ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রয়াস প্রতিবন্ধী স্কুলের কল্যাণে ১৫ সেপ্টেম্বর শুভ উদ্বোধন হচ্ছে গ্রামীণ ও কুটির শিল্প মেলা সুন্দরগঞ্জে ২৭ মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপি’কে অধ্যাপক আবদুল হক এর শুভেচ্ছা ‎গলাচিপা বজ্রপাতে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু: শোকে স্তব্ধ কাঁচারিকান্দা গফরগাঁও বাজারে অগ্নিকাণ্ডে তুলার গোডাউন সহ৬দোকান পুড়ে ৩০লাখ টাকা ক্ষতি ক্ষতিগ্রস্ত ভালো কাজের স্বীকৃতি, পুরস্কৃত ডিবির এসআই আবু ইউসুফ চরফ্যাশনে আড়াই লাখ টাকার জাল নোটসহ যুবক আটক সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতনদের ভালোবাসায় সিক্ত: প্রধান সহকারী আবু কাউছারের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ চৌদ্দগ্রামে ইউএনও-ওসির সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শরীয়তপুরে কারা নির্যাতিত নেতা মাহবুব মোর্শেদ টিপুর নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আনন্দ মিছিল

‎গলাচিপা বজ্রপাতে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু: শোকে স্তব্ধ কাঁচারিকান্দা

‎শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‎পটুয়াখালী জেলা গলাচিপা উপজেলা উলানিয়া কাঁচারিকান্দা মাঠে কৃষিকাজ ধান রোপণ করার সময় বজ্রপাতে তপন শিকারী নামে
এক জনের মৃত্যু হয়েছে।..
‎‎গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া কাঁচারিকান্দা গ্রামের বুধবার দুপুরে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাটি স্থানীয় জনজীবনে গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে। নিহতরা হলেন ওই গ্রামের
গলাচিপায় (০২) সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে,গলাচিপার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের পশ্চিম কাচারি কান্দা নামক স্থানে।জমিতে বিজ বপন করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তপন শিকারী নামে এক ব্যাক্তির মৃত্যু হয়।এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে তিনি যখন জমিতে কাজ করছিলেন,তখন গুরি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল।বজ্রপাতে মৃত্যু ব্যাক্তির শরিরের অনেক স্থানের চামরা পুড়ে গেছে।
ঘটনার দিন দুপুরে তারা গলাচিপা উপজেলা কাঁচারিকান্দা পার্শ্ববর্তী মাঠে নিজেদের জমিতে কৃষিকাজে ধান রোপণে ব্যস্ত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার পর হঠাৎ করেই বজ্রপাত শুরু হয় এবং কোনো সতর্ক সংকেত পাওয়ার আগেই বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই এক জনের মৃত্যু ঘটে। গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাঠের খোলা জায়গায় ধান রোপণের কাজ করার সময় প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর খেলায় এক জনের প্রাণহানি ঘটে, যা পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন।

‎এক সহোদরের অকাল মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে গ্রামীণ পর্যায়ে সচেতনতার অভাব এবং খোলা মাঠে কাজ করার সময় সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত সাধারণ কৃষকরা এ ধরনের প্রাণঘাতী পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, তপন শিকারী অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন এবং পরিবারের হাল ধরতে তারা নিয়মিত মাঠে কাজ করতেন। তাদের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ওই পরিবারটি এখন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। মাঠের কাজের সময় বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য কোনো আশ্রয়কেন্দ্র বা আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে, যা তাদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

‎ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে দলীয়ভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে শোকার্ত পরিবারটি অন্তত মানসিকভাবে কিছুটা ভরসা পায়।

‎বজ্রপাত এখন বাংলাদেশে একটি বড় ধরনের দুর্যোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, বিশেষ করে কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই মৃত্যু প্রমাণ করে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট অস্বাভাবিক বজ্রপাত কৃষকদের জীবনযাত্রার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র স্থাপন এবং কৃষকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জোরালো হচ্ছে। প্রকৃতির এই চরম আঘাতের বিপরীতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে গ্রামীণ জনপদে কৃষকদের প্রাণহানি রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতির জন্যও একটি বড় অশনি সংকেত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৬:১৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
Logo
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

‎গলাচিপা বজ্রপাতে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু: শোকে স্তব্ধ কাঁচারিকান্দা

আপডেট সময় : ০৬:১৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‎পটুয়াখালী জেলা গলাচিপা উপজেলা উলানিয়া কাঁচারিকান্দা মাঠে কৃষিকাজ ধান রোপণ করার সময় বজ্রপাতে তপন শিকারী নামে
এক জনের মৃত্যু হয়েছে।..
‎‎গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া কাঁচারিকান্দা গ্রামের বুধবার দুপুরে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাটি স্থানীয় জনজীবনে গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে। নিহতরা হলেন ওই গ্রামের
গলাচিপায় (০২) সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে,গলাচিপার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের পশ্চিম কাচারি কান্দা নামক স্থানে।জমিতে বিজ বপন করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তপন শিকারী নামে এক ব্যাক্তির মৃত্যু হয়।এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে তিনি যখন জমিতে কাজ করছিলেন,তখন গুরি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল।বজ্রপাতে মৃত্যু ব্যাক্তির শরিরের অনেক স্থানের চামরা পুড়ে গেছে।
ঘটনার দিন দুপুরে তারা গলাচিপা উপজেলা কাঁচারিকান্দা পার্শ্ববর্তী মাঠে নিজেদের জমিতে কৃষিকাজে ধান রোপণে ব্যস্ত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার পর হঠাৎ করেই বজ্রপাত শুরু হয় এবং কোনো সতর্ক সংকেত পাওয়ার আগেই বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই এক জনের মৃত্যু ঘটে। গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাঠের খোলা জায়গায় ধান রোপণের কাজ করার সময় প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর খেলায় এক জনের প্রাণহানি ঘটে, যা পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন।

‎এক সহোদরের অকাল মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে গ্রামীণ পর্যায়ে সচেতনতার অভাব এবং খোলা মাঠে কাজ করার সময় সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত সাধারণ কৃষকরা এ ধরনের প্রাণঘাতী পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, তপন শিকারী অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন এবং পরিবারের হাল ধরতে তারা নিয়মিত মাঠে কাজ করতেন। তাদের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ওই পরিবারটি এখন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। মাঠের কাজের সময় বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য কোনো আশ্রয়কেন্দ্র বা আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে, যা তাদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

‎ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে দলীয়ভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে শোকার্ত পরিবারটি অন্তত মানসিকভাবে কিছুটা ভরসা পায়।

‎বজ্রপাত এখন বাংলাদেশে একটি বড় ধরনের দুর্যোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, বিশেষ করে কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই মৃত্যু প্রমাণ করে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট অস্বাভাবিক বজ্রপাত কৃষকদের জীবনযাত্রার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র স্থাপন এবং কৃষকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জোরালো হচ্ছে। প্রকৃতির এই চরম আঘাতের বিপরীতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে গ্রামীণ জনপদে কৃষকদের প্রাণহানি রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতির জন্যও একটি বড় অশনি সংকেত।