টাইগারদের টার্গেট এখন ম্যাকেই টেস্ট

ডারউইন টেস্ট জয়ের পর আনন্দের ফল্গুধারা বয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট শিবিরে। ভীষণ ফুরফুরে মেজাজে টাইগার ক্রিকেটাররা। যদিও ডারউইন থেকে পর্যটন নগরী ম্যাকেইতে পৌঁছাতে দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টা লেগেছে নাজমুলদের। তারপরও ৯ উইকেটের মহাকাব্যিক জয়ে ভ্রমণক্লান্তি ভুলে গেছেন ক্রিকেটাররা। কুইন্সল্যান্ডের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারিনার ৭৫ হাজার নাগরিকের ছোট্ট নগরী ম্যাকেইতে পৌঁছে নিজেদের প্রস্তুত করে নিচ্ছেন নাজমুলরা। যদিও ব্যাট ও বলের কোনো অনুশীলন ছিল না গতকাল। ছিল শারীরিক কন্ডিশনের অনুশীলন। জিমে ঘণ্টার ওপর সময় কাটিয়েছেন ক্রিকেটাররা। এখন প্রস্তুত হচ্ছেন ইতিহাস গড়ার। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ডারউইনে টেস্ট খেলতে নেমে ইতিহাস গড়েছেন টাইগাররা। ঐতিহাসিক জয়ের পর শারীরিক অভিব্যক্তিতে এখন অনেক বেশি ইতিবাচক ক্রিকেটাররা। গতকাল জিম করার পর দীর্ঘকায় বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম জানান ক্রিকেটারের সবার লক্ষ্য এখন ম্যাকেই টেস্টের দিকে, ‘ডারউইন থেকে ম্যাকেই ভ্রমণ বেশ ভালো হয়েছে। যদিও ট্রানজিটে একটু সময় লেগেছে। তারপরও দলের সবাই সুস্থ আছেন। আমরা এখন প্রস্তুতি নিচ্ছি পরের টেস্টের জন্য। ডারউইনের তুলনায় ম্যাকেইতে আবহাওয়া একটু ঠান্ডা।’ ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করেননি বলে ডারউইন টেস্ট খেলেননি শরিফুল। ২২ আগস্ট শুরু হচ্ছে ম্যাকেই টেস্ট।
শরিফুল যদি ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করেন তাহলে কি খেলবেন ম্যাকেই টেস্টে? তার জায়গায় ইবাদত হোসেন ভালো বোলিং করেছেন। ম্যাকেইয়ের উইকেট যদি অনেক বেশি প্রাণবন্ত, হার্ড ও বাউন্সি হয়, তাহলে হয়তো ফিরতে পারেন শরিফুল। ফেরার সম্ভাবনাই বেশি। শরিফুল একাদশে ফিরেন আর নাই ফিরেন, ডারউইনের চেয়ে ম্যাকেইতে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে তেমনই বলেছেন সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান, ‘ডারউইনে হারের পর তেতে আছে অস্ট্রেলিয়া। তারা ভাবতেই পারেনি বাংলাদেশের কাছে হেরে যাবে। এখন ম্যাকেইতেই তাদের শক্তির শতভাগেরও ওপর প্রদর্শন করবে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ও বোলিংয়ের বিপক্ষে কঠিন লড়াই করতে হবে টাইগারদের। আমার ধারণা ম্যাকেইর উইকেট অনেক বেশি প্রাণবন্ত হবে। পেসারদের জন্য অনেক সহায়ক হবে। আমাদের ব্যাটারদের জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে। প্রতিপক্ষ ছাড়া কন্ডিশনের সঙ্গেও লড়াই করতে হবে ক্রিকেটারদের।’
ম্যাকেতে পৌঁছে জিমে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন টাইগাররাডারউইনে খেলা হয়েছে ‘ড্রপ ইন’ উইকেটে। অন্যান্য সাধারণ উইকেটের তুলনায় বাউন্স একটু বেশি। কিন্তু খেলার অনুপযোগী নয়। বরং স্ট্রোক খেলা যায় সাহসিকতার সঙ্গে ব্যাটিং করলে। ডারউইনে ২৩ বছর টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। নাজমুল বাহিনীর সবাই এই প্রথম টেস্ট খেলেছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। প্রথমবার খেলতে নেমেই বাজিমাত করেছেন। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউড ত্রয়ী পেসারের গতি, বাউন্স ও সুইং এবং নাথান লিওনের স্পিন সামলে বাঁ-হাতি ওপেনার তানজিদ তামিম ১০১, অধিনায়ক নাজমুল ৮৪ রান ও মেহেদি হাসান মিরাজের ৬৫ রানে ভর করে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪২৬। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলগত স্কোর। বাংলাদেশ এই স্কোরটি করেছে পাহাড়সমান চাপ সামলে। মাসখানেক আগে জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস হার ও ডারউইনে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে আউটের ধাক্কা সামলে যেভাবে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন টাইগার ব্যাটাররা, সেই ব্যাটিং-ই দলকে আত্মবিশ্বাসী করেছে বলেন আকরাম, ‘ডারউইনে দারুণ কামব্যাক করেছে বাংলাদেশ। মাসখানেক আগে জিম্বাবুয়েতে ইনিংস হার এবং প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল। সেই চাপ সামাল দিয়ে যেভাবে ব্যাটিং করেছে ডারউইনে টেস্টের প্রথম ইনিংসে, অসাধারণ বলব সেটাকে। ক্রিকেটারদের মনে রাখতে হবে ডারউইন অধ্যায় শেষ। এখন ম্যাকেই টেস্ট। যেখানে সাফল্য পেতে ক্রিকেটারদের আরও ধারাবাহিক হতে হবে। আরও বেশি দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে হবে। ডারউইনে যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছে, ম্যাকেইতে সেটা ধরে রাখা অনেক কঠিন হবে। কেননা অস্ট্রেলিয়া অলআউট ক্রিকেট খেলবে।’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের তৃতীয় টেস্টে জিতেছে বাংলাদেশ। তাসমান সাগরপাড়ের দেশটিতে বাংলাদেশের আগে টেস্ট জিতেছে ইংল্যান্ড, দ্বিতীয় টেস্টে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে তৃতীয় টেস্টে। ম্যাকেইতে বাংলাদেশকে খেলতে হবে একটু শীতল আবহাওয়ায়। ডারউইনের তুলনায় ম্যাকেইতে ঠান্ডা বেশি। সমুদ্রসৈকত থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে বলে শহরটিতে বাতাস একটু বেশি। বাতাস থাকলে পেসাররা সুইং পান বেশি। ফলে নাজমুল, লিটন দাস, তানজিদ, মুশফিকুর রহিমদের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার পাশাপাশি আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

















