সৌদির অস্ত্রবাহী ট্রাকে হুতির হামলা, রিয়াদের কড়া হুঁশিয়ারি

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের সাথে সম্পর্কিত সামরিক সরঞ্জামবাহী ট্রাকের বহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেন-সৌদি সীমান্তের আল-ওয়াদিয়া সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছে একটি শিবিরে এই আক্রমণের ঘটনা ঘটে। হুতি মিডিয়ার বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই হামলায় সৌদি সামরিক শিবিরের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।ইয়েমেন নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছিল তাদের স্থানীয়ভাবে তৈরি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হুতি বিদ্রোহীরা আল-ওয়াদিয়া শিবিরে অবস্থানরত সৌদি বাহিনী ও তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে দীর্ঘ সময় নজরদারি চালায়। সেখানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদবাহী যানবাহন পর্যবেক্ষণ করার পরই তারা এই হামলা পরিচালনা করে। সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, একটি ফ্র্যাগমেন্টেশন ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক সরঞ্জাম বোঝাই ট্রাকে আঘাত হানার সাথে সাথেই সেখানে এক ধারাবাহিক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের মাত্রা এতই তীব্র ছিল যে দৃশ্যমান ভিডিওটিতে অনেক সৈন্যকে আতঙ্কিত হয়ে শিবিরের চারপাশ থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।গত জুলাইয়ে দীর্ঘ চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে এটি অন্যতম বড় সংঘাত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত সংঘাতের কারণে তেল বাজারে মন্দা ও বিশ্বজুড়ে দাম বৃদ্ধির মধ্যেই সংঘাতের এই নতুন দাবানল ছড়িয়ে পড়ল। এর মাঝে কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।ইয়েমেন থেকে ছোঁড়া হুতিদের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় আঘাত হেনেছে এবং সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি করেছে। ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের এই বছরের অন্যতম শক্তিশালী হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের মতে, এই হামলায় তাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশের বেশ কয়েকটি শক্তি স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যার ফলে বিভিন্ন তেল কেন্দ্রে সাময়িক উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।সৌদি আরব এই ঘটনাকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে হুতিদের কড়া জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, নিজের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে সৌদি আরব প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সাথে রিয়াদ অবিলম্বে হুতিদের হামলা বন্ধ করার এবং লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে তাদের আক্রমণ প্রতিরোধ করার দাবি জানিয়েছে।এই সাম্প্রতিক উত্তেজনা এমন এক সময়ে তীব্রতর হলো যখন ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণ লড়াই আরও বেগবান হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃত এবং সৌদি-সমর্থিত সরকার হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে আবার নতুন করে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। এর জবাবে হুতিরা উল্টো রিয়াদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বিমান হামলার অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, একটি কারাগারে সৌদি হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি























