ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ধামরাইয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ৭ দেশের তেল স্থাপনা, ইন্টারনেট কেবল ও এআই হাবে হামলা চালানোর হুমকি ইরানের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বয়সসীমা বেঁধে দিল গ্রিস এনসিপিকে এখন ‘প্রক্সি জামায়াত পার্টি’ বললেও ভুল হবে না: রাশেদ খান গাজীপুরে আগুনে দগ্ধ বাবা-মায়ের পর মেয়েরও মৃত্যু ফেসবুকে বিএনপি নেতা আতাউর রহমানকে নিয়ে মিথ্যে গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ পদত্যাগ করলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক এআইয়ের প্রসারে চীনের অর্থনীতির পালে হাওয়া ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব পুতিনের

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সাতৈর-ডোবরা সড়কের  বেহাল দশা বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফরিদপুর প্রতিনিধি: গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে যানবাহন, ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। বৃষ্টিতে গর্তগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় বাড়ছে আরো ঝুঁকি। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা, এমন আশঙ্কার মধ্যেই প্রতিদিন চলাচল করছে হাজারো মানুষ।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কের এমন বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আজ রবিবার সকালে সংশ্লিষ্ট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কটি প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় কয়েকশ খানাখন্দ। কোথাও উঠে গেছে পিচ, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও রোগী বহনকারী যানবাহনসহ প্রতিদিন শত শত যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সড়কটি দিয়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানবাহনকে কখনো রাস্তার মাঝখান, কখনো একেবারে কিনারা ঘেঁষে চলতে হচ্ছে। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষ কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের পুকুর-খাদে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহিদ শেখ বলেন, ‘রাস্তা ভেঙে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। গাড়ি চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এর আগে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে।

নছিমনচালক কায়েম বিশ্বাস বলেন, ‘গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। প্রতিবার গাড়ি নিয়ে বের হলেই দুর্ঘটনার ভয় থাকে।’

সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় এক ভ্যানচালক জানান, কিছুদিন আগে একটি পিকআপ তাঁর ভ্যানে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যায়। এতে প্রাণহানি না হলেও সড়কের বর্তমান অবস্থায় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. পাচু শেখ বলেন, খালেক মাতুব্বরের বাড়ির কাছে, সেলিম শিকদার, তুজাম শিকদার, কালাম, সিরাজ, হাবিবুর রহমান, নজরুল ও রেজাউলের বাড়ির সামনে সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এসব স্থানে প্রায়ই যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

জানতে চাইলে বোয়ালমারী উপজেলা প্রকৌশলী পূর্ণেন্দু সাহা বলেন, ‘সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কটি প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি ফরিদপুর-রাজবাড়ী প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে সড়কটির কাজ শুরু হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, ‘উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে সড়কটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।’

স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকল্প অনুমোদন ও কাজ শুরুর অপেক্ষায় আর কতদিন ঝুঁকি নিয়ে চলতে হবে? তাঁদের দাবি, পূর্ণাঙ্গ সংস্কার শুরু না হওয়া পর্যন্ত অন্তত জরুরি ভিত্তিতে সড়কের বড় গর্তগুলো ভরাট ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশ মেরামত করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০২:৪৫:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬৮ বার পড়া হয়েছে
Logo
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সাতৈর-ডোবরা সড়কের  বেহাল দশা বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

আপডেট সময় : ০২:৪৫:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরিদপুর প্রতিনিধি: গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে যানবাহন, ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। বৃষ্টিতে গর্তগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় বাড়ছে আরো ঝুঁকি। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা, এমন আশঙ্কার মধ্যেই প্রতিদিন চলাচল করছে হাজারো মানুষ।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কের এমন বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আজ রবিবার সকালে সংশ্লিষ্ট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কটি প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় কয়েকশ খানাখন্দ। কোথাও উঠে গেছে পিচ, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও রোগী বহনকারী যানবাহনসহ প্রতিদিন শত শত যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সড়কটি দিয়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানবাহনকে কখনো রাস্তার মাঝখান, কখনো একেবারে কিনারা ঘেঁষে চলতে হচ্ছে। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষ কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের পুকুর-খাদে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহিদ শেখ বলেন, ‘রাস্তা ভেঙে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। গাড়ি চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এর আগে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে।

নছিমনচালক কায়েম বিশ্বাস বলেন, ‘গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। প্রতিবার গাড়ি নিয়ে বের হলেই দুর্ঘটনার ভয় থাকে।’

সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় এক ভ্যানচালক জানান, কিছুদিন আগে একটি পিকআপ তাঁর ভ্যানে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যায়। এতে প্রাণহানি না হলেও সড়কের বর্তমান অবস্থায় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. পাচু শেখ বলেন, খালেক মাতুব্বরের বাড়ির কাছে, সেলিম শিকদার, তুজাম শিকদার, কালাম, সিরাজ, হাবিবুর রহমান, নজরুল ও রেজাউলের বাড়ির সামনে সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এসব স্থানে প্রায়ই যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

জানতে চাইলে বোয়ালমারী উপজেলা প্রকৌশলী পূর্ণেন্দু সাহা বলেন, ‘সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কটি প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি ফরিদপুর-রাজবাড়ী প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে সড়কটির কাজ শুরু হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, ‘উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে সড়কটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।’

স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকল্প অনুমোদন ও কাজ শুরুর অপেক্ষায় আর কতদিন ঝুঁকি নিয়ে চলতে হবে? তাঁদের দাবি, পূর্ণাঙ্গ সংস্কার শুরু না হওয়া পর্যন্ত অন্তত জরুরি ভিত্তিতে সড়কের বড় গর্তগুলো ভরাট ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশ মেরামত করা হোক।