ঢাকা ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

ইউক্রেনে নতুন নেতা প্রয়োজন, যিনি রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করতে সক্ষম: ট্রাম্প

দৈনিক বিশ্ব মানচিত্র নিউজ ডেস্ক
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্ববাজারে ডিজেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক ব্যর্থতার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকেই সরাসরি দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, কিয়েভের এখন এমন একজন নতুন নেতা প্রয়োজন যিনি রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। শনিবার টেনেসির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে ক্রেমলিন। মস্কো ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, ওয়াশিংটন অবশেষে বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পেরেছে। ট্রাম্প ও ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের মধ্যে চলমান এই নতুন বিতর্ক ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তুমুল চাঞ্চল্য।মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে আমেরিকায় জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার একটি বিতর্কিত চুক্তি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটন ও বিশ্ববাজারে অবিলম্বে তিন লাখ টন এবং আগামী নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন রাশিয়ান ডিজেল সরবরাহের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আমেরিকার এই পদক্ষেপকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য একটি বড় উপহার হিসেবে তীব্র সমালোচনা করেছেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাশিয়াকে জ্বালানি বিক্রির সুযোগ করে দেওয়া মানে চলমান যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার পেছনে বিনিয়োগ করা। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছেন যে, পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির এই অর্থ রাশিয়ার সামরিক বাজেটকেই শক্তিশালী করবে।অন্যদিকে জেলেনস্কির এই কঠোর প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেছেন যে, ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বারবার শান্তিচুক্তির সুযোগ হাতছাড়া করছেন এবং তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশ্ব অর্থনীতিকে সংকটে ফেলতে চান। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, রাশিয়া ও ইরানের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানিসংকট দেখা দিয়েছে, তার অন্যতম প্রধান কারণ ইউক্রেন কর্তৃক রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও স্পর্শকাতর জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ক্রমাগত হামলা চালানো। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আগে থেকেই রাশিয়া বা বিশ্ববাজারের ডিজেল সরবরাহব্যবস্থায় হামলা না চালানোর জন্য কঠোর বার্তা দেওয়া হলেও জেলেনস্কি তা তোয়াক্কা করেননি বলে দাবি করেন ট্রাম্প। এর ফলে মার্কিন সাধারণ মানুষ, খামারি ও পশু পালনকারীরা চরম জ্বালানিসংকটে পড়েছেন।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানকেন্দ্রিক সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের পর বিশ্বজুড়ে ডিজেলের আকাশছোঁয়া দাম ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তায় বড় ধস নামিয়েছে। মার্কিন জনমতের চরম অসন্তোষের মুখে পড়ে ট্রাম্প এখন ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির খোলস বদলে দেওয়ার পক্ষেই জোরালো সওয়াল করছেন। তবে ওয়াশিংটনের এই নীতিগত পরিবর্তন ও মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা ন্যাটো মিত্রদের ভাবিয়ে তুলেছে। রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রতিনিধিরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে এটিকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ বললেও, বিশ্ব রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির এই প্রত্যক্ষ সংঘাত পশ্চিমা সামরিক জোটের ভেতরে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি করতে পারে।

সূত্র: ইউরো নিউজ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১২:১৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
Logo
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

ইউক্রেনে নতুন নেতা প্রয়োজন, যিনি রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করতে সক্ষম: ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১২:১৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ববাজারে ডিজেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক ব্যর্থতার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকেই সরাসরি দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, কিয়েভের এখন এমন একজন নতুন নেতা প্রয়োজন যিনি রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। শনিবার টেনেসির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে ক্রেমলিন। মস্কো ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, ওয়াশিংটন অবশেষে বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পেরেছে। ট্রাম্প ও ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের মধ্যে চলমান এই নতুন বিতর্ক ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তুমুল চাঞ্চল্য।মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে আমেরিকায় জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার একটি বিতর্কিত চুক্তি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটন ও বিশ্ববাজারে অবিলম্বে তিন লাখ টন এবং আগামী নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন রাশিয়ান ডিজেল সরবরাহের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আমেরিকার এই পদক্ষেপকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য একটি বড় উপহার হিসেবে তীব্র সমালোচনা করেছেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাশিয়াকে জ্বালানি বিক্রির সুযোগ করে দেওয়া মানে চলমান যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার পেছনে বিনিয়োগ করা। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছেন যে, পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির এই অর্থ রাশিয়ার সামরিক বাজেটকেই শক্তিশালী করবে।অন্যদিকে জেলেনস্কির এই কঠোর প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেছেন যে, ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বারবার শান্তিচুক্তির সুযোগ হাতছাড়া করছেন এবং তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশ্ব অর্থনীতিকে সংকটে ফেলতে চান। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, রাশিয়া ও ইরানের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানিসংকট দেখা দিয়েছে, তার অন্যতম প্রধান কারণ ইউক্রেন কর্তৃক রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও স্পর্শকাতর জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ক্রমাগত হামলা চালানো। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আগে থেকেই রাশিয়া বা বিশ্ববাজারের ডিজেল সরবরাহব্যবস্থায় হামলা না চালানোর জন্য কঠোর বার্তা দেওয়া হলেও জেলেনস্কি তা তোয়াক্কা করেননি বলে দাবি করেন ট্রাম্প। এর ফলে মার্কিন সাধারণ মানুষ, খামারি ও পশু পালনকারীরা চরম জ্বালানিসংকটে পড়েছেন।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানকেন্দ্রিক সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের পর বিশ্বজুড়ে ডিজেলের আকাশছোঁয়া দাম ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তায় বড় ধস নামিয়েছে। মার্কিন জনমতের চরম অসন্তোষের মুখে পড়ে ট্রাম্প এখন ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির খোলস বদলে দেওয়ার পক্ষেই জোরালো সওয়াল করছেন। তবে ওয়াশিংটনের এই নীতিগত পরিবর্তন ও মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা ন্যাটো মিত্রদের ভাবিয়ে তুলেছে। রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রতিনিধিরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে এটিকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ বললেও, বিশ্ব রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির এই প্রত্যক্ষ সংঘাত পশ্চিমা সামরিক জোটের ভেতরে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি করতে পারে।

সূত্র: ইউরো নিউজ