সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে তাদের দেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার ও নিশ্চিত করেছে। ২০২০ সালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর এটাই তাদের প্রথম অফিসিয়াল স্বীকৃতি। তবে এই সরকারি ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধের বিষয়ে কোনো উল্লেখ রাখা হয়নি।সোমবার শেষ রাতের দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম-এ প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে সরকারি সংবাদমাধ্যমে এই বৈঠকের কোনো অফিসিয়াল ছবি প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া, অধিকৃত ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া, ইরান, ইয়েমেন এবং সুদানজুড়ে ইসরায়েল ও আমিরাতের জড়িত থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে পুরো বিবৃতিতে একটি শব্দও উচ্চারণ করা হয়নি। ইসরায়েলি গণমাধ্যম হারেৎজ-কে আমিরাতি সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, শেখ বিন জায়েদ নিজেই বিমান বন্দরে উপস্থিত হয়ে নেতানিয়াহুকে অভ্যর্থনা জানান।এদিকে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আল-বায়ান এবং আল-ইত্তিহাদ প্রথম পাতায় খবরটি ছেপেছে, তবে সেগুলো ছিল মূলত সরকারি বিবৃতিরই পুনরাবৃত্তি।এর আগে গত মে মাসে, ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের উত্তেজনার চরম মুহূর্তে নেতানিয়াহুর গোপন সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের তথ্য প্রকাশ করে নেতানিয়াহুর কার্যালয়। সেসময় বিষয়টি নিয়ে বেশ অসন্তোষ প্রকাশ করে আমিরাত। ওই সফরের পর আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট জানিয়েছিল, ইসরায়েলের সাথে তাদের সম্পর্ক পুরোপুরি প্রকাশ্য এবং এটি কোনো অনানুষ্ঠানিক বা অস্পষ্ট ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি। সেসময় তারা আরও বলেছিল যে, কোনো গোপন সফর বা অপ্রকাশিত চুক্তির দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, যতক্ষণ না তা আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।সম্প্রতি ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ-এর এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। যেখানে দাবি করা হয় যে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের নজিরবিহীন হামলার প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে ফোন কলে নেতানিয়াহুকে আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন বিন জায়েদ। প্রায় ৪৫ মিনিটের সেই ফোনালাপে আমিরাতি প্রেসিডেন্ট হামাসের একটি বড় ধরণের অপারেশনের বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।বর্তমান সময়ে নেতানিয়াহু ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালাচ্ছেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আদালতে মারাত্মক দুর্নীতির অভিযোগের বিচার চলছে, যেখানে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে কারাদণ্ডও ভোগ করতে হতে পারে। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে অনুষ্ঠিত রবিবারের এই বৈঠকে নেতানিয়াহু আমিরাতি প্রেসিডেন্টের কাছে ওই সতর্কবার্তার সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে অস্বীকার করার এবং তাকে নৈতিক সমর্থন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও এই সফরের কথা নিশ্চিত করে এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ বিন জায়েদের আমন্ত্রণে নেতানিয়াহু এবং তার স্ত্রী সারা রবিবার আবুধাবি ভ্রমণ করেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা করা এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল। এই উচ্চপর্যায়ের সফরে নেতানিয়াহুর সাথে ছিলেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান, গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান, সামরিক সচিব এবং সামরিক পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা।ইসরায়েলি গণমাধ্যমের সূত্রে আরও জানা গেছে, ওই বৈঠকে সৌদি আরব, জর্ডান, লিবিয়া, কাতার এবং মরক্কোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। অন্য একটি গণমাধ্যম ‘ওয়াইনেট’ জানিয়েছে, লোহিত সাগর অঞ্চলে হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার বিরুদ্ধে সৌদি আরব ইসরায়েলের সহায়তা চাওয়ার পর মোসাদ প্রধান রোমান গফম্যান নিজেই উদ্যোগ নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করেন।
সূত্র: মিডলইস্ট আই