পাবনার ফরিদপুরে বারো বছর বয়সী শিশু সাকিব হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় হত্যার পর নিয়ে যাওয়া অটোভ্যান উদ্ধারের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেল পৌনে ৫টার দিকে উপজেলার ডেমরা ইউনিয়নের মাজাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কবরস্থানের মধ্যবর্তী এলাকায় জব্বার মোল্লার জমি সংলগ্ন বড়াল নদীর তীরে পানির মধ্যে একটি শিশুর মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে শিশুটির মাথায় গুরুতর আঘাত এবং মাথার খুলি ভাঙার চিহ্ন পাওয়া যায়। এছাড়া নাক ও মুখে রক্তের চিহ্নও ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।নিহত সাকিব পাবনার ফরিদপুর উপজেলার পুঙ্গলী ইউনিয়নের রতনপুর এলাকার হারিজ উদ্দিনের ছেলে। তাকে হত্যার পর নদীতে ফেলে দিয়ে তার অটোভ্যান নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পরিবারের পক্ষ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির নম্বর-০৮।মামলা দায়েরের পর ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুরুল হাসান মাসুদের নির্দেশনায় পুলিশ তদন্তে নামে। পুলিশের ধারাবাহিক ও চৌকস তদন্তে সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার কালিয়াকৈড় আকন্দপাড়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী এবং বর্তমানে দিঘলীয়া এলাকার মোস্তফার জামাই অর্থাৎ শ্বশুরবাড়িতে বসবাসকারী শাহ-আলমের ছেলে ইমন (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।এছাড়া ছিনতাই হয়ে যাওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধারের ঘটনায় ধানুয়াঘাটা এলাকার মৃত রিকাত প্রামাণিকের ছেলে ও সাবেক ইউপি সদস্য মোক্তার হোসেনকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শেষে তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।স্থানীয়দের মতে, শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর দ্রুততম সময়ে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ফরিদপুর থানা পুলিশের তৎপরতা প্রশংসনীয়। বিশেষ করে অফিসার ইনচার্জ মনজুরুল হাসান মাসুদের দক্ষ নেতৃত্ব, তাৎক্ষণিক নির্দেশনা ও তদন্ত তদারকিতে পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলাটির রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।