উন্নত জাতের পানিকচুর চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করলেন বারির বিজ্ঞানীরা
গাজীপুরের সদর উপজেলার তরৎপাড়া গ্রামে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘কন্দাল ফসল গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্প’-এর আওতায় পানিকচুর উন্নত জাতের বিস্তার বিষয়ক এক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ১৬ জুলাই ২০২৬ অনুষ্ঠিত এ মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বারির পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) ড. মো. মোশাররফ হোসেন মোল্লা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে বিভিন্ন ধরনের পানিকচুর চাষ হলেও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত পানিকচুর ৯টি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে। এসব জাত গলাধরামুক্ত, সহজে ও সমানভাবে সিদ্ধ হয় এবং উচ্চ ফলনশীল। তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে অন্যান্য সবজির সরবরাহ কমে গেলে কচুর লতি ও অন্যান্য কচুজাতীয় ফসল দেশের সবজির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শামসুল আলম। তিনি বলেন, কচুর লতি বর্তমানে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে জনপ্রিয় একটি সবজি। দেশে উৎপাদিত মোট কচু ফসলের প্রায় এক-চতুর্থাংশই কচুর লতি, যা এর চাহিদা ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের প্রমাণ বহন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘কন্দাল ফসল গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্প’-এর প্রকল্প পরিচালক ড. মো. খোরশেদ আলম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, কচু একটি আয়রনসমৃদ্ধ পুষ্টিকর ফসল। বিশেষ করে কচুর লতি রক্তশূন্যতা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এর উন্নত জাতের চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
এ সময় বারির ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ফেরদৌসী বেগম, স্থানীয় কৃষক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও প্রকল্পের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাঠ দিবসে উন্নত জাতের পানিকচুর বৈশিষ্ট্য, চাষাবাদ পদ্ধতি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশল কৃষকদের সামনে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা মাঠ পর্যায়ে এসব উন্নত জাতের চাষ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।