ঢাকা ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রংপুরে বাড়ির ভেতর থেকে সাবেক স্কুল শিক্ষক, স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার রমিজ উদ্দিন স্মৃতি স্মরণে এসএসসি ২০২৬ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হরমুজকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ দেখিয়ে ফের মানচিত্র প্রকাশ ট্রাম্পের বঙ্গোপসাগরে জাহাজডুবি: দুই নাবিক উদ্ধার হলেও নিখোঁজ এখনও ২২ প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ঘিরে হাসিনাকে নিয়ে ঢাকা- দিল্লির দরকষাকষি! জাজিরায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা তুরস্কের ব্লু মসজিদের আদলে নির্মিত আলী শিকদার জামে মসজিদ, দক্ষিণ চট্টগ্রামে সবার নজর কাড়ছে মোংলায় বৈধ কাগজপত্র ও দখল থাকার পরও একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ মা-ছেলে হত্যায় বিচার চান শিবচরবাসী, ফারুকের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন যাদুকাটার বৌলাই নদীতে হাউসবোট থেকে এক শিশু নিখোঁজ

তুরস্কের ব্লু মসজিদের আদলে নির্মিত আলী শিকদার জামে মসজিদ, দক্ষিণ চট্টগ্রামে সবার নজর কাড়ছে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ফতেহনগর গ্রামের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা মোহাম্মদ আলী শিকদার জামে মসজিদ কমপ্লেক্স শুধু একটি উপাসনালয় নয়; এটি প্রায় দুই শতাব্দীর ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য, শিক্ষা ও সমাজসেবার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই মসজিদ স্থানীয় মুসলিম সমাজের ইবাদত, কুরআন শিক্ষা এবং সামাজিক সম্প্রীতির কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
১৮০০ থেকে ১৮৪০ সালের মধ্যে ফতেহনগর গ্রামের গোড়াপত্তন করেন সমাজপতি মোহাম্মদ আলী শিকদার। তাঁর প্রতিষ্ঠিত জনপদে পরবর্তীতে শিকদার পরিবারের অন্যতম কৃতী সন্তান ওবায়েদ উল্লাহ একটি জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। সেই ছোট্ট মসজিদই আজকের বিশাল কমপ্লেক্সে রূপ নিয়েছে।
উন্নয়নের ধারাবাহিক যাত্রা
১৯৪৩–১৯৪৬: জোয়ারা বোর্ডের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নজিরউদ্দিন মুসল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদের পাশে একটি পুকুর খনন করেন, যা দীর্ঘদিন ওজু ও দৈনন্দিন প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়েছে।

১৯৬০–১৯৭০: দেশবরেণ্য আইনজ্ঞ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অ্যাডভোকেট বদিউল আলম মসজিদটিকে আংশিক পাকা নির্মাণ করে নতুন রূপ দেন।
১৯৭২–১৯৮০: স্বাধীনতার পর তাঁর উদ্যোগেই মসজিদ সম্প্রসারণ, মোজাইক মেঝে স্থাপন এবং পাকা দিঘা নির্মাণ সম্পন্ন হয়। এতে মুসল্লিদের ধারণক্ষমতা ও সৌন্দর্য উভয়ই বৃদ্ধি পায়।
আধুনিক কমপ্লেক্সে রূপান্তর
২০১৪–২০২০ সময়ে হিজ এক্সেলেন্সি জিয়াউদ্দিন আদিল ও সমাজসেবিকা সালমা খানম-এর অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধানে মসজিদটি সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে পুনর্নির্মাণ করা হয়। বৃহৎ পরিসরের এই কমপ্লেক্সে আধুনিক স্থাপত্যশৈলী, প্রশস্ত নামাজের স্থান এবং দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো নির্মিত হয়।
পরবর্তীতে ২০২১–২০২২ সালে তাঁদের উদ্যোগে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের আবাসন, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, মাদ্রাসা ভবন এবং আধুনিক ওজুখানা নির্মাণের মাধ্যমে কমপ্লেক্সটি একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শিক্ষা ও সেবাকেন্দ্রে পরিণত হয়।
ইবাদত, শিক্ষা ও মানবসেবার কেন্দ্র
বর্তমানে মোহাম্মদ আলী শিকদার জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা ও ঈদের জামাত, কুরআন শিক্ষা, শিশুদের নূরানী ও দ্বীনি পাঠদান, ইসলামিক লাইব্রেরি কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় ২০০ বছরের এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদ কমপ্লেক্স অতীতের গৌরবকে ধারণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি আদর্শ ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৬:২০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
Logo
সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

তুরস্কের ব্লু মসজিদের আদলে নির্মিত আলী শিকদার জামে মসজিদ, দক্ষিণ চট্টগ্রামে সবার নজর কাড়ছে

আপডেট সময় : ০৬:২০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ফতেহনগর গ্রামের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা মোহাম্মদ আলী শিকদার জামে মসজিদ কমপ্লেক্স শুধু একটি উপাসনালয় নয়; এটি প্রায় দুই শতাব্দীর ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য, শিক্ষা ও সমাজসেবার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই মসজিদ স্থানীয় মুসলিম সমাজের ইবাদত, কুরআন শিক্ষা এবং সামাজিক সম্প্রীতির কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
১৮০০ থেকে ১৮৪০ সালের মধ্যে ফতেহনগর গ্রামের গোড়াপত্তন করেন সমাজপতি মোহাম্মদ আলী শিকদার। তাঁর প্রতিষ্ঠিত জনপদে পরবর্তীতে শিকদার পরিবারের অন্যতম কৃতী সন্তান ওবায়েদ উল্লাহ একটি জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। সেই ছোট্ট মসজিদই আজকের বিশাল কমপ্লেক্সে রূপ নিয়েছে।
উন্নয়নের ধারাবাহিক যাত্রা
১৯৪৩–১৯৪৬: জোয়ারা বোর্ডের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নজিরউদ্দিন মুসল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদের পাশে একটি পুকুর খনন করেন, যা দীর্ঘদিন ওজু ও দৈনন্দিন প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়েছে।

১৯৬০–১৯৭০: দেশবরেণ্য আইনজ্ঞ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অ্যাডভোকেট বদিউল আলম মসজিদটিকে আংশিক পাকা নির্মাণ করে নতুন রূপ দেন।
১৯৭২–১৯৮০: স্বাধীনতার পর তাঁর উদ্যোগেই মসজিদ সম্প্রসারণ, মোজাইক মেঝে স্থাপন এবং পাকা দিঘা নির্মাণ সম্পন্ন হয়। এতে মুসল্লিদের ধারণক্ষমতা ও সৌন্দর্য উভয়ই বৃদ্ধি পায়।
আধুনিক কমপ্লেক্সে রূপান্তর
২০১৪–২০২০ সময়ে হিজ এক্সেলেন্সি জিয়াউদ্দিন আদিল ও সমাজসেবিকা সালমা খানম-এর অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধানে মসজিদটি সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে পুনর্নির্মাণ করা হয়। বৃহৎ পরিসরের এই কমপ্লেক্সে আধুনিক স্থাপত্যশৈলী, প্রশস্ত নামাজের স্থান এবং দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো নির্মিত হয়।
পরবর্তীতে ২০২১–২০২২ সালে তাঁদের উদ্যোগে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের আবাসন, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, মাদ্রাসা ভবন এবং আধুনিক ওজুখানা নির্মাণের মাধ্যমে কমপ্লেক্সটি একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শিক্ষা ও সেবাকেন্দ্রে পরিণত হয়।
ইবাদত, শিক্ষা ও মানবসেবার কেন্দ্র
বর্তমানে মোহাম্মদ আলী শিকদার জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা ও ঈদের জামাত, কুরআন শিক্ষা, শিশুদের নূরানী ও দ্বীনি পাঠদান, ইসলামিক লাইব্রেরি কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় ২০০ বছরের এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদ কমপ্লেক্স অতীতের গৌরবকে ধারণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি আদর্শ ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।