ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পরকীয়ার কাঁটা সরাতে স্বামীকে হত্যা: ফরিদপুরে স্ত্রী ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন ফরিদপুরের মধুখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত-আহত ১৫ রামপালে কলেজ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান হলেন অধ্যাক্ষ আ: হান্নান মোল্লা অসহায় ত্যাগী বিএনপি নেতা মমিন উল্লাহকে নতুন ঘর উপহার দিলেন হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বোয়ালমারী জর্জ একাডেমির পরিবর্তে দানবীর ছবদু মিয়া একাডেমির প্রস্তাব জনমনে সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতনদের ভালোবাসায় সিক্ত: প্রধান সহকারী আবু কাউছারের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা প্রয়াস প্রতিবন্ধী স্কুলের কল্যাণে ১৫ সেপ্টেম্বর শুভ উদ্বোধন হচ্ছে গ্রামীণ ও কুটির শিল্প মেলা সুন্দরগঞ্জে ২৭ মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপি’কে অধ্যাপক আবদুল হক এর শুভেচ্ছা ‎গলাচিপা বজ্রপাতে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু: শোকে স্তব্ধ কাঁচারিকান্দা

পরকীয়ার কাঁটা সরাতে স্বামীকে হত্যা: ফরিদপুরে স্ত্রী ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ফরিদপুরের সালথায় স্ত্রী মুন্নি বেগম ও তার প্রেমিক মাহাবুব মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের (বিশেষ পারিবারিক আদালত) বিচারক অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত নারী আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও তার প্রেমিক মাহাবুব মোল্লা পলাতক ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—সালথা উপজেলার পুরুরা সরদারপাড়া গ্রামের নিহত নুরুল ইসলামের স্ত্রী মোসা. মাহমুদা আক্তার ওরফে মুন্নি বেগম (২৪) এবং একই গ্রামের মো. কাশেম মোল্যার ছেলে মাহাবুব মোল্লা।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, নিহত নুরুল ইসলাম সালথা বাজারের একজন মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন। তার চতুর্থ স্ত্রী মুন্নি বেগম পাশের বাড়ির চাচাতো দেবর মাহাবুবের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। হত্যার এক বছর আগে তারা এক দফায় পালিয়েও গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে পরকীয়া ছাড়ার শর্তে স্ত্রী ঘরে ফিরলে নুরুল ইসলাম তাকে মেনে নেন।

এরপর ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ রাতে কৌশলে হরলিক্সের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে খাইয়ে দেন মুন্নি। ওই রাতেই পরকীয়া প্রেমিকের পরামর্শ ও সহায়তায় নুরুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা মান্নান মোল্লা বাদী হয়ে সালথা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পরবর্তীতে তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ মুন্নি ও মাহাবুবের একটি যৌথ ছবি উদ্ধার করে। এর সূত্র ধরে মুন্নি বেগমকে আটক করা হলে তিনি পুলিশের কাছে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আজিজুর রহমান বিকু জানান, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত এই রায় দেন। রায় ঘোষণার পর নারী আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক মাহাবুব মোল্লার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
Logo
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

পরকীয়ার কাঁটা সরাতে স্বামীকে হত্যা: ফরিদপুরে স্ত্রী ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ০৫:৪৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ফরিদপুরের সালথায় স্ত্রী মুন্নি বেগম ও তার প্রেমিক মাহাবুব মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের (বিশেষ পারিবারিক আদালত) বিচারক অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত নারী আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও তার প্রেমিক মাহাবুব মোল্লা পলাতক ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—সালথা উপজেলার পুরুরা সরদারপাড়া গ্রামের নিহত নুরুল ইসলামের স্ত্রী মোসা. মাহমুদা আক্তার ওরফে মুন্নি বেগম (২৪) এবং একই গ্রামের মো. কাশেম মোল্যার ছেলে মাহাবুব মোল্লা।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, নিহত নুরুল ইসলাম সালথা বাজারের একজন মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন। তার চতুর্থ স্ত্রী মুন্নি বেগম পাশের বাড়ির চাচাতো দেবর মাহাবুবের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। হত্যার এক বছর আগে তারা এক দফায় পালিয়েও গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে পরকীয়া ছাড়ার শর্তে স্ত্রী ঘরে ফিরলে নুরুল ইসলাম তাকে মেনে নেন।

এরপর ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ রাতে কৌশলে হরলিক্সের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে খাইয়ে দেন মুন্নি। ওই রাতেই পরকীয়া প্রেমিকের পরামর্শ ও সহায়তায় নুরুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা মান্নান মোল্লা বাদী হয়ে সালথা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পরবর্তীতে তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ মুন্নি ও মাহাবুবের একটি যৌথ ছবি উদ্ধার করে। এর সূত্র ধরে মুন্নি বেগমকে আটক করা হলে তিনি পুলিশের কাছে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আজিজুর রহমান বিকু জানান, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত এই রায় দেন। রায় ঘোষণার পর নারী আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক মাহাবুব মোল্লার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।