গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চর পূর্ব লালচামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুন্নাহার বেগম দীর্ঘ ২৭ মাস বা ৮১১ দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার পরও সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও ওই শিক্ষককে সরকারী টাকা আত্মসাৎ করার সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নুর মোহাম্মদ ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মুকুল চন্দ্র রায় এর বিরুদ্ধে। বিনা ছুটিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। মামলায় তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮এরবিধি ৪ (২) উপবিধি (১) (ক) অনুযায়ী তিরস্কার লঘুদন্ডে দন্ডিত করে কতৃপক্ষ। সেই সাথে কর্মস্থলে অনুপস্থিত কাল ০৯/০৭/২০২৩ হতে ২৪/০৯/২০২৫ তারিখ পর্যন্ত বিনা বেতনে অসাধারণ ছুটি মঞ্জুর করার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষণ কুমার দাশ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ জারি করা হয়। সেই আদেশের আলোকে সহকারি শিক্ষক কামরুন্নাহার বেগম কর্মস্থলে যোগদান করেন। সহকারি শিক্ষক কামরুন্নাহার বেগম দুই বছরেরও বেশি সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পর সরকারি কোষাগার থেকে অনুপস্থিত সময়ের ২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকে ডিসেম্বর ৬ মাস এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ১২ মাসসহ মোট ১৮ মাসের বেতন-ভাতার টাকা সোনালী ব্যাংক পিএলসি সুন্দরগঞ্জ শাখা হতে কামরুন্নাহার বেগম তার হিসাব নং- ৫১১৬৯০১০২৮৮৩৫ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে উক্ত টাকা উত্তোলন করেছেন। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নুর মোহাম্মদ ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মুকুল চন্দ্র রায় এর যোগসাজশে সরকারি অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নুর মোহাম্মদ এর কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে মোবাইলের কল কেটে দেন। উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মুকুল চন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অপরদিকে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষণ কুমার দাশ মোবাইল ফোনে বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। চর পূর্ব লালচামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সামউদ্দিন আনছারী বলেন, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পর ২০২৫ সালে ২৪ সেপ্টেম্বর সহকারী শিক্ষক কামরুন্নাহার বেগম পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁকে বিনা বেতনে অসাধারণ ছুটি মঞ্জুর করে যোগদানের সুযোগ দিয়েছেন। তবে অনুপস্থিত থাকা সময়ের বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই। তাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে মাসিক রিটার্ন দাখিল করেছি। একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে যদি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন, তবে সরকারি অর্থের নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা কোথায়, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে সরকারি অর্থ ফেরত প্রদানের ব্যবস্থা করাসহ দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন সচেতন মানুষ।