লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা ঘরে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করা ত্যাগী বিএনপি নেতা মো. মমিন উল্লাহর পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলনগর উপজেলার ৭ নম্বর হাজিরহাট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মমিন উল্লাহ দীর্ঘ ২০ বছর ধরে রাজনীতির মাঠে সক্রিয়। দলের দুঃসময়ে রাজপথে ত্যাগ স্বীকার করা এই নেতা এতদিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও থাকার অনুপযোগী ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর দিন কাটাচ্ছিলেন। সম্প্রতি গণমাধ্যমে তাঁর এই দুর্দশার চিত্র উঠে এলে বিষয়টি আশরাফ উদ্দিন নিজানের দৃষ্টিগোচর হয়। পরবর্তীতে তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে মমিন উল্লাহর জন্য একটি নতুন পাকা (হাফ-ওয়াল) ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন।
প্রায় এক মাসের নিবিড় নির্মাণকাজ শেষে আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নবনির্মিত ঘরটির চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। আশরাফ উদ্দিন নিজানের পক্ষ থেকে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মমিন উল্লাহর হাতে এই নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন।
চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:
নুরুল হুদা চৌধুরী, সভাপতি, কমলনগর উপজেলা বিএনপি
এম এ দিদার, সাধারণ সম্পাদক, কমলনগর উপজেলা বিএনপি
আহমেদ জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক, রামগতি উপজেলা বিএনপি
মো. সাজু, সভাপতি, কমলনগর উপজেলা ছাত্রদল
এছাড়াও বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতারা বলেন, "রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হচ্ছে জনসেবা। দলের দুঃসময়ে যারা রক্ত ও ঘাম ঝরিয়েছেন, সেই ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নে বিএনপি সর্বদা সচেষ্ট। সহযোদ্ধার বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে সাবেক এমপি মহোদয় যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা তৃণমূল নেতাকর্মীদের রাজপথে আরও অনুপ্রাণিত করবে।"
নতুন পাকা ঘরের চাবি হাতে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন মমিন উল্লাহ। গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "রাজনীতি করতে গিয়ে একপ্রকার নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলাম, থাকার মতো একটি ভালো মাথার গোঁজার ঠাঁই ছিল না। আজ আমার এই কঠিন সময়ে দল ও সাবেক এমপি সাহেব যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা আমি কোনোদিন ভুলব না। আমি তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।"