ঢাকা ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রংপুরে বাড়ির ভেতর থেকে সাবেক স্কুল শিক্ষক, স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার রমিজ উদ্দিন স্মৃতি স্মরণে এসএসসি ২০২৬ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হরমুজকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ দেখিয়ে ফের মানচিত্র প্রকাশ ট্রাম্পের বঙ্গোপসাগরে জাহাজডুবি: দুই নাবিক উদ্ধার হলেও নিখোঁজ এখনও ২২ প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ঘিরে হাসিনাকে নিয়ে ঢাকা- দিল্লির দরকষাকষি! জাজিরায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা তুরস্কের ব্লু মসজিদের আদলে নির্মিত আলী শিকদার জামে মসজিদ, দক্ষিণ চট্টগ্রামে সবার নজর কাড়ছে মোংলায় বৈধ কাগজপত্র ও দখল থাকার পরও একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ মা-ছেলে হত্যায় বিচার চান শিবচরবাসী, ফারুকের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন যাদুকাটার বৌলাই নদীতে হাউসবোট থেকে এক শিশু নিখোঁজ

রংপুরে বাড়ির ভেতর থেকে সাবেক স্কুল শিক্ষক, স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার

রংপুর প্রতিনিধি:
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি


রংপুর নগরীর দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকায় তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক, তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ১১টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কারা কখন কিভাবে কেন একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করেছে সে ব্যাপারে পুলিশ ও সিআইডি টিম তদন্ত করছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রেপলিটন কোতয়ালী থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল কাদের।

নিহতরা হলেন গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৩) ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)। গণপতি চক্রবর্তী গেল বছর ৩১ ডিসেম্বর রংপুর জিলা স্কুল থেকে অবসর গ্রহন করেছিলেন। তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী চলতি বছর রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স পাস করেছিলেন আর ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিলো।

নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর ছোট বোন পুজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে তার দিদির সাথে সর্বশেষ কথা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাত থেকে তাদের পরিবারের চারটি মোবাইল বন্ধ পেয়েছিলেন। শনিবার রাতেও তাদের মোবাইল বন্ধ পেয়ে তারা রংপুর নগরীর দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) বলোকায় ছুটে আসেন। বাড়ীর প্রধান গেট তালাবদ্ধ দেখতে পান এবং বাড়ীর সবগুলো বৈদ্যুতিক বাতি নেভানো ছিলো। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে তালা ভেঙ্গে বাড়ীর ভেতরে ঢুকে মরদেহ উদ্ধার করে। ‘কারা কেন কখন কিভাবে আমার দিদিসহ তার পরিবারের সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে সেটা বুঝতে পারছি না। আমার দিদির স্বামী খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তার কোন শত্রু ছিলো না। তারা দাসপাড়া এলাকায় নতুন বাড়ী নির্মাণ করে বসবাস করছিলেন,’ তিনি বলেন।

নিহত গণপতি চক্রবর্তীর ভাতিজি সোমা চক্রবর্তী জানান, ‘কাকার সাথে বৃহস্পতিবার বিকেলে কথা হয়েছে। শনিবার রাতে খবর পেয়ে এসে দেখি তার লাশ। তার সাথে কাকী, কাকাত বোন ও ভাইয়ের লাশ। আমার কাকার কোন শত্রু নেই। তিনি স্কুল থেকে অবসর নেওয়ার হোমিও চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন।’

কোতয়ালী থানার ওসি নাজমুল কাদের বলেন, ‘পুলিশ, সিআইডি, ডিবি মাঠে শুরু করেছে। আপাতত আমরা চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোন কিছুই উদঘাটন করতে পারিনি।’

রংপুর মহানগর সিআইডির ইনচার্জ সুবীর চৌধুরী জানান, ‘চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সিঁড়ি থেকে। সাবেক স্কুল শিক্ষকের মরদেহ পাওয়া গেছে বাড়ীর ছাদে এবং তার ছেলে স্কুলছাত্রের মরদেহ পাওয়া গেছে বাড়ীর খাটের নিচে।’ ‘আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত করতে জানতে পারবো কে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে। নেপথ্যে কারন খুঁজতে আমরা তদন্ত করছি। আমরা ঘটনাস্থলে আছি,’ তিনি বলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:১৭:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
Logo
সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

রংপুরে বাড়ির ভেতর থেকে সাবেক স্কুল শিক্ষক, স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৫:১৭:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬


রংপুর নগরীর দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকায় তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক, তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ১১টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কারা কখন কিভাবে কেন একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করেছে সে ব্যাপারে পুলিশ ও সিআইডি টিম তদন্ত করছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রেপলিটন কোতয়ালী থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল কাদের।

নিহতরা হলেন গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৩) ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)। গণপতি চক্রবর্তী গেল বছর ৩১ ডিসেম্বর রংপুর জিলা স্কুল থেকে অবসর গ্রহন করেছিলেন। তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী চলতি বছর রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স পাস করেছিলেন আর ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিলো।

নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর ছোট বোন পুজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে তার দিদির সাথে সর্বশেষ কথা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাত থেকে তাদের পরিবারের চারটি মোবাইল বন্ধ পেয়েছিলেন। শনিবার রাতেও তাদের মোবাইল বন্ধ পেয়ে তারা রংপুর নগরীর দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) বলোকায় ছুটে আসেন। বাড়ীর প্রধান গেট তালাবদ্ধ দেখতে পান এবং বাড়ীর সবগুলো বৈদ্যুতিক বাতি নেভানো ছিলো। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে তালা ভেঙ্গে বাড়ীর ভেতরে ঢুকে মরদেহ উদ্ধার করে। ‘কারা কেন কখন কিভাবে আমার দিদিসহ তার পরিবারের সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে সেটা বুঝতে পারছি না। আমার দিদির স্বামী খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তার কোন শত্রু ছিলো না। তারা দাসপাড়া এলাকায় নতুন বাড়ী নির্মাণ করে বসবাস করছিলেন,’ তিনি বলেন।

নিহত গণপতি চক্রবর্তীর ভাতিজি সোমা চক্রবর্তী জানান, ‘কাকার সাথে বৃহস্পতিবার বিকেলে কথা হয়েছে। শনিবার রাতে খবর পেয়ে এসে দেখি তার লাশ। তার সাথে কাকী, কাকাত বোন ও ভাইয়ের লাশ। আমার কাকার কোন শত্রু নেই। তিনি স্কুল থেকে অবসর নেওয়ার হোমিও চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন।’

কোতয়ালী থানার ওসি নাজমুল কাদের বলেন, ‘পুলিশ, সিআইডি, ডিবি মাঠে শুরু করেছে। আপাতত আমরা চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোন কিছুই উদঘাটন করতে পারিনি।’

রংপুর মহানগর সিআইডির ইনচার্জ সুবীর চৌধুরী জানান, ‘চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সিঁড়ি থেকে। সাবেক স্কুল শিক্ষকের মরদেহ পাওয়া গেছে বাড়ীর ছাদে এবং তার ছেলে স্কুলছাত্রের মরদেহ পাওয়া গেছে বাড়ীর খাটের নিচে।’ ‘আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত করতে জানতে পারবো কে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে। নেপথ্যে কারন খুঁজতে আমরা তদন্ত করছি। আমরা ঘটনাস্থলে আছি,’ তিনি বলেন।