শিবচরের শিরুয়াইলে নূরুল ইসলাম খলিফার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা,জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়ার প্রত্যাশা

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের পরিচিতি তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোঃ নূরুল ইসলাম খলিফা।তিনি ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অগ্রগতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আজীবন শিরুয়াইল ইউনিয়নবাসীর পাশে থেকে জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরশ্যামাইল আকন বাড়ি-সংলগ্ন তালিমুল কোরআন কওমি মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক পরিচিতি সভায় এসব কথা বলেন নূরুল ইসলাম খলিফা।এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।সভায় উপস্থিত স্থানীয়দের অনেকে নূরুল ইসলাম খলিফার প্রতি সমর্থন ও শুভকামনা জানান। তাঁদের প্রত্যাশা, এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি ভূমিকা রাখবেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ পরিচিতি সভাকে কেন্দ্র করে শিরুয়াইল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরশ্যামাইল এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।সভায় শিরুয়াইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নূরুল ইসলাম খলিফা বলেন,আমি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মধ্যে দিয়ে আপনাদের সাথে যোগাযোগের বন্ধন তৈরি হবে,আমি আপনাদের পাশে সব সময় থাকতে চাই। আপনারা যদি আমাকে আপনাদের পাশে থাকার সুযোগ করে দেন, তাহলে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।তিনি বলেন, এলাকার মানুষের ভালোবাসা, দোয়া ও সহযোগিতা তাঁর পথচলার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে শিরুয়াইল ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করতে চাই।শিরুয়াইল ইউনিয়নের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে নূরুল ইসলাম খলিফা জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, একটি ইউনিয়নের টেকসই উন্নয়নের জন্য নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ, জনসাধারণের মতামতের গুরুত্ব এবং স্থানীয় সমস্যাগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান প্রয়োজন।তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নের রাস্তাঘাটসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। স্থানীয় জনগণের চাহিদা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও জোর দেন তিনি।তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে পরিবার, সমাজ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।নূরুল ইসলাম খলিফা বলেন, যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হলে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের পাশাপাশি প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গড়ে তুলতে কাজ করব।তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং পরিবারভিত্তিক সচেতনতা তৈরিও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।পরিচিতি সভায় এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন নূরুল ইসলাম খলিফা। তিনি বলেন, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।এ সময় তিনি এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ সমুন্নত রাখা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।নূরুল ইসলাম খলিফা বলেন, জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলাই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য। ইউনিয়ন পরিষদকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং অগ্রাধিকার অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।তিনি আরও জানান, জনপ্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেলে এলাকার মানুষের প্রয়োজন ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চান। ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সেবাপ্রাপ্তি সহজ করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।উল্লেখ্য, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শিরুয়াইল ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মোঃ নূরুল ইসলাম খলিফার পরিচিতি সভা ও জনসংযোগ কার্যক্রম স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে। ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি এবং ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকে সামনে রেখে তাঁর এ উদ্যোগের কথা সভায় তুলে ধরা হয়।

















