাথায় রেখে দুই বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়ে খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলামের সঙ্গে একাদশে রয়েছেন তরুণ স্পিনার নাঈম হাসান।

পেস আক্রমণ সামলানোর দায়িত্বে আবু জায়েদ রাহীর সঙ্গে আছেন এবাদত হোসেন। আর ব্যাটিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গে ওপেন করবেন সাইফ হাসান। পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিণ্ডি টেস্টে আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে ব্যর্থ হলেও তাকে আরেকটি সুযোগ দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জায়গায় একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম, আবু জায়েদ রাহী ও এবাদত হোসেন।

জিম্বাবুয়ে একাদশ: প্রিন্স মাসভাউরে, কেভিন কাসুজা, ক্রেগ অরভিন (অধিনায়ক), ব্র্যান্ডন টেলর (উইকেটরক্ষক), টিমিসেন মারুমা, সিকান্দারা রাজা, রেগিস চাকাভা (উইকেটরক্ষক), ডোনাল্ড তিরিপানো, এন্সলে এনদিলোভু, ভিক্টর নায়াউচি ও চার্লটন টিসুমা।

লিভারপুল হেরেছে, পিএসজিও...
                                  

চ্যাম্পিয়নস লিগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছে লিভারপুল। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছেন সাউল নিগুয়েজ। আরেক ম্যাচে পিএসজি ২-১ গোলে হেরেছে ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে উড়তে থাকা লিভারপুলকে মাটিতে টেনে নামিয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। অ্যাটলেটিকো-লিভারপুল আজকের ম্যাচটি অবশ্য উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের। চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে লিভারপুল হেরেছে ১-০ গোলের ব্যবধানে।

মাদ্রিদের মাঠে বলের দখল, আক্রমণের দিক থেকে লিভারপুলই এগিয়ে ছিল। প্রথমার্ধে ৭৫ শতাংশ সময় বল ছিল লিভারপুলের দখলেই। কিন্তু লিভারপুলের আক্রমণভাগ গোলমুখে শট নিতে পারেনি বলার মতো একটিও। যে দু-একটি শট সালাহ-মানেরা নিয়েছে সবই হয়েছে বেপথু। উল্টো যে অল্পক্ষণ অ্যাটলেটিকোর খেলোয়াড়দের পায়ে বল ছিল অ্যালিসন দিয়েছেন কঠিন পরীক্ষা। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসনকে বোকা বানিয়ে জটলা থেকে বল জালে জড়ান নিগুয়েজ। মাদ্রিদের স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডারের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা।

প্রথমার্ধ গোল পরিশোধে ব্যর্থ অতিথিদের দ্বিতীয়ার্ধেও একই হাল। বলের দখল নিয়ে খেলতে থাকা ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যদের বেশ কটি আক্রমণ স্বাগতিকদের রক্ষণে ভয় ধরিয়েছিল ঠিকই, কাজের কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হন সালাহ-ফিরমিনো-মানেরা।

চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ ষোলোর আরেক ম্যাচের খবরও অপ্রত্যাশিত। প্রথম লেগের ম্যাচে পিএসজি ২-১ গোলে হেরেছে ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে।

হোঁচট খেল রিয়াল মাদ্রিদ
                                  

ঘরের মাঠে পয়েন্ট হারাতে হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদকে। ম্যাচের শুরুতে গোল হজম করেও দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় স্প্যানিশ জায়ান্টরা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে রিয়ালের জালে ১ গোল দেওয়া সেল্টা ভিগো খেলার শেষ মুহূর্তে এসে আরও ১ গোল দেয়। ফলাফল—২-২ গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক রিয়াল মাদ্রিদ।

লিগে ভালোই ছুটছিল রিয়ালের জয়রথ। টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের পর এসে হোঁচট খেল জিদান শিষ্যরা। তাও নিজেদের দুর্গ বার্নাব্যুতে। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল বাড়িয়ে দেন ইয়াগো আসপাস। ডান পায়ের নিচু এক শটে কর্তোয়াকে ফাঁকি দেন ফেদর স্মলভ।

প্রথমার্ধে এলোমেলো ফুটবল খেলা রিয়াল বলের দখল নিজেদের রেখেছিল ঠিকই। কিন্তু লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি একটিও। দ্বিতীয়ার্ধে এসে খানিকটা গুছিয়ে খেলে রিয়াল। দ্বিতীয়ার্ধে টনি ক্রুসের গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকেরা। ৫২ মিনিটে মার্সেলোর কাটব্যাক থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে জড়ান ক্রুস। ৬৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন রামোস। রিয়ালের ফরোয়ার্ড হ্যাজার্ডকে ফাউল করেন সেল্টার গোলরক্ষক ব্লানসো। সফল স্পটকিক থেকে ব্যবধান বাড়ান সার্জিও রামোস।
শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ধরে রেখে খেলা শেষ করতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে সান্তি মিনা রিয়ালের বুকে ছুরি চালান। সমতায় ফেরে অতিথিরা। পয়েন্ট হারিয়ে মাঠ ছাড়ে বেনজেমা-রামোসরা।
পয়েন্ট হারালেও বার্সেলোনাকে হটিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান এখন রিয়ালের দখলেই। ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। ১ পয়েন্ট কম নিয়ে তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে বার্সেলোনা।


   Page 1 of 40
     খেলাধূলা
করোনায় আক্রান্ত আরো সাত পাকিস্তানি ক্রিকেটার
.............................................................................................
করোনায় মারা গেলেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার
.............................................................................................
বাফুফের নির্বাচন স্থগিত
.............................................................................................
করোনায় প্রাণ হারালেন রিয়ালের সাবেক সভাপতি
.............................................................................................
করোনা: রক্ষা পেতে নামাজ পড়তে বললেন মিরাজ-মোস্তাফিজ
.............................................................................................
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ দেশের ক্রিকেট
.............................................................................................
জয়ে আবারও শীর্ষে বার্সেলোনা
.............................................................................................
যেভাবে কয়েক মুহূর্তের জন্য সবাই মাশরাফি হয়ে গেল
.............................................................................................
মাশরাফি–কোহলিরা কেন মেজাজ হারাচ্ছেন?
.............................................................................................
বড় ইনিংস আসছে, জানতেন তামিম
.............................................................................................
নেইমারের অভাব বুঝতেই দেননি এমবাপ্পে-ইকার্দি
.............................................................................................
সৌম্যর বিয়েতে মারামারির ঘটনায় গ্রেফতার ২
.............................................................................................
বিশ্বরেকর্ড গড়লেন রস টেইলর
.............................................................................................
জিম্বাবুয়ে শিবিরে প্রথম আঘাত আবু জায়েদের
.............................................................................................
লিভারপুল হেরেছে, পিএসজিও...
.............................................................................................
হোঁচট খেল রিয়াল মাদ্রিদ
.............................................................................................
চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে নিষিদ্ধ হলো সিটি
.............................................................................................
এত বড় আয়োজন ভাবেননি আকবর
.............................................................................................
আকবরকে গণসংবর্ধনা দেবে রসিক
.............................................................................................
ইনিংস ব্যবধানে হেরে আজই দেশে ফিরছেন তামিমরা
.............................................................................................
অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছে বিশ্বজয়ী আকবররা
.............................................................................................
বিশ্বকাপ এখন বাংলাদেশের
.............................................................................................
দেশের জন্য বিশ্বকাপ জিততে চায় যুবারা
.............................................................................................
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ
.............................................................................................
রেকর্ড গড়ে জয় দক্ষিণ আফ্রিকার
.............................................................................................
প্রতি ২২ মিনিটে একটি করে গোল করছেন হরলান্ড
.............................................................................................
আনসু ফাতির জোড়া গোলে বার্সার জয়
.............................................................................................
পাকিস্তান সফরে ব্যাটিং অর্ডার বেশি পরিবর্তন করায় বিরক্ত পাপন
.............................................................................................
কীভাবে জিততে হয় ‘বড়দের’ শেখাল নিউজিল্যান্ডের যুবারা
.............................................................................................
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে নাদাল
.............................................................................................
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট, প্রস্তুতি শুরু টাইগারদের
.............................................................................................
‘বল পিটিয়ে মাঠ পার করা’ ব্যাটসম্যান খুঁজছে বাংলাদেশ
.............................................................................................
বাংলাদেশ ম্যাচের উইকেট নিয়ে ইনজামামের অসন্তোষ
.............................................................................................
আমরা কখনও এমন নিরাপত্তা দেখিনি: মাহমুদউল্লাহ
.............................................................................................
বাংলাদেশ সিরিজেই পাকিস্তানে ‘প্রথম’ মাদুগালের
.............................................................................................
বিগ ব্যাশের অতিথি ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু
.............................................................................................
মেসিদের নতুন কোচ কিকে সেতিয়েন
.............................................................................................
বার্সাকে হারিয়ে ফাইনালে অ্যাটলেটিকো
.............................................................................................
অধিনায়ক মুশফিকের প্রশংসায় ফ্রাইলিঙ্ক
.............................................................................................
যেভাবে সার্বিয়া থেকে বলিউডে হার্ডিক পান্ডিয়ার গার্লফ্রেন্ড
.............................................................................................
ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে পিচ শুকাতে হেয়ার ড্রায়ার-ইস্ত্রি, সমালোচনার ঝড়
.............................................................................................
১৪২ বছরের টেস্ট ইতিহাসে স্টোকসের অনন্য কীর্তি
.............................................................................................
জয় দিয়ে বছর শুরু ম্যান সিটির
.............................................................................................
৪ দিনের টেস্ট করার কথা ভাবছে আইসিসি
.............................................................................................
ফ্রি-কিকে গোলের রহস্য জানালেন মেসি
.............................................................................................
প্রথম পেসার হিসেবে এলিট ক্লাবে এন্ডারসন
.............................................................................................
শেষটা সুন্দর হলো না রিয়ালের
.............................................................................................
নারী ফিফা রেফারি হলেন জয়া চাকমা
.............................................................................................
শুশ্রুষা নিয়েও নায়ক মাহমুদউল্লাহ
.............................................................................................
কোহলির ব্যাটে রানপাহাড় টপকাল ভারত
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো: হাবিবুর রহমান সিরাজ
আইন উপদেষ্টা : অ্যাড. কাজী নজিব উল্লাহ্ হিরু
সম্পাদক ও প্রকাশক : অ্যাডভোকেট মো: রাসেদ উদ্দিন
সহকারি সম্পাদক : বিশ্বজিৎ পাল
যুগ্ন সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান রিপন
নির্বাহী সম্পাদক: মো: সিরাজুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : সাগর আহমেদ শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস ৫২ / ২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সূত্রাপুর ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৯৯ মতিঝিল , করিম চেম্বার ৭ম তলা , রুম নং-৭০২ , ঢাকা থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭২৬-৮৯৬২৮৯, ০১৬৮৪-২৯৪০৮০ Web: www.dailybishowmanchitra.com
Email: news@dailybishowmanchitra.com, rashedcprs@yahoo.com
    2015 @ All Right Reserved By dailybishowmanchitra.com

Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD