কিমের হাতে ভয়ংকর পরমাণু ভাণ্ডার, উদ্বেগ জানিয়ে যা বললেন ট্রাম্প

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে চলতি বছরেই বৈঠক করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্ক আবারও সক্রিয় করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, কিমের সঙ্গে ‘ভালো সম্পর্ক রাখা’ গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় তিনি দাবি করেন, উত্তর কোরিয়ার হাতে বর্তমানে ৫৭টি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।
উদ্বেগ জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫৭টি শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র থাকা এমন একটি বিষয়, যা কখনোই ঘটতে দেওয়া উচিত ছিল না। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে দিতেন না।
তবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র থাকার বিষয়টি স্বীকার করেও কিমের সঙ্গে আলোচনায় বসার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কিমের সঙ্গে তার খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কিমের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে অবশ্য বিস্তারিত কোনো সময়সূচি জানাননি ট্রাম্প। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরে চীনের শেনঝেনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে যাওয়ার সময় কিমের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ভিন্ন হিসাব
ট্রাম্পের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য দেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক। দেশটির আইনপ্রণেতাদের তিনি জানান, পিয়ংইয়ংয়ের কাছে আনুমানিক ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে।
আন বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া সাধারণত এই সংখ্যা ৮০ থেকে ১২০টির মধ্যে বলে অনুমান করে। তবে উত্তর কোরিয়ার অস্ত্রভাণ্ডারের সঠিক সংখ্যা জানাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরোধিতা করছে বলেও জানান তিনি। ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আন বলেন, তিনি তা মনে করেন না।
এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সূত্র : এএফপি।















