ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বড় বড় শহরগুলোর স্কুলের ১০ টির মধ্যে ৯টির আশপাশেই অস্বাস্থ্যকর খাবারের ছড়াছড়ি: ইউনিসেফ দেশে ই-বর্জ্য থেকে ৫০ কোটি ডলারের মূল্যবান ধাতু পুনরুদ্ধার করা সম্ভব: গবেষণা ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৮৬টি ফ্লাইট বাতিল, অনিশ্চয়তায় ১৩ হাজার ৪৯০ যাত্রী কেরানীগঞ্জের উন্নয়ন চলতেই থাকবে” চর সোনাকান্দায় ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য – আমান উল্লাহ আমান চর সোনাকান্দা প্রিমিয়ার লিগ ২০২৬ সিজন 4 – ফাইনাল ম্যাচ আজ শিবচরের শিরুয়াইলে নূরুল ইসলাম খলিফার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা,জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়ার প্রত্যাশা দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিক্ষোভ আজ, যোগ দেবেন মমতা ভারতের বিপক্ষে ৩ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় বাংলাদেশের হুতি হামলায় ঝুঁকিতে বাংলাদেশিরা ফরিদপুরের নগরকান্দায় শিশু মাহফুজা হত্যা: প্রধান আসামি বাবলু শেখ গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

বড় বড় শহরগুলোর স্কুলের ১০ টির মধ্যে ৯টির আশপাশেই অস্বাস্থ্যকর খাবারের ছড়াছড়ি: ইউনিসেফ

দৈনিক বিশ্ব মানচিত্র নিউজ ডেস্ক
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বড় বড় শহরগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আশপাশেই গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবারের দোকান। স্ন্যাকস বার, সাধারণ দোকান কিংবা চকলেট ও ক্যান্ডির দোকানের পাশাপাশি বড় বড় সুপারমার্কেটগুলোতেও এখন খুব সহজেই মিলছে এসব খাবার। শুধু তা-ই নয়, টিফিনের সময় বা নিজস্ব টিফিন মানি দিয়ে শিক্ষার্থীরা যখনই কোনো খাবার বা পানীয় কেনে, তারা প্রায় সবসময়ই বেছে নেয় অস্বাস্থ্যকর বিকল্পগুলোকে। সম্প্রতি শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য সামনে এসেছে।পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডাচ পুষ্টি কেন্দ্র ‘ফুডিংসেন্ট্রম’-এর বিশেষজ্ঞ লিজবেথ ভেলেমা। ডাচ সংবাদমাধ্যম এনওএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, শিশুদের কাছে স্বাস্থ্যকর খাবারের চেয়ে অতিরিক্ত মিষ্টি, চর্বিযুক্ত কিংবা লোভনীয় স্বাদের অস্বাস্থ্যকর খাবারগুলোর আকর্ষণ অনেক বেশি। ফলে এতসব আকর্ষণীয় খাবারের ভিড়ে তাদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।ইউনিসেফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে যে খাবার বা পানীয় কেনে, তার তিন-চতুর্থাংশের (৭৫ শতাংশের) বেশিই সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর। স্কুলের মধ্যাহ্নবিরতি বা ছুটির সময় সসেজ রোল, ক্যান্ডি, চিপস এবং বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয় খুব সহজেই তাদের হাতের নাগালে চলে আসছে, যা তাদের এই ক্ষতিকর খাদ্যাভ্যাসকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।বর্তমানে বিদ্যালয়গুলোর আশেপাশে বা সন্নিকটে এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট আইন বা সরকারি নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে বিভিন্ন পৌরসভার কর্তৃপক্ষ এখন পরিস্থিতি পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে। তাদের মতে, অস্বাস্থ্যকর খাবারের দোকান নিয়ন্ত্রণ করতে কঠোর আইন প্রণয়ন করা জরুরি। একইসঙ্গে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে প্রক্রিয়াজাত বা ক্ষতিকর খাবারের বদলে স্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রিতে সুপারমার্কেটগুলোকে আরও বেশি ভূমিকা পালন ও উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।ইউনিসেফের এই বার্তার ঠিক আগেই চলতি মাসের শুরুতে ‘আমস্টারডাম ইউএমসি’-এর পরিচালিত অন্য একটি গবেষণাতেও প্রায় একই ধরনের পরিসংখ্যান উঠে এসেছিল। সেই গবেষণায় বলা হয়, প্রায় ৯৪ শতাংশ মাধ্যমিক ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ বিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকাগুলোতে অস্বাস্থ্যকর খাবারের দোকানে সয়লাব। ওই সময় দেশের প্রায় ১৪টি পৌরসভা যৌথভাবে দাবি জানিয়েছিল যাতে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় নতুন কী ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা খাবারের দোকান গড়ে উঠবে, তা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আইনি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।উল্লেখ্য, আলমেয়ার, আমস্টারডাম, ডেন বস, লাইডেন, রটারড্যাম, উট্রেখট, দ্য হেগ, ব্রেডা, গ্রোনিংেন এবং টিলবার্গের মতো বড় শহরগুলোর খাদ্য পরিবেশ নিয়ে একটি সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, উল্লেখিত প্রতিটি শহরেই স্বাস্থ্যকর খাবারের তুলনায় অস্বাস্থ্যকর খাবারের সহজলভ্যতা এবং আধিপত্যই সবচেয়ে বেশি।

সূত্র: এনএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৬:০০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
Logo
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

বড় বড় শহরগুলোর স্কুলের ১০ টির মধ্যে ৯টির আশপাশেই অস্বাস্থ্যকর খাবারের ছড়াছড়ি: ইউনিসেফ

আপডেট সময় : ০৬:০০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

বড় বড় শহরগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আশপাশেই গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবারের দোকান। স্ন্যাকস বার, সাধারণ দোকান কিংবা চকলেট ও ক্যান্ডির দোকানের পাশাপাশি বড় বড় সুপারমার্কেটগুলোতেও এখন খুব সহজেই মিলছে এসব খাবার। শুধু তা-ই নয়, টিফিনের সময় বা নিজস্ব টিফিন মানি দিয়ে শিক্ষার্থীরা যখনই কোনো খাবার বা পানীয় কেনে, তারা প্রায় সবসময়ই বেছে নেয় অস্বাস্থ্যকর বিকল্পগুলোকে। সম্প্রতি শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য সামনে এসেছে।পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডাচ পুষ্টি কেন্দ্র ‘ফুডিংসেন্ট্রম’-এর বিশেষজ্ঞ লিজবেথ ভেলেমা। ডাচ সংবাদমাধ্যম এনওএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, শিশুদের কাছে স্বাস্থ্যকর খাবারের চেয়ে অতিরিক্ত মিষ্টি, চর্বিযুক্ত কিংবা লোভনীয় স্বাদের অস্বাস্থ্যকর খাবারগুলোর আকর্ষণ অনেক বেশি। ফলে এতসব আকর্ষণীয় খাবারের ভিড়ে তাদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।ইউনিসেফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে যে খাবার বা পানীয় কেনে, তার তিন-চতুর্থাংশের (৭৫ শতাংশের) বেশিই সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর। স্কুলের মধ্যাহ্নবিরতি বা ছুটির সময় সসেজ রোল, ক্যান্ডি, চিপস এবং বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয় খুব সহজেই তাদের হাতের নাগালে চলে আসছে, যা তাদের এই ক্ষতিকর খাদ্যাভ্যাসকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।বর্তমানে বিদ্যালয়গুলোর আশেপাশে বা সন্নিকটে এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট আইন বা সরকারি নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে বিভিন্ন পৌরসভার কর্তৃপক্ষ এখন পরিস্থিতি পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে। তাদের মতে, অস্বাস্থ্যকর খাবারের দোকান নিয়ন্ত্রণ করতে কঠোর আইন প্রণয়ন করা জরুরি। একইসঙ্গে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে প্রক্রিয়াজাত বা ক্ষতিকর খাবারের বদলে স্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রিতে সুপারমার্কেটগুলোকে আরও বেশি ভূমিকা পালন ও উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।ইউনিসেফের এই বার্তার ঠিক আগেই চলতি মাসের শুরুতে ‘আমস্টারডাম ইউএমসি’-এর পরিচালিত অন্য একটি গবেষণাতেও প্রায় একই ধরনের পরিসংখ্যান উঠে এসেছিল। সেই গবেষণায় বলা হয়, প্রায় ৯৪ শতাংশ মাধ্যমিক ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ বিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকাগুলোতে অস্বাস্থ্যকর খাবারের দোকানে সয়লাব। ওই সময় দেশের প্রায় ১৪টি পৌরসভা যৌথভাবে দাবি জানিয়েছিল যাতে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় নতুন কী ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা খাবারের দোকান গড়ে উঠবে, তা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আইনি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।উল্লেখ্য, আলমেয়ার, আমস্টারডাম, ডেন বস, লাইডেন, রটারড্যাম, উট্রেখট, দ্য হেগ, ব্রেডা, গ্রোনিংেন এবং টিলবার্গের মতো বড় শহরগুলোর খাদ্য পরিবেশ নিয়ে একটি সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, উল্লেখিত প্রতিটি শহরেই স্বাস্থ্যকর খাবারের তুলনায় অস্বাস্থ্যকর খাবারের সহজলভ্যতা এবং আধিপত্যই সবচেয়ে বেশি।

সূত্র: এনএইচ