July 29, 2026, 4:41 am
শিরোনাম :
গলাচিপায় ১ লাখ ২৬ হাজার টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস সরকারি নির্মাণ কাজের রেট সিডিউল হালনাগাদকরণের দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ঠিকাদার সমিতির স্মারকলিপি প্রদান  গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ইসিজি মেশিন হস্তান্তর ও বৃক্ষ রোপণ বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার গাজীপুরে ডিবির অভিযানে ৬০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, জব্দ কাভার্ড ভ্যান সিটি কর্পোরেশনের পথে কক্সবাজার: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ! মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক “টাউন হল মিটিং” অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে স্বামীর হাতে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ নওগাঁয় ৩৬ পিস বুপ্রেনরফিন ইনজেকশনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারী, শিক্ষার্থী ও যাত্রীরা; দ্রুত অপসারণের দাবি

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি

এস,এম শাহাদৎ হোসাইন, রংপুর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকীতে তার বাবা-মা ও সহযোদ্ধারা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, আদালতের রায় দ্রুত বাস্তবায়িত হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। পুলিশের সামনে বুক উঁচিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা তার সেই দৃশ্যের ভিডিও ও ছবি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং তা ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত ৯ এপ্রিল রায় ঘোষণা করেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল দুজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। সেই রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও সহযোদ্ধারা। শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ছেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ছেলেটা তো আর ফিরে আসবে না। ওর কথা খুব বেশি মনে পড়ছে। আদালত রায় দিয়েছে, কিন্তু সেই রায় যদি আমার জীবদ্দশায় কার্যকর হতে দেখতাম, তাহলে মনে একটু শান্তি পেতাম। তিনি মামলার সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করার দাবি জানান। শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম ছেলেকে হারানোর বেদনা প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন বাবার কবরের কাছে যাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকলেও প্রতিদিন ফোন করে খোঁজ নিতো। এখন আর কেউ বলে না, মা কেমন আছো? সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল ওর। দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। যারা আমার বাবাটাকে হত্যা করেছে, তাদের সবার ফাঁসি চাই। আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে বাঁচাতে সর্বপ্রথম এগিয়ে আসা সহযোদ্ধা সিয়াম আহসান আয়ান বলেন, আবু সাঈদ নিজের পরিবার, বাবা-মা কিংবা নিজের জীবনের কথা না ভেবে দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। আদালত যে রায় দিয়েছেন, সেটি দ্রুত কার্যকর হলে দেশের মানুষ ন্যায়বিচারের প্রতিফলন দেখতে পাবে। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আবু সাঈদের নেতৃত্বে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যা¤পাসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এসময় পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দিলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ
টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষের মধ্যেও আবু সাঈদ সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে পুলিশের সামনে বুক উঁচিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদকে লক্ষ্য করে গুলি করা হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়। দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকীতে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল, স্মরণসভা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাকে স্মরণ করছেন স্বজন, সহযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষ। একই সঙ্গে তারা আবু সাঈদ হত্যার বিচার স¤পন্ন করে ঘোষিত রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page
17 July 2026

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি

www.dailybishowmanchitra.com |
dailybishowmanchitra