রাতে কোরআন তিলাওয়াতের ফজিলত

দিনের পাশাপাশি রাতের কিছু সময় আমলের জন্য নির্ধারণ করা মুমিনের কর্তব্য। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং রাতের একাংশেও তুমি তাঁর তাসবিহ পাঠ কোরো এবং নামাজের পরও।’ (সুরা : ক্বফ, আয়াত : ৪০)
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘রাতের একাংশে তাঁর উদ্দেশে সিজদা কোরো এবং দীর্ঘ রাত ধরে তাঁর তাসবিহ পাঠ কোরো।’ (সুরা : দাহর, আয়াত : ২৬)
রাসুল (সা.) রাতের ইবাদতের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বেলাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা অবশ্যই রাতে ইবাদত করবে। কেননা তা তোমাদের পূর্ববর্তী সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের সাধারণ আমল।
রাতের ইবাদত আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্য অর্জনের উপায়, পাপকর্মের প্রতিবন্ধক, গুনাহগুলোর কাফফারা এবং দেহের রোগ আরোগ্যকারী। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৪৯)
রাতের ইবাদত শুধু নামাজ ও জিকিরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং কিছু সময় কোরআন পাঠে নিমগ্ন হওয়া জরুরি। আর রাতের বেলা এই আমলের মর্যাদা আরো বৃদ্ধি পায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে বস্ত্রাবৃত! রাতে নামাজে দাঁড়াও, কিছু অংশ ছাড়া, রাতের অর্ধেক কিংবা তার চেয়ে কিছুটা কম অথবা তার চেয়ে বাড়াও আর ধীরে ধীরে সুস্পষ্টভাবে কোরআন পাঠ করো।’ (সুরা : মুজ্জাম্মিল, আয়াত : ১-৪)
রাতে কোরআন তিলাওয়াতকারীর জন্য কিয়ামতের দিন সুপারিশ করা হবে। আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন রোজা ও কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে আমার প্রতিপালক, আমি তাকে পানাহার ও যৌনকর্ম থেকে বিরত রেখেছিলাম। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করো। কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বিরত রেখেছিলাম। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করো। নবী (সা.) বলেন, অতএব তাদের উভয়ের সুপারিশ গৃহীত হবে।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৬৬২৬)
আল্লাহর কাছে রাতে তিলাওয়াতকারীর উঁচু মর্যাদার কারণে ঈর্ষা করা হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দুই ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে ঈর্ষা করা যায় না। এক. ওই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাআলা কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন এবং সে তা দিন-রাত তিলাওয়াত করে। তার তিলাওয়াত শুনে প্রতিবেশীরা তাকে বলে, হায়, আমাদেরকে যদি এমন জ্ঞান দেওয়া হতো, যেভাবে অমুককে দেওয়া হয়েছে, তাহলে আমিও তার মতো আমল করতাম। দুই. ওই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং সে ওই সম্পদ সত্য ও ন্যায়ের পথে ব্যয় করে। এ অবস্থা দেখে অন্য ব্যক্তি বলল, আহ, আমাকে যদি অমুক ব্যক্তির মতো সম্পদ দেওয়া হতো, তাহলে সে যেভাবে ব্যয় করছে, আমিও সেভাবে ব্যয় করতাম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৭৩৮)
কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে উদাসীনদের তালিকা থেকে মুক্তি মেলে। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি গুরুত্বসহ ফরজ নামাজ আদায় করবে সে উদাসীনদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে না। যে ব্যক্তি রাতে কোরআনের ১০০ আয়াত তিলাওয়াত করবে তার নাম উদাসীনদের মধ্যে লেখা হবে না। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৩৯৮)
অন্য হাদিসে এসেছে, এক যুদ্ধের সফরে সাহাবিরা পথে বিশ্রামের জন্য তাঁবু ফেলেন। কাফেলায় কিছু আশআরি সাহাবিও ছিলেন। রাতে তাঁরা নিজ তাঁবুতে কোরআন তিলাওয়াত করেন। পরদিন রাসুল (সা.) সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ‘রাতের তিলাওয়াত শুনে আমি আশআরি ভাইদের আওয়াজ চিনতে পেরেছি। দিনের বেলা তাদের তাঁবু কোথায় তা না জানলেও রাতে তাদের তিলাওয়াতের সুমধুর আওয়াজ শুনে তা জানতে পেরেছি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪২৩২)
উসমান (রা.)-কে শহীদ করার জন্য কিছু পাপী লোক যখন তাঁর বাড়িতে ঢুকল, তখন তাঁর স্ত্রী নায়েলা বিনতে ফারাফেসা তাদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা তাঁর মতো একজন পুণ্যবান ও পবিত্র মানুষকে হত্যা করতে এসেছ? অথচ তিনি তো এক রাকাতেই সারা রাত কাটিয়ে দিতেন এবং তাতে পুরো কোরআন সমাপ্ত করতেন। (ফাজায়েলে কোরআন : ১/৩৫১)
মহান আল্লাহ সবাইকে আমল করার তাওফিক দিন। আমিন।





















