ঢাকা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চৌদ্দগ্রামে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা কালকিনিতে ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী আলোচনা সভা ও বিক্ষোভ মিছিল ফরিদপুরের মধুখালীতে তিন বস্তায় ছয় টুকরো অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার হুতিদের হামলা বন্ধের আহ্বান, সৌদির পাশে থাকার ঘোষণা ব্রিটেনের ফরিদপুরের সালথায় বাঁশের সাঁকো দেওয়া ঘিরে দুই পক্ষে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১০ ফরিদপুরে এসিড ফ্যাক্টরির দূষণে ফসলহানি: কৃষকদের রক্ষায় সরজমিনে সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ওমানের সঙ্গে সমঝোতা সই হলেই কী হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে ইরান? মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকসকে এগিয়ে আসার আহ্বান শি জিনপিংয়ের পুতিনের সঙ্গে বৈঠক চান জেলেনস্কি, শর্ত দিল মস্কো

ফরিদপুরে তিন যুগের পুরোনো সেতু এখন মরণফাঁদ, ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

ফরিদপুর প্রতিনিধি
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী বাজার সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী সেতুটি এখন স্থানীয়দের জন্য এক আতঙ্কের নাম। ১৯৮৮ সালের বন্যার পর নির্মিত প্রায় ৩ যুগের পুরোনো এ সেতুটি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ ভাঙাচোরা ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কায় চরম ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে হাজারো মানুষ ও হালকা যানবাহন।

সরজমিনে দেখা যায়, সেতুর রেলিংয়ের বেশিরভাগ অংশই ভেঙে পড়ে গেছে। বাজারের দিকের অংশে কোনোমতে বাঁশের কঞ্চি ও গাছের ডালপালা দিয়ে সাময়িক সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পিলারের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। মাঝের জোড়া পিলার ডেবে গিয়ে সেতুজুড়ে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি পাটাতনের কিছু অংশের ঢালাই খসে নিচে পড়ে যাওয়ায় সেখানে কাঠ বিছিয়ে রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত সরু হওয়ায় সেতুটি দিয়ে একটি ভ্যান পার হওয়ার সময় অপর পাশের যানবাহনকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সামান্য কোনো গাড়ি উঠলেই পুরো সেতু থরথর করে কেঁপে ওঠে। তাছাড়া সেতুর গোড়ায় বাজারের বর্জ্য ফেলায় পরিবেশ ও কাঠামোগত রূপ আরও আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছে।

সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল, মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেনের শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। এছাড়া কাগদী বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, মসজিদ ও মন্দিরে যাতায়াতে এটিই দুই পারের মানুষের প্রধান ভরসা। বিশেষ করে হাটের দিনে কৃষিপণ্য পরিবহনে কৃষক ও চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, “প্রায় এক দশক ধরে সেতুটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত আতঙ্ক নিয়ে এটি পার হন। নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের দুর্ভোগ কাটছে না।”

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিয়া জানান, “কাগদী বাজার সংলগ্ন সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের অনুমোদন পেলেই দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের জোর দাবি, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামোটি অপসারণ করে নতুন সেতু নির্মাণের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
Logo
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

ফরিদপুরে তিন যুগের পুরোনো সেতু এখন মরণফাঁদ, ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

আপডেট সময় : ০৪:০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী বাজার সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী সেতুটি এখন স্থানীয়দের জন্য এক আতঙ্কের নাম। ১৯৮৮ সালের বন্যার পর নির্মিত প্রায় ৩ যুগের পুরোনো এ সেতুটি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ ভাঙাচোরা ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কায় চরম ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে হাজারো মানুষ ও হালকা যানবাহন।

সরজমিনে দেখা যায়, সেতুর রেলিংয়ের বেশিরভাগ অংশই ভেঙে পড়ে গেছে। বাজারের দিকের অংশে কোনোমতে বাঁশের কঞ্চি ও গাছের ডালপালা দিয়ে সাময়িক সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পিলারের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। মাঝের জোড়া পিলার ডেবে গিয়ে সেতুজুড়ে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি পাটাতনের কিছু অংশের ঢালাই খসে নিচে পড়ে যাওয়ায় সেখানে কাঠ বিছিয়ে রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত সরু হওয়ায় সেতুটি দিয়ে একটি ভ্যান পার হওয়ার সময় অপর পাশের যানবাহনকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সামান্য কোনো গাড়ি উঠলেই পুরো সেতু থরথর করে কেঁপে ওঠে। তাছাড়া সেতুর গোড়ায় বাজারের বর্জ্য ফেলায় পরিবেশ ও কাঠামোগত রূপ আরও আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছে।

সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল, মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেনের শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। এছাড়া কাগদী বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, মসজিদ ও মন্দিরে যাতায়াতে এটিই দুই পারের মানুষের প্রধান ভরসা। বিশেষ করে হাটের দিনে কৃষিপণ্য পরিবহনে কৃষক ও চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, “প্রায় এক দশক ধরে সেতুটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত আতঙ্ক নিয়ে এটি পার হন। নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের দুর্ভোগ কাটছে না।”

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিয়া জানান, “কাগদী বাজার সংলগ্ন সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের অনুমোদন পেলেই দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের জোর দাবি, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামোটি অপসারণ করে নতুন সেতু নির্মাণের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।