এনসিপিকে এখন ‘প্রক্সি জামায়াত পার্টি’ বললেও ভুল হবে না: রাশেদ খান

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। কোনো ধরনের কাউন্সিল ছাড়াই কমিটি গঠন, দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং জামায়াতের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেছেন, এনসিপি এখন কার্যত জামায়াতের যুব শাখা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খান।স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, অনেক আশা জাগিয়ে নতুন বন্দোবস্তের স্বপ্ন দেখানো এনসিপির কোনো ধরনের কাউন্সিল ছাড়াই নতুন কমিটি হয়েছে। যারা সারাদিন গণতন্ত্রের বুলি আউড়ায় ও বিএনপির রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তারা একটি কাউন্সিল পর্যন্ত করে কমিটি দিতে পারলো না, এর থেকে বড় লজ্জা আর কি হতে পারে? এর মাধ্যমে এনসিপির সাংগঠনিক দুর্বলতার ও নেতৃত্ব কুক্ষিগত করার চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। রাশেদ খান লিখেছেন, যতোটুকু তথ্য পেয়েছি, জামায়াতের অনুমোদনে এনসিপির এই নতুন কমিটি হয়েছে। অর্থাৎ জামায়াত যাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদে চায়নি, কমিটিতে তাদেরকে অগুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে এনসিপির মধ্যে যারা স্বতন্ত্র রাজনীতির স্বপ্ন দেখে কিংবা জামায়াত বিরোধী, কমিটিতে তাদের পদাবনতি হয়েছে। আর ছাগলচোর, ল্যাপটপ চোর, নারী ও আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের শীর্ষে পদে আসীন করা হয়েছে।সবমিলিয়ে এনসিপির নতুন কমিটি জামায়াতের যুব শাখা রুপে আবির্ভূত হয়েছে বলে বঞ্চিতদের একধরনের অভিযোগ রয়েছে। এনসিপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২ বারের বেশি কেউ সভাপতি সাধারণ সম্পাদক হতে পারবে না! দেখা যাক, নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের এই মেয়াদই শেষ মেয়াদই হয় কি না! না কি নতুন বন্দোবস্তের নামে নতুন ভণ্ডবস্তের পথেই এগুবে এনসিপি!আজকে যদি এনসিপি গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন ধারণ করে নতুন ধারার রাজনীতি উপহার দিতে পারতো, তাহলে আওয়ামী শূন্যতা পূরণের জন্য এনসিপিকে সবাই সাধুবাদ জানাতো উল্লেখ করে তিনি আরো লিখেন, দুঃখের বিষয়, নতুন কমিটির ফরমেট দেখে মনে হলো, কিছু আসন ও আসন প্রতি নির্বাচনী খরচের বিনিময়ে এনসিপি পুরোপুরি জামায়াতের কাছে বিক্রি হয়ে গেলো! স্ট্যাটাসের শেষাংশে এনসিপির স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে রাশেদ খান বলেন, দলটির আর স্বতন্ত্র রাজনীতি করার ন্যূনতম সুযোগ অবশিষ্ট নেই। তাঁর মতে, এনসিপিকে এখন ‘প্রক্সি জামায়াত পার্টি’ বললেও ভুল হবে না।


















