|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ফিচার -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
সূর্যগ্রহণের সময় যা করবেন না

বৃহস্পতিবার আংশিক সূর্য গ্রহণ হবে। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে বেলা ২টা ৫মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শেষ হবে। এটি চলতি বছরের তৃতীয় ও সর্বশেষ সূর্যগ্রহণ হবে।

ভারত, দুবাই, কুয়েত সিটি, করাচি, জাকার্তা, কুয়ালালামপুর, দাভাও আর সাইপ্যান থেকেও দেখা যাবে এই গ্রহণ।

খালি চোখে এই গ্রহণ দেখতে বারণ করেছে নাসা। চোখে কয়েক সেকেন্ডের জন্য সূর্য গ্রহণ দেখলেও তা রেটিনার ওপর প্রভাব ফেলে। যার কারণে একটা চোখে দৃষ্টিশক্তিও হারাতে পারে মানুষ।

পেরিস্কোপে, টেলিস্কোপ, সানগ্লাস বা দূরবীন, কোনও কিছুর সাহায্যে গ্রহণ দেখার সময় সূর্যের দিকে সরাসরি তাকাতে বারণ করা হয়েছে। গ্রহণের সময় সূর্য রশ্মি অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে যা চোখে প্রভাব ফেলতে পারে। সানগ্লাস বা ঘষা কাঁচ দিয়েও এই গ্রহণ দেখতে বারণ করেছে নাসা। কারণ এইগুলো নিরাপদ না।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র সূর্যগ্রহণ চলাকালীন খাবার খেতে বারণ করেছে। একমাত্র বৃদ্ধ, অসুস্থ ও গর্ভবতী মহিলারা হালকা খাবার নিতে পারবেন বলে বলা আছে।

কিছু মানুষ মনে করেন, গর্ভবতী মহিলার গর্ভে থাকা বাচ্চার জন্য সূর্যগ্রহণ অত্যন্ত বিপদজনক। তাই সে সব মহিলাদের গ্রহণ চলাকালীন ঘরের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হতো না। উত্তর, পূর্ব, পশ্চিম ভারতের সঙ্গে দক্ষিণ ভারতেও দেখা যাবে এই গ্রহণ।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, বিশেষ গ্রহণ গ্লাস বা সোলার ফিল্টার দিয়েই এই গ্রহণ দেখা উচিত। বাজারে আইএসও স্বীকৃত বিশেষ সোলার গ্লাস দিয়ে একমাত্র এই গ্রহণ দেখা নিরাপদ। সে সব গ্লাস ব্যবহারের আগে অবশ্যই ব্যবহার নির্দেশিকা পরে নিতে উপদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কোনোভাবে সেই গ্লাস ভাঙা বা দাগ থাকলে ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন তারা।

সূর্যগ্রহণের সময় যা করবেন না
                                  

বৃহস্পতিবার আংশিক সূর্য গ্রহণ হবে। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে বেলা ২টা ৫মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শেষ হবে। এটি চলতি বছরের তৃতীয় ও সর্বশেষ সূর্যগ্রহণ হবে।

ভারত, দুবাই, কুয়েত সিটি, করাচি, জাকার্তা, কুয়ালালামপুর, দাভাও আর সাইপ্যান থেকেও দেখা যাবে এই গ্রহণ।

খালি চোখে এই গ্রহণ দেখতে বারণ করেছে নাসা। চোখে কয়েক সেকেন্ডের জন্য সূর্য গ্রহণ দেখলেও তা রেটিনার ওপর প্রভাব ফেলে। যার কারণে একটা চোখে দৃষ্টিশক্তিও হারাতে পারে মানুষ।

পেরিস্কোপে, টেলিস্কোপ, সানগ্লাস বা দূরবীন, কোনও কিছুর সাহায্যে গ্রহণ দেখার সময় সূর্যের দিকে সরাসরি তাকাতে বারণ করা হয়েছে। গ্রহণের সময় সূর্য রশ্মি অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে যা চোখে প্রভাব ফেলতে পারে। সানগ্লাস বা ঘষা কাঁচ দিয়েও এই গ্রহণ দেখতে বারণ করেছে নাসা। কারণ এইগুলো নিরাপদ না।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র সূর্যগ্রহণ চলাকালীন খাবার খেতে বারণ করেছে। একমাত্র বৃদ্ধ, অসুস্থ ও গর্ভবতী মহিলারা হালকা খাবার নিতে পারবেন বলে বলা আছে।

কিছু মানুষ মনে করেন, গর্ভবতী মহিলার গর্ভে থাকা বাচ্চার জন্য সূর্যগ্রহণ অত্যন্ত বিপদজনক। তাই সে সব মহিলাদের গ্রহণ চলাকালীন ঘরের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হতো না। উত্তর, পূর্ব, পশ্চিম ভারতের সঙ্গে দক্ষিণ ভারতেও দেখা যাবে এই গ্রহণ।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, বিশেষ গ্রহণ গ্লাস বা সোলার ফিল্টার দিয়েই এই গ্রহণ দেখা উচিত। বাজারে আইএসও স্বীকৃত বিশেষ সোলার গ্লাস দিয়ে একমাত্র এই গ্রহণ দেখা নিরাপদ। সে সব গ্লাস ব্যবহারের আগে অবশ্যই ব্যবহার নির্দেশিকা পরে নিতে উপদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কোনোভাবে সেই গ্লাস ভাঙা বা দাগ থাকলে ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন তারা।

ভণ্ড পীর বাবাদের ব্যবসা --তসলিমা নাসরিন--
                                  
 

বাংলাদেশে দেখতাম চারদিকে ভণ্ড পীর, ভারতে দেখি চারদিকে বাবা। প্রায় সবারই কোনো না কোনো পীর বা বাবা আছে। পীর এবং বাবার পায়ে মানুষ কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢেলে আসে। টাকা আর আনুগত্যের বিনিময়ে পীর এবং বাবা ভগবান এবং আল্লাহর কাছে তদবির করে ইহকাল এবং পরকালের সুখ-স্বাস্থ্য, আনন্দ-আয়েশ, বিত্ত-বৈভবের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন বলে মুরিদ এবং ভক্তকুল বিশ্বাস করে। এই বিশ্বাস বড় ভয়ঙ্কর। এই বিশ্বাসের কারণে মানুষ অনেক সময় সর্বস্বান্ত হয়ে যায়, কিন্তু তারপরও পীর বা বাবার ওপর থেকে মানুষের নির্ভরতা যায় না।

আমার মা ছিলেন ময়মনসিংহ শহরের নওমহল এলাকার এক পীরের মুরিদ। কী করে সেই পীর যে মা’র মগজধোলাই করেছিলেন! সেই পীর যা বলতেন, মা সব বিশ্বাস করতেন। একবার পীর বললেন তিনি মা’কে এবং তার আরও কয়েকজন মুরিদকে উড়িয়ে নিয়ে যাবেন মক্কায়। হ্যাঁ উড়িয়ে, মা’রা কার্পেটের ওপর বসে থাকবেন, কার্পেটই নিজে নিজে উড়ে যাবে পবিত্র শহরটিতে। মা তো রীতিমতো সুটকেস গুছিয়ে রেখেছিলেন। বাস্তববাদী মানুষও কী করে অমন অবাস্তব ব্যাপার বিশ্বাস করতে পারেন আমি জানি না।

শুধু কি উপমহাদেশেই ভণ্ড পীর আর বাবার উপদ্রব? মনে আছে আমেরিকার পীর জিম জোন্সের কথা, ১৯৭৮ সালে গায়ানার জোন্সটাউনে ৯০৯ জন ভক্তকে বললেন বিষ খেতে, সবাই চুপচাপ বিষ খেয়ে মরে গিয়েছিল, শুধু তাই নয়, নিজেদের শিশু                 সন্তানের মুখেও নিজের হাতে বিষ ঢেলে দিয়েছিল? বিশ্বাস এমনই ভয়ঙ্কর। ১৯৯৭ সালেও ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩৯ জন মানুষ তাদের খ্রিস্টান পীরের আদেশে আত্মহত্যা করেছিল, বিশ্বাস ছিল মরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ইউএফওতে চড়ে স্বর্গে যাবে।

বাংলাদেশের দেওয়ানবাগী পীর হাসপাতালে ছিলেন। যে পীর মানুষের রোগ সারানোর জন্য পানি পড়া দেন, যেন কাউকে হাসপাতালে না যেতে হয়, সেই তিনি কেন গেলেন হাসপাতালে! কেউ কি তাকে তার নিজের ‘পানি পড়া’ খেয়ে সুস্থ হওয়ার উপদেশ দেননি?

ভারতের বেশির ভাগ লোক অন্য কোনো বাবাকে বিশ্বাস না করলেও সত্য সাঁই বাবাকে করে। সত্য সাঁই বাবার ভক্ত সারা পৃথিবীজুড়ে। সাঁই বাবা ঘোষণা করেছিলেন, তিনি মারা যাবেন ২০২২ সালে, কিন্তু মারা গেলেন ২০১১ সালে। এতে কিন্তু তাঁর ভক্তসংখ্যা কমেনি। সত্য সাঁই বাবা দু’আঙ্গুলের ফাঁকে ছাইয়ের বড়ি লুকিয়ে রেখে জনসমক্ষে হাতে কিছু নেই এমন ভাব দেখাতেন, তারপর কৌশলে আঙ্গুলের ফাঁক থেকে সেই ছাইয়ের বড়ি বের করে বুড়ো আঙ্গুলের চাপে তা গুঁড়ো করে ‘পবিত্র ছাই’ বা বিভূতি ছিটিয়ে দিতেন অন্ধ ভক্তদের দিকে। ভক্তরা বিশ্বাস করত তাদের সব দুর্দশা ঘুচে যাবে। সত্য সাঁই বাবার জাদুগুলো ছিল খুব দুর্বল। মাথায় দু’ছটাক বুদ্ধি থাকলেই ধরতে পারা যায় তিনি তোয়ালের ভিতর সোনার শিবলিঙ্গ লুকিয়ে রেখে কাশতেন আর কাশতে কাশতে যেন মুখ থেকে সোনার শিবলিঙ্গ বেরিয়েছে এমন অভিনয় করতেন। পি সি সরকার জুনিয়র একবার চ্যালেঞ্জ করেছিলেন যে, তিনি সত্য সাঁই বাবার হাতের কারসাজি ধরিয়ে দেবেন, এবং নিজে তার চেয়ে ভালো জাদু দেখিয়ে দেবেন, কিন্তু সত্য সাঁই বাবা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে সাহস করেননি। পি সি সরকার সত্য সাঁইয়ের চেয়ে বড় মাপের জাদুকর!

অনেকে, বিশেষ করে ইউরোপ আমেরিকার কিছু ভক্ত, এখন না হলেও এককালে ভক্ত ছিল, বলে, সত্য সাঁই বাবা সমকামী ছিলেন, সুশ্রী বালকদের প্রচুর যৌন হেনস্তা করেছেন। আমেরিকার কিছু বালক সাঁই বাবার লালসার শিকার হয়েছিলেন ছোটবেলায়, এমন অভিযোগও করেছেন। চারটে কিশোরকে হত্যাও করিয়েছিলেন তিনি, তারপরও নাকি তার অপরাধের বিচার হয়নি। এখন ১২৬টি দেশে তার নামে আছে ১২০০টি সত্য সাঁই কেন্দ্র।

শত অপরাধ করেও পীর এবং বাবারা পার পেয়ে যান। কারণ তাদের ভক্তকুলের মধ্যে দেশের রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী, উকিল, ব্যবসায়ী, বিচারপতি সবাই আছেন। শচীন টেন্ডুলকার তো সম্ভবত কোটি কোটি টাকা দান করেছেন সত্য সাঁই বাবাকে। মৃত্যুর পর কত যে সম্পদ বেরিয়েছে তার প্রাসাদ থেকে! সব ভক্তদের টাকা। বিশ্বাসের টাকা। অন্ধ বিশ্বাসের, বোকামোর। ভক্তদের টাকায় হাসপাতাল বানিয়ে সত্য সাঁই নিজের দুর্নাম চাপা দিয়েছিলেন। লোকে ভাবে হাসপাতাল বানিয়ে ভীষণই মহৎ কাজ করেছেন।

পীর এবং বাবা-ব্যবসা রমরম করে বেড়ে চলেছে। তার মানে প্রতারণা বেড়ে চলেছে। গুজরাটের আশারাম বাপু ধর্ষণের আসামি। খুন, ধর্ষণ এবং অবৈধভাবে সম্পদ-সম্পত্তি আত্মসাতের দায়ে ভারতের অনেক সাধু সন্ত গুরু বাবাই এখন কারাগারে। স্বামী নিত্যানন্দ, স্বামী ভীমানন্দ, নির্মল বাবা, স্বামী বিকাশানন্দ, সন্ত রামপাল, আশুতোষ মহারাজ, চন্দ্রস্বামী, বালক ব্রহ্মচারী, আশারাম বাপু, বাবা মনমোহন দাস, বাবা গুরমিত রাম রহিম সিং এরকম অনেকেই জেলের ভাত খাচ্ছেন। এত কিছুর পরও কিন্তু বাবা সম্প্রদায়ের বাজার মোটেও মন্দা নয়। ধর্মকে যেমন বাঁচিয়ে রেখেছে ধার্মিকরা, পীর-বাবাদেরও বাঁচিয়ে রেখেছে তার ভক্ত-মুরিদরা। আর ভক্ত-মুরিদকে বাঁচিয়ে রেখেছে দেশজুড়ে অজ্ঞতা আর অবিজ্ঞান।

বাংলাদেশে কয়েক হাজার ভণ্ড পীর। পীর না বলে এদের প্রতারক বলা উচিত। তাবিজ, পাথর, ঝাড়ফুঁক, ‘জিন’ দিয়ে সব রকম অসুখ সারানোর গ্যারিন্টি দেয় এরা। কত লাখ মানুষ যে এদের প্রতারণার শিকার! সরকার কি নিরীহ নিরপরাধ মানুষদের এই ভণ্ড পীর-ফকির সাধু-সন্ন্যাসী বাবা মাতাদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন না? দেশের সরকার বরং তাদের সমালোচনা করলে শাস্তি দেয়।

অলি বার বার ফিরে আসে
                                  

বিশ্ব মানচিত্র রিপোর্ট : ‘অলি বারবার ফিরে আসে/তবে তো ফুল বিকাশে...’ রবীন্দ্রনাথের গানের লাইনটি দুটি ফুল আর ভ্রমরের প্রাকৃতিক সম্পর্কের গুরুত্বকিই তুলে ধরে। কারণ, দুজনেই যে দুজনার মিলনপিয়াসী! অপেক্ষা আর প্রাপ্তির অভিসার।

রাতের ঘন অন্ধকার ঠেলে জেগে ওঠা ফুলগুলো যেন কোনো এক ভ্রমরের প্রতীক্ষাতেই থাকে। কখন আসবে ক্ষণিকের অতিথি? কখন স্পর্শে স্পর্শে ছড়িয়ে দেবে প্রস্ফুটিত হবার দারুণ সার্থকতা।

অবশেষে সকালের আমন্ত্রণে আসে কালো ভ্রমর। ‘গুওও, গুওও, গুওও’ অদ্ভুদ শব্দে ধ্বনিত হয় চারদিক। এ ফুল-ও ফুল করে প্রায় প্রতিটি ফুলে মধুর সন্ধানে প্রতীক্ষিত ঠোঁট স্পর্শ করে। চঞ্চল বন্ধুর পরশে প্রতিটি বাগানের প্রতিটি ফুল সম্মিলিতভাবে জেগে ওঠে তখন। প্রকাশের এই সার্থকতা জানান দেয় দৃশ্যমান সৌন্দর্যে।

ঋতুরাজ বসন্ত বড় অপূর্বভাবেই ফুলেদের নানান রঙের পোশাক পড়িয়ে দেয়। কত বাহারি রঙ! কত বৈচিত্র্য রঙের নয়নাভিরাম মুগ্ধতা! প্রকৃতির প্রতিটি গাছগাছালি-লতাগুল্মদের এই বসন্তে তীব্র উচ্ছ্বাস আর পরমানন্দে মাখামাখি হয়ে নীরবে দুলে উঠতে দেখা যায়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং প্রখ্যাত বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মনিরুল খান বলেন, ভ্রমরের ইংরেজি নাম Bhanvra বা Violet carpenter bee। এরা পরাগায়নের মাধ্যমে ফুলের বংশবিস্তার ঘটিয়ে থাকে। যখন ওরা ফুল থেকে ফুলে ঘুরে বেড়ায় তখন ওদের গায়ে লেগে থাকা রেণুগুলো ফুলে ফুলে লেগে ফুলের পরাগায়ন ঘটায়।

তিনি আরও বলেন, ভ্রমরের ডানাগুলো কিন্তু ঘন নীল রঙের। তবে শরীরে কালো রঙ বেশি থাকায় ওই কালো রঙটাই আমাদের চোখে ফুটে ওঠে। এদের ওড়ার সময় অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পাখা ঝাপটানোর অদ্ভুত এক ধরনের শব্দ হয়।

মৌমাছি ও ভ্রমরের পার্থক্য সম্পর্কে তিনি বলেন, মৌমাছি থেকে ভ্রমর আকৃতিগতভাবে অনেক বড়। মৌমাছি যেমন দলবেঁধে চাক তৈরি করে ভ্রমর তা করে না। ভ্রমর কাঠ বা বাঁশের গর্তে এককভাবে বাসা করে থাকে। আর মৌমাছির মতো তারা ঝাঁকে ঝাঁকে থাকে না। ভ্রমর দু-একটা করে থাকে এবং ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।

শাপলাকে জাতীয় ফুল ঘোষণার দিন
                                  

বিশ্ব মানচিত্র রিপোর্ট : ১৯৭১-এর ১২ মার্চ ছিল শুক্রবার। রক্তঝরা উত্তাল অসহযোগ আন্দোলনের আজ ছিল দ্বিতীয় পর্যায়ের পঞ্চম দিবস। শাপলাকে  জাতীয় ফুল করার সিদ্ধান্তটি হয়েছিল এইদিনেই।


শিল্পী কামরুল হাসানের আহ্বানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে আয়োজিত শিল্পীদের এক সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণা শেষে মুক্তিকামী মানুষকে সেদিন আরও বেশি উৎসাহী করে তুলতে তারা প্রতিবাদী পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন বিলি করেন।

আগের দিন অর্থাৎ একাত্তরের ১১ মার্চ জাতিসংঘের তদানীন্তন মহাসচিব উ থান্ট এক নির্দেশে বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে কর্মরত জাতিসংঘের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী যেন সদর দফতরে ফিরে যান। এ নির্দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ক্ষুব্ধ বঙ্গবন্ধু বলেন, এ দেশের মানুষও এ পৃথিবীর বাসিন্দা। তাদের প্রতিও জাতিসংঘের দায়িত্ব রয়েছে।

একাত্তরের এই দিনে পূর্ব পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা বাঙালীর স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তারা আন্দোলনে অর্থের যোগান দিতে তাদের একদিনের বেতন দেয়ার ঘোষণা দেন। এই দিনে রাস্তায় নেমে আসেন শিল্পী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, কর্মজীবী সবাই।

শিল্পী মর্তুজা বশীর ও কাইয়ুম চৌধুরীর নেতৃত্বে এদিন বাংলা চারু ও কারু শিল্পী সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে এ পরিষদ বিশেষ ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে ক্রমেই স্তিমিত হতে থাকে পাকিস্তানী বাহিনীর কর্মকান্ড। লাগাতার অসহযোগ আন্দোলনের ফলেই পূর্ব পাকিস্তানে থাকা পাকিস্তানী সামরিক জান্তা দমে যেতে থাকে।

বস্তুত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ জাতির জনকের নির্দেশে পরিচালিত হতে থাকে।

রাষ্ট্রীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সমাজের সর্বত্র সংগ্রামী জনতা তাঁর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে থাকে। এমন সর্বাত্মক অসহযোগ ইতিহাসে নজিরবিহীন। এমনকি মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগকেও তা ছাপিয়ে যায়। অসহযোগ পালনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও নির্দেশে বাংলার মানুষ আসন্ন সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সেই যুদ্ধ প্রস্তুতিই নিচ্ছিল। প্রতিটি নিরস্ত্র মানুষ সেদিন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ প্রতিপালনের মধ্য দিয়ে সশস্ত্র হয়ে উঠছিল।

পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে গিয়ে ইশতেকলাল পার্টির প্রধান এয়ার মার্শাল (অব) আসগর খান টানা তৃতীয় দিনের মতো আজও লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশকে খন্ডবিখন্ড হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষাকল্পে এই পরিস্থিতিতে অনতিবিলম্বে প্রথম ফ্লাইটেই প্রেসিডেন্টের উচিত ঢাকায় গিয়ে শেখ মুজিবের সঙ্গে সাক্ষাত করে মুজিব প্রদত্ত সকল শর্ত মেনে নেয়া।

জাতীয় লীগ সভাপতি আতাউর রহমান খান আজ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক বৈঠকে মিলিত হন।

ময়মনসিংহে এক জনসভায় মজলুম নেতা মওলানা ভাসানী এদিনও বঙ্গবন্ধুর কর্মসূচীর প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্বের মুখে লাথি মেরে শেখ মুজিবুর রহমান যদি বাঙালীদের স্বাধিকার আন্দোলনে সঠিক নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হন তবে ইতিহাসে তিনি কালজয়ী বীররূপে, নেতারূপে অমর হয়ে থাকবেন।’

এদিন বিবিসির সংবাদে বলা হয় যে, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া আগামী শনিবার রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে আলাপ-আলোচনার জন্য ঢাকা আসছেন।

এদিকে দেশের সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধু ঘোষিত কর্মসূচীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে মিছিল সহকারে ধানমন্ডির বাসভবনে আসতে থাকে। সারাদিন এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত সংগ্রামী জনতা বিভিন্ন স্লোগান ধ্বনিতে চারদিক প্রকম্পিত করতে থাকে।

এদিন অন্তত দেড় শতাধিক মিছিল বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে আসে এবং বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। নেতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সরকারী আধা-সরকারী কর্মচারীগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অফিস-আদালত বর্জন করে।

জনসাধারণ খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ করে দিয়ে অহিংস-অসহযোগ আন্দোলনের ক্ষেত্রে নবতর অধ্যায়ের সূচনা করে। যথারীতি আজও সারা ঢাকা শহর স্বাধিকার আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে কালো পতাকার শহরে পরিণত ছিল।

গত কয়েক দিনের মতো এদিনও বগুড়ার কারাগার ভেঙ্গে ২৭ জন কয়েদী পালিয়ে যায়। পুলিশের গুলিবর্ষণে এদিনও ১ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়।

দিনে তিনবার সূর্যাস্ত-সূর্যোদয়
                                  

অনলাইন ডেস্ক : পৃথিবী থেকে ৩৪০ আলোকবর্ষ দূরে এক আশ্চর্য গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যেখানে একই আকাশে তিনটি সূর্য। একটি ডুবলেই আর একটির উদয় হয়। নতুন এই গ্রহটির নাম এইচডি ১৩১৩৯৯এবি।
নতুন আবিষ্কৃত এই গ্রহটি বৃহস্পতির তুলনায় প্রায় চার গুণ বড়। ওজনেও বৃহস্পতির চার গুণ বেশি। অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে গবেষক-দলটি এই গ্রহ আবিষ্কার করেছে, তাদের দাবি অনুযায়ী, এই গ্রহটির আকাশে তিনটি সূর্য রয়েছে। তিনটি সূর্য বা উজ্জ্বল তারার মধ্যে একটির আকার তুলনামূলকভাবে বড়। আর তার পিছনে গায়ে গায়ে আরও দুটি উজ্জ্বল তারা রয়েছে। এদের মধ্যে বড় তারাটিকেই গ্রহটি প্রদক্ষিণ করে। গ্রহটির কক্ষপথও অনেক দীর্ঘ এবং প্রশস্ত। সবচেয়ে বড় তারাটিকে অর্ধেক প্রদক্ষিণ করতেই গ্রহটির প্রায় সাড়ে পাঁচশো বছর সময় লাগে। এই সময়েই এই গ্রহের আকাশে একসঙ্গে তিনটি সূর্য দেখা যায়।

অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই গ্রহতে একটি ঋতু একশো বছরের বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়। আবার গ্রহটি নিজের কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করার সময়ে বড় তারাটির থেকে ছোট তারা দু’টি ক্রমাগত দূরে সরতে থাকে।

আকাশ এত মেঘলা
                                  

আকাশ এতো মেঘলা
যেও নাকো একলা
এখনি নামবে অন্ধকার
ঝড়ের জল-তরঙ্গে
নাচবে নটি রঙ্গে
ভয় আছে পথ হারাবার

গল্প করার এইতো দিন
মেঘ কালো হোক মন রঙিন
সময় দিয়ে হৃদয়টাকে
বাঁধবো নাকো আর

আঁধারো ছায়াতে
চেয়েছি হারাতে
দু’বাহু বাড়াতে
তোমারি কাছে
যাক না এমন এইতো বেশ
হয় যদি হোক গল্প শেষ
পূর্ন হৃদয় ভুলবে সেদিন
সময় শূন্যতার

আকাশ এতো মেঘলা
যেও নাকো একলা
এখনি নামবে অন্ধকার
ঝড়ের জল-তরঙ্গে
নাচবে নটি রঙ্গে
ভয় আছে পথ হারাবার

——————–
সতীনাথ মুখোপাধ্যায়

বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো
                                  
বিশ্ব মানচিত্র রিপোর্ট : মার্চ মাস আমাদের জাতীয় জীবন এবং মুক্তির সংগ্রামের একটি গৌরবোজ্জ্বল মাস। এ মাসের ১,৭,১৭,২৫ ও ২৬— এই তারিখগুলো আমাদের সংগ্রামকে দেশ মুক্তির লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
 
পাকিস্তানের সামরিক জান্তার দেওয়া সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর দল ৬ দফাকে সামনে রেখে বিপুল ভোটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিলেন। কেবলমাত্র পূর্ব-পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদেই নয়, জাতীয় পরিষদেরও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর দাবি ছিল, বিজয়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রদেশের রাজধানী ঢাকায় জাতীয় পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। যদিও সামরিক জান্তা প্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খান প্রাথমিকভাবে দাবিটি মেনে নিয়ে ঢাকায় অধিবেশনের তারিখও নির্দিষ্ট করে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু অকস্মাত্ পাঞ্জাবি ক্লিকের চাপে ইয়াহিয়া খান বেতার ভাষণের মাধ্যমে ঢাকা অধিবেশন বাতিল করেন।
 
ঢাকা তখন অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এ সময় বঙ্গবন্ধু তাঁর নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে হোটেল পূর্বাণীতে ভবিষ্যত্ কর্মপন্থা নির্ধারণে ব্যস্ত ছিলেন। বিক্ষুব্ধ জনতা সেখানেই এসে বাংলার অবিসংবাদিত নেতার মুখ থেকে এ প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন নিন্দা, ঘৃণা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে দেশবাসীর প্রতি অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিলেন এবং ৭ই মার্চের জনসভায় পরবর্তী ঘোষণা দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন।
 
৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সভা আহ্বান করা হলো। এ সভায় বঙ্গবন্ধু তার পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। অধীর আগ্রহে বিক্ষুব্ধ মানুষ রেসকোর্সের চতুর্দিক থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ময়দানে সমবেত হতে থাকলেন, দুপুরের মধ্যে ময়দান এক জনসমুদ্রে পরিণত হলো। মিছিলের স্লোগান ছিল, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, ‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা’, ‘তোমার নেতা আমার নেতা, শেখ মুজিব শেখ মুজিব’।
 
এরই মধ্যে এক সময় বঙ্গবন্ধু সভা মঞ্চে উপস্থিত হলেন। সঙ্গে সঙ্গে জনসমুদ্রে উত্তাল ঢেউ উঠলো, মুহুর্মুহু স্লোগানে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হলো। বঙ্গবন্ধু তাঁর বক্তৃতায় প্রতিটি বাক্যে সেনাবাহিনী, সরকারি কর্মচারী, ব্যাংক-অফিস কর্মকর্তাসহ সবার প্রতি নির্দেশ এবং দেশবাসীর প্রতি উপদেশ দিলেন— কী করে শক্রকে মোকাবেলা করতে হবে। তিনি বললেন, ‘তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শক্রর মোকাবেলা করতে হবে’। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বললেন, ‘আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি... প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল’। দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে তিনি বললেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, আরো রক্ত দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা’।
 
জনসমুদ্রে বজ  নির্মোঘ আওয়াজ উঠলো। সেই স্লোগান, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’। বাংলার প্রতিটি মানুষ, কামার, কুমার, কৃষক, মাঝি-মাল্লার, ছাত্র-জনতা, নারী-পুরুষ সকলেই নির্দেশ পেলেন মুক্তির লক্ষ্যে যাত্রার।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৮১তম জন্মবার্ষিকী আজ
                                  
অনলাইন ডেস্ক : আজ (শনিবার) বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৮১তম জন্মবার্ষিকী।
নূর মোহাম্মদ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন (বর্তমানে নূর মোহাম্মদনগর)। বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেছা। বাল্যকালেই তিনি বাবা-মাকে হারান। লেখাপড়া করেছেন সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত।
১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর, বর্তমানে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ-বিজিবি) যোগদান করেন। দিনাজপুর সীমান্তে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই বদলি হন যশোর সেক্টরে। পরবর্তীতে তিনি ল্যান্স নায়েক পদোন্নতি পান। মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮নং সেক্টরে অংশগ্রহণ করে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন নূর মোহাম্মদ।
৫ সেপ্টেম্বর পাকবাহিনীর গুলিতে সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া গুরুতর আহত হলেও সহযোদ্ধাকে কাঁধে নিয়েই এলএমজি হাতে যুদ্ধ করেছেন। গুলি ছুঁড়েছেন। হঠাৎ করে পাকবাহিনীর মর্টারের আঘাতে নূর মোহাম্মদের হাঁটু ভেঙ্গে যায়। তবুও গুলি চালান। শক্রমুক্ত করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যান। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে সম্মুখ যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেন রণাঙ্গনের লড়াকু সৈনিক নূর মোহাম্মদ। যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়। বর্তমানে তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা, ছেলে গোলাম মোস্তফা কামাল ও তিন মেয়ে আছেন।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার জন্মভূমি নূর মোহাম্মদনগরে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেওয়া, কুরআন তেলোয়াত ও আলোচনাসভা।
কখন আমরা ভাষা হারিয়ে ফেলি
                                  

অনলাইন ডেস্ক : স্বঘোষিত গবেষক মাহবুব আলম এবং রাফি আদনান ভাষা হারানোর কয়েকটি মুহূর্ত খুঁজে পেয়েছেন। এ রকম পরিস্থিতিতে আপনি অবশ্যই মুখে ভাষা থাকা সত্ত্বেও সেটা হারিয়ে ফেলবেন। তবে আশার বাণী এটুকুই যে ভাষা হারিয়ে যাওয়ার পরও কোনো প্রকার হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রচার ছাড়াই পূর্বের ভাষাগুলোকে আবার স্ব স্ব অবস্থানে ফিরে পাওয়া যায়। পরীক্ষার হলে আনকমন প্রশ্ন পাওয়ার পর ছাত্রছাত্রীরা উত্তরপত্রে কী লিখবে, সেটা ভেবেই ভাষা হারিয়ে ফেলে।

* নকল করে শিক্ষকের হাতে ধরা পড়ার পর ‘কেন নকল করেছ?’ এই প্রশ্ন শুনে ভাষা হারিয়ে ফেলে।

* একটা শিশু প্রথমবারের মতো কথা বলতে শুরু করলে আত্মীয়স্বজন বিস্ময়ে ভাষা হারিয়ে ফেলে।

* রাত করে বাড়ি ফেরার পর বাবার প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ভাষা হারিয়ে ফেলে ছেলে।

* কোনো রকম লেখাপড়া করে কেউ এ প্লাস পেলে পরীক্ষা অনুযায়ী ফলাফলের তুলনা করে ভাষা হারিয়ে ফেলে শিক্ষার্থীরা।

* ফেসবুকে স্ট্যাটাসের সঙ্গে কমেন্টের অসামঞ্জস্য দেখে মাঝেমধ্যে ভাষা হারিয়ে ফেলি আমরা।

* রিকশা/ সিএনজিচালিত অটোরিকশাওয়ালা মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া চাইলে ভাষা হারিয়ে ফেলি আমরা বেচারা যাত্রীরা।

* মাঝেমধ্যে রাজনীতিবিদদের কথাবার্তা শুনে ভাষা হারিয়ে ফেলে আমজনতা।

* ভাইভা বোর্ডে গিয়ে ভাষা হারিয়ে ফেলে চাকরিপ্রার্থী।

* বেকার ছেলের কাছ থেকে বিয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পর ভাষা হারিয়ে ফেলে পাত্রীর বাবা।

* ক্লাসের পুরোটা সময় ঘুমিয়ে কাটানোর পর স্যার যখন আমাদের দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘এতক্ষণ কী কী পড়ালাম, একটু বলো তো!’ তখন আমরা ভাষা হারিয়ে ফেলি।

* তীব্র যানজটে বিরক্ত হয়ে বাস থেকে নেমে পড়ার পরপরই বাস ছেড়ে দিলে দুঃখে ভাষা হারিয়ে ফেলে ক্লান্ত যাত্রী।

* ভাষা হারিয়ে ফেলি ক্রাশের কাছে মনের কথা বলতে গিয়ে।

* ফেসবুকে কোনো সুন্দরী মেয়ে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালে ভাষা হারিয়ে ফেলে তরুণসমাজ।

* টিভি চ্যানেলে নুড্লস দিয়ে পায়েস রান্নার দৃশ্য দেখে ভাষা হারিয়ে ফেলে ভোজনরসিক দর্শক।

* সেমিস্টার ফাইনালের ফল প্রকাশের পর যখন কেউ জিজ্ঞেস করে, ‘তোমার সিজিপিএ কত?’ তখন আমরা লজ্জায় ভাষা হারিয়ে ফেলি।

* যখন হঠাৎ করে শুনি, আগামীকাল ক্লাস টেস্ট, পরশু অ্যাসাইনমেন্ট, তরশু প্রেজেন্টেশন...তখন শিক্ষার্থীরা ভাষা হারিয়ে ফেলে রাগে-ক্রোধে-কষ্টে-অক্ষমতায়।

* পরীক্ষার হলে গিয়ে প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পর যখন দেখা যায়, আগের রাতে গুরুত্ব না দেওয়া প্রশ্নগুলোই এসেছে, আমরা তখন ভাষা হারিয়ে ফেলি।

* টিউশনিতে গিয়ে যখন দেখা যায় ছাত্রের মা বাসায় নেই, তাই নাশতা আসবে না, তখন ভাষা হারিয়ে ফেলা ছাড়া উপায় কী!

* এক ওভারে চার রান দরকার, হাতে আছে দুই উইকেট। সেই ম্যাচটাই যখন হেরে বসি আমরা, তখন ভাষা হারিয়ে ফেলে পুরো জাতি।

* পাশের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে হিন্দি গানের বদলে বাংলা গান শোনা গেলে আমরা ভাষা হারিয়ে ফেলি আবেগে।

* বাংলাদেশের খেলা দেখতে বসলে মা এসে রিমোট চাইলে ভাষা হারিয়ে ফেলি আমরা ক্রিকেটভক্তরা।

* আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ব্যানারে যখন কেউ বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি ব্যবহার করে তখন ভাষা হারিয়ে ফেলি।

হাতের লেখা ভালো করার ৭ কৌশল
                                  

অনলাইন ডেস্ক : প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই সময়ে এসে আমরা কম্পিউটার আর ট্যাবলেট জাতীয় স্মার্ট ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসগুলোর কাছে কৃতজ্ঞ। এর অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটা হল- এখন ‘সুন্দর হাতের লেখা’ নিয়ে কিছুটা হলেও কম চিন্তা করতে হয় আমাদের।
কিন্তু ‘সুন্দর হাতের লেখা’ বা ‘হাতের সুন্দর লেখা’ যাই বলি না কেন এখনও একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ছোটবেলায় আদর্শ লিপিতে আমরা পড়েছিলাম- ‘হস্তাক্ষর সুন্দর হইলে পরীক্ষায় অধিক নম্বর পাওয়া যা’। শুধু তা-ই নয়, সুন্দর হাতের লেখা আপনার ব্যক্তিত্বকে এক ভিন্ন মাত্রা দান করে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নামী-দামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাতের লেখার ক্লাস নেন হাতের লেখা বিশেষজ্ঞ লরা হুপার। বিজনেস ইনসাইডারসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি হাতের লেখা সুন্দর করার জন্য ৭টি পরামর্শ দিয়েছেন।
১. সঠিক উপাদান নির্ধারণ করা : লেখা শুরু করার আগে সেই জিনিসগুলো নির্বাচন করুন যেগুলো ব্যবহার করে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। অনেকেই মনে করে থাকেন সুন্দর হাতের লেখার জন্য ‘ফাউন্টেন পেন’ অত্যাবশকীয়। আসলে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এমন একটি কলম বা পেন্সিল বেছে নিন যা আপনার আঙুলের সঙ্গে সহজে মানিয়ে যাবে এবং লেখার সময় কাগজের ওপর যাকে জোরে চাপ দিতে হবে না। আর কাগজ হিসেবে ‘নোটবুক’ জাতীয় লাইন টানা কাগজ ব্যবহার করা যেতে পারে।
২. হাত এবং কবজি নমনীয় করা : ‘লেখা শুরুর আগে আমি আমার হাত হালকা করে নিই এবং কবজি দুটোকে হালকা মুচড়ে নিই যাতে এগুলো লেখার জন্য নমনীয় হয়’- হুপার বলেন। ‘বিশেষ করে যদি আপনি একটানা বেশ কয়েকদিন ধরে না লিখেন তাহলে অন্যান্য মাংসপেশীর মতো কবজি বা হাতেও একধরনের জড়তা অনুভব করবেন।’
৩. অঙ্গবিন্যাস ঠিক করা : সোজা হয়ে বসুন এবং আপনার অনভ্যস্ত হাতটিকে (যেমন ডানহাতিদের ক্ষেত্রে বাঁ হাত) কাগজ বা খাতাটিকে ধরে রাখার জন্য ব্যবহার করুন। হুপার বলেন, ‘লেখার সময় আমি আমার অনভ্যস্ত হাতটিকে সামঞ্জস্য রক্ষার্থে ব্যবহার করি। এটা আমাকে স্থির থাকতে এবং ডান হাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে সাহায্য করে।’ তবে এজন্য অবশ্যই চেয়ার-টেবিল ব্যবহার করা উত্তম।
৪. কলম ধরা : কলম বা পেন্সিল নিব এর কাছাকাছি ধরে লিখুন, তবে শক্তভাবে ধরে নয়। যদি নিবের কাছাকাছি ধরে লিখতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করেন, তাহলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কারণ কলম বা পেন্সিল ধরার আসলে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। এটা সম্পূর্ণই আপনার হাতের গড়নের ওপর নির্ভর করে।
৫. বাহু এবং কবজির অবস্থান : বেশিরভাগ মানুষই লেখার সময় শুধু আঙুল ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু হস্তাক্ষরবিদরা আঙুল দিয়ে কলম-পেন্সিল আঁকড়ে ধরেন মাত্র এবং লেখার সময় নিজেদের বাহু এবং কবজিকে সমান অবস্থানে রেখে লিখে থাকেন। হুপার বলেন, ‘এটি রপ্ত করার জন্য আপনি একটি কলম ধরে কল্পনায় (বাতাসের ওপরে) বড় বড় অক্ষর লিখতে পারেন।’
৬. তুলনামূলক ধীরগতি অবলম্বন করা : বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে যত দ্রুত পারা যায় লেখা শেষ করার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। হুপার বলেন, ‘লেখা কোনো দৌড় প্রতিযোগিতা নয়। কত দ্রুত তা শেষ করবেন এটাকে গুরুত্ব না দিয়ে, প্রতিটি অক্ষর কিভাবে সুন্দর করবেন সেটাকে গুরুত্ব দিন। একটু ধীরে লিখুন এবং অক্ষরকে তার শ্রেষ্ঠ চেহারায় রূপ দিন।’
অক্ষরকে সুন্দরভাবে রূপ দিতে প্রথমে বড় বড় করে লেখার অভ্যাস করুন। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক লেখার স্টাইল ছোট আকারে হ্রাস করুন।
৭. অনুশীলন, অনুশীলন এবং অনুশীলন : হাতের লেখা ভালো করার জন্য অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। উপরোক্ত নিয়মগুলো মেনে আপনি যত বেশি অনুশীলন করবেন ততই দক্ষতা বাড়বে।

 

 

ইতিহাসের এই দিন: রণদাপ্রসাদ সাহার জন্ম
                                  

বিশ্ব মানচিত্র রিপোর্ট : ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সে সব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভালো, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ।

তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে এই আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিন।

 

১৬ নভেম্বর, ২০১৬, বুধবার। ০২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ। এক নজরে দেখে নিন ইতিহাসের এ দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

ঘটনা
১৮৬৯- পোর্ট সৈয়দে সুয়েজ খাল আনুষ্ঠানিকভাবে নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়।
১৯০৫- স্বদেশি আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় সরকারি বিদ্যাচর্চা বর্জন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আশতোষ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশন’ স্থাপিত হয়।
১৯২৩- অস্বাভাবিক মুদ্রাস্ফীতির পর জার্মানিতে নতুন মুদ্রাব্যবস্থা চালু হয়।
১৯৯৩- জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরে ৩২ দিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটে।

 

জন্ম
১৮৯০- অবিভক্ত ভারতে প্রথম সিরাম ভ্যাকসিন ও পেনিসিলিন প্রস্তুতকারক বিশিষ্ট ভেষজ বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক হেমেন্দ্রনাথ ঘোষের জন্ম।

 

১৮৯৬ - রণদাপ্রসাদ সাহা বাংলাদেশের বিখ্যাত সমাজসেবক এবং দানবীর।
রণদাপ্রসাদ সাহা আর পি সাহা নামেই তিনি সমধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশে হাসপাতাল, একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গরীবদের কল্যাণার্থে ট্রাস্ট গঠন করেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক অপহৃত হন। পরবর্তীতে তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

 

১৯২২- জিন আম্‌ডাল, নরওয়েজীয়- মার্কিন কম্পিউটার আর্কিটেক্ট এবং হাইটেক উদ্যোক্তা।
১৯৩০- চিনুয়া আচেবে, নাইজেরিয়ার প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও আফ্রিকার আধুনিক সাহিত্যের জনক।
১৯৩০- নাইজেরিয়ার ঔপন্যাসিক চিনুয়া আচিবির জন্ম।
১৯৪৫- গবেষক ও লেখক নরেন বিশ্বাসের জন্ম।

 

মৃত্যু
২০১২- সুভাষ দত্ত, বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং অভিনেতা।

 

কার্তিকের হাত ধরে এলো হেমন্ত
                                  

অনলাইন ডেস্ক : পহেলা কার্তিক আজ। সোনাঝড়া রোদ্দুরের পাশাপাশি শীতের ঠান্ডা হাওয়ার বার্তা নিয়ে কার্তিকের হাত ধরে চলে এলো নবান্নের ঋতু হেমন্ত।

ষড়ষতুর দেশ বাংলাদেশে শীত মূলত পৌষ-মাঘ এ দু’মাস হলেও শীতের আগমনী বার্তা শোনা যায় হেমন্ত থেকেই। নগর থেকে দূরে গ্রামে বা মফস্বল শহরে সকাল বা রাতে ঘাসের ডগায় জায়গা করে শিশির বিন্দু। চোখের সামনে ধরা দেয় কুয়াশা। অবশ্য রাজধানী ঢাকায় শীত বা শীতের আগমনী বার্তা দেরিতেই আসে।

হেমন্ত ধান উৎপাদনের ঋতু হওয়ায় একসময় বাংলা বছর শুরু হতো হেমন্ত দিয়ে।

যেহেতু এ ঋতু নবান্নের ঋতু তাই এ সময়টাতে দেশীয় নৃত্য, গান, বাজনাসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়, বসে গ্রাম্য মেলাও।

হেমন্তের আসল সৌন্দর্য আসলে পরিলক্ষিত হয় গ্রাম বাংলাতেই। শিল্পীর গানে এই ঢাকা ‘জাদুর শহর’ আখ্যা পেলেও প্রকৃতির সঙ্গে তার দূরত বাড়ছে বহুদিন ধরেই। আর তাই হেমন্তকে আপন করে নিতে গ্রাম বাংলার চেয়ে দেরিই করে এ শহর।

গ্রাম বাংলায় হেমন্তের রূপ-শোভা কবি নজরুল ভাষায়, ‘অঘ্রাণে মাগো আমন ধানের সুঘ্রাণে ভরে অবনী’।

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক শিকারি তিমি
                                  

একশো পাঁচ বছরের দাদিমা। জে২ নামেও রয়েছে তার পরিচিতি। ধারণা করা হয়, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক শিকারি তিমি। সম্প্রতি এ নারী শিকারি তিমিকে (অর্কা) ওয়াশিংটনের সান জুয়ান দ্বীপের উপকূলে দেখেছেন হায়দার ম্যাকলিনটায়ার নামের এক আলোকচিত্রী।

বয়স্কা শিকারি তিমি একঝাঁক তরুণ বংশধরদের সঙ্গে ঝাঁপাঝাঁপি করছিলো। শক্তিশালী তিমিকে দেখে মনে হয়, এর বয়স সর্বচ্চ ৭০ হবে। নাতি-নাতনিদের সঙ্গে তার এ স্বতঃস্ফূর্ততা ছিলো ভীষণ!

ম্যাকলিনটায়ার বলেন, তাদের সামাজিকীকরণ দেখে আমি খুশি হয়েছি। এরা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি সামাজিক প্রাণী।

এসব তিমিরা যেখানে খাবারের পর্যাপ্ততা পায়, সেখানে সংঘবদ্ধভাবে বসবাস করে ও বংশবৃদ্ধি করে। তবে দক্ষিণে বসবাসকারী অর্কাদের প্রায়ই বিচ্ছিন্ন হতে হয়। কারণ সেখানে খাবারের অপর্যাপ্ততা তাদের প্রতিনিয়ত খাদ্য সন্ধানে ব্যস্ত রাখে।

শিকারি তিমির আরেক নাম অর্কা। দাঁতওয়ালা এ তিমি প্রজাতি মূলত মহাসাগরীয় বৃহত্তর ডলফিন পরিবারের সদস্য। আর্কটিক, অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী অর্কারা মাছ, সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী যেমন- সিল ও ডলফিনভোজী। ছোট ও বড় তিমিরাও এদের আক্রমণের স্বীকার হয়।

এরা সেরা শিকারি। কিন্তু এদের শিকার করতে পারে এমন কোনো শিকারি নেই মহাসাগরে।

ইতিহাসের এই দিন নোবেলজয়ী গ্রন্থ গীতাঞ্জলির প্রথম প্রকাশ
                                  

ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভালো, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ।

তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে পাঠকদের জন্য নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিন’।

১৬ আগস্ট ২০১৬, মঙ্গলবার। ১ ভাদ্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ। এক নজরে দেখে নিন ইতিহাসের এ দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

ঘটনা

১৬৮৭ - চার্নকের সঙ্গে মোগল শাসনকর্তাদের চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ইংরেজরা সূতানুটিতে অস্ত্রাগার ও পোতাশ্রয় নির্মাণের অনুমতি পায়।
১৮৬৭ - কার্ল মার্কস ‘ক্যাপিটাল’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ড লেখা শেষ করেন।
১৯০৫ - লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ আইন কার্যকর করেন।
১৯১০ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেলজয়ী গ্রন্থ গীতাঞ্জলি প্রথম প্রকাশিত হয়।

ব্যক্তি
১৮৪৫ - নোবেলজয়ী পদার্থবিদ গাব্রিয়েল লিপমানের জন্ম।
১৮৮৬ - শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের মৃত্যু।
১৯০৪- নোবেলজয়ী মার্কিন রসায়নবিদ ওয়েনডেল মেরিডিথ স্ট্যানলির জন্ম।
১৯৩০ - ব্রিটিশ কবি টেড হিউজের জন্ম।
১৯৭৩ - নোবেলজয়ী অণুজীববিজ্ঞানী সেলমান ওয়াকসম্যানের মৃত্যু।

নোবেলজয়ী জুলিও কুরির মৃত্যু
                                  

ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভালো, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ।

তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে বাংলানিউজের পাঠকদের জন্য নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিন’।

১৪ আগস্ট ২০১৬, রবিবার। ৩০ শ্রাবণ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ। এক নজরে দেখে নিন ইতিহাসের এ দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

ঘটনা
১৯০০ - ২০০ মার্কিন নৌ-সেনা অবতরণ করে পিকিং দখল করে নিলে বক্সার বিদ্রোহের সমাপ্তি ঘটে।

১৯৪১ - রুজভেল্ট ও চার্চিল আটলান্টিক চার্টার নামক শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
১৯৪৫ - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্তিম পর্যায়ে জাপান রাশিয়ার কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।

১৯৪৭ - ভারত বিভক্তির মাধ্যমে পৃথক পাকিস্তান রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়।

মৃত্যু
১৯৩৫ - নোবেলজয়ী ফরাসি পদার্থবিদ ফ্রেদেরিক জুলিও কুরির মৃত্যু।
১৯৫৬ - জার্মান নাট্যকার ব্রেখটের মৃত্যু।

ইতিহাসের এই দিন কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর জন্ম
                                  

ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভালো, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ।

তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে বাংলানিউজের পাঠকদের জন্য নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিন’।

১৩ আগস্ট ২০১৬, শনিবার। ২৯ শ্রাবণ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ। এক নজরে দেখে নিন ইতিহাসের এ দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

ঘটনা
১৯২৩ - মোস্তাফা কামাল পাশা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
১৯৬১ - পূর্ব জার্মানি মধ্যরাতে বার্লিন প্রাচীর নির্মাণ শুরু করে।
১৯৬৪ - ব্রিটেনে সর্বশেষ ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
১৯৬০ - মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র স্বাধীনতা লাভ করে।

জন্ম
১৮৯৯ - অ্যাংলো-মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক আলফ্রেড হিচকক।

১৯২৬ - কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো।

মৃত্যু
১৯৪৬ - ইংরেজ সাহিত্যিক এইচ জি ওয়েলস।


   Page 1 of 4
     ফিচার
সূর্যগ্রহণের সময় যা করবেন না
.............................................................................................
ভণ্ড পীর বাবাদের ব্যবসা --তসলিমা নাসরিন--
.............................................................................................
অলি বার বার ফিরে আসে
.............................................................................................
শাপলাকে জাতীয় ফুল ঘোষণার দিন
.............................................................................................
দিনে তিনবার সূর্যাস্ত-সূর্যোদয়
.............................................................................................
আকাশ এত মেঘলা
.............................................................................................
বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো
.............................................................................................
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৮১তম জন্মবার্ষিকী আজ
.............................................................................................
কখন আমরা ভাষা হারিয়ে ফেলি
.............................................................................................
হাতের লেখা ভালো করার ৭ কৌশল
.............................................................................................
ইতিহাসের এই দিন: রণদাপ্রসাদ সাহার জন্ম
.............................................................................................
কার্তিকের হাত ধরে এলো হেমন্ত
.............................................................................................
বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক শিকারি তিমি
.............................................................................................
ইতিহাসের এই দিন নোবেলজয়ী গ্রন্থ গীতাঞ্জলির প্রথম প্রকাশ
.............................................................................................
নোবেলজয়ী জুলিও কুরির মৃত্যু
.............................................................................................
ইতিহাসের এই দিন কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর জন্ম
.............................................................................................
নীলে না বাদামি !
.............................................................................................
ইতিহাসের এই দিন চিত্রশিল্পী রামকিঙ্কর বেইজের মৃত্যু
.............................................................................................
বিদেশি গাছের চাহিদা বাড়ছে নার্সারিগুলোতে
.............................................................................................
সমুদ্রতলের ঘণ্টা
.............................................................................................
চটজলদি চুইংগাম তুলুন
.............................................................................................
অতিরিক্ত ভিডিও গেমে আসক্ত শিশুরা পরীক্ষায় ফেল করে
.............................................................................................
আঙুল ফোটাবেন না
.............................................................................................
অল্প বয়সেই ধনী হতে চাইলে...
.............................................................................................
শবেবরাতে হালুয়া রুটি
.............................................................................................
যেভাবে আম পাকাবেন
.............................................................................................
কোন দেশের রিজার্ভ কত
.............................................................................................
ডাবের পানির যতগুণ
.............................................................................................
ফুড অ্যালার্জির অন্যতম কারণ দুগ্ধপান!
.............................................................................................
৫০০ বছরের বেশি সময় নিয়ে তৈরি এ বাড়িগুলো
.............................................................................................
নখ কামড়ানো বন্ধে কিছু টিপস
.............................................................................................
দেশে প্রতি মিনিটে ১২টি মোবাইল ফোনসেট বিক্রি
.............................................................................................
কোন দিকে মাথা রেখে ঘুমোবেন?
.............................................................................................
যেভাবে এলো গ্রামোফোন
.............................................................................................
রবীন্দ্রনাথ এবং তার উত্তরসূরিরা
.............................................................................................
ফিলিপাইনের মুক্ত কারাগার
.............................................................................................
সেনাবাহিনী বিহীন দেশগুলো
.............................................................................................
টিপু সুলতানের সম্পত্তি এখন কোথায়?
.............................................................................................
সহজ উপায় চাপ সামলানোর
.............................................................................................
রবীন্দ্রনাথ সাজে
.............................................................................................
বেগুন ক্যান্সার প্রতিরোধে
.............................................................................................
বার্লিন শহর দখলের কাহিনী
.............................................................................................
মোনালিসার অসমাপ্ত ৫ টি রহস্য
.............................................................................................
সুন্দরবনে আবার আগুন
.............................................................................................
আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তরুণদের আগ্রহী করতে শুরু হলো
.............................................................................................
লিডারশিপ প্রোগ্রাম
.............................................................................................
পরনে ডেনিম শাড়ি
.............................................................................................
বিশ্বের সুখ শান্তির মন্ত্রণালয়
.............................................................................................
ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের টিকিট হাতে..
.............................................................................................
নানা গুণে ওস্বাদে- কদবেল
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো: হাবিবুর রহমান সিরাজ
আইন উপদেষ্টা : অ্যাড. কাজী নজিব উল্লাহ্ হিরু
সম্পাদক ও প্রকাশক : অ্যাডভোকেট মো: রাসেদ উদ্দিন
সহকারি সম্পাদক : বিশ্বজিৎ পাল
যুগ্ন সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান রিপন
নির্বাহী সম্পাদক: মো: সিরাজুল ইসলাম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : সাগর আহমেদ শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক বি এস প্রিন্টিং প্রেস ৫২ / ২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, সূত্রাপুর ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ৯৯ মতিঝিল , করিম চেম্বার ৭ম তলা , রুম নং-৭০২ , ঢাকা থেকে প্রকাশিত ।
মোবাইল: ০১৭২৬-৮৯৬২৮৯, ০১৬৮৪-২৯৪০৮০ Web: www.dailybishowmanchitra.com
Email: news@dailybishowmanchitra.com, rashedcprs@yahoo.com
    2015 @ All Right Reserved By dailybishowmanchitra.com

Developed By: Dynamic Solution IT & Dynamic Scale BD