পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ফরিদপুরের সালথায় স্ত্রী মুন্নি বেগম ও তার প্রেমিক মাহাবুব মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের (বিশেষ পারিবারিক আদালত) বিচারক অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত নারী আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও তার প্রেমিক মাহাবুব মোল্লা পলাতক ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—সালথা উপজেলার পুরুরা সরদারপাড়া গ্রামের নিহত নুরুল ইসলামের স্ত্রী মোসা. মাহমুদা আক্তার ওরফে মুন্নি বেগম (২৪) এবং একই গ্রামের মো. কাশেম মোল্যার ছেলে মাহাবুব মোল্লা।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, নিহত নুরুল ইসলাম সালথা বাজারের একজন মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন। তার চতুর্থ স্ত্রী মুন্নি বেগম পাশের বাড়ির চাচাতো দেবর মাহাবুবের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। হত্যার এক বছর আগে তারা এক দফায় পালিয়েও গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে পরকীয়া ছাড়ার শর্তে স্ত্রী ঘরে ফিরলে নুরুল ইসলাম তাকে মেনে নেন।
এরপর ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ রাতে কৌশলে হরলিক্সের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে খাইয়ে দেন মুন্নি। ওই রাতেই পরকীয়া প্রেমিকের পরামর্শ ও সহায়তায় নুরুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা মান্নান মোল্লা বাদী হয়ে সালথা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পরবর্তীতে তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ মুন্নি ও মাহাবুবের একটি যৌথ ছবি উদ্ধার করে। এর সূত্র ধরে মুন্নি বেগমকে আটক করা হলে তিনি পুলিশের কাছে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আজিজুর রহমান বিকু জানান, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত এই রায় দেন। রায় ঘোষণার পর নারী আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক মাহাবুব মোল্লার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।